Tuesday, June 11, 2013

ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের পরাশক্তি রোম ও পারস্য বিজয়

- No comments

ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের পরাশক্তি রোম ও পারস্য বিজয়

by Rashedul Islam (Notes) on Monday, June 10, 2013 at 9:17pm
[আমরা মুসলিমরা তো কত ঘটনাই জানি, কিন্তু কয়জনকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে তাদেরই জাতির আদি পুরুষদের গৌরবমাখা স্বর্ণ যুগের কাহিনী?!!  কিন্তু আবার আমরা মুসলিমরাই  অনেক কাহিনী জানছি অনেক ঘটনা পড়ছি  যেগুলোর বেশির ভাগই কল্প কাহিনী বা সায়েন্স ফিকশন। আসুন তবে কিছু বাস্তব কাহিনী জানি, যেগুলো ইতিহাস চিরকাল স্মরণ করতে বাধ্য।]
                                                               বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে  রসুল (সাঃ) মদিনাতে  হিজরত করার পর সেখানে ইসলামিক রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠা করেন যার পরিচালনা হতো এমন এক আদর্শ দিয়ে যেটা মহান আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনব্যবস্থা। রাসুল (সাঃ) –এর সময় থেকেই সেই আদর্শের ধারক ও বাহকগন দাওয়াত ও জিহাদের মাধ্যমে সেই মানবতার আদর্শকে পৌঁছে দেয়া শুরু করেন মদিনার বাইরে নতুন নতুন অঞ্চলে, যেসব অঞ্চলের শাসকগণ সেই অঞ্চলের সাধারণ জনগনের উপর খোদা হয়ে বসে ছিল, প্রতিষ্ঠা করত সেথায় সীমাবদ্ধ জ্ঞানে আবদ্ধ মানব তৈরি শাসন, অত্যাচারে অত্যাচারে নিষ্পেষিত করত নাগরিকদের জীবন, বঞ্চিত করত তাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার। হয়ত কোন কোন শাসক রাসুল (সাঃ) ও তার উত্তরসূরি  খিলাফতের শাসকদের  দাওয়াত গ্রহন করে সানন্দে ইসলামক গ্রহন করত, নয়ত কেউ কেউ শান্তির আদর্শ ইসলাম গ্রহন না করে  জিযয়া কর দেয়ার মাধ্যমে অন্য রাষ্ট্র থেকে নিরাপত্তার সন্ধি করত, নয়ত বা কেউ কেউ দুটোই অস্বীকার করে যুদ্ধে লিপ্ত হতো।  এভাবেই আল্লাহ তায়ালা মানবতার আদর্শের ধারক ও বাহকদের সুযোগ করে দিতেন  একের পর এক রাষ্ট্রে ইসলামকে পৌঁছে দিতে। ফলশ্রুতিতে মুসলিমরা একের পর এক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বিজয়ের মাধ্যমে খিলাফত রাষ্ট্রকে নিয়ে যায় দূর বহু দূর।  


ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের আগে থেকেই পৃথিবীর পরাশক্তি হিসেবে রোম সাম্রাজ্য (বাইজেণ্টাইন) ও পারস্য সাম্রাজ্য (বর্তমান ইরান) নিজেদেরকে আত্মপ্রকাশ করে। রোমের সীমানা ছিল সিরিয়া  থেকে পশ্চিমে  স্পেন পর্যন্ত, আর পারস্যের সীমানা ছিল ইরাক থেকে পূর্বে খোরাসান (আফগানিস্তান) পর্যন্ত। রোম আর পারস্য উভয়েই যুগের পর যুগ ধরে পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত।   রাসুল (সাঃ) -এর সময় থকেই  রোমের সাথে সদ্য প্রতিষ্ঠিত  ইসলামিক রাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয়। একবার রাসুল (সাঃ) হারেস ইবনে ওমায়র আযদী (রাঃ) কে এক চিঠি দিয়ে বসরার গভর্নরের কাছে দূত হিসেবে পাঠালে রোমের কায়সারের নিযুক্ত 'বালাকা' এলাকার গভর্নর শোরাহবিল ইবনে আমর গাসসানি সেই দূতকে হত্যা করে। তখন দূতকে হত্যা করা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল ছিল তাই রাসুল (সাঃ) ৩০০০ মুজাহিদসেনাবাহিনী নিয়ে রোমানদের ২ লক্ষ সেনাবাহিনীর উপর হামলা করেন, এটিই মুতারযুদ্ধ হিসেবে প্রসিদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) -এর বুদ্ধিমত্তায় সে জিহাদে মুসলিমরা জয় লাভ করে। পরে মুতার যুদ্ধ ও তাবুকের অভিযানের পরে রাসুল (সাঃ) সবশেষে  ওসামা (রাঃ) কে সেনাপতি নিযুক্ত করে  সর্বশেষ বাহিনী প্রেরন করেন রোমদের বিরুদ্ধে।  আবু বকর (রাঃ) -এর খিলাফত কালে  তিনি সে বাহিনীর নেতৃত্ব অপরিবর্তনীয় রেখেই সামনে অগ্রসর হতে বলেন।  রাসুল (সাঃ) –এর  ওফাতের পরে যখন ইরাকে বিভিন্ন গোত্র বিদ্রোহ করে বসে, তখন আবু বকর (রাঃ) হযরত  মুছান্না (রাঃ) কে দিয়ে সুকৌশলে সেই বিদ্রোহ দূর করে ইরাকেই মুসলিমদের এক বিশাল  বাহিনী গড়ে তোলেন, যারা ইরাকের মুসলিমদের বিদ্রোহ থেকে শান্তির পথে একীভূত করে ইরানের দিকে ধাবিত হন।

পারস্যের কাহিনিঃ 

খলীফা আবু বকর (রাঃ) মদিনা থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) –এর সেনাপতিত্তে ১০ হাজার মুজাহিদদের এক সেনা বাহিনী মুছান্নার (রাঃ) সাহায্যে ইরাকে পাঠান। সে বাহিনীতে কা’কা বিন আমর তমিমীকে (রাঃ) পাঠানো হয়, যার ব্যাপারে খলীফা বলেন, কা’কা যে বাহিনীতে থাকবে তারা কখনো পরাজিত হবে না’। মাত্র ১৮ হাজার মুজাহিদ নিয়ে ইরাকের সীমান্তে পারস্য বাহিনীর সেনাপতি হরমুজের বিশাল বাহিনীর সাথে জিহাদে লিপ্ত হয় মুসলিম বাহিনী। হরমুজের বাহিনীতে মুসলিমদের ২.৫ গুন সৈন্য ছিল, আরও ২০,০০০ সৈন্যপথে আসছিল সেই বাহিনীর সাহায্যার্থে। মুসলিমরা পারস্যদের  ধরাসয়ি করতে শুরু করলে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পালিয়ে যায় পারস্যরা, হরমুজ নিহত হয় এ যুদ্ধে। মুছান্না (রাঃ) পরাজিত সৈন্যদের  ধাওয়া করে তাদের সাহায্যার্থে আগত কারেনের সৈন্যবাহিনীকে মাযারের নিকট আক্রমন করেন তারাও পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়। খালিদ (রাঃ) সেসব এলাকার পরাজিত বন্দী  নাগরিকদের ছেড়ে দেন, কারণ সেনাপতি  হরমুজ সেইসব গরীব কৃষকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে এনেছিল। পরে সেই কৃষকরা একে একে ইসলাম গ্রহন করে তাদের এলাকায় থাকতে শুরু করে।

হীরা বিজয়ঃ  ফোরাতের তীরে বিশাল বন্দর ইমপেশিয়াবন্দর দখল করলেন খালিদ (রাঃ), কিছু ফৌজ নিয়ে সন্ধির বিনিময়ে হীরা বিজয় করলেন,  হীরার গভর্নর আজাদবাহ পালিয়ে গেল। ইরাকের খৃস্টান কবিলাগুলোর কেন্দ্র ছিল হীরা। হীরাবাসি মনে করেছিল সাধারণত বিজয়ী সৈন্য যেমন পরাজিতের এলাকায় এসে সন্ধি  ভেঙ্গে তাদের উপর অত্যাচার করে, মুসলিমরা হয়ত তেমনি করবে। কিন্তু তারা মুসলিমদের  কাছে ভিন্ন আচরন দেখে অভিভূত হয়ে গেল, মুসলিমদের কাছে আনুগত্য স্বীকার করল।  হীরার পর খালিদ (রাঃ) আম্মারায় জমায়েত হওয়া  ইরানী ফৌজের মোকাবেলা করলেন, পরে আইনুত্তামরে আক্রমণ করলেন। আইনুত্তামরের সেনাপতিছিল মেহরান, ইরানীরা এবারো পরাজিত হল।

দুমাতুল জন্দল জিহাদঃ  খলীফা আবু বকর (রাঃ)খালিদ (রাঃ) কে ইরাকে পাঠানোর পরেই আয়াজ বিন গনমকে দুমাতুল জন্দলে পাঠান। রাসুল (সাঃ) তাবুকের যুদ্ধে খালিদ (রাঃ) কে দুমাতুল জন্দলে রোমানদের উপর হামলা করতে বলেছিলেন। সেসময় খালিদ (রাঃ)  মাত্র ৫ শত জানবাজ  নিয়ে  সেখানকার খৃস্টান শাসক ওকিদর বিন আব্দুল মালিককে গ্রেপ্তার করে মদিনায় পাঠায়, সে মদিনায় এসে ইসলাম  কবুল করলে রাসুল (সাঃ) তাকে পুনরায় তার এলাকার শাসনভার দিয়ে দেন। কিন্তু রাসুলের (সাঃ) ইন্তিকালের পর সে আবার বিদ্রোহ করে বসে। তাই খালিদ (রাঃ) আয়াজ বিন গনমকে  সাহায্যের জন্য আইনুত্তামর থেকে ৩০০ মাইল দূরে দুমাতুল জান্দালে আক্রমণ করেন। সেখান থেকে  ইরানে যুদ্ধরত মুসলিম বাহিনীর উপর এবং মদিনাতেও  হামলার সম্ভাবনা ছিল। আবার উত্তরে আলজারিয়ার খৃস্টানদের   থেকেও হামলার সম্ভাবনা ছিল, যা খালিদ (রাঃ) দুমাতুল জন্দল জয় করে মিটিয়ে দেন।

ফেরাজে রোম ও পারস্যের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে জিহাদঃ  খালিদ (রাঃ) দুমাতুল জন্দল থেকে আবার আওইনুত্তামরে ফিরে এসে ফোরাতের তীরধরে 'ফেরাজে' পৌঁছেন। ফেরাজের পশ্চিমে রোম ও পূর্বে পারস্য, ফেরাজ এই দু দেশের সীমানার ন্যায় ছিল।  সেখানে খালিদ (রাঃ) এর অবস্থানের খবর পেয়ে রোম আর পারস্য প্রথম বারের  মত একত্রে মুসলিমদের উপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন পূর্বে রোমানদের কাছে পারস্য হারার কারনে রোমানদের মুল সেনাপতিত্তে  তারা মুসলিমদের হামলা করে। কিন্তু মুসলিমদের তিব্র হামলার মুখে টিকতে না পেরে ইরানীরা  রোমদের অনুমতির অপেক্ষা না করেই পূর্ব দিকে পালিয়ে যায়। তাদের দেখে রোমরাও পশ্চিম দিকে পালায়। তাদের লাশের স্তূপ পরে থাকে  ফেরাজের ময়দানে। এতে সাথে সাথেই রোম-পারস্যের  ঐক্যের ভিত্তি শেষ হয়ে গেল  যেটা ভবিষ্যতে  হুমকি হয়ে দাড়াতে পারতো। এযুদ্ধে পরাজিত হয়ে রোম ও ইরান একে ওপরকে দোষারোপ করতে থাকে। 

এদিকে সিরিয়ায়   রোমদের  সাথে নিয়মিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় খলীফা আবুবকর (রাঃ) খালিদ (রাঃ) কে ইরানের জিহাদ থেকে সিরিয়াতে যাওয়ার আদেশ দেন। তাই তিনি  ইরাকে মুছান্না (রাঃ) কে সেনাপতি রেখে ৯ হাজার অভিজ্ঞ মুজাহিদ ও সিপাহ সালার নিয়ে সিরিয়াতে চলে যান। এদিকে পারস্যের রাজা ও তার পুত্র উভয়ই মৃত্যুবরণ করলে তারা পারস্য শাহানশাহ হিসেবে শাহরিয়ারকে খমতায় বসায়। শাহরিয়ার ভেবেছিল  মুছান্না (রাঃ) খালিদ (রাঃ) চলে যাওয়ায় তাদের বিশাল সেনাবাহিনীর আগমন দেখে পালাবে,তাই সে জেনারেল হরমুজকে ১০ হাজার সৈন্য সহ এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে মুছান্না  (রাঃ) কে  হামলা করতে  ব্যাবিলন পাঠায়। কিন্তু কিছুদিনপরেই সে শুনেন হরমুজ পরাজিত হয়ে ফিরছে, পাছে   ব্যাবিলন  ময়দানে হাজার হাজার ইরানী সৈন্যের লাশ পরে আছে।

রোমের কাহিনিঃ 

এদিকে খালিদ (রাঃ) কে মদিনা থেকে ইরাকের দিকে অভিযানে প্রেরণের পরই খলীফা আবু বকর (রাঃ)  সেনাপতিদের পতাকা বেধে দিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত  নিজ নিজ এলাকার দিকেপ্রেরন করেন। তিনি  খালিদ ইবনে  সাইদ (রাঃ) কে তায়মার দিকে (এখানে ওমর (রাঃ)খালিদ ইবনে সাইদকে সিরিয়াতে পাঠাতে খলীফাকে নিষেধ করেন, কারণ সে রেশমের জুব্বাপরার ব্যাপারে ওমর (রাঃ) এর সাথে তর্ক করেছিল), ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) কে দামেশকের দিকে,  আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) কে হিমসের  (হোমস) দিকে এবং আমরইবনুল আস  (রাঃ) কে ফিলিস্তিনের দিকেদায়িত্ব দিয়ে পাঠান।   পথে বালাকা অঞ্চলে আবু উবায়দা (রাঃ) সে এলাকারজনগনের সাথে জিহাদে সেটা সন্ধির মাধ্যমে জয় করেন, এটাই সিরিয়ার প্রথম  সন্ধি চুক্তি।

ইয়ারমুকের জিহাদঃ  মুসলিম মুজাহিদরা যখন  সিরিয়ার দিকে আগমন করেন তখন  রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ভয় পেয়ে যায়, সে জানত রাসুল (সাঃ) শেষ নবী আর তাদের খৃস্টান ধর্মের সময় শেষ হয়ে গেছে। হিরাক্লিয়াস তখন হিমসে (হোমস) অবস্থান করছিল।   আবু   বকর (রাঃ) এর মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ও তাদের সাহায্যার্থে ছিল ইকরিমা ইবনে আবু জেহেল এর ৬ হাজার সৈন্য। হিরাক্লিয়াসের সম্মুখ বাহিনীর দায়িত্বে ছিল জুরজা যিনি পরে ইসলাম গ্রহনের পরই ইয়ারমুকের জিহাদে শহীদ হন (তার খালিদ (রাঃ) এর সাথে এই প্রসিদ্ধ ঘটনা  আমি আমার আরেক নোটে বর্ণনা করেছি)।হিরাক্লিয়াসের ২ লাখ সৈন্যের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের  সংখ্যা কম হয়ায় তারা খলীফার কাছে সাহায্য চাইলে খলীফা  খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে ইরাক থেকে সিরিয়া যেতে নির্দেশ দেন। তিনি ৫ দিন পরতার ৯ হাজার মুজাহিদ নিয়ে ইয়ারমুকের জিহাদে মুল সেনাপতির দায়িত্বে এসে নিযুক্ত হন।খালিদ (রাঃ) সেখানে যেয়ে দেখেন মুজাহিদগণ রোমানদের সাথে জিহাদে লিপ্ত, অতপর খালিদ (রাঃ) এর আগমনের সংবাদ শুনে রোমানরা মুসলিমদের সাথে সন্ধি করতে চায়। সিরিয়াই ছিলমুজাহিদদের প্রথম বিজিত এলাকা। 

বর্ণিত আছে যে, যখন ইয়ারমুকের যুদ্ধে দুই বাহিনী প্রচণ্ড লড়াই করছিল, তখনআরব থেকে এক পত্র বাহক এসে খালিদ বিন ওয়ালিদের (রাঃ) কাছে খলীফার একটি চিঠি দেন।পত্র বাহক খালিদ (রাঃ) কে একান্তে নিয়ে গিয়ে বলেন, খলীফা আবু বকর ইন্তেকাল করেছেন,ওমর (রাঃ) পরবর্তী খলীফা নিযুক্ত হয়েছেন। ওমর (রাঃ) আপনার স্থলে মুল সেনাপতিরদায়িত্বে আবু উবায়দা আমির ইবনে জাররাহ (রাঃ) কে নিযুক্ত করেছেন। খালিদ (রাঃ) এই সংবাদ যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোপনরাখেন, যেন এতে মুজাহিদদের মনবল ভেঙ্গে না যায়। 

আজনাদায়নের জিহাদঃ “মা’ওয়ারের আরবা”  অঞ্চলে আমর ইবনে আস (রাঃ) এর সাথে রোমানরা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, সেখানে তার সাহায্যার্থে খালিদ (রাঃ), আবু উবায়দা (রাঃ), শুরাহবিল (রাঃ) ও মুরছাদ (রাঃ) মুজাহিদদের নিয়ে এলেই আজনাদায়নের জিহাদ শুরু হয়। এযুদ্ধে রোমানরা ছিল ২ লক্ষ ৪০ হাজার। আর মুসলিম মুজাহিদরা ছিলেন মাত্র ৪০ হাজার।অবশেষে মুসলিম মুজাহিদরাই কাফিরদের পরাজিত করেন। সেনাপতি কায়কালান নিহত হয়।

পারস্যের কাহিনিঃ 

 রাজা-রানীর ঝামেলার কারনে পারস্য থেকে চাপ অনেকটাই কম ছিল মুছান্না (রাঃ) এর উপর। তিনি একদিন নিজেই খলীফা আবু বকরের (রাঃ) কাছে সাহায্যের জন্য গেলেন। সেখানে যেয়ে তিনি আবু বকর (রাঃ) কে মৃত্যু মুখে দেখলেন। আবু বকর (রাঃ) তখনি ওমর (রাঃ) কে পারস্যের দিকে সৈন্য প্রেরণ করতে বলেন এবং সেদিনই (সোমবার) তিনি মুছান্না (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবাদের সাথে শেষ সাক্ষাৎ করে ইন্তিকাল করেন। 

আবু বকর (রাঃ) এর ইন্তিকালের পর ওমর (রাঃ) ও মুছান্না (রাঃ) মদিনাতে ইরাকের ব্যাপারে বক্তৃতা দিয়ে মুজাহিদদের সংগ্রহ করতে থাকেন, প্রথমে কেউ রাজি না হলেও পরে আবু উবায়দ ইবনে মাসউদ ছাকাফির (র) রাজি হলে একে একে অনেকেই রাজি হয়। আবু উবায়দা  প্রথম রাজি হয়ায় তাকে সেনাপতি বানিয়ে ওমর (রাঃ) ৭ হাজার মুজাহিদকে ইরাকে পাঠায়। এদিকে খালিদ (রাঃ) এর সাথে যে বাহিনী ইরাক থেকে সিরিয়া  এসেছিল তাদেরকেও ওমর (রাঃ) আবার ইরাক পাঠাতে বলেন।

নামারিকের জিহাদঃ  নামারিক হোল হীরাও কাদেসিয়ার মধ্যবর্তী স্থান। রুস্তম বাহমান কে সেনাপতি করে আবু উবায়দ  কে হামলা করার জন্য নামারিক পাঠায়। তারা পরাজিত হয় ও মাদায়েন (পারস্যের সেকালের রাজধানী) পালিয়ে যায়।

সেতুর জিহাদঃ  পারসিকরা  হাতী সহ এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ফোরাতের পারে জমা হয়। মুসলিমরা ছিল মাত্র ১০ হাজার। তারা মুসলিমদের বলে তোমরা নদী পার হয়ে আসবে না আমরা যাব? অভিজ্ঞ মুসলিম সালাররা বলছিলেন তাদের পার হয়ে আসতে, কিন্তু আবু উবায়দ বললেন, “আমরা মৃত্যুর ব্যাপারে যতটা নির্ভীক ওরা ততটা নির্ভীক নয়”,  এই বলে তিনি নদী পার হয়ে গেলেন। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম পাড় না হতেই পারসিকরা  তীর নিক্ষেপকরে, এবং মুসলিমদের ওপাড়ে দাঁড়ানোর জন্য সংকীর্ণ জায়গা দেয়, যেটা যুদ্ধের নিয়মের পরিপন্থী। তারা হাতীগুলো ছেড়ে দিলে মুজাহিদদের ঘোরাগুলো ভয়ে পালাতে থাকে, এতে তারা অনেক মুজাহিদদের তীর মেরে শহীদ করে। আবু উবায়দ ও কয়েকজন   কয়েকটা হাতী মেরে ফেলে, একটা হাতী সেনাপতি আবু উবায়দকে পায়ে পিসে শহীদ করে দেয়, এভাবে পর পর ৭ জন সেনাপতি শহীদ হলে মুছান্না (রাঃ) সেতুর মুখে দাড়িয়ে সকল মুজাহিদদের ধীরে সুস্থে  নদী পার হয়ে চলে যেতে বলেন। এর আগেই ৪ হাজার মুজাহিদ সেতু ভেঙ্গে ফোরাত নদীতে পরে শহীদ হন। অবশেষে বাকিরা পাড় হয়ে জীবন রক্ষাকরে। এযুদ্ধে পারসিকরা জয় লাভ করে, তবুও মুজাহিদরা ৬ হাজার পারসিক ও অনেক হাতীকে হত্যা করে।
এযুদ্ধের পর পারসিকদের রাজা-রানি সমস্যা আবার দেখা দেয়, তারা রুস্তম কেপদচ্যুত করে, পরে আবার ক্ষমতা দিয়ে ফিরুজানের সাথে ক্ষমতা দু ভাগ করে বসায়। এতেতারা দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।

বুওয়ায়ব –এর জিহাদ --পারসিকদেরউপর মুসলিমদের প্রতিশোধঃ  বওয়ায়ব হচ্ছে  কুফার নিকটবর্তী স্থান। পারসিকরা সলিমদের আগের মত বলে, তোমরা এপারে এসবে না আমরাওপাড়ে যাব, সেনাপতি মুছান্না (রাঃ) তাদের আসতে বলেন এবং  তাদের জন অনেক জায়গা ছেড়েদেন, যদিও তারা সেতুর যুদ্ধে কম জায়গা ছেড়েছিল ও সব মুসলিম পার না হতেই আক্রমণকরেছিল, কিন্তু মুছান্না তারা আসার ও সারি বদ্ধ ভাবে দাঁড়ানোর অনেক পরে আক্রমনেরসিদ্ধান্ত নেন। পারসিকরাই পরে মুসলিমদের আগে আক্রমণ করে, প্রচণ্ড যুদ্ধের পর তাদেরসেনাপতি মেহরান মারা যায় ও তারা পরাজিত হয়। এযুদ্ধে ১ লক্ষ পারসিক সৈন্য নিহত হয়। 


রোমের কাহিনিঃ

দামেশক বিজয়ঃ 
 আবু  উবায়দা (রাঃ) ‘ইয়ারমুক’ থেকে ‘মারজ সাকর‘ এ আসলেন, সম্রাট হিরাক্লিয়াস ছিল হিমস-এ (হোমস)। রোমানরা ফিলিস্তিনের সিংহল –এ ৮০হাজার সৈন্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই খলীফা ওমর (রাঃ) আবু উবায়দা (রাঃ) কে বললেন হিমসের দিকে এক দল ও ফিলিস্তিনের পথে ফিহল –এর দিকে একদল মুজাহিদ  পাঠাতে যেন তারা হিরাক্লিয়াস ও ফিলিস্তিনের সৈন্যদের বাধা দিতে পারে। পরে আবু উবায়দা (রাঃ) দামেশক অবরোধ করলেন।  একদিন দামেশকবাসী ফুর্তিতে মত্ত থাকলে খালিদ (রাঃ) কা’কা (রাঃ) ও অন্যান্য মুজাহিদদেরনিয়ে দামেশকের উপর ঝাপিয়ে পরলেন ও দামেশকের কিছু অংশ যুদ্ধ ও কিছু সন্ধি করে জয় করলেন।

ফিহল –এর জিহাদঃ  দামেশক বিজয়ের পর শুরাহবীল ইবনে হাসানা (রাঃ) এর সেনাপতিত্বে মুজাহিদগন ফিহল-এর দিকে যাত্রা করেন। এ যুদ্ধে ৮০ হাজার রোমান মারা যায়। আবু উবায়দ (রাঃ) শুরাহবীল (রাঃ) কে জর্ডানের শাসক বানিয়েখালিদ (রাঃ) ও অন্যান্যদের নিয়ে হিমস-এর দিকে যাত্রা করেন। পরে শুরাহবীল (রাঃ)জর্ডান থেকে গিয়ে 'বীসান' জয় করেন।

পারস্যের কাহিনীঃ
এদিকে খলীফা ওমর (রাঃ) নিজেই ইরাক যুদ্ধে যেতে চাইলে সাহাবাগন তাকে নিষেধকরেন এবং সা’দ (রাঃ) সেনাপতি নিযুক্ত করে ইরাক পাঠাতে বলেন।  ফলে ওমর (রাঃ) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর সেনাপতিত্বে মুজাহিদেরএক বাহিনী ইরাকে পাঠান, সা’দ (রাঃ) এসে পৌছার আগেই মুছান্না (রাঃ) ইন্তিকাল করেন।

কাদেসিয়ার জিহাদঃ  সেনাপতি সা’দ (রাঃ) কাদেসিয়ায় পৌঁছালে পারসিকরা তাদের মহাবীর সাবেক রাজা রুস্তম কে মুসলিমদের মুকাবিলার জন্য মুল ৮০ হাজারমতান্তরে ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য ও আরও ৮০ হাজার সৈন্য  সাহায্যার্থে পাঠায়। তাদের সাথে ৩৩ টি জঙ্গি হাতী ছিল।  এ যুদ্ধে  রুস্তম নিহত হয়ও পারসিকদের বাকি সৈন্য রাজধানী মাদায়েন পালায়।

রোমের কাহিনীঃ 

হিমস জিহাদঃ
 আবু উবায়দা (রাঃ) রোমান সৈন্যদের তারা করে হিমসে নিয়ে যান। সেখানেহিরাক্লিয়াস অবস্থান করছিল। পরে খালিদ (রাঃ) তার সৈন্য নিয়ে সেখানে পৌছলে অবরোধদৃঢ় হয়, হিমসবাসী সন্ধি করে। হিমস জয় হয়।

কিন্নাসরীনের জিহাদঃ  হিমস জয়ের পর আবুউবায়দা (রাঃ) খালিদ (রাঃ) কে কিন্নাসরীনে পাঠান, খালিদ (রাঃ) সেখানে যেয়ে সব রোমানসৈন্যদের হত্যা করে। পরে গ্রামবাসী সন্ধি করে। কিন্নাসরীন জয় হয়। 
এবছরই হিরাক্লিয়াস সিরিয়া ছেড়ে কন্সটাণ্টিনোপল চলে যায়।

কায়সারিয়্যার জিহাদঃ  খলীফা ওমর(রাঃ) মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান (রাঃ) কে সেনাপতি নিযুক্ত করে তাকে কায়সারিয়্যা আক্রমণ করতে বলেন। মুয়াবিয়া (রাঃ) সেখানে পৌছলে রোমানরা যুদ্ধ শুরু করে, প্রচণ্ডযুদ্ধের পর তাদের ৮০ হাজার সৈন্য নিহত হয় এবং ১ লাখ পলায়ন করে। মুসলিমরা জয়লাভকরেন।

 রোমান সেনাপতি আরতাবুন বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) ও রামাল্লার কাছে বিশাল বিশাল দুটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছিল। তাই আমর ইবনুল আস (রাঃ)  বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করতে চাইলে বায়তুল মুকাদ্দাসের বাসিন্দারা তাকে ওমর (রাঃ) কে এসে সন্ধি করে জয় করতে বলে। 

হযরত ওমর (রাঃ) এর হাতে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ঃ  সন্ধির মাধ্যমে বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে ওমর (রাঃ) ‘সাখরা’  নামক এক পাথরের উপর থেকে ময়লা আবর্জনা সরান। এটি ইহুদীদের একটি পবিত্র পাথর যেটিকে কিবলা বানিয়ে তারা ইবাদাত করত, পরে রোমান  খৃস্টানরা বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে এটির উপর সবচেয়ে নোংরা আবর্জনা ফেলত। রাসুল (সাঃ) একদিন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে  চিঠির মাধ্যমে সে পাথর থেকে আবর্জনা সরাতে বললে হিরাক্লিয়াস সেখান থেকে ময়লা সরানো শুরু করে, ১/৩ অংশ সরানোর পরেই ওমর (রাঃ) বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করেন। রোমানরা রাসুল (সাঃ) এর ৩০০ বছর আগে বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে। ইহুদীরা বায়তুল মুকাদ্দাসে খৃস্টানদের ‘আল কামামা’ নামক স্থানকে ডাস্টবিন বানিয়ে ছিল। ‘আল কামামা’ হল এমন একস্থান যেখানে ইহুদীরা ইসা (আঃ) ভেবে এক লোককে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করার পর সেখানে কবর দেয়। তাই খৃস্টানরাও এর প্রতিশোধসরূপ ‘সাখরা’ পাথরে ময়লা ফেলে সেটাকে ডাস্টবিন বানায়। 

পারস্যের কাহিনিঃ
 

ব্যাবিলনের জিহাদঃ   কাদেসিয়ার পরাজয়ের পর লক্ষাধিক সৈন্য ব্যাবিলনেআশ্রয় নেয়। এঘটনা সা’দ (রাঃ) জানার পরে ব্যাবিলনে আক্রমণ করেন। পারসিকরা ব্যাবিলনছেড়ে মাদায়েন ও নিহাওয়ান্দের দিকে পালিয়ে যায়।

নাহারশীরের জিহাদঃ  সা’দ (রাঃ) সালমান ফারসী (রাঃ) কে   নাহারশীরের জন্য সেনাপতি করে পাঠায়। সেখানে পারসিকরা এক সিংহকে মুসলিমদের চলাচলের রাস্তায় বেধে রাখে, সা’দ (রাঃ) এর ভাতিজা হাশেম সেটিকে হত্যা করে। অবশেষে, প্রচণ্ড অবরোধের পর মুসলিমরা এযুদ্ধে জয় লাভ করেন।
 
মাদায়েন বিজয়ঃ   সা’দ (রাঃ) সেনাবাহিনী নিয়ে মাদায়েন যাত্রা করেন। তারা দজলা নদীর তীরে যেয়ে দেখেন সেখানে কোন নৌকা নেই, সব নৌকা পারসিকরা অপর পারে নিয়ে গেছে, সেতুও ভেঙ্গে ফেলেছে। তাই সা’দ (রাঃ) মুজাহিদদের নিয়ে ঘোড়া সহই  পানিতে নেমেপরেন, নদীর পানি কূলে কূলে ভরা  ছিল। এদেখে অপর পাড়ে দাঁড়ানো পারসিক সেনারা পাগল-পাগল, জীন-ভুত বলে ভয়ে পালিয়ে যায়। সেখানে পারস্যের রাজা-বাদশারপ্রচুর ধন সম্পদ পড়েছিল, কিছুই তারা নিতে পারেনি। ৩  কোটি স্বর্ণ মুদ্রা ফেলে রেখে ইয়াযদগিরদ 'হুলওয়ানে' পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে  ‘ফাই’  সম্পদ অনেক বেশি ছিল। 

জলুলার জিহাদঃ
  ইয়াযদগিরদ 'জলুলা'তে মাহরানের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী রেখে হুলওয়ান পালায়। জলুলাতে সা’দ (রাঃ) এর সাথেতাদের যুদ্ধ হয়। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর মাহরান পালায়, পারসিকদের ১ লক্ষ সৈন্য নিহতহয়। পরে কা’কা (রাঃ) তারা করে মাহরানকে হত্যা করেন।
 পরে মুসলিমরা  হুলওয়ানের  তিকরীত ও মুসেল এবং মাসিবযান বিজয় করেন।  

রোমের কাহিনিঃ

কিরকিসিয়্যাহ ও হীত বিজয়ঃ  জাযীরার অধিবাসিগন হিমসের অধিবাসীদের খালিদ (রাঃ) ও উবায়দা (রাঃ) এর বিরুদ্ধে উস্কানি দিলে তারা হীত এসে জমা হয়। তখন খলীফা উমর ইবনে মালিককে হীত আক্রমণ করতে পাঠান। তিনি হারিস ইবনে ইয়াজিদকে হীত অবরোধ করতে দিয়ে কিরকিসিয়্যাহ জয় করেন। পরে হীতবাসীরা ও আত্মসমর্পণ করে।

জাযীরা বিজয়ঃ  ইয়ায ইবনে গানামের নেতৃত্বেএকদল মুজাহিদ জাযীরা বিজয় করেন। ইয়ায ইবনে গানাম পরে ‘রাহা’ বিজয় করেন। পরে ‘হাররান’ বিজয় করেন।‘হাররান’ থেকে উমর ইবনে যাদ রাসুল আয়ন’, আবু মুসা আসআরী ‘নসীবীন’,ইয়ায ইবনে গানাম ‘দারা’ এবং উসমান ইবনে আবদিল আস ‘আরমিনিয়া’ বিজয়করেন।

পারস্যের কাহিনিঃ  

আহওয়ায, মানাযির ও নাহার তায়রী বিজয়ঃ  মুসলিমরা ‘তুসতার’পর্যন্ত সকল রাজ্য পারসিকদের থেকে ছিনিয়ে নেন। তুসতারে সম্রাট ইয়াযদগিরদ জোর করে সাধারণ জনগন থেকে সৈন্য জমা করে। খলীফা ‘কূফা’ ও ‘বসরা’ থেকে ‘আহওয়াযে’ সৈন্য পাঠায়, তারা হরমুজানকে পরাজিত করে, হরমুজান ‘তুসতার’ পালায়। তুসতারে যুদ্ধে প্রত্যেক মুসলিম ১০০ জন করে পারসিক সৈন্য হত্যা করে। হরমুজান বন্দী হয়, পরে তাকে খলীফার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সে ইসলাম গ্রহন করলে খলীফা তাকে কিছু জায়গা ও ভাতা দিয়ে মুক্ত করে দেন। বলা হয় খলীফা ওমর (রাঃ) এর হত্যাকারীর সাথে  এই হরমুজানের হাত ছিল। 
    
সুইস (সুস) বিজয়ঃ  তুসতারের পর  সাবরা আবু মুসা আসআরি ও অন্যদের নিয়ে সুইস অবরোধ করলে সেখানকার বিজ্ঞজনেরা বলে  দাজ্জাল ছাড়া এটি কেউ জয় করতে পারবে না। তখন সাফ ইবনে সায়াদ এক লাত্থি দিয়ে দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পরলে মুসলিমরা সুইস জয় করেন।
এদিকে ইয়াযদগির্দ ইস্পাহানে পালিয়ে যায়।

মিসর ও ইসকান্দারীয়া বিজয়ঃ  সিরিয়া বিজয়ের পর খলীফা ওমর (রাঃ) আমর ইবনে আস (রাঃ) কে মিসর ও ইসকান্দারীয়ার উদ্দেশ্যে পাঠান। তারা সেখানে গেলে ক্যাথলিক নেতা মারইয়াম ও পাদ্রী মিরইয়াম তাদের সাথে দেখাকরলে তারা তাদেরকে ইসলাম গ্রহন করতে বলেন। কিন্তু ইসকান্দারীয়ার শাসক মুকাওকাস  তাদের মুসলিমদের আক্রমণ করতে বলেন এতে বুদ্ধিমান জনগন বলেন, “যে সম্প্রদায় দুটি বিশাল  সাম্রাজ্য রোম ও পারস্য বিজর করল তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবে”? পরে সিদ্ধান্তের বেধে দেয়া সময় শেষ হলে মুসলিমরা তাদের উপর আক্রমণ করে, এতে কিছু পাদ্রী ভয়ে মদিনাতে যেয়ে সন্ধি  করে মিসর মুসলিমদের দিয়ে দেয়। এরপর আমর (রাঃ) ইসকান্দারীয়াতে সৈন্য পাঠালে মুকাওকাস জিযিয়া করের বিনিময়ে সন্ধি করলে ইসকান্দারীয়াও বিজিত হয়।

নিহাওয়ান্দ বিজয়ঃ   একটার পর একটা পরাজয়ের পর সম্রাট ইয়াযদগির্দ আসে পাশের সব এলাকায় সাহায্য চাইলে ১ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে ফিরযান এক বাহিনী তৈরি করে নিহাওয়ান্দের কাছে সমাগত হয়। এদি কে কূফাবাসী  সা’দ (রাঃ) বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলে কোন কারণ ছাড়াই ওমর (রাঃ) তাকে পদচ্যুত করে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহকে কূফায় শাসনভার দিয়ে পাঠান। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ খলীফা  ওমর (রাঃ)  এর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি আন-নূমান ইবনে মুকরিন কে সেনাপতি করে নিহাওয়ান্দে প্রেরণ করেন।এক প্রচণ্ড যুদ্ধের পর আন-নূমান ঘোড়া থেকে পরে গেলে তার কোমরে তীর লাগলে তিনি শহীদ হন। হুযাইফা পতাকা তুলে নেন ও পরে তার ভাইনুয়াইমকে পতাকা তুলে দিয়ে শহীদ হয়ে যান। এ যুদ্ধে  মুসলিমদের জন্য তৈরি পরিখায় নিজেরাই পড়ে ১ লক্ষপারসিক নিহত হয়।

নুয়াইম ইবনে মুকরিম ‘হামাদান’ দখল করেন। নুয়াইম ইবনে মুকরিম এর যখন ১২ হাজার সৈন্য তখন রোম, দাইলাম, রাই ও আজারবাইজানের সৈন্যরা একত্রে ‘ওয়াজরুয’ এ হামলা করতে চাইলে  নুয়াইম একা সবগুলকে পরাজিত করেন।

রাই, কোমাস, জুরজান, আজারবাইজান, আল-বাব, আরমানিয়া বিজয়ঃ নুয়াইম ইবনেমুকরিম নিজে ও সেনাবাহিনী পাঠিয়ে রাই, কোমাস ও জুরজান বিজয় করেন। আজারবাইজানের শাসক ছিল রুস্তমের ভাই ইসকান্দিয়ায সে সন্ধির মাধ্যমে আজারবাইজান মুসলিমদের কাছে সমর্পণ করে।  ওমর (রাঃ) সুরাকাহ ইবনে আমর (রাঃ)কে আল-বাবে পাঠান। সুরাকাহ নিজে ও সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আল-বাব ও পরে আরমানিয়া সহ আশে-পাশের অনেক অঞ্চল জয় করেন। সুরাকাহ সেখানে ইন্তিকাল করলে আব্দুর রাহমান ইবনে  রাবীয়াহ কে ওমর (রাঃ) সে এলাকার দায়িত্ব দিয়ে তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যরেখে দেন।

তুকিদের বিরুদ্ধে প্রথম জিহাদঃ আব্দুর রাহমান ইবনে রাবীয়াহ কে ওমর (রাঃ) তুর্কিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যেতে বললে তিনি ৬৫০ মাইল দূরে বানাঞ্জারে অভিযান পরিচালনা করেন এবং কয়েকবার যুদ্ধ করেন।পরে উসমান (রাঃ) এর খিলাফত কালেও অনেক বার প্রচণ্ড যুদ্ধ হয় তুর্কিদের সাথে।

খোরাসান (আফগানিস্তান) বিজয়ঃ  সম্রাট ইয়াযদগির্দ খোরাসানে পলায়ন করে। আহনাফ (রাঃ) খোরাসান বিজয় করেন। সম্রাট চিনের বাদশাকে সাহায্যকরতে বললে চিনের বাদশা মুসলিমদের ভয় পেয়ে তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর যুদ্ধ করতেনিষেধ করে।  

কিরমান, সিজিস্তান ও মাকরন বিজয়ঃ
  ওমর (রাঃ) এর শাসনামলেই কিরমান, সিজিস্তানের পর মাকরনের নদী পর্যন্ত বিজয় হয় মুসলিমদের দ্বারা।

কুর্দীদের বিরুদ্ধে বিজয়ঃ  ওমর(রাঃ) এর খিলাফত কালে সর্বশেষ কুর্দীদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ হয়। পরে ওমর (রাঃ) ১০ বছর ৫ মাস ২১ দিনের খিলাফতে সবচেয়ে বেশি রাজ্য জয়করে সেখানে ইসলামের শান্তির বানী পৌঁছে পরলোক গমন করেন।

রাসুল (সাঃ) যখন মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন মক্কার মুশরিক-কাফিররা সাহাবাদের এই বলে উত্যোক্ত করত যে, এরা নাকি রোম বিজয় করবে? এরা নাকি পারস্য বিজয়  করবে? ওই দেখ দেখ রোম বিজয়ী যায়, পারস্য বিজয়ী যায়, ওই দেখ দেখ পাগল যায় .......ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই  বাপ-দাদার  ধর্ম ত্যাগকারী,  কথিত পাগলরাই মাত্র ২০-২৫ বছরের মধ্যেই একত্রে   রোম-পারস্যের মত দুইটা পরাশক্তিকে ধ্বংস করে দিয়ে আফ্রিকা এবং হিন্দুস্তান ও চিনের সীমানায় ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিল। তার কিছুদিন পরেই মাত্র ১০০ বছরের ভিতর মদিনা থেকে পশ্চিমে স্পেইন, পূর্বে  হিন্দুস্তান (ভারতীয় উপমহাদেশ) ও চিনের অনেক অঞ্চল এবং দক্ষিনে আফ্রিকাকে পরাজয় করে সেখানে ইসলাম পৌঁছে দিয়ে ইসলামিক খিলাফত রাষ্ট্রকে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ১৩০০ বছর ধরে সেই রাষ্ট্রকে পরিচালিত করে সবচেয়ে স্থায়ীরাষ্ট্র হিসেবে রেকর্ড গড়ে ছিল। আজও ক্রুসেডাররা সেই খিলাফত রাষ্ট্রের নাম শুনলে জামা-কাপড় ভিজিয়ে দেয়ার মত অবস্থা করে। হ্যাঁ,  তবে আবার আসছে সেই রাষ্ট্র, খুবই নিকটে, তবে এবার আসলে এটি আর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র হবে না, এটি সমগ্র পৃথিবী নিয়েই গঠিত হবে, আর স্থায়ী হবে কিয়ামত পর্যন্ত।

[সূত্রঃ ১. আল বিদায় ওয়ান নিহায়া  (৬ ষ্ঠ ও ৭ম খণ্ড) ...... আবুল ফিদা হাফিজ  ইবনে কাসির আল-দামেশকি (তাফসীরে ইবনে কাসির -এর লেখক)।
২. আর রাহীকুল মাখতূম ....... আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপূরী।
৩. আসহাবে রাসুলের জীবনকথা ....  আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) এর জীবনী .... ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
৪. হেজাজের কাফেলা ...... নসীম হিজাযী।]

 
 

Thursday, March 14, 2013

মোল্লা vs নাস্তিক (২য় পর্ব) (সিরিজ ২)

- 1 comment

মোল্লা vs নাস্তিক......... (২য় পর্ব) (সিরিজ ২)

by মুক্তির পথিক



(চায়ে ধীরেসুস্থে  চুমুক দিল মোল্লা। সবাই উৎসুক চোখে চেয়ে আছে।)
 পাশ থেকে একজন খোঁচা মেরে বললঃ এটা তো শয়তানের প্রশ্ন। তুই তো শয়তান হয়ে গেলিরে।
(হাসির রোল উঠল...)

মোল্লাঃ স্রষ্টাকে যদি অন্য কেউ বানায়, তাহলে প্রশ্ন আসে, তাকে কে বানাল? সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এবং এভাবে ব্যপারটা আবার অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে। একটু আগেই কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, কোন অসীম সংখ্যক ঘটনা সম্ভব নয়। তারমানে হোল, এই মহাবিশ্বের যিনি স্রষ্টা, তার কোন স্রষ্টা নেই।
রুম্মানঃ তাহলে তিনি অস্তিত্বে আসলেন কিভাবে? তিনি কি নিজেকে নিজেই বানিয়েছেন?

মোল্লাঃ তাও সম্ভব নয়। একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেকে নিজে কিভাবে বানাবে? আর নিজে যদি নিজেকে বানায়, তারমানে, নিজেকে বানানোর আগে তিনি ছিলেন না। নিজেকে যখন বানালেন তখন থেকে তার শুরু, তো কি দিয়ে বানালেন? আর শুরু মানেই তিনি সীমিত। আর তাকে যদি কেউ বানায়, তা নিজেই নিজেকে বানাক আর অন্য কেউ তাকে বানাক, এখানে physical properties চলে আসে। physical properties মানে তিনি নিয়ন্ত্রিত, তার উপর বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়েছে, তাকে অন্য কারো ইশারায় চলতে হয়, তিনি স্বাধীন না। অথচ স্রষ্টা হতে হলে তাকে হতে হবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন এবং অনির্ভরশীল। আর মূল কথা হল, একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেরে কিভাবে, কি দিয়ে বানাবে? শূন্য থেকে আপনা আপনি কিছু হয়না, এটা তো আমরা একটু আগেই আলোচনা করলাম।
 রুম্মানঃ তাহলে স্রষ্টা আসল কোথা থেকে?

মোল্লাঃ তিনি অসৃষ্ট। তিনি কোথাও হতে আসেন নাই। তিনি আগে থেকেই ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।

(গুঞ্জন উঠল ভিড়ের মধ্যে, “এটা কি হল, বুঝলাম না”...... “অসৃষ্ট মানে?”...... “তাহলে মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়......?”)
(কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল মোল্লার।)

মোল্লাঃ আমার বক্তব্যটা একটু গুছিয়ে বলি। মহাবিশ্বকে study করে আমরা বুঝলাম যে তার একজন স্রষ্টা আছে, তাইনা?

(আশপাশে তাকিয়ে তেমন একটা support পেলনা মোল্লা। দুই একজন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল)

মহাবিশ্ব, স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব না। এখন এই স্রষ্টাকে, হয়, কেউ তৈরি করেছে, না হয় তিনি নিজেকে নিজে তৈরি করেছেন। এ দুইটা বাদ দিলে মাত্র একটাই option থাকে। আর তা হল স্রষ্টা অসৃষ্ট। এর বাইরে আর কোন option নাই। প্রথম দুইটা point যে ভুল, তা আমি আলোচনা করেছি। আর বাকি একটাই option থাকে যে, তিনি একজন অসৃষ্ট স্রষ্টা (uncreated Creator)। তিনি যদি অসৃষ্ট (uncreated) না হন, তাহলে তিনিও ‘সৃষ্টি’ (created) হয়ে যান। আমাদের বুঝতে হবে যে, ‘স্রষ্টা’ (creator) আর ‘সৃষ্টির’ (created) মধ্যে পার্থক্য আছে। সৃষ্টি মানেই সীমাবদ্ধতা(limitation), নির্ভরশীলতা(dependency), দুর্বলতা(weakness)। কিন্তু স্রষ্টা এসকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে। এজন্যই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করা যায়না। তাকে হতে হবে অসৃষ্ট (uncreated)।
 (এতক্ষণে কয়েকজন বুঝল, কিন্তু প্রশ্ন শেষ হয়নি)
রুম্মানঃ মহাবিশ্বের  অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়? আর স্রষ্টার যে বৈশিষ্ট্য আপনি বলেছেন, তা তো কল্পনায়ও আনতে পারছিনা। পুরোপুরি বোধগম্যও হচ্ছেনা!

মোল্লাঃ মহাবিশ্বের ব্যপারটা তো বললামই, সে সীমিত(finite), সে অস্তিত্বের জন্য নির্ভরশীল। আর যে অস্তিত্বের জন্য অন্য কারো উপর নির্ভরশীল, সে তো সৃষ্টি (created)। এজন্যই তো সে অসৃষ্ট (uncreated) নয়, তার একজন স্রষ্টাকে দরকার, কিন্তু স্রষ্টার অন্য কোন স্রষ্টাকে দরকার নেই। আর স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য বোধগম্য হচ্ছেনা, স্বাভাবিক। স্রষ্টার reality আর আমার আপনার reality এক না। একটা unknown reality কে আপনি known realityর সাথে match করাতে পারবেন না।

২য় তরুনঃ বুঝলাম না।

মোল্লাঃ মনে করেন আপনি কোনদিন আমেরিকার সাদা চামড়ার মানুষ দেখেন নি। এখন কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, আমেরিকার মানুষের চামড়া সাদা, তো, আপনি কি বুঝবেন? আপনি বলবেন, দুধের মত সাদা? সে বলবে, না লাল সাদা। আপনি হয়ত বলবেন, দুধের মধ্যে আলতা দিলে যেরকম হয়, সেরকম?

(চায়ে চুমুক দিয়ে মোল্লা দেখল চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। পাশে রেখে দিল)

মোদ্দা কথা হচ্ছে, একটা অজানা reality সম্পর্কে যদি আপনাকে এসে বলা হয়, আর আপনি যদি তা sense করতে না পারেন, তবে কোনদিনই বুঝবেন না ঐ reality কেমন। ঐ reality বুঝতে হলে আপনাকে ঐ reality তে অবস্থান করতে হবে। স্রষ্টার reality আমাদের বাইরের reality, যা আমরা কখনই বুঝবনা। এজন্যই, হাদিসে, আল্লাহ কেমন, কিভাবে কাজ করেন, কেমনে থাকেন এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ একটা অজানা reality সম্পর্কে চিন্তা করতে গিয়ে আমরা শুধু fantasy নিয়ে পড়ে থাকব......এ কারনে আমরা মহাবিশ্বকে study করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারি, কিন্তু তিনি কেমন, কিভাবে থাকেন, কিভাবে কাজ করেন, তা প্রমাণ করতে পারিনা, এটা আমাদের আয়ত্তের বাইরে।

মাঝখান থেকে একজনঃ ও, সেজন্যই বুঝি স্রষ্টার কোন মূর্তি থাকতে পারেনা! ছবি থাকতে পারেনা? কারণ, তাকে যদি নাই দেখলাম, তার বাস্তবতা যদি নাই বুঝলাম, তাহলে তার মূর্তি বানালে তো তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়। তাকে তো দেখিইনাই কোনদিন, মূর্তি বানাব কেমনে? মূর্তি তো বানাব আমার কল্পনা দিয়ে, কিন্তু সেটা তো আর স্রষ্টা নয়!

(প্রশংসার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল মোল্লা, ভাবল, “নাহ, সব নাস্তিক গাধা না।”)

মোল্লাঃ Exactly! আপনি সঠিক point টাই ধরেছেন। এ কারণেই ইসলাম বলেছে স্রষ্টার সাথে এ মহাবিশ্বের কোন কিছুর তুলনা করা যায়না। তিনি অতুলনীয়। তাই, মূর্তি বানালে স্রষ্টার উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়।

(রঙ্গমঞ্চে এবার নতুন একজন আবির্ভূত হলেন।)

তিনি বললেনঃ তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, স্রষ্টা unlimited এবং independent।

(মোল্লা ঘুরে তার দিকে তাকাল। মাঝবয়সী ভদ্রলোক, এক কোণায় বসে মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিলেন এতক্ষণ। এঁর কাঁচাপাকা চুলও ঝুঁটি বাঁধা, চওড়া কপাল, ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি, ফুলরীমের চশমা সেইরকম একটা ভাব এনে দিয়েছে চেহারায়...... মোল্লা বুঝল, tough guy...... মজাটা শুরু হবে এখন......)

মোল্লাঃ জী, স্রষ্টা unlimited এবং independent।

(মৃদু হাসলেন ভদ্রলোক)

মাঝবয়সী বাবুঃ আপনি কি quark এর কথা শুনেছেন? quark কে কিন্তু আমরা প্রকৃতিতে আলাদাভাবে ......মানে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পাইনা। সুতরাং একে আপনি limited বলতে পারবেন না। আবার একে নিয়ন্ত্রণও করা যায়না,মানে অন্য কেউ ওর উপর খবরদারি করতে পারেনা, সুতরাং একে independent বলতে পারেন। তাহলে কি বলতে চাচ্ছেন, quarkই আপনার আল্লাহ?? (হা হা হা)

মোল্লাঃ আপনার এই কথাটাই Atheist Bangladesh Group এর Admin আমাকে বলেছিল। তখন আমি quark সম্পর্কে জানতাম না। তাই একটু ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি, (হাত দিয়ে মাছি তাড়াবার ভঙ্গি করল মোল্লা)। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, quark কে laboratory তে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, এর ভর আছে, এর ঘূর্ণন আছে। সুতরাং একে আপনি independent বলতে পারেন না। আর ধারণা করা হয়, big bang এর শুরুতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে এরা প্রকৃতিতে বিরাজ করেছিল, সুতরাং ‘unlimited’ একটা জিনিষ  ‘limited’ মহাবিশ্বে বিরাজ করতে পারেনা। আপনি আমার আলোচনা এতক্ষন শুনে থাকলে বুঝবেন।

মাঝবয়সী বাবুঃ আল্লাহর ও তো বৈশিষ্ট্য আছে, তিনি কি জানি......(মনে করার ভান করলেন) আর রহমান, আর রহিম, বেগারা, বেগারা, তাহলে তাকে dependent আর limited বলছেন না কেন?

(ব্যাটার নির্বুদ্ধিতায় বিরক্ত হল মোল্লা, ভাবল, “গাধা কি আর গাছে ধরে?” চেহারায় ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ)

মোল্লাঃ উনি যে রহমান, রহিম এগুলা উনার personality, এগুলা কোন physical বৈশিষ্ট্য না। quark এর বৈশিষ্ট্যগুলা physical বৈশিষ্ট্য, personality না। আর ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্য মানেই এগুলো আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে, তার মানে আপনি independent না, আপনি খাঁচার ভেতর অচিন পাখি। আপনার হাত দেড় ফুট লম্বা, এটা physical বৈশিষ্ট্য, কিন্তু আপনি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করেন, এটা আপনার personality, physical property কাউকে limited করে তোলে কিন্তু personality কাউকে limited করেনা।

(একটু যেন দমে গেলেন ভদ্রলোক)

মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু......সবপারে, অর্থাৎ Omnipotent একজন স্রষ্টার কিন্তু সমস্যা আছে। আত্মবিরোধের সমস্যা।

(মোল্লা বুঝতে পারল অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা এবার ধেয়েই আসছে......)

মাঝবয়সী বাবুঃ বলেন, আল্লাহ কি এমন কোন পাথর তৈরি করতে পারেন, যেটা উনি ধ্বংস করতে পারেন না? আপনি যদি বলেন, পাথর তৈরি করতে পারে, তাইলে তিনি ধ্বংস করতে পারবেনা, আর যদি বলেন এমন পাথর তৈরি করতে পারেন না, তাইলে তো আর এই স্রষ্টা সবকিছু পারেনা। দুইদিকেই সমস্যা। আত্মবিরোধ, সুতরাং আল্লাহ সবকিছু পারেন না!

(সবগুলা চোখ এখন মোল্লার দিকে)

মোল্লাঃ এটা একটা logical প্রশ্ন, রাইট?
মাঝবয়সী বাবুঃ (মৃদু হেসে) হ্যাঁ।

মোল্লাঃ logic সবসময় একটা premise এর উপর ভর করে চলে। এই প্রশ্নটার premise হল, “আল্লাহ সবকিছু পারেন”। এই কথাটার উপর ভিত্তি করে প্রশ্নটা করা হয়েছে। আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দিব, তার আগে বলেন, আল্লাহ সবকিছু পারে, এটা আপনাকে কে বলেছে?

মাঝবয়সী বাবুঃ তারমানে, আল্লাহ সবকিছু পারেনা?

মোল্লাঃ না, আল্লাহ সবকিছু পারেনা।

(বোম্ব ফাটল যেন। উল্লাসধ্বনি শোনা গেল নাস্তিক শিবির থেকে। এই স্বীকারোক্তিতে মাঝবয়সী বাবুও হতভম্ব হয়ে গেলেন। আস্তিকরা দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। মোল্লা চুপচাপ, শান্ত।)

মাঝবয়সী বাবুঃ তাহলে আপনার আল্লাহ সবকিছু পারেনা? হাহা (ব্যঙ্গ করে), তাহলে তিনি স্রষ্টা হওয়ার যোগ্যতা হারালেন। এরকম অযোগ্য স্রষ্টার দরকার নেই।

(রুম্মান চুপচাপ, সে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। বুঝতে পারল, এত সহজে ঘায়েল করা যাবেনা মোল্লাকে) ......... to be continued...



মাঝবয়সী বাবু

মোল্লা VS মুক্তমনা (সিরিজ ১)

- No comments

মোল্লা VS মুক্তমনা (সিরিজ ১)



(ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়া একটি বাসে.........)

মুক্তমনাঃ শালার মানুষ আর মানুষ! মানুষে গিজগিজ করছে। এই হুজুরগুলা যত বদমাইশ! বলে যে মুখ দিবেন যিনি, আহার দিবেন তিনি। এখন বুঝো ঠ্যালা! বেকুব ধর্মান্ধগুলা একটার পর একটা পয়দা করে, আর দেশের যত সমস্যা!
মোল্লাঃ ভাই, আপনি বলতে চাচ্ছেন, জনসংখ্যা বেড়ে গেছে, এর জন্য ইসলাম দায়ী?

মুক্তমনাঃ তা নয়ত কি?
মোল্লাঃ কিন্তু......... আপনার কথা সত্য হলে ত আরবের লোকসংখ্যা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা। কারণ ইসলাম ত প্রথম ঐদেশেই শুরু হয়েছে। অথচ দেখেন, বাংলাদেশের চেয়ে ১০ গুনের বেশি বড় হওয়া সত্ত্বেও, সউদি আরবের লোকসংখ্যা ৩ কোটিও নয়। অন্য আরবদেশগুলোর অবস্থাও তাই!

(ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন মুক্তমনা............ PUBLIC এর কান খাড়া!)

মোল্লাঃ আমি বলি কি, এই উপমহাদেশে ত হিন্দু ধর্মের প্রভাব ছিল দীর্ঘদিনের। হিন্দুদের মূর্তিগুলোই কিংবা মন্দিরের ভাস্কর্যগুলোই দেখেন! মা কালীর মূর্তি অর্ধউলঙ্গ। আর কৃষ্ণের মামীকে পটানোর কথাও ভুলবার নয়। ধর্মের কোন প্রভাব থাকলে সেটা হিন্দু ধর্মের হতে পারে, ইসলামের নয়। কামাসুত্রের প্রভাবেই এ অঞ্চলের মানুষরা অবাধ যৌনাচার করে বেশি মানুষ পয়দা করেছে, কি বলেন?

মুক্তমনাঃ আপনাদের মোল্লাদের এই এক সমস্যা। ইসলামের কোন সমালোচনাই শুনতে পারেননা। অন্য ধর্মকে গালাগালি করেন।
মোল্লাঃ গালাগালি করলাম কই, আপনি ধর্মের প্রভাব খুঁজলেন, আমি শুধু কোন ধর্মটার প্রভাব থাকতে পারে সেটা খোঁজার চেষ্টা করলাম।

মুক্তমনাঃ আচ্ছা বলেন, ইসলামে বলা আছেনা, সবাইর রিযিক আল্লাহর হাতে?
মোল্লাঃ হ্যাঁ।
মুক্তমনাঃ তাহলে বাংলাদেশের মানুষ, আফ্রিকার মানুষ না খেয়ে মরে কেন?

(PUBLIC এবার নড়েচড়ে বসল)
মোল্লাঃ আচ্ছা আপনি কখনও শুনেছেন, একটা কাক না খেয়ে মারা গেছে, বা দেখেছেন কোন প্রাণী না খেয়ে মারা গেছে, বাঘ, পিঁপড়া? দুর্ভিক্ষের কথা আলাদা।
মুক্তমনাঃ কখনও শুনিনি অবশ্য।
মোল্লাঃ অনেক প্রাণী মানুষের চেয়ে সংখ্যায় বেশি, তারপরেও এদেরকে ক্ষুধায় কষ্ট পেতে হয়না, তাইলে মানুষ না খেয়ে মরে কেন, বলুন ত?
মুক্তমনাঃ সেটাই তো আপনাকে জিগ্যাস করছি। (pinch মেরে) কোরানে না সব উত্তর দেয়া আছে??

(তার কথায় কান না দিয়ে)

মোল্লাঃ মানুষ যে অভুক্ত থাকছে এর কারণ এই না যে, আল্লাহ রিযিক দেয়নাই, কিংবা কম দিছে, বরং আল্লাহ প্রয়জনের চেয়ে অতিরিক্ত রিযিক দিছেন। মানুষের কাছে খাবার পৌছায়না SYSTEM এর অব্যবস্থাপনার কারণে। ফখরুদ্দিনের সময় বাংলাদেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, কিন্তু সেই বছরই বাংলাদেশ পাকিস্তানে চাল রপ্তানি করেছিল, অথচ দেশের মানুষ চাল পায়না। ভারত চাল নিয়া চালবাজি করল। সে বছর সোমালিয়ার মানুষ মাটির পিঠা খেয়ে ক্ষুধা মিটিয়েছিল। ২০০৭ সালে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল, ২.১৩ বিলিয়ন টন, আর চাহিদা ছিল ১.০১ বিলিয়ন টন। তাও মানুষ না খেয়ে ছিল কেন??? কারণ বড় বড় কোম্পানি গাড়ির বিকল্প জ্বালানি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্য শস্য সরিয়ে ফেলেছিল, আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, ঐ সময় তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল? আর ২০০৮ সালে ধারনা করা হয়েছিল যে খাদ্য উৎপাদন হবে ২.৩ বিলিয়ন টন যেখানে চাহিদা ছিল মাত্র ১.৫ বিলিয়ন টন। জাতিসংঘের FAO এর তথ্যমতে পৃথিবীতে যে পরিমাণ মাটি, পানি, বায়ু আছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগালে এখনকার জনসংখ্যার ১০ গুণ মানুষের খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। এই হল কাহিনী। এবার বলেন এটা কি আল্লাহর দোষ, না মানুষের? আল্লাহ তো ঠিকই মানব্জাতির জন্য পর্যাপ্ত খাবার দিয়েছেন, সে খাবার সঠিকভাবে বণ্টনের জন্য ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দিয়েছেন, কিন্তু মানুষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কারণে খাবার না পেয়ে স্রষ্টাকে দোষ দেয়। লোভী পুঁজিবাদী মানুষগুলার কারণে এবং ক্ষমতাশীলরা নিজের স্বার্থের জন্য এই হতভাগা মানুষগুলার মৃত্যুর জন্য দায়ী। ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা থাকলে কোন মানুষকে না খেয়ে মরতে হতনা।

(ব্যঙ্গ করে)
মুক্তমনাঃ তাই নাকি? খিলাফতে মনে হয় সবাই শান শওকতে ছিল??
মোল্লাঃ তা ছিলনা, কিন্তু  at least  না খেয়ে মরে নাই, খলীফা উমর ইবন আব্দুল আযিয যাকে ২য় ওমর বলা হয়, তার সময়ে যাকাত নেয়ার মত লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মুক্তমনাঃ ঐ সময় মানুষ কম ছিল, তাই খাওয়ার সমস্যা হয়নি, এই যুগে মানুষ বেশি, জমি কম।
মোল্লাঃ মানুষ কোন সমস্যা না! এই যুগে আল্লাহ technology দিয়েছেন, যার ফলে মানুষ ১ মনের জায়গায় ১০ মন উৎপাদন করতে পারে। প্রত্যেক যুগেই তো আগের যুগের চেয়ে লোক বেশি ছিল। শায়েস্তা খাঁর গল্প আমরা শুনি। তো তার যুগের লোক ও তো আগের যুগের চেয়ে বেশি ছিল, তাহলে? আসল ব্যপার হচ্ছে ব্যবস্থা। আর তাছাড়া আরবে তো কৃষিজমির চেয়ে মরুভুমি বেশি, তাহলে? ওরা তো ঠিকই রিযিক পাইত, আজকে আফ্রিকার মানুষ এই উপমহাদেশের চেয়ে কম, জমিও আমাদের চেয়ে বেশি, সম্পদও বেশি, কিন্তু আমাদের অবস্থা তো তাদের চেয়ে ভাল।সুতরাং জনসংখ্যা কোন factor না। আসল ব্যপার হল, ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা দেয়। পুঁজিবাদী গণতন্ত্র আর সাম্যবাদী সমাজতন্ত্র মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করে।

মুক্তমনা (রেগেমেগে)ঃ আরবের কথা বাদ দেন! বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা Islam দিয়ে সমাধান করবেন ক্যামনে?
মোল্লাঃ আল্লাহ কি ‘বাংলাদেশ’ নামক কোন রাষ্ট্র শেইখ মুজিব বা জিয়ার নামে রেজিস্ট্রি করে দিছে?

(ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে)মুক্তমনাঃ মানে?
মোল্লাঃ মানে, আল্লাহ কি বলছেন যে, ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিমির এই জায়গা বাংলাদেশ নামে মুজিবরে দেয়া হল, যার জনগণ হতে হবে ১৬ কোটি, এর বেশি হওয়া যাবেনা?

মুক্তমনাঃ কি বলতে চান?
মোল্লাঃ বলতে চাই, আল্লাহ এ পৃথিবী মানবজাতির জন্য বানিয়েছেন। তিনি কাউকে ভাগজোখ করে কোন দেশ দেন নাই। পৃথিবীতে অনেক খালি জায়গা পড়ে আছে। আজ যদি মুসলিম দেশগুলাই সব এক থাকত আর ইসলামী ব্যবস্থা থাকত, যেরকম খিলাফতের সময় ছিল, চিন্তা করেন একবার, মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া, তাহলে তো মনে হয়, আমি আপনি কয়েক বিঘা জমির মালিক থাকতাম। জনসংখ্যা নিয়ে tension করতে হতনা।

মুক্তমনাঃ আপনি কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে? রাষ্ট্রদ্রোহের মত কথা বলছেন!
মোল্লাঃ আপনি সমাধান চাইলেন দিলাম, এখন এ কথা বলছেন ক্যান? আমাদের সমাধান দরকার। অন্ধ আবেগ নয়। আবেগ দিয়ে গত ৪০ বছর অনেক ধোঁকাবাজি হয়েছে। এবার বাস্তবতা অনুধাবন করুন।

মুক্তমনাঃ আপনি বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করলে এই দেশে আছেন ক্যান? আরবে চইল্লা যান। (বিড়বিড় করে) মেজাজটাই খারাপ করে ......
মোল্লাঃ জি চলে যাব, যদি আপনি এমন জায়গায় যান, যেটা আল্লাহর তৈরি করা নয়।
মুক্তমনাঃ মানে?
মোল্লাঃ আপনি তো ইসলাম মানেননা। অথচ এই জমিন আল্লাহর। উনার জমিনে থাইকা যদি উনার বিদ্রোহ করতে পারেন, আমিও বাংলাদেশে থেকে রাষ্ট্রদ্রোহী কথা বলতেই পারি। এখন আপনি যদি এমন জায়গায় যেতে পারেন যেটা আল্লাহর তৈরি করা নয়, তাহলে কথা দিচ্ছি আমিও এই দেশ ছেড়ে চলে যাব............

(জনগণ এক নতুন দৃষ্টিতে তাকাল মোল্লার দিকে, আর এভাবেই শুরু হল খিলাফতের পক্ষে, ইসলামের পক্ষে এক নতুন জাগরণ, ইসলাম অপেক্ষায় এক অভূতপূর্ব জনমতের, যা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে কুফর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে............)

মোল্লা VS মুক্তমনা

মোল্লা VS নাস্তিক............ শেষ পর্ব (২য় সিরিজ সমাপ্ত)

- No comments

মোল্লা VS নাস্তিক............ শেষ পর্ব (২য় সিরিজ সমাপ্ত)

by মুক্তির পথিক

(পূর্বে প্রকাশের পর) 
মোল্লাঃ আল্লাহ সবকিছু পারেন না। তিনি ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না, মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, অবিচার করতে পারেন না। কারণ এ কাজগুলো যদি তিনি করেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকেন না। এ কাজগুলো যদি তিনি পারেন, তবেতিনিও আমাদের মত ঘুম, খাওয়া দাওয়া স্বার্থপরতা এইসবের  উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। আর স্রষ্টার পক্ষে এই ধরনের কাজ সাজেনা। সব কিছু যদি উনি পারেন, তাহলে উনার পক্ষে স্রষ্টা হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে, আমি আপনি না হয় স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বলি, ক্লান্ত হলে ঘুমাই, কিন্তু স্রষ্টার মিথ্যা বলার দরকার কি? ঘুমানোর দরকার কি? তিনি এসব দুর্বলতা থেকে মুক্ত বলেই তিনি স্রষ্টা। এই ব্যপারে কুরআনে আয়াতুল কুরসিতে বলা আছে। এইসব কাজ স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাঙ্ঘর্শিক। তিনি এই ধরনের Ungodly কাজ করতে পারেন না। আর আল্লাহ নিজেও কখনও দাবি করেন নি যে, তিনি “সব পারেন” বরং তিনি বলেছেন, “সবকিছুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।’’ মানে সবকিছুকে control করার, destroy করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

(একটু ইতঃস্তত ভাব যেন দেখা গেলো মাঝবয়সী বাবুর মাঝে, তবে হার মানতে নারাজ তিনি)

মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু আমার প্রশ্নের সাথে তো আপনার উত্তরের কোন মিলই নাই। আমি কি জিজ্ঞাসা করলাম, আর আপনি কি উত্তর দিলেন?

মোল্লাঃ আমি ভেবেছিলাম, আপনি জ্ঞানী, বুঝে নিবেন। (দুইপাশে হাত ছড়িয়ে) যাই হোক, ঐ যে বলছিলাম, প্রশ্নটার premise ভুল। এই প্রশ্নে ধরা হয়েছে যে, “স্রষ্টা সবকিছু পারে”। এই ভিত্তিতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “স্রষ্টা কি এমন কোন পাথর বানাতে পারে যা তিনি ধ্বংস করতে পারেন না?’’ premise ভুল এই কারনে যে, আমি একটু আগেই বললাম, স্রষ্টা আসলে সবকিছু পারেনা, উনি Ungodly জিনিস করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, এই প্রশ্নটার structure এও ভুল আছে। এই প্রশ্নটা logical প্রশ্ন। একটা Universal truth কে base ধরে এই method এ logic দাঁড় করান হয়। এই method কে বলা হয় logical deduction method। কিন্তু এই প্রশ্নটায়  universal truth কে base ধরে করা হয়নি।

(একটু চিন্তা করে)

যেমন ধরুন, ‘মানুষ মরনশীল’ এটা একটা সার্বজনীন সত্য। এটাকে premise ধরে প্রশ্ন করা হল, ‘রহিম একজন মানুষ, রহিম কি মরণশীল?’............ কিন্তু আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তাতে বলা হয়েছে, এমন কোন বস্তু তৈরি করা যাবে কিনা, যা স্রষ্টা ধ্বংস করতে পারেনা? আমাদের আশপাশে এমন কোন উদাহরন নাই যেখানে কেউ কোন কিছু বানাল অথচ তা নষ্ট করতে পারেনা। আপনি যদি একটা গ্লাস বানান, আপনি জানেন, কত জোরে আঘাত করলে তা ভেঙ্গে যাবে। আপনি একটা কম্পিউটার বানালে জানেন যে, পানিতে চুবাইলে এইটা শেষ। এটা কখনই সম্ভব না যে, কেউ কোন একটা জিনিসকে তৈরি করেছে অথচ তা ধ্বংস করতে পারছেনা। তৈরি করার সাথে সাথেই ঐ জিনিষটার দুর্বলতা এবং নাড়ী নক্ষত্র স্রষ্টার জানা হয়ে যায়, যেভাবে আপনি জানেন আপনার  তৈরি করা মেশিনটা কয়দিন সার্ভ করবে, কি করলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা স্রষ্টার দুর্বলতা নয়, বরং সৃষ্টির, স্রষ্টাকে অতিক্রম করতে  না পারার অক্ষমতা!

(ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন  মাঝবয়সী বাবু। এ প্রশ্নের এরকম উত্তর তিনি জীবনেও শুনেন নি। মোল্লা যেভাবে  প্রশ্নটার সার্জারি করে আবর্জনার স্তূপে ছুঁড়ে ফেলল, তাতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। অথচ এ প্রশ্ন দিয়েই তিনি কত তরুণকে নাস্তিক বানিয়েছেন, কত হুজুরকে ঘোল খাইয়েছেন, অপমান করেছেন!)

ফ্যাকাসে হাসি হাসলেন বাবু।

মাঝবয়সী বাবুঃ বুঝলাম, কিন্তু স্রষ্টা থাকলেই যে, তাকে মানতে হবে, এমন কোন কথা নেই।

মোল্লাঃ তারমানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, এ মহাবিশ্ব তৈরির পেছনে কোন objective নেই?

মাঝবয়সী বাবুঃ না কোন objective নাই।

মোল্লাঃ কেন আপনার এরকম মনে হল?

মাঝবয়সী বাবুঃ Objective থাকলে কি আর মানবজাতির মধ্যে এত হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি হত? যে যার মত খুশি, চলে। Objective থাকলে কি আর এরকম হত?

মোল্লাঃ (কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গীতে) তাহলে তো নাস্তিকরা মানবজাতির জন্য বড় উপকার করে যেতে পারে!

মাঝবয়সী বাবুঃ কিভাবে? (সন্দেহপূর্ণ দৃষ্টি)



মোল্লাঃ যেহেতু নাস্তিকদের জীবনের কোন অবজেক্টিভ নাই, সেহেতু আপনারা এক কাজ করলেই পারেন। গণহারে সবাই গলায় দড়ি দিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান হবে।, আপনারা মরে গিয়ে তেল, গ্যাস হবেন, আমাদের জ্বালানী সমস্যার সমাধান হবে। পৃথিবীতে আস্তিক নাস্তিকের মারামারিও থাকবেনা।

...... তো আপনারা মানবজাতির বিশাআআআআআআল উপকার সাধন করতে পারেন।

( এ কথা শুনে সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগল। চা দোকানদারের পান খাওয়া লাল দাঁত ও বেরিয়ে পড়ল)

মোল্লাঃ কি মামু? তোমার দোকানে না হয় দুই কাপ চা কম বিক্রি হবে, মাইন্ড কইরনা।

(দাঁত ৩২ টাই বের হল এবার)

(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন মাঝবয়সী বাবু)

মাঝবয়সী বাবুঃ ওরে বাপরে! সাড়ে এগারটা বেজে গেল। এবার উঠতে হয়, ভাই...

(সবাই মোচড় দেয়া শুরু করল)

মোল্লাঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাকেও উঠতে হবে......... তা আপনি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করছেন?

মাঝবয়সী বাবুঃ না, আমি সংশয়বাদী, কোনদিন clear cut প্রমাণ পেলে করব।

মোল্লাঃ দেইখেন আবার, নিজের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে থাইকেন না আবার! (বলেই বুঝল খোঁচাটা মারা ঠিক হয়নি)

মাঝবয়সী বাবুঃ তা আজ আসি। (বলেই ঘুরলেন, কি যেন মনে পড়ে গেলো মোল্লার, ডাক দিলেন.........পেছন  ফিরে তাকাল বাবু)

মোল্লাঃ ভাই, আপনার জন্য একটা সুসংবাদ আছে।

মাঝবয়সী বাবুঃ (সন্দেহপূর্ন  দৃষ্টি) কি?

(তার চুলের দিকেই কিনা ঠিক বোঝা গেলনা, শাহাদাত আঙ্গুল তাক করল মোল্লা)

মোল্লাঃ আপনাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন, “ সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই হেচড়িয়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুল ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের চুল!...... অপরাধীর পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা দেখে, তাদের পাকড়াও করা  হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে”

(কথাটা বলেই ঘুরল মোল্লা...... রাগে কাঁপতে লাগলেন মাঝবয়সী বাবু, মোল্লার সাহস দেখে, ব্যাটা আঙ্গুল তাক করেছে তার চোখের দিকে, চড়াত করে মাথায় রক্ত উঠে গেলো, গায়ে আগুন ধরে গেল, একইসাথে ভয় ও পেলেন, তার এতদিনের সাজানো গোছানো যুক্তির দুনিয়াটা ভেঙ্গে গেল বলে)

পকেট থেকে টাকা বের করল মোল্লা। তা দেখে দোকানদার বলে উঠল,

দোকানদারঃ মামু, আন্নেতুন  অ্যাঁই টিয়া রাইখলে আল্লাহ্‌ও বেরাজি অই যাইব। অ্যাঁরে মাফ করেন, অ্যাঁই রাইকতাম হাইত্তান্নো।

(হেঁসে বাসার পথে রওনা হল মোল্লা...... আবেগে চোখে পানি এসে গেল তার। ইসলামের জন্য এ উম্মাহ sacrifice করবে নাতো কে করবে? তার মনে পড়ে গেল, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময়, তারা কয়েকজন মিলে শেখেরটেক ১০ নং মসজিদ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছিল। যতগুলো ভিক্ষুক সেখানে ছিল, প্রত্যেকে নিজের ভিক্ষার টাকা থেকে দান করে গিয়েছিল...... এ উম্মাহ জাগবে নাতো কে জাগবে? এ উম্মাহ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবে নাতো কে দিবে?)

তিনদিন পর......

সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল মোল্লা। পকেট থেকে মোবাইল বের করতেই ভ্রু কুঁচকে উঠল। পরক্ষনেই হাসি ফুটল মুখে...

মোল্লাঃ আসসালামু আলাইকুম!

অপরপ্রান্তঃ ওয়ালাইকুমুসসালাম,......... হ্যালো, ভাই, ...... চিনতে পারছেন আমাকে?

মোল্লাঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, পারছি...... বলেন।

অপর প্রান্তঃ আপনি কি ফ্রী আছেন ভাই?

মোল্লাঃ আ.........হ, মোটামুটি, বলেন।

অপরপ্রান্তঃ না, তাহলে একটু কথা বলতাম আর কি!

মোল্লাঃ আপনি কই আছেন?

অপর প্রান্তঃ তাজমহল রোড।

মোল্লাঃ এক কাজ করেন, মেগা সিটির পিছনের মাঠে চলে আসেন। আমি আসতেছি, ১০ মিনিট।

”রব্বিশ রহলী সোয়াদরী ওয়া ইয়াসসিরলী আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল্লিসানী ওয়াফক্বহু ক্বলী”





তিন বছর পর......

রাত তিনটা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি প্রকোষ্ঠে শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে রুম্মান। ফাঁকফোকর দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়ছে। আজ ভরা পূর্ণিমা। বিগত তিন বছরের স্মৃতি মনে পড়ে গেল রুম্মানের।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের ঢাকা সফরের প্রতিবাদে মিছিলে গিয়েছিল সে। নির্লজ্জ পেটোয়া বাহিনীর বেধড়ক লাঠিপেটার স্মৃতি ভেসে উঠল। ভেসে উঠল মোল্লার মাথা ফেটে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ছবি। রক্তাক্ত দেহে ফুটপাতেই পড়ে ছিল। চারদিকের স্লোগান,”গণতন্ত্রের কবর খুঁড়, খিলাফতের জন্য লড়; মুজিব জিয়ার আদর্শ, দেশ করেছে ধ্বংস; সারা জাহান জাগছে, খিলাফত আসছে”.........। তিনজন পুলিশ যখন তাকে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে নিয়ে যাচ্ছিল, ততক্ষণে পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর তাণ্ডবে নরক হয়ে পড়েছিল প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা...। সেই সাথে সরকারী বাহিনীর তান্ডব।

তারপর থেকে তিন বছর...... হ্যাঁ, তিনটা বছরই তো। এমন কোন নির্যাতন নেই, যা তার উপর করা হয়নি। ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে দিয়ে তার যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে...... বিয়ে? হাহ? মোল্লার সাথে বিয়ে নিয়ে প্রায়ই কথা হত, ও বলত, খিলাফত আসলে ৪ টা বিয়ে করবে, আরব থেকে একটা, ইরান থেকে একটা, ইউরোপ থেকে একটা আর কাশ্মির থেকে একটা......ওয়ারড্রবের সমান সাইজের স্পীকার এনে তাদের কয়েকজনকে একটা রুমে আটকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল ঢাকা ব্যান্ড এর সেই কুখ্যাত গান, “লাকুম দিনিকুম ওয়ালিয়া  দীন”......টানা ২৪ ঘণ্টা...... পরের এক সপ্তাহ মাথায় শুধু একটা কথাই বাজত “লাকুম দিনিকুম ওয়ালিয়া দীন’’চোখটা ভিজে উঠল  রুম্মানের... কয়েকজনের কান ফেটে রক্ত বেরিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল...

ছোট বোনটার ম্যাট্রিকের রেজাল্টটাও জানা হলনা, কোন আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব কাউকেই দেখা করতে দেয়া হয়নি তার সাথে, এই তিন বছরে। ......আর ছোট্ট শিলু! বাইরে থেকে বাসায় গেলেই, উদোম গায়ে, diapers পরে থপ থপ দৌড়ে চলে আসত তার কাছে। একটা চকোলেটের আশায় তাকিয়ে থাকত ভাইয়ের দিকে, চকোলেটটা দিয়েই তার তুলতুলে হাতে আলতো করে কামড় বসিয়ে দিত রুম্মান। ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরত ছোট্ট শিলু......

শরীর আর পারছেনা...... নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা আর গার্ল ফ্রেন্ডের হিপ বোন মাপা তরুণদের বুঝা উচিৎ, তাদেরকে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা কি ভয়ংকর পরিকল্পনায়ই না মেতে উঠেছে। এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা হাজারো তরুণের আত্মত্যাগের কথা “আংশিক নয়, পুরো সত্য” এর দাবীদার রুপার্ট মারডকদের মিডিয়ায় কখনই উঠে আসেনা...... ইসলাম এত সহজে আমাদের বাপ দাদাদের কাছে আসেনি, এত সহজে পরবর্তী জেনারেশনের কাছেও যাবেনা।

Brainwash! আক্ষেপের হাসি ফুটল রুম্মানের ঠোঁটের কোণায়। হ্যাঁ Brainwash ই বটে! Secular এই সমাজের নোংরা আবর্জনা ভরা মাথাটাকে তো ধোওয়ার দরকারই ছিল। মোল্লা সে কাজটাই করেছে। মনে পড়ে গেল, মেগা সিটির মাঠে আলোচনা শেষ করে উঠার সময়......আবেগে তার শরীর কাঁপছিল...... মোল্লা জিজ্ঞাসা করল “তোমার ঝুঁটি কোথায়?” ...... সে বলেছিল, “Live for Allah, Die for Allah”........ দরদর করে চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল মোল্লার। একজন আরেকজনকে বুকে জড়িয়ে ধরল, মোল্লার সেই চাপ আজও বুকে লেগে আছে...... ভ্রাতৃত্বের চাপ, Bond of Brotherhood!

ও আল্লাহ! আর পারছিনা...... খিলাফত না দেখিয়ে মৃত্যু দিওনা...... হঠাৎ অন্তরে এক  গভীর প্রশান্তি অনুভব করল সে.........হা হা... “তেরা...মেরা... রিশতা... পুরানা...’’......তাহাজ্জুদের সময় হয়ে এল।

তাহাজ্জুদের দ্বিতীয় সিজদা যখন দিল, তার ঠোঁটের কোণে ছিল হাসির রেখা। ফজরের আযান যখন শুনা গেল, তখনও ওভাবেই ছিল সে...... ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা......

...ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

(আর এভাবেই শুরু হল, ইসলামের পক্ষে, খিলাফতের পক্ষে এক অভূতপূর্ব জাগরণের। গুম, হত্যা, নির্যাতন, অপবাদ কোন কিছুই রুখতে পারছেনা রুম্মানের মত এরকম শত সহস্র তরুণের আদর্শিক জাগরণকে......... ইসলাম অপেক্ষায়, গণতন্ত্রকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করার......)

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুআল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবারওয়া লিল্লাহিল হামদ

(২য় সিরিজ সমাপ্ত)