Sunday, April 13, 2014

অসাধারন এক টিনএজার সাহাবীর কাহিনী

- No comments


ভীষণ সুন্দর একটি কাহিনী সবার সাথে শেয়ার করছি। আশা করি আমরা জীবনে সবকিছু একটু অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করব।
আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী, নাম ছা’লাবা (ثعلبه) । মাত্র ষোল বছর বয়স। রাসূল (সা) এর জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন তিনি। একদিন উনি মদীনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর চোখ পড়ল দরজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে গোসলখানায়একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন, এবং বাতাসে সেখানের পর্দা উড়ছিল, তাই ছা’লাবার চোখ ঐ মহিলার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।
কিন্তু ছা’লাবার মন এক গভীর অপরাধবোধে ভরে গেল। প্রচন্ড দুঃখ তাকে আচ্ছাদন করল। তার নিজেকে মুনাফিক্বের মত লাগছিল। তিনি ভাবলেন, ‘কিভাবে আমি রাসূল (সা) এর সাহাবী হয়ে এতোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি?! মানুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা রাসূল (সা) এর বার্তা বাহক হিসেবে কাজ করি, কেমন করে এই ভীষণ আপত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব?’ তাঁর মন আল্লাহর ভয়ে কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, ‘না জানি আল্লাহ আমার এমন আচরণের কথা রাসূল সা এর কাছে প্রকাশ করে দেয়!’ ভয়ে, রাসূল (সা) এর মুখোমুখি হওয়ার লজ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পালিয়ে গেলেন।
এভাবে অনেকদিন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়ালাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাহাবাদের কে ছা’লাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই থাকতেন। কিন্তু সবাই জানাল কেউ-ই ছা’লাবাকে দেখেনি। এদিকে রাসূল (সা) এর দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছিল। তিনি উমর (রা), সালমান আল ফারিসি সহ আরো কিছু সাহাবাদের পাঠালেন ছা’লাবার খোঁজ আনার জন্য। মদীনা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ছা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনার একেবারে সীমানাবর্তী একটা স্থানে, মক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা হল তাদের। দেখানে এসে তারা ছা’লাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। ‘তোমরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলেকে এদিকে আসতে দেখেছ?’
বেদুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল। তারা জবাব দিল, সে খবর তারা জানেনা, তবে তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি ক্রন্দনরত বালকের সন্ধানে এসেছ?’ একথা শুনে সাহাবারা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তার বর্ণনা জানতে চাইলেন। উত্তরে ওরা বলল, ‘আমরা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের সময় এখানে একটা ছেলে আসে, সে দেখতে এতো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধুই কাঁদতে থাকে। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে দুধের বাটিতে চুমুকদেয়ার সময় তার চোখের পানি টপটপ করে পড়ে মিশে যায় দুধের সাথে, কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ থাকেনা!’ তারা জানালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে আছে। একটা পর্বতের গুহার মধ্যে সে থাকে, দিনে একবারই সে নেমে আসে, কাঁদতে কাঁদতে; আবার কাঁদতে কাঁদতে, আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে উপরে চলে যায়।
সাহাবারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ ছা’লাবা না হয়ে আর যায় না। তবে তাঁরা উপরে যেয়ে থা’লাবা ভড়কে দিতে চাচ্ছিলেন না, এজন্য নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন।
যথাসময়ে প্রতিদিনের মত আজও ছা’লাবা ক্রন্দনরত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোনদিকে খেয়াল নাই। কী দুর্বল শরীর হয়ে গেছে তাঁর! বেদুঈনদের কথামত তাঁরা দেখতে পেলেন, থা’লাবা দুধের বাটিতে হাতে কাঁদছে, আর তাঁর অশ্রু মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় গভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
সাহাবারা তাকে বললেন, ‘আমাদের সাথে ফিরে চল’; অথচ থা’লাবা যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি বারবার সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘আল্লাহ কি আমার মুনাফেক্বী বিষয়ক কোন সূরা নাযিল করেছে?’ সাহাবারা উত্তরে বললেন, ‘না আমাদের জানামতে এমন কোন আয়াত নাযিল হয় নাই।’ উমর (রা) বললেন, রাসূল (সা) আমাদেরকে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রাজি না হও, তাহলে তোমাকে আমরা জোর করে ধরে নিয়ে যাব। রাসূল (সা) এর কথা অমান্য করবেন এমন কোন সাহাবা ছিল না। কিন্তু ছা’লাবা এতোটাই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন নাহ। এরপর সাহাবারা তাকে রাসূল (সা) এর কাছে মদীনায় নিয়ে আসেন।
মহানবী (সা) এর কাছে এসে ছা’লাবা আবারও একই প্রশ্ন করে, ‘আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের মধ্যে অন্তর্গত করেছেন অথবা এমন কোন আয়াত নাযিল করেছেন যেখানে বলা আমি মুনাফিক্ব?’ রাসূল (সা) তাকে নিশ্চিত করলেন যে এমন কিছুই নাযিল হয়নি। তিনি ছা’লাবার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপর রাখলেন। থা’লাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগারব্যক্তির মাথা আপনার কোল থেকে সরিয়ে দিন।’ উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এসব স্নেহের যোগ্য নাহ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিতেই থাকলেন। আল্লাহর রহমত আর দয়ার উপর ভরসা করতে বললেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন। এমন সময় ছা’লাবা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যেন আমার হাড় আর মাংসের মাঝখানে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।’ রাসূল (সা) বললেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসেছে ছা’লাবা, শাহাদাহ পড়’। ছা’লাবা শাহাদাহ বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’
উনি শাহাদাহ বলতে থাকলেন... বলতেই থাকলেন... এমনভাবে তাঁর রুহ শরীর থেকে বের হয়ে গেল।
মহানবী (সা) ছা’লাবাকে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক সাহাবা ছা’লাবাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সা) পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর রাদিয়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনিএভাবে কেন হাঁটছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন.. কতো রাস্তা ফাঁকা পরে আছে, আপনি আরাম করে কেন চলছেন না ইয়া রাসুল?’
উত্তরে রাসূল (সা) বললেন, ‘হে উমর, আমাকে অনেক সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতাদের দ্বারা ভরে গেছে । ছা’লাবার জন্য এতো ফেরেশতা এসেছে যে আমি ঠিকমত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না’।
সুবহানল্লাহ !
এই সেই ছা’লাবা যে ভুলক্রমে একটা ভুল করার জন্য এতো প্রায়শ্চিত্য করেছেন। গুনাহ-র কাজ করা তো দূরের কথা, গুনাহ নাকরেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে ব্যাকুল হয়েছেন। কত উঁচু ছিলেন তিনি আল্লাহর চোখে যে তাকে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের আগমনে রাস্তা ভরে গিয়েছিল! এই সব ফেরেশতারা নেমে এসেছে শুধু থা’লাবার জন্য, তাঁর জন্য দুআ করারজন্য, তাকে নিয়ে যাবার জন্য। আর আমরা সারাদিন জেনে না জেনে এতো ভুল করেও, এতোগুনাহ করেও অনুশোচনা করি না! উলটা আমাদের পছন্দ মত কিছু না হলেই আল্লাহর আদেশের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকি, জীবন নিয়ে নালিশ করতে থাকি।
একটা হাদীস আছে, ‘মু’মিন বান্দার কাছে তার গুনাহগুলো এমন যেন এখনই পাহাড় ভেঙ্গে তার মাথার উপর পড়বে; আর একজন দুর্বৃত্তকারীর কাছে গুনাহ এরকম যে মাছি এসে তার নাকের উপর উড়াউড়ি করছে, আর সে হাত নাড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল’। [বুখারি, বইঃ৭৫, হাদীস নং ৩২০]
আমরা আমাদের গুনাহগুলোকে দেখেও না দেখার ভান করি। স্বীকার করতে চাইনা। কতো রকম যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করি। একটু ফ্যাশন, শখ, মনের ইচ্ছা পূরণ, মানুষের সামনে বড় হওয়া, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমরা গুনাহ-র কাজে জড়িয়ে পরি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবতে পারিনা। আমাদের যুক্তি, অহংকার, শয়তানের মতই আমাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে। কিয়ামতের দিন এক আল্লাহর রহমত আর দয়া ছাড়া কিছুই আমাদেরকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না। জান্নাত তাদেরজন্যই যারা আল্লাহর কাছে মাথা নত করে। আত্মসমর্পণ করে পূর্ণভাবে। নিজের ইচ্ছা, অহম বোধের কাছে মাথা নত করেনা। তাই ঈমানদার ব্যক্তিই বিনয়ী। তার রবের সামনে কাঁদতে সে লজ্জা পায় না। ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে কুন্ঠাবোধ করেনা। সততার সাথে ক্ষমা চেয়ে দৃড়ভাবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, ‘যেতওবা করে এবং ঈমান আনে ও পুণ্য-পবিত্র ক্রিয়াকর্ম করে। সুতরাং তারাই, -- আল্লাহ্ তাদের মন্দকাজকে সৎকাজ দিয়ে বদলে দেবেন। আর আল্লাহ্ সতত পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা’।
[সূরাহ ফুরক্বানঃ ৭০]
আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের জেনে না জেনে করা গুনাহগুলো থেকে ক্ষমা করে দিক ! আমাদেরকে সঠিকভাবে মনের অন্তঃস্থল থেকে অনুতাপ করার, ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দান করুক। আমাদেরকে নিজেদের ভুলবুঝার আর স্বীকার করে নিয়ে খারাপ কাজগুলো থেকে দূরে থাকার তওফিক দিক... আমীন।

Saturday, April 12, 2014

এবং শয়তান তাদের চোখে তাদের কাজকর্ম সুশোভিত করে দিয়েছে…

- No comments
“…এবং শয়তান তাদের চোখে তাদের কাজকর্ম সুশোভিত করে দিয়েছে…”
লিখেছেন ভাই
  Zim Tanvir

পহেলা বৈশাখের শুরুটা আসলে কিভাবে? কোন উৎসব হিসেবে নয়, শুরুটা হয়েছিল দিল্লীর জুলুমবাজ সম্রাট আকবরের হাতে, বাংলার প্রজাদের থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। আসুন একটু কল্পনা করি! শুরুটা না হয় একটা খারাপ মানুষ করেছিল, একটু উৎসব হতে মন্দ কী! খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর জন্য বছরের এই দিনে একটুখানি আনন্দ আর বিনোদন মিলবে। একটু অবকাশ, একটু বিশ্রাম, একটু বিরতি দিয়ে কাজের বাঁধন থেকে একটুখানি মুক্তি।

কিন্তু না, এই নতুন দিনে একটুখানি স্বস্তিতে আর চলছে না, এবার ঘটা করে আয়োজন করা চাই। ঘটা করে আয়োজন তো আর lame কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে হতে পারে না, চাই ভারি কোন ইস্যু, কোলকাতার দাদারা তাই লাফিয়ে পড়লেন এই নববর্ষকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশপ্রভুদের মন জয়ের পুজোয়। তাই ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এই নববর্ষের ঘটা করে উদযাপন। এটা অজানা নয়, উপমহাদেশের হিন্দু জমিদারেরা ছিল ব্রিটিশ দখলদারদের ডান হাত, আর মুসলিমরাই ছিল প্রধান শত্রু। সে যাই হোক, এই নববর্ষ নিছক অবকাশের গণ্ডি থেকে বের হয়ে প্রথমবারের মত রুপ নিল উৎসবের, জমিদারী পৃষ্ঠপোষকতায়, তাও আবার সাদা চামড়ার জয়গান গেয়ে! যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভূমির পর ভূমি দখল করে সম্পদ পাচার করেছে নিজভূমে, তাদেরই কীর্তনে সেই চাটুকার গোষ্ঠীটি নেচে-গেয়ে উঠল আবার, দ্বিতীয় বিশযুদ্ধের প্রাক্কালে। আধুনিক ভাষায় এদের যুতসই প্রতিশব্দ, “রাজাকার”।

২০১৪ সাল, দুদিন পরে মানুষ নববর্ষ পালন করতে ছুটে যাবে। ভাবালু কণ্ঠে বারবার বলা হবে এই উৎসব বাঙ্গালী “শত বছরের শাশ্বত ঐতিহ্য”। একটু ভেবে দেখুন, সময়ের সাথে কিভাবে বদলে যায় একটা উৎসবের মতিগতি, ভাবগাম্ভীর্য আর ঐতিহ্য। যে নববর্ষের শুরু খাজনা আদায় নিয়ে, সে উৎসব অবকাশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কিভাবে-কিভাবে হয়ে গেল নিজেকে বাঙ্গালী প্রমাণের মহোৎসব। হালখাতার প্রচলন না থাকলেও ব্যবসা আছে, খাজনার রীতি না থাকলেও চেতনা আছে। চিন্তায়-চেতনা-চলনে-বলনে-অন্তরে জেঁকে বসেছে পৌত্তলিকতা আর পশ্চিমা ভাবধারা, বাঙ্গালিপনার ঠাঁই হয়েছে চোয়ালজোড়ায়।

দু’দিন পর নববর্ষের নামে যা হবে, দু’শ বছর আগে কি তা হত? তখন কি হিন্দুদের মূর্তির অনুকরণে মুখোশ আর মূর্তি বানিয়ে কেউ “মঙ্গল যাত্রা” করত? নাকি আজকের দিনটি ছিল তাদের জন্য নির্লজ্জতা আর ‘চান্স নেবার দিন’? নাকি সেটি ছিল মানুষকে পান্তা-ইলিশ খাইয়ে বাঙ্গালী হবার মিছে সান্ত্বনা দিয়ে টাকা হাতাবার পবিত্র দিবস?

শয়তানের পরিকল্পনা এমনই, আপনাকে ধোঁকা দিয়ে এমন কাজে ঠেলে দেবে যার শেষে কী ভয়ানক পরিণতি আছে তা আপনি শুরুতে ভাবতেও পারবেন না। যারা আজ থেকে দু’শ বছর আগে নববর্ষ এই ভেবে পালন করেছে, “আচ্ছা কী হয় ‘ছুটির দিনে’ একটু ভালো-মন্দ খেলে-পরলে, হালকা গান-বাজনা করলে?”, তারা কি এটা ভেবেছে, এই নববর্ষকে কেন্দ্র করে হিন্দু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ব্রিটিশদের গোলামিকে শৈল্পিক রুপ দেবে? তারা কি এটা কল্পনা করেছে তাদের উত্তরসূরী কন্যারা এমন দিনে নির্লজ্জ বেশে বের হয়ে উগ্রতার বাজারে লালসার পণ্য হয়ে ঘুরে বেড়াবে? তারা কি কল্পনা করেছে তাদের অপদার্থ ব্যক্তিত্ববিবর্জিত চরিত্রহীন পুত্ররা গার্লফ্রেন্ডের মনোরঞ্জনের পেছনে পয়সা উড়িয়ে বেড়াবে? তাদের মনে কি এসেছে, এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলিমরা, যাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ) নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মূর্তি গুড়ো গুড়ো করেছিলেন আর যাদের নবী নিজ হাতে মক্কা থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেছিলেন, সেই নবীর উম্মত আজকে আবার সেই মূর্তি বানাবে নিজ হাতে আর সেই মূর্তি-হাতে-মুখোশ পরে “মঙ্গল যাত্রা”র মিছিলে যোগ দেবে, যে মিছিলে প্রকৃতিপূজারী আর ভণ্ড নাস্তিকরা কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে নয়, সূর্যের কাছে?

আদম (আঃ) এর পরে পাঁচজন পুণ্যবান মুসলিম ছিলেন, যাদের প্রতি অতিভক্তি আর শ্রদ্ধায় মানুষ মূর্তি নির্মাণ করে আর সেই পূণ্যবান মানুষগুলোর তাওহীদের আদর্শ ভুলে গিয়ে মূর্তিগুলোকেই একসময় তারা পূজো করতে শুরু করে, অথচ সেই পাঁচজন পূণ্যবান মুসলিম ছিলেন, মুশরিক ছিলেন না! আল্লাহ তাই কুরআনে বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে” [১]। কেননা, শয়তানকে কেউ জেনেশুনে অনুসরণ করে না, অনুসরণ করে তার পদাঙ্ক। আদমকে শয়তান বলেনি, তুমি আল্লাহর অবাধ্যতা করো, বলেছে অমুক গাছের ফল খাও চিরকালের রাজত্ব পাবে। তাই আমরা দেখি, “সুস্থধারার সামাজিক ছবি”র চারা থেকে জন্ম নেয় পর্নোগ্রাফি মহীরূহ ইন্ডাস্ট্রি, অথবা যার সূচনা “বাদ্যবিহীন গানের আসর” দিয়ে, তার পরিণতি গিয়ে ঠেকে নষ্টামি ভরা ডিজে পার্টি, সেখানে যুগের সাথে তাল-মিলিয়ে চলা প্রগতিশীল ছেলে-মেয়েরা হাত ধরাধরি করে মদ খেয়ে মাতলামি করে।

এদের পরিণতি কি? আল্লাহ বলেন,

“…এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব। আর এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই তাকে যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রভুর নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর পরকালের শাস্তি তো বেশী কঠিন এবং অধিক স্থায়ী।” [২]

যা ছিল এককালে ভালো নাস্তা বানাবার উপলক্ষ, তা আজ চক্ষু-কর্ণ-জিহবা-অন্তরের যিনার প্লেগ্রাউন্ড। যে উৎসবের শুরুটা ছিল হয়ত নিছক শ্রান্তির জন্য, সেই উৎসবে আজ নষ্ট চেতনা, শিরকী আচার এবং সুস্পষ্ট হারাম কাজের মহোৎসব। যে উৎসবের জন্ম জুলুম আর অন্যায়ের গর্ভে, যে উৎসব চাটুকার-রাজাকারদের কোলে লালিত, সে উৎসব আজ আত্মপরিচয়হীন জাতির “প্রাণের উৎসব”। যে উৎসবে বাঙ্গালি আর মুসলিমদের শত্রু ব্রিটিশদের জয়গান গাওয়া হত, সেই উৎসব আজ বাঁআলী মুসলমানেরা জাঁকজমকভাবে পালন করে সোৎসাহে।

শয়তান তার শয়তানী এজেন্ডা নিয়ে এভাবেই হাজির হয়, কখনো উৎসবের মোড়কে, কখনো বা চেতনায় বাঁধাই করে, ভেতরে থাকে আল্লাহর অবাধ্যতা। শয়তান চায় আপনাকে এ সংকীর্ণ দুনিয়ার প্রতি আপনাকে মোহগ্রস্ত করে ফেলতে, যাতে আপনি ভুলে থাকেন আগামী দিনে আপনার সাক্ষাৎ রয়েছে আপনার রবের সাথে। তার উদ্দেশ্য কিছু লোককে আল্লাহর পথে থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, সুরে-উপমায়-ছন্দে (সূরা ইসরাঃ ৬৪)। আর এই উৎসবগুলো নিছক কিছু সেই উদ্দেশ্য সাধনে কিছু উপলক্ষ, যার দ্বারা সে মানুষকে পরকালের ব্যাপারে গাফেল করে দেয়। সে চায় এই উৎসবের দিনগুলোতে আপনি দ্বীনদারিতে একটু ঢিল দেন, হারাম কাজগুলো আপনার চোখ, গা ও মন-সওয়া হয়ে যায়, আপনার লজ্জাবোধ একটু একটু করে লোপ পায় অথবা আপনি নিজেই তার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। অধুনা কর্পোরেট জমিদারগোষ্ঠীগুলো আজকে কেবল তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে না, আজকে তারা বিক্রি করে চেতনাও, আর আমরা বিক্রি করি নিজেদের বিবেকবোধ, আত্মা ও সত্তা, কামাই করি আগুনের ফোয়ারা।



আমার ভাই ও বোনেরা, আপনার সেই বনী ইসরাইলের সেই প্রজন্মের মত হবেন না যাদেরকে সাগরপাড়ে বিপদ থেকে উদ্ধার করার পর তারা এক মূর্তিপূজারী সম্প্রদায়কে দেখে মূসা (আঃ) কে আবদার করেছিল, “আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন” [৩]। উত্তরে মূসা (আঃ) বলেছিলেন, “তোমরা বড়ই অজ্ঞ এক জাতি”।

আপনারা কি জানেন কেন আল্লাহ তাদেরকে এত বিশাল অনুগ্রহ করার পরেও তাদের মনে এমন উদ্ভট কাজ করতে ইচ্ছা হয়েছিল? এটি এজন্য যে, দীর্ঘদিন ফির’আউনের অধীনে বসবাস করার কারণে তারা পূর্বের দাসসুলভ মন-মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তারা নিজেদেরকে নীচু এবং বিজাতীয় জাতি ও তাদের কালচারকে শ্রেষ্ঠ মনে করত। তাদের শরীর ছিল মুক্ত, কিন্তু মন ও আত্মা ছিল বন্দী। তাদের কাছে জান্নাত থেকে আগত খাবার ভালো লাগতো না, ভালো লাগতো ফির’আউনী আমলের তরিতরকারী।

কোন জাতির মন-মগজ কতটুকু দখল করা যায় সেই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় colonilizability। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাঙ্গালী জাতি প্রবলমাত্রায় colonializable এক জাতি। তাই আমরা দেখছি “স্বাধীন” হবার পরেই বাঙ্গালী জাতির বিজাতীয় কালচারের প্রতি অনুরাগ বাড়াবাড়ি রকমের বেশি! আজকে বাঙ্গালী, কালকে হিন্দুস্তানী, পরশুদিন আমেরিকান! ঠিক যেন লাঞ্চিত বনী ইসরাঈলীদের মত, যাদেরকে ফির’আউনের হাত থেকে রক্ষা করার পরেও ফির’আউনী আমলের স্বভাব-চরিত্র ছাড়তে পারেনি। যে নবী তাদেরকে মুক্তির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই নবীকেই তারা বারবার কষ্ট দিয়েছে। তেমনিভাবে বাংলার মাটিতে যারা কাফিরদের আদর্শ ও জীবনাচরণ গ্রহণে সবচেয়ে বিরোধিতা করে, আজকে তাদেরকে সবচেয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা হয়।

যে কোন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তাদের ঈমান, যে ঈমানের মূল্য এই দুনিয়া, আর এমন আরো হাজারো দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে কোটি গুণ বেশি। আল্লাহ এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন ইসলামের দ্বারা। আল্লাহ এই জমিনের বুক থেকে বৌদ্ধ আর হিন্দুদের জুলুমকে উৎখাত করেছেন মুসলিমদের দ্বারা, তবু কেন তাদের মত হতে চাওয়া?



প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বড় বড় ভাবের কথা আর বিশাল আয়োজন দেখে বিভ্রান্ত হবেন না, সুন্দর কথা শুনেই গলে যাবেন না। কেননা,

“আর এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু -- মানুষ ও জিন-এর মধ্যেকার শয়তানদের, তারা একে অন্যকে ধোঁকা দেয়ার জন্যে চমকপ্রদ কথাবার্তা বলে…” [৪]

কালচার কালচার” করলেই কালচার হয় না, আর “কালচার” হলেও সেটাকে চোখ বন্ধ করে মানতে হয় না। মক্কার মুশরিকদের কালচার ছিল ধরে বাচ্চা মেয়েকে কবরে পুঁতে ফেলা, সেবা রাজ্যের অধিবাসীদের কালচার ছিল সূর্যের উপাসনা করা, লূত (আঃ) ক্বওমের কালচার ছিল সমকামিতা, মজার ব্যাপারে তারা এসব কাজ করতে কিছুই মনে করত না, তাদের চোখে তাদের কালচারই ছিল সঠিক! তাই আপনার চোখে কোন উৎসব যতই আকর্ষণীয়, লোভনীয় বা মোহনীয় লাগুক না কেন, হতে পারে তা দিয়ে শয়তান আপনাকে সরলপথ থেকে সরিয়ে রাখতে চায়, যেভাবে অতীতে বহু জাতি ও গোষ্ঠীকে পথভ্রষ্ট করেছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।” [৫]



একজন মুসলিমের জীবনে এর থেকে লজ্জার কিছু নেই যে ঈমান আনার পরেও সে কাফেরদের মত হবার চেষ্টা করে। হুজুগে মাতবেন না, হুজুগ হল পানিতে ভেসে থাকা ময়লা ফেনার মত “যা শুকিয়ে খতম হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে”। মুসলিম হতে চেষ্টা করুন, জাতি-পরিচয়, মানচিত্রের সীমারেখা, সংস্কৃতি, সভ্যতা, ভাষা - কোনকিছুই চিরন্তন নয়, একমাত্র ইসলাম টিকে থাকবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত, আর ইসলামকে মেনে চললে সেটির সুফল মিলবে চিরকাল।

আল্লাহর সামান্য অবাধ্যতা থেকে যেমন অসামান্য পাপরাশি জন্ম নেয়, তেমনি একটু সুবুদ্ধি, সমাজের চাপ আর মূর্খদের হাতছানিকে উপেক্ষা করে সত্যের আহবানে সাড়া দেওয়ার একটুখানি সৎসাহস আপনাকে বাঁচাতে পারে মহা-আগুন থেকে। আল্লাহ সহজ করুন।

“যারা তাদের মালিকের আহবানে সাড়া দেয়, তারা জন্য মহাকল্যাণ রয়েছে। আর যারা সাড়া দেয় না, (ক্বিয়ামতের দিন) যদি তাদের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে আরো সমপরিমাণ, তাহলেও (আযাব থেকে বাঁচতে) তারা তা (নির্দ্বিধায়) মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিত। এরাই হবে সেসব হতভাগ্য মানুষ, যাদের হিসাব হবে খুব কঠিন! জাহান্নামই হবে ওদের নিবাস, কত নিকৃষ্ট সে নিবাস!” [৬]

--------

১ সূরা আন-নূর: ২১।

২ সূরা ত্ব-হা: ১২৬, ১২৭।
৩ সূরা আল-আ’রাফ: ১৩৮।

৪ সূরা আন’আম: ১১২।

৫ সূরা আন-নামল: ৪।

৬ সূরা আর-রাদ: ১৮

পয়লা বৈশাখ - মেকি বাঙালিত্ব বনাম ইসলাম

- No comments

পয়লা বৈশাখ - মেকি বাঙালিত্ব বনাম ইসলাম

লিখেছেন Sharif Abu Hayat Opu
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

১.
আজ “পয়লা বৈশাখ” ওরফে “শুভ নববর্ষ”। আমাদের স্বভাবটা জানি কেমন - অন্য মানুষের জিনিসকে আমরা নিজেদের বলে চালাতে ভারি ভালোবাসি। কোথাকার কোন দিল্লির সম্রাট আকবর প্রজা শোষণের সুবিধার্থে, কৃষকদের গলায় গামছা বেঁধে উৎপাদিত ফসলের ভাগ ছিনিয়ে নিতে চালু করলো তারিখ-ই-ইলাহি। তাও যদি ব্যাপারটাতে একটু স্বকীয়তা থাকতো! মুসলিমদের হিজরি সালকে (বর্তমানে ১৪৩২) মন্ত্র পড়িয়ে, গলায় পৈতে ঝুলিয়ে করা হল সৌরবছর। সেই তারিখ-ই-ইলাহি- ই আজকের তথাকথিত বঙ্গাব্দ (বর্তমানে ১৪১৮)। এই মুঘল বাদশার চরম আক্রোশ ছিল বাংলার প্রতি। স্বাধীন বাংলাকে কব্জা করতে সে সেনাপতি মানসিংহকে ৫০টি কামান দিয়ে পাঠায়। সোনারগাঁর ঈশা খান সমানে সমানে লড়ে যান তার বিশাল বাহিনীর বিপক্ষে। শেষমেশ দন্দ্বযুদ্ধে মানসিংহকে পরাজিত করার পরেও তিনি হত্যা না করে ছেড়ে দেন। বিজয়ী বীরের মহানুভবতা দেখে মানসিংহের স্ত্রী অনেক অনুরোধ করে দিল্লিতে নিয়ে আসে ঈশা খানকে। কিন্তু সেখানে কি হল? আকবর দ্য গ্রেট ঈশা খানকে বন্দী করে ছুড়ে ফেলে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে। পরে নাকি অবশ্য মহান আকবর তার ভুল বুঝতে পেরে বাংলার সিংহপুরুষকে দয়া করে মুক্তি দেয়! এই সেই সম্রাট আকবর যে ‘দ্বীনে ইলাহি’ নামে একটি নতুন ধর্ম প্রবর্তন করেছিলো - যাতে ইসলাম ধর্মের খারাপ জিনিসগুলো বাদ দিয়ে হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মের ভালো জিনিস যোগ করা হয়েছিল! যে দিল্লিপতির হানাদার বাহিনী বার বার বাংলার মাটি লাল করেছে আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্তে - তারই চালু করা ফারসি ভাষার সাল গণনাকে আমরা ‘বঙ্গাব্দ’ বলে চালিয়ে ভারী গর্ববোধ করি।

এতো গেল বছর শুরু হবার হিসেবের কথা। পয়লা বৈশাখ যাকে বাঙালি সর্বজনীন উৎসবের দাবী করা হয় তা উদযাপনের শুরুর ইতিহাস কি আমরা জানি? প্রথম ঘটা করে নববর্ষ পালন হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্রিটিশরাজের বিজয় কামনা করে ১৯১৭ সালের পয়লা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করে কলকাতার হিন্দু মহল। আবার যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজলো, স্বাধীনতাকামী সুভাষ বসু ব্রিটিশ তাড়াতে আজাদ-হিন্দ ফৌজ গঠনের জন্য করতে দুনিয়া চষে বেড়াতে লাগলেন তখন হিন্দু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ১৯৩৮ সালে উৎসব করে পয়লা বৈশাখ পালন করলো আবার। পুজায় পূজায় সাদা চামড়ার প্রভুদের জন্য বিজয় কামনা করলো[1] তাইতো ইংরেজরা যখন ভারতবর্ষকে চুষেছে তখন ছিবড়াটা জুটেছে এদের কপালেই। অথচ এই ব্রিটিশরা সিপাহি বিপ্লবের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খুন করে লাশ রাজপথের ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে রেখেছিল দেশবাসীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য। এরপরেও আতেঁল বুদ্ধিজীবিরা পয়লা বৈশাখের ইতিহাস জেনেশুনে গোপন করে একে বাঙালির প্রাণের অনুষ্ঠান বলে দাবী করে! এসব দালালরা জেনে রাখুক - আমরা মিরজাফরের বংশধর নই। বেঈমানি করার নাম বাঙালিয়ানা হলে সেই বাঙালিয়ানা আমাদের দরকার নেই।

২.
এরপর দেশ ভাগ হল। মাথামোটা আইয়ুব খান ইসলামের যোশে যোশে পূর্ববাংলায় রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলো। তাতে কি লাভ হল? এপারের সুফি বাউল আর ওপারের রবীন্দ্রনাথ - দুয়ের আক্বিদা তো একই - সর্বেশ্বরবাদ; সবকিছু ঈশ্বর আর ঈশ্বরই সবকিছু। তাই গানের সুর আর ভাব বাউলদের, ভাষা রবীন্দ্রনাথের। কলকাতার জমিদারবাবু দিনে লোক ঠেঙিয়ে, রাতে বজরায় বসে যে গান লিখতেন তার নিষেধাজ্ঞায় পূর্ববাংলার চুশীল সমাজ ক্ষেপে উঠলো। এর প্রতিবাদে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট শুরু করলো প্রকৃতিপূজার নবধারা। রবিবাবুর লেখা প্রার্থনাগীতিতে তারা কামনা করলো বৈশাখ যেন মূমুর্ষেরে দেয় উড়ায়ে।

আফসোস, আফসোস। যে অশিক্ষিত মানুষ মাজারের কাছে গিয়ে বাবা বাবা বলে ডাকতে থাকে তার ব্যাপারে না হয় একটা ব্যাখ্যা আছে, কিন্তু শিক্ষিত মানুষ যখন বৈশাখকে ডাকে তখন আমার আসলেই মাথা কূটতে ইচ্ছা করে। বৈশাখের কি কান আছে? সে কি শোনে? তাকে ডাকলে কি আর না ডাকলেই বা কি? সে কি ষাঁড় যে সামনে যা পাবে শিং দিয়ে গুঁতিয়ে উড়িয়ে দেবে? সে কি লোটাস কামাল যে দেশের মূমুর্ষদের টাকা উড়িয়ে বেনামি একাউন্টে পাচার করে দেবে? সে কি সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি যে ১৪ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমা হওয়া ১০০টন আবর্জনা সাফ করবে? আরে আজকে যদি শেখ হাসিনা ঘোষণা দেয় যে এখন থেকে ১৫ই এপ্রিল নববর্ষ হবে তবেই বেচারা বৈশাখের আসা একদিন পিছিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞানী কোন উপদেষ্টা যদি প্রকৃতি-প্রত্যয় বিশ্লেষণ করে আবিষ্কার করে যে বৈশাখের নাম এসেছে বিশাখা থেকে, তারপর ৭২এর সংবিধানে ফেরার মত করে আবদার করে তাহলে বেচারা বৈশাখের নাম বদলে বিশাখা হয়ে যেতেও পারে; বেচারার কিছু করারও থাকবেনা। আর এই অবলা বৈশাখের আগমন উপলক্ষ্যে সব কড়া শিক্ষিত-আলোকপ্রাপ্ত মানুষেরা মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে, রাস্তায় মুখোশ আর মূর্তি নিয়ে মিছিল করে অমঙ্গল তাড়িয়ে বেড়ায়। হায় কপাল, আর এরাই বলে বেড়ায় ইসলাম নাকি আনুষ্ঠানিকতার ধর্ম! হিটলারের উপর একটা ডকুমেন্টারিতে জার্মান এক উৎসবের মিছিলের ছবি দেখেছিলাম - একদম একই রকম সব মুখোশ, পশুপাখির ডামি আর হিন্দু সোয়াস্তিকার চিহ্ন! যুগে যুগে প্রকৃতিপূজকদের এত্ত মিল হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস হয়না!

আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ্‌র সৃষ্ট প্রতিটি দিনই সমান। কোন দিনের নিজস্ব কোন ভাল-মন্দের ক্ষমতা নেই। আমরা কোন দিনকে “শুভ” হিসেবে নির্ধারণ করিনা। আমরা আল্লাহ্‌র ব্যাপারে বছরে প্রতিটি দিনই সুধারণা পোষণ করি - আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য প্রতিটি দিনই মঙ্গলময় করে রেখেছেন। নববর্ষে ভালো খেলে সারাবছর ভালো খাওয়া মিলবে এই কুসংষ্কার আমাদের না। আল্লাহ্‌ আমাদের যে রিযক্‌ দিয়েছেন তা দিয়ে আমরা বছরের সব দিন সাধ্যমত ভালো খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি, ওপারের দাদাদের মত কিপটামি করে ভাল খাবার বছরের শুরুর দিনের জন্য রেখে দেইনা।

৩.
একজন আমলা টার্নড মুফতির ফতোয়া দেখলাম, তিনি বলেছেন - নববর্ষে অনৈসলামিক অনাচার বাদ দিয়ে সেটা পালন করা জায়েজ। এই ফতোয়া ঈদের ক্ষেত্রে খাটে - কারণ এখন ঈদে বহু ইসলাম বিরোধী আচরণ ঢুকে পড়েছে কিন্তু পয়লা বৈশাখের ক্ষেত্রে কিভাবে খাটে? কিভাবে করলাম সেটা পরের কথা, পয়লা বৈশাখকে দিন হিসেবে উদযাপন করাটাই তো অনৈসলামিক! কেন? সুনানে আবু দাউদের একটি হাদিস উল্লেখ করি যা আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানি বিশুদ্ধ বলে নিশ্চিত করেছেন -

আনাস (রাঃ) বলেন, যখন রসুল (সাঃ) মদিনাতে আসলেন তখন তাদের দুটি দিনে খেলা-ধূলা করতে দেখলেন, তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন এই দু’দিন কি? তারা উত্তর দিল, আমরা অজ্ঞতার যুগে এদিনগুলোকে উদযাপন করতাম। রসুলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাদের এদের পরিবর্তে এমন দু’টি দিন দিয়েছেন যা এর চেয়ে উত্তম - আল আযহার দিন ও আল ফিতরের দিন।
লক্ষ্যনীয় যে এখানে রসুল (সাঃ) বলেছেন - إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَ
ইন্নাল্লাহা ক্বাদ আবদালাকুম বিহিমা মানে “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাদের বদলে”, অর্থাৎ আগে যা ছিল সেটা বদলে দিয়ে আল্লাহ্‌ নিজে দুটো দিন আমাদের উৎসবের জন্য নির্ধারিত করে দিলেন। এখানে কিন্তু রসুল(সাঃ) আগের দুটোকে অক্ষত রেখে নতুন দুটো ঈদ যোগ করেননি। যে মদিনাবাসী তাকে দুর্দিনে সাহায্য করেছিল, একটি মুসলিম রাষ্ট্রের সূচনা করেছিল, সেই মদিনাবাসীদেরও জাতীয় উৎসবকে ছাড় দেয়া হয়নি, বদলে দেয়া হয়েছিল। এর কারণ ব্যাখ্যায় শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইম্যিয়া ‘ইক্বতিদা আল সিরাতাল মুস্তাকিম’ গ্রন্থে বলেন - উৎসব ইসলামি শরিয়তের অংশ, যেহেতু মহান আল্লাহ্‌ সুরা মায়িদার ৪৮ নম্বর আয়াতে বলেন -

তোমাদের প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি নির্দিষ্ট শরিয়ত এবং নির্দিষ্ট মিনহাজ নির্ধারণ করেছিলাম।

এই মিনহাজের (পথ ও পন্থা) অংশ হিসেবে মুসলিম জাতির জন্য কিছু দিনকে আল্লাহ্‌ বেছে নিয়েছেন যেন সেদিন আমরা আটপৌরে জীবন থেকে মুক্তি নিতে পারি - গৎবাঁধা কাজ ফেলে আনন্দ-উল্লাস করি, খেলা-ধূলায় মাতি। সেদিনগুলোতে আমরা স্বজন আর বান্ধবদের সাথে দেখা করি, আড্ডা মারি, ভালো-মন্দ খাই। এমন দিনগুলো হল বাৎসরিকভাবে দুই ঈদের দিন এবং সাপ্তাহিকভাবে জুম’আর দিন। ইসলামের দর্শনটা কি সুন্দর লক্ষ্য করুন - আমাদের উৎসবের দিন আমরা শুধু কাছের মানুষদের সাথেই দেখা করিনা, কাছাকাছি হতে চেষ্টা করি এমন এক সত্ত্বার যাকে আমরা সব মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসি। সেই সত্ত্বাটা হলেন আল্লাহ্‌! এই জন্য আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদের দিন জামা’আতে যাই, শুক্রবার দিন সব কাজ ফেলে মসজিদে বসে খুতবা শুনি।

বাংলা নববর্ষ যে আসলে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান তা নিয়ে কারো যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে তাহলে তার জন্য উইকি থেকে কপি করে দিলাম -

পয়লা বৈশাখের দিন উল্লেখযোগ্য ভিড় চোখে পড়ে কলকাতার কালীঘাটেসেখানকার বিখ্যাত কালীমন্দিরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভোর থেকে প্রতীক্ষা করে থাকেন দেবীকে পূজা নিবেদন করে হালখাতা আরম্ভ করার জন্যব্যবসায়ী ছাড়াও বহু গৃহস্থও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে কালীঘাটে গিয়ে থাকেন

আমরা নির্লজ্জভাবে হিন্দুদের অনুকরণে পয়লা বৈশাখ পালন করলেও ওরা কিন্তু আমাদের ঈদকে সর্বজনীন উৎসব হিসেবে মনে করেনা। উৎসব আর ধর্ম যে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এটা আমরা কেন যেন বুঝতে চাইনা।

মোটকথা মুসলিমদের জন্য বছর বছর যা ঘুরে আসে এমন মাত্র দু’টি দিন উদযাপনযোগ্য। এর বাইরে যত দিবস পালিত হয় সবই পরিত্যাজ্য - সেটা ঈদে মিলাদুন্নবি বা ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম হোক, বাংলা/আরবি/ইংরেজি নববর্ষই হোক আর জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা ভালোবাসা দিবসই হোক।

দিনভিত্তিক নাটুকেপনা মুসলিমরা করেনা। ১৪ই এপ্রিলের উসিলায় পুঁজিবাদি ব্যবস্থা বাঙালিত্ব বিক্রি করে। বিক্রি করে লাল-সাদা জামা আর ইলিশ মাছ। পয়লা বৈশাখ কি আদতে আমাদের বাঙালি করে? নাকি বাঙালি হবার একটা মিথ্যা বোধ জন্ম দেয়? আমরা পড়ি ইংলিশ মিডিয়ামে (ইংরেজি মাধ্যমে না), দেখি হিন্দি সিরিয়াল, ক্রিকেট খেলায় পতাকা দোলাই পাকিস্তানের, বাসন মাজতে যাই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় আর একদিন শাড়ি-পাঞ্জাবি পড়ে পান্তা খেয়ে ঢেকুর ফেলি - ভারি বাঙালি হয়ে গেছি!

আল্লাহ্‌ আমাদের মাতৃভাষা দিলেন বাংলা, কিন্তু আমরা অলিগলির কোচিং সেন্টারে স্পোকেন ইংলিশ শিখতে শিখতে বাংলা বলাটাই ভুলে গেলাম। আল্লাহ্‌ আমাদের যে দেশে জন্ম দিলেন সেই দেশকে আমাদের কাছে জাহান্নামের মত লাগে, এখান থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্য দেশে সেটল হওয়াটাই এখন আমাদের স্বপ্ন। এই আমাদের মুখে দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদের জিগির ঝুটা আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৪.
আচ্ছা তাহলে কি ‘পয়লা বৈশাখ’ পালন করা যাবেনা? একসাথে একজন মুসলিম ও একজন বাঙালি হওয়া যাবেনা?

আল্লাহ্‌কে স্রষ্টা ও প্রতিপালনকারী হিসেবে মেনে নিয়ে, আল্লাহ্‌কে একমাত্র সত্য ‘ইলাহ্‌’ হিসেবে স্বীকার করে মুসলিম হবার মানে নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করা। ইসলাম একটি দ্বীন - পরিপূর্ণ জীবন বিধান। আমার জীবনের সব ক্ষেত্রে আমি শয়তানের, আমার বা আমার মত অন্য কোন মানুষের ইচ্ছেমত চলবোনা, চলবো আল্লাহ্‌র ইচ্ছেমত।

যদি কোন কাজের বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট কোন নিষেধাজ্ঞা ক্বুর’আন এবং সহিহ হাদিস থেকে জানতে পারি তাহলে আমাদের কর্তব্য - আমরা যেটা করছি, সেটা করতে যতই ভালো লাগুক, সেটা পরিহার করতে হবে। ইসলামকে একটা জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে বেছে নিতে হয়। জন্মসূত্রে বাঙালি সবাই হতে পারে - এমনকি বাজারের নেড়ি কুকুরটাও, ব্ল্যক বেঙ্গল ছাগলটাও। কিন্তু Conscious choice এর মাধ্যমে ইসলামকে মেনে নিতে সবাই পারেনা। যারা পারে তারা ‘পপুলার বাজারে বাঙালিয়ানা’ ছেড়ে এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত হয় যা দেশের সীমানা পেরিয়ে, কালের গন্ডী ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীর সর্বযুগের সকল সত্যসন্ধানী মানুষকে একত্রিত করেছে। এ জাতিটার নাম মুসলিম জাতি।

আমি বাঙালি বলে লজ্জিত নই মোটেই কিন্তু তা দিয়ে গৌরব করতে আমার মন সায় দেয়না, কারণ এতে তো আমার কোন কৃতিত্ব নেই। কিন্তু আমি একজন মুসলিম হতে পেরে গর্বিত - কারণ ‘বাঙালিত্বের’ মত এটা জন্মসূত্রে পাওয়া কোন ট্যাগ নয়। মুসলিম জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে - জানতে হয়েছে, ভাবতে হয়েছে, মানতে গিয়ে আত্মত্যাগও করতে হয়েছে, সর্বোপরি আল্লাহ্‌র সাহায্য চাইতে হয়েছে। তাই আমি আগে একজন মুসলিম, তারপর একজন বাঙালি।

৫.
এ লেখাটা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করতে একজন মুসলিম ভাই হিসেবে অন্য মুসলিম ভাইদের প্রতি একটি স্মরণিকা মাত্র। হিদায়াত বা সত্য পথ সুস্পষ্ট - যার খুশি সে সেই পথে চলবে। বিভ্রান্তিও সুস্পষ্ট - যার খুশি সে তাতে নিমজ্জিত থাকবে। প্রত্যেক মানুষকেই তার স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে জবাবদিহী করতে হবে। পৃথিবীতে সে কোন পথ বেছে নিয়েছিল  তার ভিত্তিতে সে শাস্তি বা পুরষ্কার পাবে। সুতরাং যে ‘পয়লা বৈশাখ’ থেকে বেঁচে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির দিকে যেতে চায় যাক, আর যে ‘পয়লা বৈশাখ’ পালন করতে চায় সে করুক - তার হিসাব আল্লাহ্‌র সাথে হবে।

কোন ব্যক্তিকে তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী স্মরণ করিয়ে দেবার পরেও সে যদি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার কৃতকর্ম সমূহ ভুলে যায়, তবে তার অপেক্ষা অধিক সীমালঙ্ঘনকারী আর কে?  [সুরা কাহাফ, আয়াত ৫৭]
 <big/ >




[1] প্রথম মহাযুদ্ধে বাংলা বর্ষবরণ, মুহাম্মদ লুৎফুর হক দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল ২০০৮

একজন জান্নাতি মানুষের গল্পঃ

- 1 comment
একজন জান্নাতি মানুষের গল্পঃ
- সংগৃহিত
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মুহাম্মাদ (সঃ) ,সাহাবাদের নিয়ে একত্রে বসে ছিলেন। ঠিক সেই সময় , একজন বেক্তি এসে উপস্থিত হলেন। যাকে দেখে মুহাম্মাদ (সঃ) বললেন, তোমারা যদি জান্নাতের একজন মানুষ দেখতে চাও তবে এই বেক্তি কে দেখে নাও।
ঠিক পরের ও দিন ও মুহাম্মাদ (সঃ) ঐ একই বেক্তি কে দেখে অনুরুপ কথা বললেন । অতঃপর তৃতীয় দিন ও একই কথা বললেন । সাহাবাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) .আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) ছিলেন ঐ সাহাবী যার অধিক ইবাদতের কারনে মুহাম্মাদ (সঃ) তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেছিলেন।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৩১ :: হাদিস ১৯৬
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মুহাম্মদ ইবন মুকাতিল (র) ... ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘ আস (রা) থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন : হে আবদুল্লাহ ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সাওম পালন কর এবং সারারাত সালঅত আদায় করে থাক । আমি বললাম , ঠিক (শুনেছেন) ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তিনি বললেন : এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে )সাওম পালন কর আবার সাওম ছেড়েও দাও । (রাতে ) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও ।কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে , তোমার চোখের হক রয়েছে , তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে , তোমার তমহমানের হক আছে । তোমার জন্য যথেষ্ট যে , তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে ।কেননা নেক আমলের পরিবর্তে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী । এভাবে সারা বছরের সাওম হয়ে যায় ।আমি বললাম আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেয়া হল ।আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !আমি আরো বেশী শক্তি রাখি । তিনি বললেন:তবে আল্লাহর নবী দাঊদ (আ) -এর সাওম পালন কর , এর থেকে বেশী করতে যেয়ো না । আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর,আল্লাহর নবী দাঊদ (আ) -এর সাওম কেমন? তিনি বললেন : অর্ধেক বছর। রাবী বলেন , ‘আব্দুল্লাহ (রা) বৃদ্ধ বয়সে বলতেন ,আহা ! আমি যদি নবী করীম (সা) প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবূল করে নিতাম !
তাই, মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুখে , ঐ সম্মানিত বেক্তির ভূয়সী প্রশংসা শুনে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) খুবই হিংসা পরায়ণ হয়ে উঠেন এবং মনে মনে সংকল্প নেন যে , যে করেই হোক আমাকে খুজে বের করতে হবে এই সম্মানিত বেক্তি কি এমন আমল করে ।
সুবাহাল্লাহ, এভাবেই একজন সাহাবা অপর জনের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন। তাদের প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্র বিন্ ছিল আল-জান্নাহ-আল ফিরদাউস। তাদের প্রতিযোগিতা এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া কেন্দ্রিক ছিল না । তাদের সব কিছুই ছিল জান্নাহ কেন্দ্রিক।
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য।
(শুরা আল-ইম্রানঃ ১৩৩)
এবার, ঘটনায় ফিরে আসি।
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) সিধান্ত নিলেন , এবার তিনি দেখবেন ঐ লোক এমন কি আমল করেন যার জন্য মুহাম্মাদ (সঃ) তার এত প্রশংসা করলেন।
তিনি, পরিকল্পনা করেন যে আবেদ লোকটির বাসায় রাতে থাকার জন্য অনুমতি চাইলেন এবং ওজর হিসেবে পেশ করলেন যে তার বাবা তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন তাই , তাকে যেন একাটি রাত থাকার অনুমতি দেন।
সেই আবেদ লোকটি তার কথা শুনে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) কে তার সাথে রাতে থাকার অনুমতি দিলেন।
ঈশার সালাতের পর,
তারা দুজনেই বাড়িতে ফিরে এলেন। রাত যত বাড়তে থাকে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) সেই আবেদ লোকটি দিকে লক্ষ্য রাখতে শুরু করলেন। রাত যতই গভীর হচ্ছিল আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) ততই ব্যাকুল হয়ে উঠলেন লোকটি এমন কি ইবাদাত করে তা দেখার জন্য।
কিন্তু না। এ কি ? আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) দেখলেন রাত গভীর হওয়ার সাথে
লোকটি ঘুমিয়ে পড়লেন। আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) ভেবেসিলেন ‘ওহ এই আল্লাহর আবেদ হয়ত সারা রাত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন। একটু ও ঘুমাবেন না । কিন্তু তিনি এ কি দেখছেন ‘ এই আবেদ তো সারা রাত দুরের কথা রাতে ঘুম থেকেই উঠলেন না । তবে ফজরের আগে কয়েক রাকাত নামাজ পড়লেন।
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) ভাবেসিলেন এই আল্লাহর আবেদ হয়ত সারা দিন রোজা রাখেন। সব সময় রোজা অবস্থায় থাকেন। কিন্তু না , আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) এ কি দেখছেন , এই আবেদ তো সেহরি ও করলেন না আবার সকাল বেলা খাবার ও গ্রহন করলেন?
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) এবার সেই আবেদ লোকটি কে বললেন
‘ হে আমার ভাই আপনি শুনুন। কাল আজ থেকে তিন দিন আগে আপনাকে দেখে রাসুলুল্লাহ (সঃ) জান্নাতের একজন অধিবাসী বলেছিলেন যা তিনি অনুরূপ তিন বার বলেছেন। তাই , আমার খুবই জানতে ইচ্ছা হয়েছিল যে আপনি গোপনে এমন কি আমল করেন যার জন্য আপনাকে রাসুলুল্লাহ (সঃ) জান্নাতের একজন অধিবাসী বলেছিলেন । যাতে করে আমি সেই আমাল শিখে নিয়ে আপনার মত হতে পারি। কিত্নু আমি একি দেখছি। আমি ভাবেছিলাম আপনি রাত ভর আল্লাহর ইবাদাত করেন , আমি ভেবেছিলাম আপনি সারা দিন রোজ রাখেন । কিন্তু আপনি এসব কিছুই করেন না ।
তাই আমার আর আপনার সাথে থাকার দরকার নেই । আমি চলে যাচ্ছি ।
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস (রাঃ) চলে যাওয়ার মুহূর্তে সেই আবেদ লোকটি তাকে ডেকে বললেন ‘হে আমর, আমার ভাই, তুমি কি জানতে চাও কি সেই আমার আমল যা আমি করি ? আর যার জন্য রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাকে একজন জান্নাতের অধিবাসী বলেছেন ?
সেই আবেদ লোকটি বললেন “ আমি যখন ঘুমাতে যাই তখন আমি এমন একটি হৃদয় নিয়ে ঘুমাতে যাই যে হৃদয় কোন মুসলিমের জন্য এক বিন্দু ও খারাপ ধারণা পোষণ করে না । যে হৃদয় কোন মুসলিমদের জন্য এক বিন্দু ও হিংসা- বিদ্বেষ , অহংকার ধারণ করে না । যে হৃদয় কোন মুসলিমের জন্য এক তিল পরিমাণ ও শত্রুতা পোষণ করে রাখে না । যে হৃদয় , পরিপূর্ণ হয়ে ঘুমাতে যায় মুসলিমদের জন্য ভালবাসায়। এই হচ্ছে আমার সেই গোপন ইবাদাত।“
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৮০ :: হাদিস ৭১৭
মূসা ইব্ন ইসমাঈল (র).... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা পরিহার কর, কেননা, ধারণা করা হচ্ছে সর্বাধিক মিথ্যা। কারও দোষ তালাশ করো না, দোষ বের করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা পোষণ করো না, পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। আল্লাহর বান্দা পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে যাও।

একজন তালগাছওয়ালার সাথে কিছু আলাপ

- No comments

একজন তালগাছওয়ালার সাথে কিছু আলাপ

collected from brother  Sharif Abu Hayat Opu
-       আমি একজন নাস্তিক। আমার নাস্তিকতার কারণ অনেকগুলো প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিমোল্লা-মুন্সি থেকে সবাইকে জিজ্ঞাসা করেছি। কেউই উত্তর দিতে পারেনি আপনারা দাবি করেন আল্লাহ ন্যায় বিচারক। কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি তিনি (যদি আসলেই থেকে থাকেন) সবচেয়ে বড় অবিচারকআল্লাহ ন্যায় বিচারক’ এর প্রমাণ কী? 



-       আপনাকে তো আমার মানুষ মনে হচ্ছে না, কুত্তার বাচ্চা মনে হচ্ছে। 



-       ওকে থ্যাংক্স, আমার উত্তর পেয়ে গেছি... 



-       কী উত্তর পেলেন?  



-       আমাকে গালি দেওয়ার কারনটা জানতে পারি? আমি নাস্তিক এ জন্যই? আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন ভালো কথা, গালি দেবেন কেন? 



১.

খেয়াল করুন, আমি কিন্তু আপনাকে সরাসরি কুত্তার বাচ্চা বলিনি, প্রথমে বলেছি “মানুষ মনে হচ্ছে না”। কথাটা আপনার প্রশ্নটার উত্তরে বলা। বাস্তবতা আর মানুষের ধারণার মধ্যে অনেক তফাত আছে এটা বোঝানোর জন্য বলা। মানুষ অত্যন্ত সীমিত ক্ষমতার মানুষ। সে খুব অল্প জিনিস থেকেই অন্যের ব্যাপারে একটা ধারণাতে চলে আসে। চলে যে আসে তার উদাহরণ দিয়েছিলাম আপনাকে, আপনি তলিয়ে চিন্তা করলে ধরতে পারতেন।



শোনেন ভাই, আমি আপনাকে মানুষ মনে করি আর না করি তাতে আপনার সত্ত্বায় বদল আসবে না। আমি বললেই আপনি কুত্তার বাচ্চা কিংবা বান্দরের বাচ্চা হয়ে যাবেন না। আপনি হোমো স্যাপিয়েনস থাকবেন। তাই কোনো বাস্তবতার ব্যাপারে আমাদের সমস্যা থাকলে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। ধারণাকে বদলানো উচিত, বাস্তবতাকে নয়।



২.

সাদা চোখে গালি মনে হলেও, আমি আপনাকে 'কুত্তার বাচ্চা' শব্দের মাধ্যমে একটা বিশেষণ দিয়েছি। সত্যিকারে গালি দিতে চাইলে সম্মানসূচক 'আপনি' ব্যবহার করতাম না। এই যে চরম নেতিবাচক একটা বিশেষণ দিলাম এটাতে আপনার মনের মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমি কে? কেউ না। আপনি আমাকে কোনোদিন দেখেননি। আপনার আমার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তাও আপনার মনে একটা প্রতিক্রিয়া হয়েছে।



ধরেন, এই বিশেষণটা যদি আপনাকে আপনার খুব আপন কেউ দিত। ধরুন, আপনার সন্তানকে এক বছর বয়সে রেখে আপনার স্ত্রী আত্মহত্যা করল। আপনি বাচ্চার হাগু সাফ করলেন, রাত জেগে দুধ খাওয়ালেন। একজন মা যা করে তা করলেন, একজন বাবা যা করে তা-ও করলেন। এই ছেলেটা ২০ বছর পরে যদি আপনাকে বলে 'কুত্তার বাচ্চা' কেমন লাগবে? তাকে আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন যে আপনার স্ত্রীর একটা মানসিক সমস্যা ছিল যা আপনার কাছে লুকানো হয়েছিল? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন আপনি আপনার স্ত্রীর চিকিৎসার সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলেন? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন আপনি আপনার একমাত্র স্ত্রীকে ভয়াবহ মানসিকরোগটা সহই ভালোবেসে ফেলেছিলেন? এতটাই যে আপনি আর কখনও বিয়ে করেননি? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন যে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার কারণেই আপনার ছেলের মামারা আপনার নামে মিথ্যা কথা বলে আজ আপনাকে ভিলেন বানিয়ে ফেলেছে?



আপনার ছেলের যদি বিবেক থাকে হয়ত বুঝবে। নয়ত মনে করবে আপনি চামড়া বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, ‘ভালো’ ‘ভালো’ কথা বলছেন। ত্যানা প্যাচাচ্ছেন। আপনার সপক্ষে মোল্লা-মুন্সি, ডাক্তার-এঞ্জিনিয়ার যে যাই বলুক—আপনার ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আপনি কুত্তার বাচ্চা।



সমস্যাটা ধারণার, বাস্তবতার নয়।



৩.

আল্লাহ নিজের নাম বলেছেন, ‘আল আদল’—তিনি ‘দ্য ন্যায়বিচারকারী’। পৃথিবীতে বহু ন্যায়-পরায়ণ মানুষ আছে। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। কেউ নিজের সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার শিকেয় তুলে রাখেন। কেউ সন্তান পর্যন্ত ঠিক থেকে নিজের বেলায় এসে দুর্নীতি করেন। কেউ কেউ সেটা পার হয়ে আসেন—যেমন রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কিন্তু তাও তার মানবিক দুর্বলতা থেকে যায়—তিনি আল-আলিম নন যে! অর্থাৎ ঘটনার আড়ালের সবকিছু তিনি জানেন না। ফলে দোষী চাপার জোরে তার কাছ থেকে রায় পেয়ে যায়, নির্দোষ হয় বঞ্চিত। অবশ্য রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে মানুষকে সাবধানও করেছেন তার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে।[1] মানুষ বিচারকের সাথে আল্লাহর তুলনা চলে না। মানুষ আইন প্রণয়নকারীর সাথেও আল্লাহর তুলনা চলে না। তুলনা যে চলে না এটা বোঝাই প্রথম কর্তব্য।



কিন্তু আল্লাহর এমন কোনো, কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। হুজুররা যে খালি বলে, ‘সুবহানাল্লাহ’—তার মানে এটাই; আল্লাহ এমন সব সম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত, পবিত্র। আল্লাহ সব কিছু জানেন, দেখেন এবং শোনেন। শুধু তাই নয় তিনি মনের খবরও জানেন। তিনি জানেন কোনটা খুন, কোনটা মৃত্যু। সেটা ইচ্ছাকৃত না দুর্ঘটনা—আল্লাহ জানেন এবং তার ভিত্তিতেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। আল্লাহর কাছে কোনো সাজানো মামলা নেই। কোনো মাল্টি-বিলিয়নিয়ার উকিল নেই। প্রত্যেকটা মানুষ যবে যা করেছে সব কিছু রেকর্ড আছে। মনের খবরের হদিসসহ।



আল্লাহর ন্যায়বিচারে কোন ফাঁক নেই। ‘ফাঁক নেই’ কথাটা সংজ্ঞাতে আল্লাহ কী শব্দ ব্যবহার করেছেন জানেন? ফাতিলা। খেজুর খেয়েছেন নিশ্চয়ই। খেজুরের বীচির ওপরে পাতলা একটা আবরণ থাকে, ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন। এই আবরণ যে আঁশ দিয়ে তৈরী সেই আঁশের একটা সুতো পরিমাণ অবিচার করা হবে না—সূরা নিসার ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন। একটা ছাগল যদি আরেকটা ছাগলকে গুঁতা মেরে থাকে দুনিয়াতে, আখিরাতে তারও বিচার হবে। জ্বি, আল্লাহর ন্যায়বিচার এতটাই সূক্ষ। আপনার-আমার কাছে যে ব্যাপারটা প্রায় অর্থহীন সেটার ক্ষেত্রেও আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতায় বিন্দুমাত্র ছাড় নেই।



এখন আল্লাহ যে ন্যায় বিচার ছাড়া অন্য কিছুই করেন না—এটা আপনি মানতে পারছেন না, ভালো কথা। আপনি আল্লাহকে কী ভাবেন তাতে আল্লাহর যেমন কিছু এসে যায় না তেমন আল্লাহর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনও হয়ে যায় না। মধ্যখান থেকে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কষ্ট পাচ্ছেন। মাত্র কয়েকটা খুন করে এরশাদ শিকদার ফাঁসির রশি পড়ল আর লাখো খুনের নির্দেশদাতা ইয়াহিয়া খানের কিছু হলো না, ভুট্টোর সাথে আমাদের নেতা কোলাকুলি করে আসলেন। পৃথিবীতে এত বড় বড় অন্যায় হবে আর তার কোনো প্রতিকার কোনোদিন হবে না—এই চিন্তাটাই একটা চিন্তাশীল অবিশ্বাসীকে পাগল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।



আল্লাহকে যে বিশ্বাস করে, তাকে আল-খালিক হিসেবে মেনে নেয়, আর-রব হিসেবে বিশ্বাস করে, আর-রহমান হিসেবে আবিষ্কার করে তার জন্য আল্লাহকে আল-আদল হিসেবে মেনে নেওয়া কোনো ব্যাপারই না। সে আল্লাহর প্রত্যেকটি কাজে ন্যায় বিচার খুঁজে পায়। পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে তিন কোটি নব্বই লক্ষ মানুষকে অন্ধ বানালেও বাকিদের তো আল্লাহ দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন।[2] বিনামূল্যে দিয়েছেন। অথচ নির্জীব পাথরের চোখ কিনতে টাকা দিতে হয়, অন্ধের ছড়ি কিনতে টাকা গুণতে হয়। অথচ সারা পৃথিবীর সব মানুষকে যদি আল্লাহ অন্ধ বানাতেন মানুষের কিছু বলার ছিল না, করার ছিল না। ০.৫৫ শতাংশ মানুষ কেন অন্ধ হলো—বাকিরা কেন চোখ পেল—এটা নিয়ে যারা চিন্তা করে না তারাই আসলে আসল অন্ধ। এই অন্ধরাই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সামনে বিলবোর্ডে লেখে ‘দৃষ্টি আমার অধিকার’। আমরা মানুষেরা আল্লাহকে কী দিয়েছি যার বদলে ‘অধিকার’-এর মতো শব্দ ব্যবহারের স্পর্ধা আমরা দেখাই?



আর যাদের মনের চোখ খুলেছে, বিবেকের দ্বার খুলেছে তারা বোঝে অন্ধত্ব আমাদের জন্য একটা নিদর্শন। যেন আমরা কৃতজ্ঞ হই। পৃথিবীতে আসার কারণ নিয়ে ভাবি। আর আল্লাহ যাদের চোখ দেননি তাদের জন্য কিছু করি। পৃথিবীকে আল্লাহ যে পরীক্ষার স্থান বলেছেন সেখানে প্রশ্নপত্র তো এটাই—চোখ থাকতেও আমরা কী করছি? কী দেখছি? এর ব্যবহার কী আল্লাহর সন্তুষ্টিতে না ক্রোধে?



যে আল্লাহর তাওহিদ বুঝেছে সে তার অন্তর্দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার নয় বরং আল্লাহর দয়া দেখতে পায় সবসময়। তার কর্তব্য দেখতে পায়। সে জানে আল্লাহ আখিরাতে ন্যায়বিচার করবেন। এই ন্যায়বিচারকে সে ভয় পায়। মানুষ হিসেবে আমরা কত অকৃতজ্ঞ সেটা সে বোঝে। সে জানে আল্লাহর সাথে করা মানুষের অকৃতজ্ঞতার বিচার করলে আর কোন মুক্তি নেই। সে তাই পাপকে এড়িয়ে চলে, সাধ্যমতো ভালো কাজ করে আর পুরষ্কারের ব্যাপারে আল্লাহর দয়ার ভরসা করে।



একজন বিশ্বাসী কোনো ঘটনার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করে। যেটার প্রজ্ঞা সে বোঝে না সেখানে সে তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাতে আত্মসমর্পণ করে। সবকিছুই সবাইকে বুঝতে হবে এটা মানবজীবনের সবচে বড় ফ্যালাসি। কিন্তু এই ফ্যালাসি মানুষ ডাক্তারিবিদ্যায় খাটায় না, এনজিনিয়ারিং-এও খাটায় না। খাটায় খালি আল্লাহর কাজ কর্ম বুঝতে গিয়ে। ধরি একজন গড় মানুষের শরীরে কোষ থাকে ৩৭২০০ কোটি।[3] এর মধ্যে একটা কোষে কতগুলো এনজাইম আছে সেটা মানুষ জানে না। তারা কী কাজ করে তাও জানে না। একটা এনজাইম কী কাজ করে তা খুঁজতে গিয়ে একজন পিএইচডি ছাত্রের জীবনের সাতটা সোনালী বছর হারিয়ে যায় রিসার্চ ল্যাবে। ‘কেন করে’ সে প্রশ্ন করলে মাথা চুলকে ছাত্রটি শেষ ভাইভাতে একটা ফর্দ দিয়ে বলে—এসব কাজ করতে পারে। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না।



আর আমরা এই এনজাইমের স্রষ্টা, কোষের স্রষ্টা, মানবদেহের স্রষ্টা, ৭০০ কোটি বর্তমান জীবিত মানবাত্মার স্রষ্টার কাজকর্ম এর যৌক্তিকতা বুঝতে চাই। না বুঝতে পারলে বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে বলি, আল্লাহর ন্যায়বিচার নেই। আমাদের চেয়ে বড় অবিবেচক বিচারক আর কে আছে? মানে আমরা বাংলাদেশিরা। আমাদের দেশে খুনেদের রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বিবেচনায় মাফ করে দেয়। এ দেশে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপান হয়, তারপরে রাজপথে মিছিল করে ফাঁসি চেয়ে নেই। আমাদের বিচারে মৃত্যুদণ্ড বিচারের বিষয় নয়, আবদার করে চেয়ে নেওয়ার বিষয়। ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমাদের বেশ সাজে!



একটা গল্প বলি...



এক দার্শনিক সমুদ্রের ধারে বসে চিন্তা করছিল পৃথিবীতে এত দুঃখ-কষ্ট—সৃষ্টিকর্তা করেন কী? এক ছেলে তার এই গভীর ভাবনায় টাশকি খেয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর একটা বালতি নিয়ে সাগর থেকে পানি ভরে আর ঢালে। ভরে আর ঢালে। অনেকক্ষণ দেখার পর দার্শনিক বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো: "এই কী করছ?" ছেলেটি বলল: "বালতিতে সমুদ্রটাকে ভরছি।" দার্শনিক বললেন: "এটা কী সম্ভব নাকি?"  ছেলেটি বলল, আমার বালতি আর সমুদ্রের তাও তো একটা তুলনা চলে, অঙ্ক কষে একটা সংখ্যা বের করা যাবে কিন্তু মানুষের মাথা আর আল্লাহর জ্ঞানের যে কোনো তুলনাই চলে না।



৪.

আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। আল্লাহ ন্যায়বিচারের চাক্ষুস প্রমাণ আপনি পরকালে পাবেন; ইহকালে না। দুঃখিত। অর্থাৎ, আপনার প্রশ্নের উত্তর আমিও দিতে পারলাম না। তবে আল্লাহ আপনাকে যে দয়াগুলো করেছেন—এমনকি আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন করার স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ দিয়েছেন—এই দয়াগুলো যদি আপনি না বোঝেন তবে আল্লাহর ন্যায়বিচার আপনার জন্য সুখকর পরিণতি বয়ে আনবে না। আপনি মানুষের বাচ্চা—আপনার বিবেকের কাছে দাবী—সেই বিবেক যা আপনাকে কুত্তার বাচ্চা থেকে আলাদা করেছে, সেই বিবেকের কাছে দাবী। আপনার ধারণার তালগাছটিকে ছেড়ে দিন। আগে নিজে ন্যায়বিচার করুন। অকৃতজ্ঞতা বড় অবিচার। স্রষ্টার প্রতি অকৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বড় অবিচার। ধন্যবাদ।





[1]  সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ৩৮/ যুলম ও কিসাস | হাদিস নাম্বার: ২২৯৬

 [2] বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান - http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs282/en/

 [3] An estimation of the number of cells in the human body, Bianconi et. El. বিস্তারিত: http://informahealthcare.com/doi/abs/10.3109/03014460.2013.807878

Monday, April 7, 2014

যেদিন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলল......(কন্সট্যান্টিপোল বিজয়াভিজান)

- No comments
from brother Abdul Hai 



আজও তুরস্কের অনেক পিতামাতা তাদের আদরের সন্তানের নাম 'মুহাম্মাদ ফাতেহ' রেখে থাকেন।কেননা এ নামটি ইসলামী ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।উসমানী খিলাফতের সপ্তম খলীফা সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) ছিলেন একজন মুজাহিদ সুলতান ,যাঁর মাধ্যমে নবী করিম (সাঃ) এর এর একটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।হযরত বিশর বিন সুহাইম(রাঃ) থেকে সে ভবিষ্যত বাণীটি বর্ণিত হয়েছে-

لتفتحن القسطنطنية فلنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش

"নিশ্চয়ই তোমরা কন্সট্যান্টিপোল বিজয় করবে।তার আমীর উত্তম আমীর হবে এবং সেই বাহিনী উৎকৃষ্টতম সেনাবাহিনী হবে।"(মুসনাদে আহমদ ৪/৩৩৫, হাদীস : ১৮৯৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৬০৩, হাদীস : ৮৩৪৯; মুজামে কাবীর, তাবারানী, হাদীস : ১২১৬)



মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রাজধানী কন্সট্যান্টিপোল জয় করেন।



১৬ই মুহরম ৮৫৫ হিজরী মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৪৪৫ খৃস্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) উসমানী খিলাফতের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর,কিন্তু অসম সাহস,অতুলনীয় প্রজ্ঞা, নিপুণ রণকৌশল ও গভীর ঈমানী জযবায় অল্প সময়েই তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের ছাড়িয়ে যান।

তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর তিনি খিলাফত পরিচালনা করেন।তাঁর শাসনামলে যেমন ইসলামের বিজয়াভিজানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল তেমনি সকল শ্রেণীর ও ধর্মের মানুষ ন্যায়বিচার, জান-মালের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার লাভ করেছিল।প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ইসলামী শাসনব্যবস্থার সুফল।

সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) এর শাসনামল বিভিন্ন দিক থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।তবে যা তাঁকে উম্মাহর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে তা হলো কন্সট্যান্টিপোল বিজয়।





ধর্মীয়,রাজনৈতিক ও ভৌগলিক দিক থেকে কন্সট্যান্টিপোল ছিল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।খৃস্টীয় তৃতীয় শতক থেকেই তা ছিল বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নগরী।কন্সট্যান্টিপোল নগরীর তিন দিকে জল, একদিকে স্থল।পশ্চিমে বসফরাস প্রণালী,দক্ষিণে গোল্ডেন হর্ণ ও উত্তরে মারমারা উপসাগর।তাই ভৌগলিক দিক অবস্থানের কারণে একে তখন বিশ্বের সুরক্ষিত নগরীগুলোর মধ্যে গণ্য করা হত।এছাড়া নগরীর প্রতিরক্ষাব্যাবস্থাও ছিল অতুন্ত শক্তিশালী। গোটা নগরীর চারপাশে ছিল একাধিক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র প্রহরা।এসব কারণে কন্সট্যান্টিপোল ছিল সে বিচারে এক অজেয় দুর্গ।এখানে মনে রাখতে হবে যে, সে যুগটা মিসাইল ও যুদ্ধবিমানের যুগ ছল না। তাই উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলোই তখন নগরীর সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল।কন্সট্যান্টিপোল জয়ের জন্য সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) তৎকালীন বিশ্বের সর্বাধুনিক রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সে সময়ের সবচেয়ে দূর পাল্লার কামান তিনিই তৈরি করেছিলেন।প্রস্তুস্তি সমাপ্ত করার পর তিনি অভিযান আরম্ভ করেন।তার স্থল বাহিনী নগরীর পূর্ব দিকে অবস্থান নিল এবং নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বসফরাস প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ল।কিন্তু বসফরাস প্রণালী থেকে 'গোল্ডেন হর্ণে' প্রবেশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।কেননা গোল্ডেন হর্নের মুখ শিকল দ্বারা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল এবং বাইজেন্টাইন রণতরীগুলো সেখানে অবস্থান নিয়ে গোলা নিক্ষেপ করছিল।প্রচন্ড যুদ্ধের পরও উসমানী নৌবহর গোল্ডেন হর্ন পদানত করতে সক্ষম হল না।অন্যদিকে বন্দর সুরক্ষিত থাকায় বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল পূর্বদিকে,সুলতানের স্থল বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য।তাই তাদের শক্তিকে বিভক্ত করার জন্য এবং দুই দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করার জন্য উসমানী নৌবহরের গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করা ছিল অপরিহার্য। প্রায় দুই সপ্তাহ অবিরাম যুদ্ধের পরও নৌপথে বিজয়ের কোন লক্ষণ দেখা গেল না।অবশেষে সুওলতান মুহাম্মাদ ফতেহ এমন এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা পৃথিবীর যুদ্ধের ইতিহাসে একমাত্র বিরল ও বিস্ময়কর হয়ে আছে।পাশ্চাত্যের কট্টর ঐতিহাসিকরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারেনি। গিবনের মত ঐতিহাহিকও একে 'মিরাকল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।





সুলতান ফাতেহ (রহ),মুজাহিদদের আদেশ দিলেন রণতরীগুলো ডাঙ্গায় তুলে দশ মাইল পথ অতিক্রম করে গোল্ডেন হর্নে নামাতে হবে, এই দীর্ঘ পথ পুরোটাই ছিল পাহাড়ী উঁচুনিচু ভূমি। এর উপর দিয়ে সত্তরটি রণতরী টেনে নেয়া ছিল এককথায় অসম্ভব।কিন্তু সুলতান ফাতেহ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।





পুরো পথে কাঠের পাঠাতন বিছানো জল, তাতে চর্বি মাখিয়ে পিচ্ছিল করা হল এবং এর উপর দিয়ে রণতরীগুলো টেনে নিয়ে যাওয়া হল।এভাবে টিলা ও পাহাড়ের উপর দিয়ে রাতের মধ্যে সত্তরটি রণতরী তিনি গোল্ডেন হর্ণে প্রবেশ করাতে সক্ষম হলেন।



সত্তরটি জাহাজের এই মিছিল সারারাত্রি মশালের আলোতে ভ্রমণ করেত থাকে। বাইজেণ্টাইন সৈন্যরা কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীর থেকে বসফরাসের পশ্চিম তীরে মশালের দৌড়াদৌড়ি লক্ষ্য করে।কিন্তু অন্ধকারের কারণে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।অবশেষে ভোরের অয়ালো যখন রহস্যের পর্দা উন্মোচন করে দেয়,ততক্ষণে মুহাম্মাদ ফাতেহের সত্তরটি রণতরী ও ভারী তোপখানা গোল্ডেন হর্নের উপরাংশে পৌঁছে গেছে। গোল্ডেন হর্নের মুখে প্রহরারত বাইজেন্টাইন নৌ সেনারা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দেখল যে, উছমানী রণতরীগুলো মৃত্যুদূতের মতো তাদের পিছন দিক থেকে ধেয়ে আসছে। এই ঘটনা ত্থেকে একটি প্রবাদ তৈরি হলঃ"যখন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলবে তখন বুঝবে কন্সট্যান্টিপোলের পতন অত্যাসন্ন।"

চূড়ান্ত আক্রমণের আগে সুওলতান মুহাম্মাস ফাতেহ(রহ) বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিনকে নগরী সমর্পণের পয়গাম পাঠালেন এবং নগরবাসীর জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিন্তু সম্রাট তা গ্রহণ করলেন না।এবার সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের প্রস্তুতি নিলেন।

ঐতিহাহিকগণ লেখেন,আক্রমণের আগে সুলতান ফাতেহ(রহ) বাহিনীর অধিনায়কদের তলব করে সকল মুজাহিদিকে এই পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার আদেশ করলেন যে,কন্সট্যান্টিপোলের বিজয় সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর একটি ভবিষ্যত বাণী সত্য হবে এবং তাঁর একটি মুজিজা প্রকাশিত হবে। অতএব কারো মাধ্যমে যেন শরীয়াতের কোন বিধান লঙ্গিত না হয়।গীর্জা ও উপসানালয়গুলোর যেন অসম্মান না করা হয়,পাদ্রী,মহিলা,শিশু এবং অক্ষম লোকদের যেন কোন ধরনের কষ্ট না দেওয়া হয়...।।'

৮৫৭ হিজরীর ২০ জুমাদাল উলার রজনী মুজাহিদগণ দুয়া ও ইবাদাতের মধ্যে অতিবাহিত করেন। ফজরের নামাজের পর সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের আদেশ দিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে ,"ইনশাআল্লাহ আমরা যোহরের নামাজ সেন্ট সুফিয়ার গীর্জায় আদায় করব।"



দ্বিপ্রহর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে থাকে।কিন্তু বাইজেন্টান বাহিনী অসাধারণ বীরত্বে একটি সৈন্যও শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে সুওলতান তার বিশেষ বাহিনী ইয়ানাচারী বাহিনীকে সাথে করে সেন্ট রোমান্স এর ফটকএর দিকে অগ্রসর হন। ইয়ানাচারী বাহিনীর প্রধান আগা হাসান তার ত্রিশ জন বীর সঙ্গীকে সাথে করে প্রাচীরের উপর আরোহণ করেন।হাসান ও তার আঠার সাথীকে প্রাচীর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তারা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন।অবশিষ্ট বারোজন প্রাচীরের উপর দৃঢ় অবস্থান করতে সক্ষম হন।তারপর উসমানী বাহিনীর অন্যান্য দলও একের পর এক প্রাচীরে আরোহণ করতে সক্ষম হন। এমনিভাবে কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীরে চন্দ্রখচিত লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।





বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিন এতক্ষণ বীরত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল।কিন্তু সে তার কিছু অসাধারণ বীর যোদ্ধার সাহস হারানোর পর নিরাশ হয়ে পড়ে।সে উচ্চস্বরে বলে-"এমন কোন খৃস্টান নেই কি, যে আমাকে খুন করবে।"

কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না পেয়ে সে রোম সম্রাট(কায়সারদের) বিশেষ পোশাক খুলে দূরে নিক্ষেপ করে,উসমানী সেনাবাহিনীর উন্মত্ত তরঙ্গের মধ্যে প্রবেশ করে সত্যিকার সৈনিকের মত বীরত্বের সাথে লড়তে লড়তে নিহত হয়।তার মৃত্যতে ১১০০ বছরের বাইজেন্টানের সেই রোম সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে ,যার সূচনা হয়েছিল প্রথম কন্সট্যান্টিনের হাতে এবং বিলুপ্তও হল আরেক কন্সট্যান্টিনের হাতে । তারপর থেকে কায়সায় উপাধিই ইতিহাসের উপখ্যানে পরিণত হয়ে যায়। এভাবে ইহ-পরকালের সর্দার মহানবী(সাঃ) এর এই বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়-"কায়সারের ধ্বংসের পর আর কোন কায়সার জন্ম নিবে না।"





আল্লাহ তাআলা তাঁর মুজাহিদ বান্দার কথাকে সত্য করেছেন।জোহরের সময় সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) বিজয়ীর বেশে কন্সট্যান্টিপোল নগরীতে প্রবেশ করেন। ইংরেজী তারিখ হিসাবে দিনটি ছিল ২৯ মে ১৪৫৩ ঈ.।সেন্ট রোমান্সের উপর(বর্তমান নাম TOP KOPY) উসমানী পতাকা উড়ছিল। সুলতান ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সিদজায় পড়ে গেলেন।

নগরীর অধিকাংশ খৃস্টান সেন্ট সোফিয়ায় আশ্র্য় নিয়েছিল।সুলতান তাদেরকে অভয় দিলেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা দান করলেন।

এরপর আযান দেওয়া হল।সাড়ে এগারো শত বছর যাবৎ যেখানে 'তিন খোদা'র উপাসনা হচ্ছিল সেখানে আজ তাওহীদের ধ্বনি উচ্চারিত হল।সকল ছবি ও মূর্তি সরিয়ে ফেলা হল।মুসলিম বাহিনী জোহরের নামাজ সেন্ট সোফিয়ায় আদায় করল।



সুলতান ফাতেহ(রহ) একে মসজিদে পরিণত করার ফরমান জারি করলেন। কেননা প্রথমত কন্সট্যান্টিপোলের সম্রাট আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই সুলতান এই গীর্জাকে পূর্বাবস্থায় বহাল রাখতে বাধ্য ছিল না। তদুপরি এটি ছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানদের কেন্দ্রীয় গীর্জা ।তাই এর সাথে বহু কুসংস্কার ও অলৌকিকতার বিশ্বাস জড়িত হয়েছিল। এই কুসংস্কারের মূলোৎপাটন প্রয়োজন ছিল।

কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) নগরীর খৃস্টন অধিবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করলেন এবং তাদেরকে তাদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন।



কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের এই ঘটনার পর কন্সট্যান্টিপোল যা বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত উসমানী খিলাফতের রাজধানীর রূপ লাভ করে এবং বহু শতাব্দী পর্যন্ত আলমে ইসলামীর মধ্যে তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।



তথ্যসূত্র-

১) জাহানে দিদাহ- শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী (দা বা)

২) Encyclopedia of Islam

৩) wikipedia

৪) ইসলামের ইতিহাস

৫) Encyclopedia of World History

৬) History of Decline & Fall of Roman Empire and History of Christianity- Edward Gibbon

৭)মাসিক আল-কাউসার।
* নোটটি ব্লগার ”অগ্রপথিক“ এর নিরলস প্রচেষ্টায় লিখিত। কিঞ্চিত পরিমার্জন করে প্রকাশ করা হলো

Sunday, April 6, 2014

নাস্তিকদের অব্যর্থ প্রশ্নের সাবলীল জবাব [প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের জানা উচিত]

- No comments
collected from brother রাসেল ইউসুফী

একটি ব্লগে এক ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ইসলাম সম্বন্ধে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।তার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছিল ঠিক এভাবেই:

1) দশই রমজান শুক্রবার কেয়ামত। বাংলাদেশে যখন শুক্রবার তখন আমেরিকায় শুক্রবার নয়: মক্কায় বাংলাদেশের একদিন বা দুইদিন আগেই দশই রমজান হয়ে থাকে। তাহলে কিয়ামত সর্বত্র কিভাবে দশই রমজান হবে?

উত্তর: কেয়ামত যে “দশই রমজান”- এই কথা আপনি পেলেন কোথায়? কুরআন বা হাদীসের কোথায় “দশই রমজান” এর কথা উল্লেখ আছে?রেফারেন্স দিন। কেয়ামত সম্বন্ধে মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে বলা হয়েছে , কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হবে শুক্রুবার হতে। কিন্তু কোন স্পেসিফিক মাসের কথা তো সেখানে উল্লেখ নেই! আর যদি বলা হয় যে কেয়ামত শুরু হবে শুক্রুবার হতে , তবে তাতে সমস্যাই বা কোথায়? কোন না কোন একদিন তো কেয়ামত শুরু হবেই, হোক সেটা শুক্রুবার বা সোমবার।আর সেই কেয়ামত বা মহাপ্রলয়ের তান্ডব থেকে তো পৃথিবীর কেউই বাঁচতে পারবেনা,গোটা দুনিয়াই এফেক্টেড হবে এর দ্বারা ।একটি উদাহরণ দেই।ধরুন, আমি আপনাকে বল্লাম আগামি শুক্রবার সকাল 9টা হতে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যে 5দিন ব্যাপী টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে।তো,স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে এই খেলা লাইভ উপভোগ করা সম্ভব, ঠিক না?সময়ের ব্যবধান যাই হোক, ঐ সময়ে যে ঐ ক্রিকেট ম্যাচটি ঐ অঞ্চলে শুরু হবে তা-তো সত্যি,ঠিক না? ঠিক তদ্রুপ শুক্রুবার (যদি ধরে নেই সৌদি আরবের শুক্রবার) হতে কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হলেও গোটা পৃথিবী জুড়েই এর ধ্বংসলীলা পরিলক্ষিত হবে। বুঝে আসছে?

2) সবেরবাত আরে ও বাংলাদেশে একদিনে হয় না। সবেবরাতের আগের দিন বাংলাদেশ থেকে দ্রুতগামী বিমানে সৌদি আরব গেলে দেখা যাবে সেখানে সবেবরাত একদিন আগেই হয়ে গেছে। তাহলে সে কিভাবে সবেবরাত পালন করবে? উল্টা ঘটলে দুবার সবেবরাত পাবে কে?

উত্তর: 14ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” পালন করা গেলে 15ই সা’বান শবে বরাত পালন করতে বাঁধা কোথায়? সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশের কোটা বাতিল হয়ে গেছে না-কি?

3) কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে। ঐ দিনটা সারা পৃথিবীতে একে স্থানে একেদিন হলে বেহেস্তেও দরজা কদিন খোলা থাকবে?

উত্তর: আপনি বললেন- “কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে”-কোন কোন দিন খোলা থাকে একটু বলবেন কী? কুরআন/হাদীসের রেফারেন্সটাও কি একটু দিবেন? হাদীসে আছে শুধু মাত্র “রমজান” মাসেই বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। এর বাইরে অন্য কোন মাসে/দিনে বেহেশতের দরজা খোলা হয় এধরনের কোন উল্লেখ হাদীসে শরীফে নেই। থাকলে সেটা আপানার বানানো।

4) মেরুতে ছয়মাস দিন ও ছয় মাস রাত থাকে। সেখানে কিভাবে নামাজ-রোজা পালন করবে?

উত্তর: একদম সোজা! এরকম একটি প্রশ্ন নবীজি(স.)কে করা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল “দাজ্জাল” এর আবির্ভাব এর পরে নামাযের সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত। যখন দাজ্জাল আবির্ভূত হবে তখন এক একটি দিন এক বছরের সমান লম্বা হবে। এ বিষয়ে সাহাবারা নবীজির (সা.) দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন -“ও আল্লাহর নবী! এমন একটি সময় আসবে যখন একটি দিনের দৈর্ঘ এক বছরের সমতুল্য হবে তখন কী এক দিনের নামায কী গোটা বছরের জন্য যথেষ্ট হয়ে হবে? উত্তরে নবীজি (স.) বলেছিলেন-না, তখন তোমরা দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে করে নিবে।” অর্থাত একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতি ওয়াক্তের নামাযগুলো আদায় করে নিবে। বুঝলেন?

আর, মেরুতে যেহেতু ছয় মাস দিন ও ছয় মাসরাত সেহেতু সেক্ষেত্রে আপনি উপরোক্ত হাদীস মতে সময়কে ভাগ করে নিবেন এবং প্রতি ওয়াক্তের নামায গুলো আদায় করবেন এবং রোজাও ঐভাবে পালন করবেন। তাছাড়া, আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে উক্ত মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি কোন দেশের সময়ানুযায়ী নামায-রোজা পালন করা, মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে যেটি খুবই সহজ সাধ্য কাজ । ক্লিয়ার?

5)যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না? গোলাম আজম কোন দিন না কোনদিন বেহেস্তে প্রবেশ করবে মুসলিম বলে অথচ মাদারতেরেসা প্রবেশ করবেন না অমুসলিম বলে এটা কি ন্যায় বিচার?

উত্তর: আপনার প্রশ্নটা ছিল-“যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না?” তার আগে আপনি আমাকে বলুন-“যারা ইসলামের দাওয়াত পেয়েও ইসলাম কবুল করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে?

আর আপনি জানতে চেয়েছেন মাদার তেরেসা বেহেস্তে প্রবেশ করবেন কি-না? তার আগে চলুন জেনে নেই পবিত্র কুরআনের আলোকে বেহেস্তে প্রবেশের ক্রাইটেরিয়াগুলো কী কী? সূরা আল আসরে (103:1-4) আল্লাহ সময়ের কসম করে বলছেন, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে, সত কাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারনের উপদেশ দেয়। অর্থাত বেহেস্তে প্রবেশের শর্ত চারটি, যথা-ঈমান, সত কাজ, সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ।মাদারতেরেসা যদি এই চারটি উপাদান মেনে চলে থাকেন তবে তিনি অবশ্যই বেহেস্তে প্রবেশ করবেন; অন্যথায় নয়।

6)পুরুষ বেহেস্তেকমপক্ষে ৭০টি হুরী ও তার স্ত্রীকে পাবে এবং নারী বেহেস্তে গোলেমান ও তার স্বামীকেপাবে। তাহলে পুণ্যবান পুরুষের পাপিষ্ঠা স্ত্রীএবং পূণ্যবতী নারীর পাপী স্বামীও কি বেহেস্তে যাবে?

উত্তর: এক কথায় ‘না’। যেমন: হযরত আসিয়া(রা.) এর স্বামী ছিল পাপিষ্ঠ ফেরাউন। সুতারাং ফেরাউন বেহেস্তে যাবেনা। তেম্নি হযরাত লুত (আ.)এবং হযরাত নূহ’র(আ.) এর স্ত্রী ছিল পাপিষ্ঠ, তারাও বেহেস্তে যাবেনা। আল্লাহ যেমন বলছেন-“যারা কুফুরির নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’পূণ্যবান বান্দার অধীনে।কিন্তু তারা দুজনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারলনা।”(66:10)। ক্লিয়ার?

7) হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা প্রায় ৬শ বছর রাজত্ব চালায়। এরাই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের প্রসার ঘটায়। মুহম্মদের বংশধরদের রক্তে যাদের হাতরঞ্জিত তাদের হাতে যারা মুসলমান হয়েছে তারা কি প্রকৃত মুসলমান হবে?

উত্তর: আপনি বলেছেন-হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা না-কি প্রায় ৬শ বছর (!) রাজত্ব চালিয়েছিল।ইতিহাসের এতবড় মিথ্যা কথাটা আপনি কোথায় পাইলেন? হোসেনের হত্যাকারী ইয়াজিদ 680-683 খ্রি. মোট তিন বছর রাজত্ব করেছিল।আর ইয়াজিদের উমাইয়া বংশ ইয়াজিদের মৃত্যুর পর অর্থাত 683 খ্রি. হতে 750 খ্রি.পর্যন্ত মোট 67 বছর রাজত্ব করেছিল। তো, আপনি 67 বছরকে “ছয়শ” বানাইলেন কেন? আর ইয়াজিদ না হয় খারাপ লোক ছিল তাই বলে যে তার বংশধররা খারাপ- একথা আপনাকে কে বলেছে?

8)মুসলমানদের মধ্যে অনেকগুলো ভাগ ও উপভাগ রয়েছে। এদের মধ্যে কারা প্রকৃত মুসলমান এবং কেন? অন্যরা কি মুসলমান নয়?

উত্তর: দেখুন, একটি ক্লাশে ভালো ছাত্র যেমন থাকে, তেমনি খারাপ ছাত্রও থাকে।যারা ভালো করে মন দিয়ে পড়াশুনা করে তাদেরকে আমরা ভালো ছাত্র বলি, আর যারা করে না তাদেরকে আমরা বলি খারাপ ছাত্র বা দুষ্টছাত্র, কিন্তু খারাপ বা দুষ্টদের অছাত্রও বলিনা। তেমনি মুসলমানদের মধ্যেও ভালো যেমন আছে, তেমনি মন্দও আছে। যেসকল মুসলমান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান পোষণ করে এবং কুরআন-হাদীস অনুযায়ী আমল করে তাঁরা ভালো মুসলমান আর যারা এসব পালন করেন না তাদের আমরা বলি খারাপ মুসলমান। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।

9)উসমানের ইসলামবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করায় সাহাবা আবুজর গিফরীকে নির্বাসন দেয়া এবং তারা নিজের পছন্দসই কোরান বাদে বাকীগুলিকে পুরিয়ে ফেলার পরও সে কিভাবে আমাদের খলিফা? এছাড়া আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? এছাড়া আবু বক্কর ও ওমরকে শ্বশুর এবংজামাতা অর্থাত আত্মীয়ার বন্ধনে আবদ্ধ করা কি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল নয়? চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?

উত্তর: প্রথমে আসি আবুজর গিফারী প্রসঙ্গে।আপনি বলেছেন, হযরত উসমান আবুজর গিফরীকে নির্বাসনে দিয়েছিলেন।তো তাতে সমস্যা কোথায়?আবুজর যে নির্বাসনে যাবেন এবং সেখানেই তাঁর একাকী মৃত্যু ঘটবে একথা রাসুলুল্লাহই(স.) ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে অনেক সময় অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতেওপারে, তা কারোও কাছে পছন্দীয় হতে পারে বা না-ও হতে পারে। হযরত উসমান এবং আবুজরগিফরী দু’জনেই আল্লাহর নবীর খুব ভালো সাহাবী ছিলেন।রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে হযরত উসমানের সাথে আবুজর গিফরীর কিছুটা মতভেদ হয়েছিল সত্যি, কিন্তু তাতে তাঁদের মর্যাদা কিছুমাত্র হ্রাস পায়নি। আর 1400 বছর পর এসে আপনি যদি হযরত উসমানকে খলিফা হিসেবে না-ও মানেন তাতে উসমানের খেলাফতের কিচ্ছু আসে যায় না।

দ্বিতীয়ত: আপনি প্রশ্ন তুলেছেন হযরত উসমান কতৃক কুরআন পুড়ানো নিয়ে। আচ্ছা,বলুনতো কোন ঘটনা বা কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত উসমান বিভিন্ন স্থানে কুরআনের কপি পুড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? ব্যাকগ্রাউন্ড জানলে এই প্রশ্ন আপনি কখনোই করতেন না।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল- “আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন?”

দয়া করে বলবেন কী হযরত আলী কোন যুদ্ধে এবং কোথায় মুয়াবিয়ার কাছে “বুদ্ধি, কৌশল এবং পেশিতে” পরাস্ত হয়েছিলেন?সিফ্ফিনের যুদ্ধে আসলেই কী কোন পক্ষ জিতেছিল?

আর হযরত আলীর টাইটেল যে “আল্লাহর তরবারী” ছিল একথা আপনাকে কে বলেছে? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা দরকার।

আর আপনার তৃতীয় আপত্তি ছিল- “চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?” বংশভুক্তকেউ যদি উপযুক্ত থাকে তবে তাতে সমস্যা কোথায়? আর বলুন তো চার খলিফা কোন কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং কীভাবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন? তারা কী টুপ করে ক্ষমতায়বসে পড়েছিলেন না-কি তাঁদের নির্বাচিত করা হয়েছিল?

10)ইমাম মেহেদী এত অস্ত্রের মুখে কেন তরবারীদিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে।

উত্তর: “ইমাম মেহেদী তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে”- এই বক্তব্যটি কুরআন শরীফের কোন সূরায় বা কোন হাদীসে উল্লেখ আছে দয়া করে বলবেন কী? ইমাম মাহদী আগমন সম্পর্কিত 40টি নির্ভরযোগ্য হাদীস আমি পড়ে দেখেছি, কিন্তু কোথাও ইমাম মাহদী যে ঘোড়ায় চড়বেন বা তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবেন এমন তথ্য কোথাও পায়নি। বরং, ইমাম মাহদী আগমন সংক্রান্ত এক হাদীসে বলা হয়েছে এভাবে-“যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনকে সহায়তা করার জন্য নন-আরবদের মধ্য থেকে এমন এক সেনাবাহিনীর উম্মেষ ঘটাবেন,যাঁদের হাতে থাকবে উন্নতমানের অস্ত্র-শস্ত্র এবং তাঁরা হবে দ্রুত আরোহী (গ্রেটরাইডার)।”(সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-971, ভল্যুম-3)।এই হাদীসে ইমাম মাহদীর সময়ে উন্নতমানের যানবাহন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে ইঙ্গিতকরা হয়েছে। তো, ‘ঘোড়ায় চড়া’ এবং ‘তরবারী ব্যবহারের’ তথ্যগুলি কোত্থেকে পেয়েছেন দয়াকরে একটু বলবেন কী?

11)মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি। অন্য প্রাণীরা মাটির সৃষ্টি নয়। অথচ মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষে প্রচুর মিল রয়েছে। এমনকি গঠন পরিপাক, জনন প্রনালী অনেকটাই এক রমক অর্থাত তারা একই ভাবে সৃষ্টি। এর কারণ কি?

উত্তর: ভালো প্রশ্ন।এর জবাবটা পবিত্র কুরআনেই দেয়া আছে। সূরা আম্বিয়ার 30 নং আয়াতে বলা হয়েছে-“... আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম, তবু কী তারা বিশ্বাস করবেনা?(21:30)।” পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-“আল্লাহ পানি হতে সমস্ত জীবন সৃষ্টি করেছেন(24:45)।” এছাড়া বলা হয়েছে,“তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ,...(25:54)।” যেহেতু মানুষ সহ সমস্ত প্রাণীই পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে,সেহেতু মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষের প্রচুর মিল রয়েছে এবং পরিপাক,জননপ্রণালীও অনেকটা একরকম। বুঝতে পেরেছেন?

12)ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন? আল্লাহর রহমত মুসলমানদের উপর কি করে গেছে? মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন? মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন? তাহলে বিধর্মীরা কি আল্লাহর বেশি প্রিয় হয়ে যাচ্ছে?

উত্তর: “মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন?”এই প্রশ্নথেকেই বোঝা যাচ্ছে মুসলমানদের অতীত ইতিহাস সম্বন্ধে আপনি একদম ওয়াকিবহাল নন।সভ্যতার বিকাশ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের উম্মেষে মুসলমানদের অবদান কী ছিল তাসংক্ষিপ্তভাবে জানতে নীচের লিংকগুলো ভিজিট করুন;

1) http://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_Golden_Age
2) http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Muslim_scientists

তবে, হাঁ,মুসলমানরা বর্তমানে সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে, কোন সন্দেহ নেই। পৃথিবীর 60 শতাংশ খনিজ সম্পদের মালিক হওয়া সত্বেও মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া। যাহোক, এটি আরোও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার দাবী রাখে।

আপনি আরো প্রশ্ন করলেন- “মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন?” এটা কী একটা প্রশ্ন হলো? মুসলমানরা যদি ইউরোপ-আমেরিকায় বিধর্মীদের তেল সরবরাহ বন্ধকরে দেয় তবে তাদের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। তবে কী আপনি বলবেন যে বিধর্মীরা মুসলমানদের দয়ায় বেঁচে আছে !! পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই সবার নির্ভরশীল,আল্লাহপাক সমাজটাকে সেভাবেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলছেন,“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছেন, মর্যাদায় তোমাদেরকতককে কতকের উপরে স্থান দিয়েছেন, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি ওগুলোর মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য,...”(7:165)।

আপনি আরোও জিজ্ঞেস করলেন- ‘ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন?’ ঈমানদার বা বেঈমানদার-কে কত পরিমাণ সত কাজ করছে সে সংক্রান্ত কোন গবেষণাকর্ম কী আপনারকাছে আছে ? থাকলে একটু দেন তো। সতকাজ পরিমাপের মাপকাঠিই বা কী?

13) চোর ডাকাতদের রেজেক কে দেয়? যদি আল্লাহই চোর ডাকাতদের রেকেজ এভাবেই দেয় তবে তাদেও করার কি আছে? জারজ সন্তানদের রুহু যদি আল্লাহই সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে শয়তান এখানে কি করেছে? মানুষের ভাগ্য ও হেদায়েত আল্লাহর হাতে থাকলে শয়তানের গুরুত্ব কি?

উত্তর: চোর ডাকাতদের রেজেক আল্লাহই দেন। মানুষেরসামনে সবসময় দু’টি পথ খোলা থাকে।একটি ভালো অপরটি মন্দ। দু’টি পথই আল্লাহর সৃষ্টি।দুধ খেলে যেমন শক্তি হয় তেমনি মদ খেলেও শক্তি হয়। ভালো বা মন্দ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব মানুষের ।আল্লাহ মানুষকে যেমন ভালো কাজ করতে বাধ্য করেন না তেমনি মন্দ কাজ করতেও বাধা দেন না। তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু গরু বা ছাগলকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। গরু বা ছাগল চাইলেই বিমানে করে উড়ে গিয়ে আমেরিকান গরু বা ছাগলের সংগে দেখা করতে যেতে পারে না।কিন্তু মানুষ চাইলে তা পারে। গরু বা ছাগল চাইলেই সারা বছর প্রজনন করতে পারে না,কিন্তু মানুষ তা পারে ।মানুষকে অফুরন্তস্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই শেষ বিচারের দিন মানুষের বিচার হবে, গরু-ছাগলের হবেনা।

14)স্রষ্টা ছাড়া যদিকিছু সৃষ্টি না হয়। অর্থাত বলা হয় আল্লাহ না থাকলে এত সৃষ্টি হল কিভাবে এবং সুনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিভবে? তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?

উত্তর: প্রশ্ন করলেন, “স্রষ্টা ছাড়া যদি কিছু সৃষ্টি না হয়। তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?” ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম “এক্স” নামকবস্তু আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে। তবে, এবার বলুন তো এই “এক্স”কে কে সৃষ্টি করেছে?

15)মানুষকে লোভ দেখিয়ে কোন কাজ করানো বা ভয় দেখিয়ে কোন কাজ করানো অবশ্যই ঠিক নয়। তাহলে বেহেস্ত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিযে তাকে ধর্মের পথে আনানো কি সঠিক?

উত্তর: “ভালো করে পড়াশুনা কর, না হয় ফেল করবা”-এইভয় দেখিয়ে মা-বাবা যদি সন্তানকে উপদেশ দিতে পারে তবে বেহেশত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিয়ে ধর্মের পথে আনা সঠিক হবে না কেন?

16)বৃষ্টিপাত নাকি মিকাইল ফেরেস্তা নিয়ন্ত্রন করেন। বৃষ্টিপাতের সিস্টেম আজ মানুষের জানা সেই সিস্টেমে মিকাইল ফেরেস্তার প্রয়োজন কোথায়? মানুষ বর্তমানে কৃত্রিম ভাবেও বৃষ্টি নামাচ্ছে। এটাকি মিকাইল ফেরেস্তার কাজে হস্তক্ষেপের সামিল নয়? তারপরেও তিনি নীরব কেন?

উত্তর: আচ্ছা, আজরাইল ফেরেশতা তো মানুষের জান কবজ করে। যখন মানুষ আত্মহত্যা করে তখন কী আজরাইলের কাজে হস্তক্ষেপ ঘটে? কী মনে হয়?

17)মৃত্যুর পর হিসাব নিকাশের পর বেহেশত দোযখ বরাদ্দ হবে, তাহলে কবরের আযাব কি জিনিশ? ঐখানে কিসের বেসিসে পানিশম্যান্ট দেয়া হবে? যদি মৃত্যুর পরপরি কাউকে বেহশত এর সুখ আর দোযখের কষ্ট ভোগ করান শুরু হয়ে যায় তাহলে শেষবিচারের দরকার টা কি?

উত্তর:সেই সহজ ব্যাপারটাও বুঝলেন না! একজন খুনীকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন কী করা হয়?তাকে হাজতে নেয়া হয়, এজাহার,চার্জশীট প্রস্তুত করা হয়, কোর্টে চালান করা হয়, জেলে নেয়া হয়, রিমান্ডে নেয়া হয় , স্বাক্ষ্য-প্রমাণ আনা হয়,বিচার করা হয়, সবকিছু প্রমাণ হলে তার ফাসীঁ হয়। ঠিক তেমনি কবর আযাব হচ্ছে রিমান্ড ও বিচারাদির প্রাথমিক প্রক্রিয়া আর শেষ বিচার হচ্ছে চুড়ান্ত বিচার যার পরেই হবে আসল শাস্তি বা মুক্তি।কথা বুঝে এসছে?