Sunday, April 6, 2014

নাস্তিকদের অব্যর্থ প্রশ্নের সাবলীল জবাব [প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের জানা উচিত]

- No comments
collected from brother রাসেল ইউসুফী

একটি ব্লগে এক ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ইসলাম সম্বন্ধে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।তার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছিল ঠিক এভাবেই:

1) দশই রমজান শুক্রবার কেয়ামত। বাংলাদেশে যখন শুক্রবার তখন আমেরিকায় শুক্রবার নয়: মক্কায় বাংলাদেশের একদিন বা দুইদিন আগেই দশই রমজান হয়ে থাকে। তাহলে কিয়ামত সর্বত্র কিভাবে দশই রমজান হবে?

উত্তর: কেয়ামত যে “দশই রমজান”- এই কথা আপনি পেলেন কোথায়? কুরআন বা হাদীসের কোথায় “দশই রমজান” এর কথা উল্লেখ আছে?রেফারেন্স দিন। কেয়ামত সম্বন্ধে মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে বলা হয়েছে , কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হবে শুক্রুবার হতে। কিন্তু কোন স্পেসিফিক মাসের কথা তো সেখানে উল্লেখ নেই! আর যদি বলা হয় যে কেয়ামত শুরু হবে শুক্রুবার হতে , তবে তাতে সমস্যাই বা কোথায়? কোন না কোন একদিন তো কেয়ামত শুরু হবেই, হোক সেটা শুক্রুবার বা সোমবার।আর সেই কেয়ামত বা মহাপ্রলয়ের তান্ডব থেকে তো পৃথিবীর কেউই বাঁচতে পারবেনা,গোটা দুনিয়াই এফেক্টেড হবে এর দ্বারা ।একটি উদাহরণ দেই।ধরুন, আমি আপনাকে বল্লাম আগামি শুক্রবার সকাল 9টা হতে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যে 5দিন ব্যাপী টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে।তো,স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে এই খেলা লাইভ উপভোগ করা সম্ভব, ঠিক না?সময়ের ব্যবধান যাই হোক, ঐ সময়ে যে ঐ ক্রিকেট ম্যাচটি ঐ অঞ্চলে শুরু হবে তা-তো সত্যি,ঠিক না? ঠিক তদ্রুপ শুক্রুবার (যদি ধরে নেই সৌদি আরবের শুক্রবার) হতে কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হলেও গোটা পৃথিবী জুড়েই এর ধ্বংসলীলা পরিলক্ষিত হবে। বুঝে আসছে?

2) সবেরবাত আরে ও বাংলাদেশে একদিনে হয় না। সবেবরাতের আগের দিন বাংলাদেশ থেকে দ্রুতগামী বিমানে সৌদি আরব গেলে দেখা যাবে সেখানে সবেবরাত একদিন আগেই হয়ে গেছে। তাহলে সে কিভাবে সবেবরাত পালন করবে? উল্টা ঘটলে দুবার সবেবরাত পাবে কে?

উত্তর: 14ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” পালন করা গেলে 15ই সা’বান শবে বরাত পালন করতে বাঁধা কোথায়? সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশের কোটা বাতিল হয়ে গেছে না-কি?

3) কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে। ঐ দিনটা সারা পৃথিবীতে একে স্থানে একেদিন হলে বেহেস্তেও দরজা কদিন খোলা থাকবে?

উত্তর: আপনি বললেন- “কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে”-কোন কোন দিন খোলা থাকে একটু বলবেন কী? কুরআন/হাদীসের রেফারেন্সটাও কি একটু দিবেন? হাদীসে আছে শুধু মাত্র “রমজান” মাসেই বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। এর বাইরে অন্য কোন মাসে/দিনে বেহেশতের দরজা খোলা হয় এধরনের কোন উল্লেখ হাদীসে শরীফে নেই। থাকলে সেটা আপানার বানানো।

4) মেরুতে ছয়মাস দিন ও ছয় মাস রাত থাকে। সেখানে কিভাবে নামাজ-রোজা পালন করবে?

উত্তর: একদম সোজা! এরকম একটি প্রশ্ন নবীজি(স.)কে করা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল “দাজ্জাল” এর আবির্ভাব এর পরে নামাযের সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত। যখন দাজ্জাল আবির্ভূত হবে তখন এক একটি দিন এক বছরের সমান লম্বা হবে। এ বিষয়ে সাহাবারা নবীজির (সা.) দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন -“ও আল্লাহর নবী! এমন একটি সময় আসবে যখন একটি দিনের দৈর্ঘ এক বছরের সমতুল্য হবে তখন কী এক দিনের নামায কী গোটা বছরের জন্য যথেষ্ট হয়ে হবে? উত্তরে নবীজি (স.) বলেছিলেন-না, তখন তোমরা দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে করে নিবে।” অর্থাত একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতি ওয়াক্তের নামাযগুলো আদায় করে নিবে। বুঝলেন?

আর, মেরুতে যেহেতু ছয় মাস দিন ও ছয় মাসরাত সেহেতু সেক্ষেত্রে আপনি উপরোক্ত হাদীস মতে সময়কে ভাগ করে নিবেন এবং প্রতি ওয়াক্তের নামায গুলো আদায় করবেন এবং রোজাও ঐভাবে পালন করবেন। তাছাড়া, আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে উক্ত মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি কোন দেশের সময়ানুযায়ী নামায-রোজা পালন করা, মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে যেটি খুবই সহজ সাধ্য কাজ । ক্লিয়ার?

5)যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না? গোলাম আজম কোন দিন না কোনদিন বেহেস্তে প্রবেশ করবে মুসলিম বলে অথচ মাদারতেরেসা প্রবেশ করবেন না অমুসলিম বলে এটা কি ন্যায় বিচার?

উত্তর: আপনার প্রশ্নটা ছিল-“যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না?” তার আগে আপনি আমাকে বলুন-“যারা ইসলামের দাওয়াত পেয়েও ইসলাম কবুল করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে?

আর আপনি জানতে চেয়েছেন মাদার তেরেসা বেহেস্তে প্রবেশ করবেন কি-না? তার আগে চলুন জেনে নেই পবিত্র কুরআনের আলোকে বেহেস্তে প্রবেশের ক্রাইটেরিয়াগুলো কী কী? সূরা আল আসরে (103:1-4) আল্লাহ সময়ের কসম করে বলছেন, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে, সত কাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারনের উপদেশ দেয়। অর্থাত বেহেস্তে প্রবেশের শর্ত চারটি, যথা-ঈমান, সত কাজ, সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ।মাদারতেরেসা যদি এই চারটি উপাদান মেনে চলে থাকেন তবে তিনি অবশ্যই বেহেস্তে প্রবেশ করবেন; অন্যথায় নয়।

6)পুরুষ বেহেস্তেকমপক্ষে ৭০টি হুরী ও তার স্ত্রীকে পাবে এবং নারী বেহেস্তে গোলেমান ও তার স্বামীকেপাবে। তাহলে পুণ্যবান পুরুষের পাপিষ্ঠা স্ত্রীএবং পূণ্যবতী নারীর পাপী স্বামীও কি বেহেস্তে যাবে?

উত্তর: এক কথায় ‘না’। যেমন: হযরত আসিয়া(রা.) এর স্বামী ছিল পাপিষ্ঠ ফেরাউন। সুতারাং ফেরাউন বেহেস্তে যাবেনা। তেম্নি হযরাত লুত (আ.)এবং হযরাত নূহ’র(আ.) এর স্ত্রী ছিল পাপিষ্ঠ, তারাও বেহেস্তে যাবেনা। আল্লাহ যেমন বলছেন-“যারা কুফুরির নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’পূণ্যবান বান্দার অধীনে।কিন্তু তারা দুজনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারলনা।”(66:10)। ক্লিয়ার?

7) হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা প্রায় ৬শ বছর রাজত্ব চালায়। এরাই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের প্রসার ঘটায়। মুহম্মদের বংশধরদের রক্তে যাদের হাতরঞ্জিত তাদের হাতে যারা মুসলমান হয়েছে তারা কি প্রকৃত মুসলমান হবে?

উত্তর: আপনি বলেছেন-হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা না-কি প্রায় ৬শ বছর (!) রাজত্ব চালিয়েছিল।ইতিহাসের এতবড় মিথ্যা কথাটা আপনি কোথায় পাইলেন? হোসেনের হত্যাকারী ইয়াজিদ 680-683 খ্রি. মোট তিন বছর রাজত্ব করেছিল।আর ইয়াজিদের উমাইয়া বংশ ইয়াজিদের মৃত্যুর পর অর্থাত 683 খ্রি. হতে 750 খ্রি.পর্যন্ত মোট 67 বছর রাজত্ব করেছিল। তো, আপনি 67 বছরকে “ছয়শ” বানাইলেন কেন? আর ইয়াজিদ না হয় খারাপ লোক ছিল তাই বলে যে তার বংশধররা খারাপ- একথা আপনাকে কে বলেছে?

8)মুসলমানদের মধ্যে অনেকগুলো ভাগ ও উপভাগ রয়েছে। এদের মধ্যে কারা প্রকৃত মুসলমান এবং কেন? অন্যরা কি মুসলমান নয়?

উত্তর: দেখুন, একটি ক্লাশে ভালো ছাত্র যেমন থাকে, তেমনি খারাপ ছাত্রও থাকে।যারা ভালো করে মন দিয়ে পড়াশুনা করে তাদেরকে আমরা ভালো ছাত্র বলি, আর যারা করে না তাদেরকে আমরা বলি খারাপ ছাত্র বা দুষ্টছাত্র, কিন্তু খারাপ বা দুষ্টদের অছাত্রও বলিনা। তেমনি মুসলমানদের মধ্যেও ভালো যেমন আছে, তেমনি মন্দও আছে। যেসকল মুসলমান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান পোষণ করে এবং কুরআন-হাদীস অনুযায়ী আমল করে তাঁরা ভালো মুসলমান আর যারা এসব পালন করেন না তাদের আমরা বলি খারাপ মুসলমান। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।

9)উসমানের ইসলামবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করায় সাহাবা আবুজর গিফরীকে নির্বাসন দেয়া এবং তারা নিজের পছন্দসই কোরান বাদে বাকীগুলিকে পুরিয়ে ফেলার পরও সে কিভাবে আমাদের খলিফা? এছাড়া আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? এছাড়া আবু বক্কর ও ওমরকে শ্বশুর এবংজামাতা অর্থাত আত্মীয়ার বন্ধনে আবদ্ধ করা কি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল নয়? চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?

উত্তর: প্রথমে আসি আবুজর গিফারী প্রসঙ্গে।আপনি বলেছেন, হযরত উসমান আবুজর গিফরীকে নির্বাসনে দিয়েছিলেন।তো তাতে সমস্যা কোথায়?আবুজর যে নির্বাসনে যাবেন এবং সেখানেই তাঁর একাকী মৃত্যু ঘটবে একথা রাসুলুল্লাহই(স.) ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে অনেক সময় অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতেওপারে, তা কারোও কাছে পছন্দীয় হতে পারে বা না-ও হতে পারে। হযরত উসমান এবং আবুজরগিফরী দু’জনেই আল্লাহর নবীর খুব ভালো সাহাবী ছিলেন।রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে হযরত উসমানের সাথে আবুজর গিফরীর কিছুটা মতভেদ হয়েছিল সত্যি, কিন্তু তাতে তাঁদের মর্যাদা কিছুমাত্র হ্রাস পায়নি। আর 1400 বছর পর এসে আপনি যদি হযরত উসমানকে খলিফা হিসেবে না-ও মানেন তাতে উসমানের খেলাফতের কিচ্ছু আসে যায় না।

দ্বিতীয়ত: আপনি প্রশ্ন তুলেছেন হযরত উসমান কতৃক কুরআন পুড়ানো নিয়ে। আচ্ছা,বলুনতো কোন ঘটনা বা কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত উসমান বিভিন্ন স্থানে কুরআনের কপি পুড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? ব্যাকগ্রাউন্ড জানলে এই প্রশ্ন আপনি কখনোই করতেন না।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল- “আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন?”

দয়া করে বলবেন কী হযরত আলী কোন যুদ্ধে এবং কোথায় মুয়াবিয়ার কাছে “বুদ্ধি, কৌশল এবং পেশিতে” পরাস্ত হয়েছিলেন?সিফ্ফিনের যুদ্ধে আসলেই কী কোন পক্ষ জিতেছিল?

আর হযরত আলীর টাইটেল যে “আল্লাহর তরবারী” ছিল একথা আপনাকে কে বলেছে? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা দরকার।

আর আপনার তৃতীয় আপত্তি ছিল- “চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?” বংশভুক্তকেউ যদি উপযুক্ত থাকে তবে তাতে সমস্যা কোথায়? আর বলুন তো চার খলিফা কোন কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং কীভাবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন? তারা কী টুপ করে ক্ষমতায়বসে পড়েছিলেন না-কি তাঁদের নির্বাচিত করা হয়েছিল?

10)ইমাম মেহেদী এত অস্ত্রের মুখে কেন তরবারীদিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে।

উত্তর: “ইমাম মেহেদী তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে”- এই বক্তব্যটি কুরআন শরীফের কোন সূরায় বা কোন হাদীসে উল্লেখ আছে দয়া করে বলবেন কী? ইমাম মাহদী আগমন সম্পর্কিত 40টি নির্ভরযোগ্য হাদীস আমি পড়ে দেখেছি, কিন্তু কোথাও ইমাম মাহদী যে ঘোড়ায় চড়বেন বা তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবেন এমন তথ্য কোথাও পায়নি। বরং, ইমাম মাহদী আগমন সংক্রান্ত এক হাদীসে বলা হয়েছে এভাবে-“যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনকে সহায়তা করার জন্য নন-আরবদের মধ্য থেকে এমন এক সেনাবাহিনীর উম্মেষ ঘটাবেন,যাঁদের হাতে থাকবে উন্নতমানের অস্ত্র-শস্ত্র এবং তাঁরা হবে দ্রুত আরোহী (গ্রেটরাইডার)।”(সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-971, ভল্যুম-3)।এই হাদীসে ইমাম মাহদীর সময়ে উন্নতমানের যানবাহন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে ইঙ্গিতকরা হয়েছে। তো, ‘ঘোড়ায় চড়া’ এবং ‘তরবারী ব্যবহারের’ তথ্যগুলি কোত্থেকে পেয়েছেন দয়াকরে একটু বলবেন কী?

11)মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি। অন্য প্রাণীরা মাটির সৃষ্টি নয়। অথচ মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষে প্রচুর মিল রয়েছে। এমনকি গঠন পরিপাক, জনন প্রনালী অনেকটাই এক রমক অর্থাত তারা একই ভাবে সৃষ্টি। এর কারণ কি?

উত্তর: ভালো প্রশ্ন।এর জবাবটা পবিত্র কুরআনেই দেয়া আছে। সূরা আম্বিয়ার 30 নং আয়াতে বলা হয়েছে-“... আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম, তবু কী তারা বিশ্বাস করবেনা?(21:30)।” পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-“আল্লাহ পানি হতে সমস্ত জীবন সৃষ্টি করেছেন(24:45)।” এছাড়া বলা হয়েছে,“তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ,...(25:54)।” যেহেতু মানুষ সহ সমস্ত প্রাণীই পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে,সেহেতু মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষের প্রচুর মিল রয়েছে এবং পরিপাক,জননপ্রণালীও অনেকটা একরকম। বুঝতে পেরেছেন?

12)ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন? আল্লাহর রহমত মুসলমানদের উপর কি করে গেছে? মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন? মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন? তাহলে বিধর্মীরা কি আল্লাহর বেশি প্রিয় হয়ে যাচ্ছে?

উত্তর: “মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন?”এই প্রশ্নথেকেই বোঝা যাচ্ছে মুসলমানদের অতীত ইতিহাস সম্বন্ধে আপনি একদম ওয়াকিবহাল নন।সভ্যতার বিকাশ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের উম্মেষে মুসলমানদের অবদান কী ছিল তাসংক্ষিপ্তভাবে জানতে নীচের লিংকগুলো ভিজিট করুন;

1) http://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_Golden_Age
2) http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Muslim_scientists

তবে, হাঁ,মুসলমানরা বর্তমানে সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে, কোন সন্দেহ নেই। পৃথিবীর 60 শতাংশ খনিজ সম্পদের মালিক হওয়া সত্বেও মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া। যাহোক, এটি আরোও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার দাবী রাখে।

আপনি আরো প্রশ্ন করলেন- “মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন?” এটা কী একটা প্রশ্ন হলো? মুসলমানরা যদি ইউরোপ-আমেরিকায় বিধর্মীদের তেল সরবরাহ বন্ধকরে দেয় তবে তাদের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। তবে কী আপনি বলবেন যে বিধর্মীরা মুসলমানদের দয়ায় বেঁচে আছে !! পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই সবার নির্ভরশীল,আল্লাহপাক সমাজটাকে সেভাবেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলছেন,“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছেন, মর্যাদায় তোমাদেরকতককে কতকের উপরে স্থান দিয়েছেন, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি ওগুলোর মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য,...”(7:165)।

আপনি আরোও জিজ্ঞেস করলেন- ‘ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন?’ ঈমানদার বা বেঈমানদার-কে কত পরিমাণ সত কাজ করছে সে সংক্রান্ত কোন গবেষণাকর্ম কী আপনারকাছে আছে ? থাকলে একটু দেন তো। সতকাজ পরিমাপের মাপকাঠিই বা কী?

13) চোর ডাকাতদের রেজেক কে দেয়? যদি আল্লাহই চোর ডাকাতদের রেকেজ এভাবেই দেয় তবে তাদেও করার কি আছে? জারজ সন্তানদের রুহু যদি আল্লাহই সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে শয়তান এখানে কি করেছে? মানুষের ভাগ্য ও হেদায়েত আল্লাহর হাতে থাকলে শয়তানের গুরুত্ব কি?

উত্তর: চোর ডাকাতদের রেজেক আল্লাহই দেন। মানুষেরসামনে সবসময় দু’টি পথ খোলা থাকে।একটি ভালো অপরটি মন্দ। দু’টি পথই আল্লাহর সৃষ্টি।দুধ খেলে যেমন শক্তি হয় তেমনি মদ খেলেও শক্তি হয়। ভালো বা মন্দ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব মানুষের ।আল্লাহ মানুষকে যেমন ভালো কাজ করতে বাধ্য করেন না তেমনি মন্দ কাজ করতেও বাধা দেন না। তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু গরু বা ছাগলকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। গরু বা ছাগল চাইলেই বিমানে করে উড়ে গিয়ে আমেরিকান গরু বা ছাগলের সংগে দেখা করতে যেতে পারে না।কিন্তু মানুষ চাইলে তা পারে। গরু বা ছাগল চাইলেই সারা বছর প্রজনন করতে পারে না,কিন্তু মানুষ তা পারে ।মানুষকে অফুরন্তস্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই শেষ বিচারের দিন মানুষের বিচার হবে, গরু-ছাগলের হবেনা।

14)স্রষ্টা ছাড়া যদিকিছু সৃষ্টি না হয়। অর্থাত বলা হয় আল্লাহ না থাকলে এত সৃষ্টি হল কিভাবে এবং সুনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিভবে? তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?

উত্তর: প্রশ্ন করলেন, “স্রষ্টা ছাড়া যদি কিছু সৃষ্টি না হয়। তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?” ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম “এক্স” নামকবস্তু আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে। তবে, এবার বলুন তো এই “এক্স”কে কে সৃষ্টি করেছে?

15)মানুষকে লোভ দেখিয়ে কোন কাজ করানো বা ভয় দেখিয়ে কোন কাজ করানো অবশ্যই ঠিক নয়। তাহলে বেহেস্ত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিযে তাকে ধর্মের পথে আনানো কি সঠিক?

উত্তর: “ভালো করে পড়াশুনা কর, না হয় ফেল করবা”-এইভয় দেখিয়ে মা-বাবা যদি সন্তানকে উপদেশ দিতে পারে তবে বেহেশত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিয়ে ধর্মের পথে আনা সঠিক হবে না কেন?

16)বৃষ্টিপাত নাকি মিকাইল ফেরেস্তা নিয়ন্ত্রন করেন। বৃষ্টিপাতের সিস্টেম আজ মানুষের জানা সেই সিস্টেমে মিকাইল ফেরেস্তার প্রয়োজন কোথায়? মানুষ বর্তমানে কৃত্রিম ভাবেও বৃষ্টি নামাচ্ছে। এটাকি মিকাইল ফেরেস্তার কাজে হস্তক্ষেপের সামিল নয়? তারপরেও তিনি নীরব কেন?

উত্তর: আচ্ছা, আজরাইল ফেরেশতা তো মানুষের জান কবজ করে। যখন মানুষ আত্মহত্যা করে তখন কী আজরাইলের কাজে হস্তক্ষেপ ঘটে? কী মনে হয়?

17)মৃত্যুর পর হিসাব নিকাশের পর বেহেশত দোযখ বরাদ্দ হবে, তাহলে কবরের আযাব কি জিনিশ? ঐখানে কিসের বেসিসে পানিশম্যান্ট দেয়া হবে? যদি মৃত্যুর পরপরি কাউকে বেহশত এর সুখ আর দোযখের কষ্ট ভোগ করান শুরু হয়ে যায় তাহলে শেষবিচারের দরকার টা কি?

উত্তর:সেই সহজ ব্যাপারটাও বুঝলেন না! একজন খুনীকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন কী করা হয়?তাকে হাজতে নেয়া হয়, এজাহার,চার্জশীট প্রস্তুত করা হয়, কোর্টে চালান করা হয়, জেলে নেয়া হয়, রিমান্ডে নেয়া হয় , স্বাক্ষ্য-প্রমাণ আনা হয়,বিচার করা হয়, সবকিছু প্রমাণ হলে তার ফাসীঁ হয়। ঠিক তেমনি কবর আযাব হচ্ছে রিমান্ড ও বিচারাদির প্রাথমিক প্রক্রিয়া আর শেষ বিচার হচ্ছে চুড়ান্ত বিচার যার পরেই হবে আসল শাস্তি বা মুক্তি।কথা বুঝে এসছে?

Monday, March 31, 2014

বিপরীতমুখী নীতি

- No comments
 collected from Farhad Hossain Mithu
যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহ্‌ তা'আলার জন্য।সালাত এবং সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর
এবং সমস্ত সাহাবীদের উপর।

মানুষের মাঝে নানান প্রকার বিপরীতমুখী নীতি কাজ করে। মুসলিমদের মাঝেও বিপরীতমুখী মনোভাব কাজ করে।অথচ এটা নিয়ে আমরা ভাবি না।
এই বিপরীতমুখী নীতি যেভাবে কাজ করে সেটা হল----
১)আপনি দাবী করছেন যে,আপনি আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে ভালবাসেন কিন্তু আপনি তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন না।
আল্লাহ্‌ তা'আলা যেসব থেকে দূরে থাকতে বলেছেন সেসব থেকে দূরে থাকেন না।
২)আপনি জান্নাতে যেতে চান অথচ জান্নাতে যাওয়ার চেষ্টা করেন না।আপনি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চান অথচ জাহান্নাম থেকে
দূরে থাকার চেষ্টা করেন না।
৩)আপনি দাবী করেন আপনি রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ)-কে ভালবাসেন অথচ তার অনুসরণ করেন না।আপনি দাবী করছেন যে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ)-কে ছাড়া অন্য কাউকে অনুসরণ করছেন না অথচ আপনি অন্যদের অনুসরণ করছেন।
৪)আপনি ইসলামকে ভালবাসেন বলে দাবী করেন কিন্তু আপনি ইসলামবিরোধীদেরও ভালবাসেন!!!
৫)আপনি মানুষকে ভাল কাজ করার উপদেশ দেন অথচ নিজেই তা করেন না!
এমনি আরো বিপরীতমুখী কাজ আমরা করে যাচ্ছি।আসলে বলা যায় বিপরীতমুখী মনোভাবের সমূদ্রে আমরা ডুবে আছি।
আমাদের সমাজেও বিপরীতমুখী নীতি বর্তমান।যেমন-কারো বোন তার ভাইয়ের কাছে এসে অভিযোগ করল যে, "ভাইয়া,অমুক পাড়ার তমুক ছেলের দল আমাকে টিজ করেছে"।তার ভাই জিজ্ঞেস করল কি বলে টিজ করেছে?বোন বলল,"শিলা কি জাওয়ানি গান
গেয়ে টিজ করেছে,শুধু শিলা নামের জায়গায় আমার নাম বসিয়ে দিয়েছে।" তো সে ভাই টিজারদের ধমক দিয়ে আসল আসার পর
ঐ 'শিলা কি জাওয়ানি' এবং এই টাইপের গানের ভিডিও দেখতে থাকল![এটা বিপরীতমুখী মনোভাবের একটা উদাহরণ,বাস্তব ঘটনা নয়] এরকম বিপরীতমুখী নীতি আমাদের সমাজে স্পষ্ট।অবাক লাগে ,মেয়েরাও এই ধরনের গান শুনে। মেয়েদের টিজিং করা হোক এটা আপনি পছন্দ করেন না অথচ যেসব উপায় টিজাররা ব্যবহার করে সেসবকে পছন্দ করেন?এই সব অর্থহীন গান সমাজে নোংরামি ছাড়া আর কিচ্ছু ছড়ায় না।
বিপরীতমুখী থেকে একমুখী হওয়াঃ- [এখানে শুধু ৩য় বন্ধনীর ভেতর যে চিহ্ন আছে সেটাকে আমি বুঝাতে চাচ্ছি।এর বাইরে বন্ধনীহীন অতিরিক্ত কিছু চিহ্ন আসছে সেটার কোন অর্থ নেই।যেখানে # চিহ্ন দেখবেন সেটা বাতিল]
১)লব্ধি সর্বনিম্ন ২)লব্ধি সর্বোচ্চ
১) [ (লব্ধি সর্বনিম্ন) <::::::::::::::>] ২)[:::::::>:::::::::>:::::::: (লব্ধি সর্বোচ্চ)] ####:></::::::::::::::>
>আপনার নীতি ২নং এর মত হতে হবে।
এখানে বামদিক হল খারাপ আর ডানদিক ভাল।আমার মতে নাস্তিকরা কিছু ক্ষেত্রে একমুখী।তারা বাম দিকে একমুখী অর্থাৎ
খারাপের দিকে একমুখী।
দুটি ভেক্টর যখন পরস্পর বিপরীত দিকে কাজ করে তখন লব্ধি সর্বনিম্ন হয় আর যখন একই দিকে কাজ করে তখন লব্ধি সর্বোচ্চ হয়।তেমনি আপনি যদি বিপরীতমুখী নীতিতে
চলেন তাহলে আপনার জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিন্তু যদি একমুখী নীতিতে চলেন তাহলে আপনার জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

** তাওহীদ ও শিরক **
৩) [(শিরক)<::::::::::::::::::::::::> (তাওহীদ)] ###:::::::::::::::::::::></::::::::::::::::::::::::>
>এই রকম নীতি থাকলে আপনার সমস্ত আমল আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে অগ্রহণযোগ্য হবে।আল্লাহ্‌ পাক বলেন--
"আর তারা যে কাজ করেছে আমি সেদিকে অগ্রসর হব,অতঃপর তাকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব" [সূরা আল-ফুরকান-২৩]
দুঃখের বিষয় অনেক মুসলিম আজ না বুঝে ,না জেনে কবরপূজা করছেন,পীরপূজা করছেন।

৪)[::::::::>::::::::>::::::::>] তাওহীদ
আমাদের জীবনে এই নীতি থাকতে হবে যেটা হবে শিরকমুক্ত।আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাওহীদ।

আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকতে হবে।আপনি মহান আল্লাহ্‌ তা'আলাকে,তাঁর রসূল (সঃ)-কে ভালবাসার দাবী করছেন তাহলে মিলিয়ে দেখুন আপনার কথা আর কাজে মিল আছে কিনা?
আপনি কালেমা তাইয়্যেবা উচ্চারণ করছেন ভেবে দেখুন আপনি এই কালেমার দাবী পূরণ করছেন কিনা।যেটা আমারও ভাবনার বিষয়।
And Allah Knows the best.
মহান আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের সকল প্রকার অন্তরের ব্যাধি থেকে হিফাজত করুন।আমীন।

Friday, March 14, 2014

নাস্তিকব্রেনের error: ঈশ্বর অদৃশ্য তাই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই [পার্ট ১]

- No comments
 collected from
Farhad Hossain Mithu
মানুষের ব্রেনকে বলা হয় মহাবিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জটিল বস্তু।ব্রেন আল্লাহ্‌ তাআলার এক অসাধারণ সৃষ্টি যার রহস্য এখনো মানুষ সমাধান করতে পারেনি। এই ব্রেন দিয়েই একদল মানুষ আল্লাহ্‌ তাআলার আনুগত্য করতে শিখে আরেকদল শিখে আল্লাহ্‌ তাআলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর নাফরমানী করতে।

আমাদের ব্রেন পৃথিবীটাকে দেখে True/False এক্সাম হিসেবে।এই জন্য সাইকোলজিস্ট Daniel Gilbert বলেছেন কোন তথ্যকে প্রসেস করতে হলে আমাদের ব্রেনকে অবশ্যই সেই তথ্যটাকে প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে। ১ সেকেন্ডের অর্ধেক হলেও সে তথ্যটা ব্রেন বিশ্বাস করবে। যেমন ধরুন আমি আপনাদের 'গোলাপি' রংয়ের হাতিদের সম্পর্কে চিন্তা করতে বললাম।আপনারা সবাই জানেন যে 'গোলাপি হাতি' বলতে কিছু নেই। কিন্তু যখন আপনি 'গোলাপি রংয়ের হাতি' শব্দগুলো পড়লেন তখন অল্প সময়ের জন্য আপনার ব্রেনে গোলাপি রংয়ের হাতির একটা ছবির সৃষ্টি হয়েছিল।অর্থাৎ কোন বিষয়কে অস্তিত্বহীন প্রমাণ করার জন্য আপনার ব্রেনকে প্রথমে সেই বিষয়টার অস্তিত্ব আছে বলে বিশ্বাস করতে হয়।

বেশীরভাগ নাস্তিকরা যখন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করে তখন তার ব্রেন স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টিকর্তার একটা ইমেজ তৈরী করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার ব্রেন 'Error' সাইন দেখায় ।কারণ সৃষ্টিকর্তার সঠিক ইমেজ মানুষের দ্বারা সৃষ্টি করা সম্ভব না। এই জন্য নাস্তিকরা প্রশ্ন করে ' আমরা সৃষ্টিকর্তাকে কেন দেখি না?' ।এমনকি একজন আস্তিকও যখন সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কে চিন্তা করে , আরশকে ধরে রাখা ফেরেশতাদের সম্পর্কে চিন্তা করে কিংবা জান্নাতের প্রাসাদ সম্পর্কে চিন্তা করে তখন তার ব্রেনে একধরনের ইমেজ তৈরী করে,কিন্তু যারা ভাল প্রাক্টিসিং মুসলিম তারা জানে যে এইসব কল্পনা করা সম্ভব না।

ব্রেনের ডাটা প্রসেসিং এর এই পদ্ধতি হল ধ্রুবক , সব মানুষের ব্রেনেই এই বৈশিষ্ট্য ছিল , থাকবে। এটাকে নিউরোলজিক্যাল কন্সট্যান্টও বলা যায়। আর তাই আমরা দেখি ব্রেনের দ্বারা ধোঁকা খেয়ে যুগে যুগে ভ্রান্তরা ' আমরা সৃষ্টিকর্তাকে কেন দেখি না?' এই প্রশ্নটা করেছে। বনী ঈসরাইলরাও এই প্রশ্নটা করেছিল। পবিত্র ক্বুরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেছেন--

" আর যখন তোমরা বলেছিলে , 'হে মুসা! আমরা আল্লাহকে প্রত্যক্ষভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনো বিশ্বাস করব না ।' তখন তোমরা বজ্রাহত হয়েছিলে এবং নিজেরা তা প্রত্যক্ষ করেছিলে।" [সূরা বাক্বারাহ, আয়াত-৫৫]

মূর্তিপূজারীদের
ভ্রান্ত হবার অন্যতম কারণও হল এটা।

এখন প্রশ্ন হল , তাহলে আমরা কিভাবে স্রষ্টার অস্তিত্বকে বিশ্বাস করছি? এর উত্তর হল যে, ব্রেন শুধু উপরিউক্ত সিস্টেমেই ডাটা এনালাইজ করে না। ডাটা যত জটিল হবে এনালাইসিসের পদ্ধতিও জটিল হবে। যেমন ধরুন আমি বললাম 'ধসূর 'রংয়ের হাতি আছে। তখন আপনার ব্রেন 'গোলাপি রংয়ের হাতি' ডাটাকে এনালাইজ করতে যতটুকু সময় নিয়েছিল তার থেকে অল্প সময়ের মধ্যে 'ধসূর রংয়ের হাতি' ডাটাকে এনালাইজ করতে পারবে কারণ আপনি ধসূর রংয়ের হাতি দেখেছেন। কিন্তু আমি যদি বলি আর্কিমিডিসের গণিতের সমস্যা Problema Bovinum এর সমাধান করতে গেলে যে ফার্মার সমীরকরণ , V^2 - du^2 = 1 পাওয়া যায় সেখানে d=410286423278424 হবে , এটা কি সত্য নাকি মিথ্যা যাচাই করুন । তাহলে কিন্তু ব্রেনকে খুব সময় নিতে হবে এবং খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে ডাটাটাকে প্রসেস করতে।

নাস্তিকদের সমস্যাই হল এটা যে এদের ব্রেন প্রথম পদ্ধতিতে ডাটা এনালাইজ করে ,অর্থাৎ এরা অলস মস্তিষ্কের অধিকারী। এরা অনেক তথ্য-প্রমাণকে ইগনোর করে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায় না ,সীরাহ্‌ পড়তে চায় না পড়লেও বিধর্মীদের লেখা সীরাহ্‌ পড়ে।

কিন্তু বিশ্বাসীরা ধৈর্য ধরে আল্লাহ্‌ তাআলার নিদর্শনগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্বুরআন ও সীরাহ্‌ থেকে জ্ঞান অর্জন করে ঈমানকে মজবুত করে।

সবশেষে বলব , যারা এখনো সন্দেহে আছেন আল্লাহ্‌ তাআলার অস্তিত্বের বিষয়ে , কবরের আযাবের বিষয়ে , জান্নাত-জাহান্নামের বিষয়ে, ফেরেশতাদের অস্তিত্বের বিষয়ে তারা জেনে রাখুন আপনারা আপনাদের ব্রেনের চিন্তা করার অলস পদ্ধতির কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আপনাদের চিন্তা করার পদ্ধতি পাল্টান না হলে হয়তো আপনি সারা জীবন আল্লাহ্‌ তাআলার নাফরমানী করে কাটাবেন নাহলে মূর্খ নাস্তিকদের মত কাটাবেন।

Monday, October 7, 2013

ফুটবলাধিকার

- No comments

"ফুটবলাধিকার"

by Nazmus Sakib
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আমরা সবাই জানি ফুটবল খেলায় ১১ জন খেলোয়াড় থাকেন। এই ১১ জনের দায়িত্ব হল ১১ রকম। কোন একজনের দায়িত্ব অপরের চাইতে কম নয়। একজন গোলকীপারের জন্যে কোচের প্ল্যানিং থাকে একরকম। ডিফেন্ডারের জন্যে একরকম
, মিডফিল্ডারের জন্যে একরকম, স্ট্রাইকারের জন্যে একরকম। বেশিরভাগ সময়েই স্ট্রাইকাররা হয় স্কোরার। মিডফিল্ডাররা হয় গোল মেকার আর ডিফেন্ডার-গোলকীপারের কাজ হল গোল খাওয়া থেকে দলকে বাঁচানো। তাছাড়া ২ জন মিডফিল্ডার এর দায়িত্বও বেশিরভাগ সময় একই হয় না। কেউ রাইট উইং দেখে রাখে, কেউ লেফট উইং। স্ট্রাইকারের ক্ষেত্রেও একই। একজন স্ট্রাইকার রাইট উইং এ প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেন,আরেকজন করেন লেফট উইং থেকে।


অন্যদিকে ৩-৪ জন ডিফেন্ডারের কাজও কিন্তু সবসময় এক হয়না। দেখা যায় রাইট সাইডের ডিফেন্ডারের কাজই হল প্রতিপক্ষের কোন বিশেষ ফরোয়ার্ডকে আটকে রাখা। আবার অনেক সময় সব ডিফেন্ডারই একসাথে এই দায়িত্ব পালন করে। আর গোলকীপারের কাজ হল ডি-বক্সেই ঘোরাফেরা করা আর গোলপোস্ট পাহারা দিয়ে দলকে গোল খাওয়া থেকে বাঁচানো।


কিন্তু যদি কোনদিন এমন হয়, যে গোলকীপার দাবি করে বসেন অন্যদের তুলনায় তাকে অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে, তখন কেমন হবে? তিনি যদি বলেন, সবাই কী সুন্দর দৌড়াচ্ছে আর আমি হাবার মত এখানে দাঁড়িয়ে আছি? এটা তো চরম অন্যায়! আবার কোন ডিফেন্ডার যদি বলেন, এটা কিছু হল? মিড আর ফরোয়ার্ডরা কী চরম ভাব নিয়ে গোল দিতে যায়, আর আমরা আছি আরেকজনকে আটকানোর মত “নিচু” কাজে ব্যাস্ত। এটা তো আমাদের অধিকার লঙ্ঘন!


আবার ধরুণ ফরোয়ার্ড বলছেন, “ধুশশালা! এই কোচ তো বেজায় শয়তান! আমাকে সারাদিন দৌড়ের উপর রাখছে আর ঐ ব্যাটা গোলকীপার কি আরামসে গোলপোস্টে হেলান দিয়ে আমাদের দৌড়াদৌড়ি দেখছে। এটা তো চরম অন্যায়!”

এখন সত্যিই যদি বিভিন্ন পজিশনের খেলোয়াড়রা এই ধরণের দাবি তুলে বসেন, যে আমাদের ‘ফুটবলাধিকার’ লঙ্ঘিত হচ্ছে, আমরা সমান অধিকার পাচ্ছিনা, আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, তাই আমরা খেলবোনা – তাহলে কেমন হবে?

যদি মিডফিল্ডার আর স্ট্রাইকাররা গোলের পর গোল করে যায়, আর গোলকীপার-ডিফেন্ডাররা এই বলে বসে থাকে যে তারা ফরোয়ার্ডদের মত সমঅধিকার পায়নি, তাহলে কিন্তু দলটি এক-দুইশ গোলের ব্যবধানে হারার কথা। আবার ফরোয়ার্ডরা যদি বলে তারা গোলকীপারের মত আরাম আয়েশে থাকতে পারেনা, তাই তারা খেলবেনা, তাহলে কোন ভাবেই দলের জেতার সম্ভাবনা নেই।

ইসলামে নারী-পুরুষের কর্তব্য ও দায়িত্ব অনেকটাই এই ফুটবলের ফর্মেশানের মত। নারীর দায়িত্ব এক, পুরুষের দায়িত্ব এক। কিন্তু কারো দায়িত্ব একইরকম নয়। দুজনের দায়িত্ব একই ধরনের নয়। কিন্তু ওজন করতে গেলে কারো দায়িত্ব কারো চাইতে কম নয়। একজন পুরুষ বা নারী যদি বলে তাদেরকে সমান দায়িত্ব বা অধিকার দেয়া হয়নি তাই তারা কাজ করবেনা, তাহলে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হতে বাধ্য। ফুটবলের একেকজন খেলোয়াড় একেকজনের পরিপূরক। কোন দলই চায়না একজনও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ুক। গোলকীপারের কাজ স্ট্রাইকারের মত না। স্ট্রাইকারের কাজ গোলকীপারের মত না। কিন্তু একজনের কাজ আরেকজনকে দিয়ে হবেনা। কল্পনা করুন তো, গোলকীপার সাহেব ফাউল করে লাল কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়ছেন। তাহলে বেচারা ফরোয়ার্ডের কি অবস্থা হবে?

আবার ভেবে দেখুন, দুইজন স্ট্রাইকার কিংবা ৪ জন ডিফেন্ডার লাল কার্ড খেয়ে বেরিয়ে গেছেন, অবস্থাটা কি হবে খেলার? গোলকীপার সাহেব, যিনি নিজেকে দায়িত্বহীন আর বঞ্চিত ভাবতেন, এখন তার অবস্থা ও দায়িত্ব কি হবে?


ইসলামেও তেমনি নারীর কাজ আর পুরুষের কাজ পরস্পর পরিপূরক। নারী যদি তার নির্ধারিত কাজে “সমঅধিকার” লঙ্ঘিত হচ্ছে, এই অজুহাতে কাজ কর্মে ইস্তফা দিয়ে বসেন, কিংবা পুরুষ যদি “বেশি দায়িত্ব চলে এসেছে” বলে ঘরে বসে থেকে বউকে বাইরে পাঠিয়ে দেন, তবে অবস্থা হবে এই ফুটবল টীমের মত। হ য ব র ল।

‘সমফুটবলাধিকার’ এর নাম করে ইকার ক্যাসিয়াসকে যদি ফরোয়ার্ডে পাঠিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে গোললাইনে দাঁড় করিয়ে গোল বাঁচাতে দেয়া হয়, তবে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের ফলাফল কি হবে, তা সহজে অনুমেয়। তেমনি সমঅধিকারের নাম করে নারীর কাজ পুরুষকে করানো আর পুরুষের কাজ নারীকে করানোটাও হবে দায়িত্ব-সংকটের কারণ। এই ধরনের অদূরদর্শী দায়িত্ব বণ্টনের ফলে ফুটবল টীমের যেমন দফারফা অবস্থা হয়ে যাবার কথা, তেমনি আল্লাহ্‌ কর্তৃক নারী-পুরুষের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে অদূরদর্শিতার সাথে EXCHANGE করা হলে, পারিবারিক, সামাজিক তথা গোটা পার্থিব জীবনেই বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য।


ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নারী-পুরুষের দায়িত্ব বন্টন আসলে ফুটবল টীমের মতই। এখানে একজনের দায়িত্বের সাথে অন্যের দায়িত্বের তুলনা চলেনা। বোকার মত দেখতে চাইলে একজনের দায়িত্ব ও অধিকার আরেকজনের চাইতে কম বলে মনে হতে পারে, কিন্তু কারো দায়িত্ব কমিয়ে দিয়ে আরেকজনের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিলে কিংবা একজনের দায়িত্ব আরেকজনকে দিয়ে EXCHANGE করে দেখতে গেলেই বোঝা যায় প্রত্যেকের দায়িত্ব আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে একজন নারীর দায়িত্ব,একজন পুরুষের দায়িত্বকে পূর্ণতা দান করে। যেটা নারীর কাজ নয়, সেটা নারীকে করতে দিলে, কিংবা যেটা পুরুষের কাজ নয়, সেটা পুরুষকে করতে দিলে হিজিবিজি লেগে যেত বাধ্য। হ্যাঁ, অনেকেই বলতে পারেন যে এমন অনেক গোলকীপার আছেন যারা গোল করেছেন। হুম। কথা সত্য। কিন্তু ফুটবল ইতিহাস নিজেই বলে এইসব উদাহরণ হল বিচ্ছিন্ন উদাহরণ। মানুষ শুধুমাত্র “সাধারণ জ্ঞান” এর অংশ হিসেবেই এইসব গোলকীপারকে মনে রাখে। কিন্তু এত এত গোলকীপার গোল স্কোর করা স্বত্বেও আজ পর্যন্ত গোলকীপারের দায়িত্ব গোল বাঁচানোই রয়ে গেছে। স্ট্রাইকিং এ দেয়া হয়নি। তাই অনেক সময় আমরা নারীদের পুরুষদের সাথে মেলামেশা করে পুরুষদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে দেখলেও সেটা কখনই নারী-পুরুষের অধিকার EXCHANGE এর কারণ হতে পারেনা। গোলকীপারের মতই নারীর দায়িত্ব নারীর কাছেই থাকবে। এটাই আল্লাহ্‌ প্রদত্ত ফিতরা।


তাই যতদিন নারী-পুরুষ তাদের একে অপরের পরিপূরক হিসেবে না দেখে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখবে, ইসলাম বিদ্বেষীরা তার সুযোগ নিয়ে তাদের কানে ‘সমঅধিকার’ নামক বিষ ঢালতে থাকবে, যা ধীরে ধীরে জন্ম দেবে এক লাগামহীন সমাজের, যা নারীর জন্যে কিংবা পুরুষের জন্যে, কারো জন্যেই কল্যান বয়ে আনবেনা।


ডাঙার প্রাণীকে পানিতে ফেলে, জলের প্রাণীকে ডাঙায় তুলে আনলে সাময়িক উথালপাথালের পরে উভয় প্রাণীই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়।

আল্লাহ্‌ আমাদের হিদায়া দান করুন।


আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞানী

নাস্তিকতার অন্ধ বিশ্বাস

- No comments

নাস্তিকতার অন্ধ বিশ্বাস

 by মুক্তির পথিক

ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক অবনমনের পর এবং ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের উত্থানের পর একটা বিশাল সময় ধরে তথাকথিত আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের মুখে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে অন্ধ বিশ্বাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এখনও সমাজতন্ত্রীরা স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে আফিমতুল্য মনে করে, বিজ্ঞান কর্তিক স্রষ্টাকে আবিষ্কার করার ব্যর্থতা এবং বিবর্তনবাদ তাদের আত্মতৃপ্তির পালে হাওয়া দিয়েছিল। নিম্নে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করব যে, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস অন্ধ বিশ্বাস, নাকি নাস্তিকতা অন্ধ বিশ্বাস। এইখানে clear হয়ে নেয়া ভাল যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, ফ্রীডম, গণতন্ত্র প্রভৃতি ধারণাগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা হারাবে। অর্থাৎ স্রষ্টা প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার বাইরে অন্য সকল জীবনব্যবস্থা বুদ্ধিদীপ্ত মনের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
প্রথমে, আমরা দেখব যে, science or scientific way দিয়ে স্রষ্টাকে প্রমান করা কতটা যৌক্তিক। বস্তুত, science শুধুমাত্র ঐসব বিষয় নিয়ে মতামত দিতে পারে, যেইসব বিষয় মাপার বা পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা তার আছে। উদাহরণস্বরূপ, ১ টা ৫ ফুট লম্বা টেবিল যে ৫ ফুট, এইটা science তখনি বলতে পারবে, যখন তার কাছে ফুট এর সংজ্ঞা জানা থাকবে। কিন্তু টেবিলকে মাপতে পারলেও কোন ব্যক্তি এটা বানিয়েছে, বা আদৌ এটা কেউ বানিয়েছে কিনা, কিংবা সে দেখতে কেমন, কি খায়, কি পরে এইসব প্রশ্নের উত্তর science দিতে পারেনা। science শুধু বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করে তার বৈশিষ্ট্য আমাদেরকে জানাতে পারে। কিন্তু বৈশিষ্ট্যের কারণ জানাতে পারেনা। যেমন ২ টা H ১ টা o এর সাথে মিলে পানি তৈরি করে, কিন্তু কেন পানিই তৈরি করল, আগুন কেন তৈরি করলনা, এই ব্যপারে science নীরব। সে শুধু বস্তুর গুনাগুন বা বৈশিষ্ট্য বলতে পারে, ততটুকুই যতটুকু মাপার ক্ষমতা তাকে দেয়া আছে। তাই এই সীমিত science কে দিয়ে স্রষ্টাকে খুঁজে না পেলেই যে তাকে অস্বীকার করতে হবে, এটা হাস্যকর।
দ্বিতীয়ত, অনেকেই logical method ব্যবহার করে স্রষ্টার অস্তিত্ব বুঝার জন্য (যেমন Zakir Nayek)… কিন্তু এর দুর্বলতা হল যে, logic সবসময় ১ টা premise এর উপর ভর করে চলে। premise যদি ভুল হয় তাহলে, logic এর answer ভুল হবে। যেমন ধরুন, কেউ বলল, “ কাঠ আগুনে পুড়ে, রফিকের নৌকাটি কাঠের তৈরি, তাই ওটাও আগুনে পুড়বে”......... এই কথাটি মিথ্যা হবে যদি, নৌকাটি পানিতে ডুবানো থাকে। এখন logic সবসময় যে premise নিয়ে কাজ করে তা যে comprehensive হবে তার কোন মানে নেই। অন্য একটা উদাহরণ দেই, “বাঙ্গালীরা দুর্নীতিবাজ, ফারযানা একজন বাঙ্গালী, সুতরাং সেও দুর্নীতিবাজ”...... এই কথাটা সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে। কোন guarantee নাই। তাই logic দিয়ে স্রষ্টাকে প্রমান করার প্রমান যেমন আছে, অপ্রমান করার প্রমাণ ও আছে। logical method চূড়ান্ত ও সুনিদৃস্ট কোন সিদ্ধান্ত দেয়না।
এইবার আসি চিন্তার ঐ পদ্ধতিতে যা মানবজাতি সার্বজনীনভাবে তার জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করে থাকে। আর তা হল, rational method. এই পদ্ধতিতে মানুষ তার চারপাশের বস্তুসমুহকে তার ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করে। সেই বস্তু সম্পর্কে তার কাছে কিছু previous information থাকে। সেই previous information কে use করে সে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সব মানুষই এই পদ্ধতিতে চিন্তা করে থাকে। scientific method আর logical method কে rational method এর শাখা বলা যেতে পারে। মানুষ কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তার একটা উদাহরণ দেই। যখন আপনার দরজায় কেউ knock করে, তখন আপনি কিন্তু মাপতে বসেন না যে, কত frequency তে sound wave টা আসল, তারপর হিসাব করেন যে একজন মানুষ কত জোরে বা কত frequency তে আঘাত করতে পারে, তারপর দরজা খুলেন। না, আমরা কেউই এইভাবে সিদ্ধান্ত নিইনা। বরং দরজায় knock করলে তা আমরা ইন্দ্রিয় (শ্রবণ) দ্বারা উপলব্ধি করি, আমাদের মস্তিষ্কে এর ব্যপারে previous information আছে যে, knock করা মানে কেউ এসেছে, এবং তখন আমরা দরজা খুলার সিদ্ধান্ত নিই। তার মানে দাঁড়াল যে, rational method এ সিদ্ধান্ত নিতে যে কয়টা জিনিষ লাগে, তা হল
১. বাস্তবতা
২.ইন্দ্রিয় দ্বারা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা
৩.বাস্তবতা সম্পর্কে previous information
4.previous information এর সাথে link করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ sound mind
হুমমমমমমমম, মনের মধ্যে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে, স্রষ্টার কোন বাস্তবতা আমাদের সামনে নেই যে আমরা তাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করব, তাহলে স্রষ্টার অস্তিত্ব এই পদ্ধতিতে বুঝব কিভাবে??............... ১০০% correct. আপনার দরজায় নক করলে আপনি দরজার বাইরে কারো অস্তিত্ব বুঝতে পারেন, কিন্তু যিনি নক করছে, তিনি কি পুরুষ না মহিলা, ফর্সা নাকি কালো তা কিন্তু বুঝার উপায় নেই। কিন্তু তার অস্তিত্ব বুঝা যায়। আমাদের সামনে স্রষ্টার বাস্তবতা না থাকলেও সমস্যা নেই। আমাদের চারপাশে যে বস্তুসমুহ আছে, যাদেরকে আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি, চলুন সেগুলোকে rational study করে দেখি। আমরা আমাদের আশপাশের প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করব, এবং দেখব আদৌ কোন স্রষ্টার প্রয়োজন আছে কিনা। এখানে মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতিতে আমরা দেখব মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছে কিনা, কিন্তু তিনি দেখতে কেমন, কিভাবে কাজ করেন তা rationally জানা সম্ভব নয়, কারণ উনি আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে, তাকে জানতে হলে একটা পদ্ধতিই আছে, আর তা হল উনি যদি নিজে থেকে আমাদেরকে জানান (পরে আলোচনা করা হবে)।
আমাদের চারপাশের প্রত্যেকটি বস্তুর মধ্যেই ২ টি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এরা প্রত্যেকেই সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল। যেমন, গাছ আকার আকৃতি, দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য, পানি এগুলর উপর নির্ভরশীল। মানুষ নানা দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল। আলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য, গতি দ্বারা সীমাবদ্ধ, নির্ভরশীল উৎস কিংবা রুপান্তর প্রক্রিয়ার উপর। প্রত্যেকটি বস্তু নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল। এবং এরা কেউই নিজেরা নিজেদের অস্তিত্তের জন্য দায়ী নয়। যদি নিজেরা নিজেদেরকে অস্তিত্তে আনত তাহলে সীমাবদ্ধতা আর দুর্বলতার উর্ধে থাকত।
যদি ধরে নেই যে, নির্ভরশীলতায় একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং কোন স্রষ্টার দরকার নেই, তাহলে আদিকাল থেকে চলে আসা ঘটনা বা বস্তুসমুহের সরুপ দাঁড়ায়,
…..y
এইটা অসম্ভব, কারণ কোন শুরু না থাকলে, v, w, x, y এদের কারো অস্তিত্তে আসা সম্ভব নয়। একটা উদাহরণ দেই। আপনি একটা ক্রিকেট দলের ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান। আপনি কয়জনের পর নামবেন? ৯ জনের পর। আপনি কোন দলের ১০০ তম ব্যাটসম্যান হলে নামবেন ৯৯ জনের পর। আপনার দলে যদি অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে আপনি কবে নামবেন? কখনই নামবেন না, কারন আপনার পূর্বে অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে (অর্থাৎ শুরুও নাই, শেষ ও নাই)... আপনার আগেরজনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক, তার আগের জনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক............ সুতরাং কোন ব্যাটসম্যানই নামতে পারবেনা, কারণ প্রত্যেকের পূর্বেই আছে অসীম সংখ্যক...... অর্থাৎ কোন শুরু যদি না থাকে তাহলে কেউই exist করেনা। অসীম এই শব্দটা শুধু mathematical ব্যপারে use করা হয়, বাস্তবতায় কোন কিছুই অসীম নয় (আমাদের চেনা বাস্তবতায়)। সুতরাং একটা শুরু আছে...আরেকটা উদাহরণ দেই, আপনাকে যদি বলি ১০ থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত আসেন, আপনি গুণতে পারবেন, কিন্তু যদি বলা হয়, অসীম থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত গুনেন, it’s impossible ….. আপনি শুরুই করতে পারবেন না এবং ৯৯ তেও আসতে পারবেন না। ৯৯ তে আসতে হলে শুরু আপনাকে করতেই হবে। সুতরাং মহাবিশ্বের শুরু আছে, এবং সে নিজে নিজে তা শুরু করেনি।
wait…. Wait….. wait…. The atheists still didn lose hope….. তারা বলছে zyxwvz অর্থাৎ এটা একটা বৃত্তাকার চক্র........(NICE!!!) অর্থাৎ Z থেকে শুরু হয়ে আবার Z এ এসে মিশেছে। এবং Z হল INITIATOR. অর্থাৎ চক্রটাকে ছোট করলে হয় যে Z Y….(প্রথম আর শেষ বস্তু)... সুতরাং z, y এর উপর নির্ভরশীল, আর y, z এর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু z না থাকলে তো y existence এ আসতে পারেনা, আবার y না থাকলে zআসতে পারেনা। তাহলে হয় দুইজন একইসাথে exist করে অথবা দুইজনই তাদের অস্তিত্বে আসার জন্য এই বৃত্তের বাইরে তাদের কোন স্রষ্টার উপর নির্ভরশীল।
দুইজন একসাথে exist করলে সমস্যা আছে। তাহলে পৃথিবীর তথা মহাবিশ্বের সব ঘটনাকে একসাথে exist করতে হবে... অর্থাৎ আমি , আমার দাদা, আমার দাদার দাদার দাদার দাদা, আমার নাতি, আমার নাতির নাতির নাতি সবাইকে একসাথে exist করতে হবে। কিন্তু আমরা বাস্তবতায় এটা দেখিনা। উপরন্তু z যেহেতু y এর উপর নির্ভরশীল, সেহেতু Y এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা INITIATOR z এর নাই। তার মানে y, তার অস্তিত্তের জন্য z এর উপর নির্ভরশীল নয় (বিবর্তনবাদ খাইল বাঁশ)... একইভাবে z এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণ y নয়। তাই z ও y এর উপর নির্ভরশীল নয়। এরা প্রত্যেকেই এদের অস্তিত্তের জন্য এদের চক্রের বাইরের কারো উপর নির্ভরশীল।
সুতরাং মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে অস্তিত্তে আনেনি, এবং এর পুর অস্তিত্ব অন্য কারো উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছে। এবং সেই স্রষ্টা মহাবিশ্বের উপর dependentনন, কারণ তাহলে তিনিও চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং তিনিও অস্তিত্তের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্তে আসলাম এই মহাবিশ্বের অস্তিত্তের জন্য একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য। স্রষ্টা ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব অসম্ভব। সুতরাং পরের আলোচনা হতে পারে,
Who is the Creator of the Creator…..

মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনের বিশ্লেষণ

- No comments
মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনের বিশ্লেষণ
ভূমিকা

অধঃপতন উন্নতির বিপরীত। উন্নতি = বুদ্ধিবৃত্তিক উত্থান। তারাই একটি উন্নত জাতি যারা সমাজে সকল সমস্যার সমাধানের জন্য একটি দর্শন বা আদর্শকে চিন্তার ভিত্তি হিসেবে বেছে নেয় এবং তাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ একটি উন্নত সমাজের মানুষেরা তাদের সকল প্রবৃত্তিগত ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য জীবন সম্পর্কে একটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে চলে, এই আদর্শটি আবার একটি বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থকে। এটাই উন্নত সমাজ, কেননা এটি একটি যুক্তিসঙ্গত (Rational) ও যাচাই বাছাইকৃত (Justified) মৌলিক বিশ্বাসের উপর সংগঠিত এবং সমাজের প্রতিটি ধ্যান-ধারণাই এই মৌলিক বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। অতএব, সেই সমাজই অধঃপতিত, যা কোন মৌলিক বিশ্বাসকে তার সকল চিন্তার উৎস হিসেবে বেছে নেয় না, অথবা তাতে ঐক্যবদ্ধ থাকেনা।

বুদ্ধিবৃত্তিক উত্থান

কোনও জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক উত্থান ঘটতে পারে দু'টি বিষয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। বিষয়ে দু'টি হলো:-

১. কোন একটি আদর্শের মূল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
২. রাষ্ট্রের সকল মতবিরোধ ঐ মূল বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাধান করা যাতে জনগণের মাঝে ঐক্য টিকে থাকে।

মূল বিশ্বাসের উপর জাতিকে ঐক্য:

উন্নত সমাজের একটি সুন্দর উদাহরণ হচ্ছে মদীনা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মদীনার সমাজ আওস, খাযরাজ ও ইহুদীদের মাঝে তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। তাদের পারস্পরিক স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে সেখানে যুদ্ধ-কলহ লেগে থাকত এবং তারা ছিল একটি দুর্বল জাতি। ইসলাম গ্রহণের পর তারা সমাজের সকল ধ্যান-ধারণা ও সমস্যা সমাধানের মূলভিত্তি হিসেবে ইসলামী জীবনাদর্শকে বেছে নেয়। যদিও ইহুদীরা অনিচ্ছাসত্ত্বে তা মেনে নেয় কিন্তু সামগ্রিকভাবে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের বিষয়ে সকলেই ঐক্যবদ্ধ থাকে। সমাজের পারস্পরিক স্বার্থগুলোকে তারা ইসলাম অনুযায়ী হালাল হিসেবে গ্রহণ করে অথবা হারাম হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।

যদিও সে সমাজে মুনাফিকেরা ছিল, তবুও কেউ কখনও ইসলামের মূল বিশ্বাস ও তার উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেনি। ফলে মুনাফিকেরা যখন 'মসজিদে দিরার' প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের মূল বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন রাষ্ট্র এর সমুচিত জবাব দেয় এবং 'মসজিদে দিরারকে' ধ্বংস করে। রাসূল (সাঃ) জীবদ্দশায় মুসলিম উম্মাহ্‌র অভ্যন্তরে ইসলামের মূল বিশ্বাস নিয়ে নূন্যতম সন্দেহের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। অতএব সেসময় মুসলিমদের অধঃপতনের প্রশ্নই আসে না। উপরন্তু ইসলামের মূল বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় মুসলিম উম্মাহ্‌ আরবের বর্বর জাতি থেকে অত্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী একটি জাতিতে পরিণত হয়েছিল।

সমাজের মতবিরোধ নিরসনে মৌলিক আদর্শের ভূমিকা

রাষ্ট্র যখন সমাজের পারস্পরিক স্বার্থ নির্ধারণকারী মৌলিক বিশ্বাসকে সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠা ও প্রচার করে তখন কোনও কোনও ক্ষেত্রে কিছু লোক অসন্তুষ্ট হলেও রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধকে সকলেই মেনে নেয়। ফলে সমাজে কখনও কোনও বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে জনগণ তার মৌলিক বিশ্বাস, জীবনাদর্শ এবং মূল্যবোধের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকে। জনগণ সরকারকে এই মৌলিক বিশ্বাসের সংরক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে।

মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে মতবিরোধ নিরসন করে এমন সমাজের উদাহরণ:

১৮৬১ সালে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে গৃহযুদ্ধ (Civil War) শুরু হয় যা কিনা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ ছিল। প্রায় ৬,২০,০০০ সৈন্য এতে নিহত হয় এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ আহত হয়। আব্রাহাম লিংকন এসে সকল জাতিগুলোকে গণতন্ত্রের মূল বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে। এই ঐক্যের ঠিক পরপরই আমেরিকা বিশ্বের রাজনীতেতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্ররূপে আবির্ভূত হয়। আজ পর্যন্ত তারা গণতন্ত্রকে তাদের সকল মতবিরোধ সমাধানের উৎস হিসেবে মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আছে।

৯/১১ এর পর মার্কিন সরকার যখন আফগানিস্তান আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমেরিকান জাতির মাঝে বড় কোনও বিভক্তি দেখা দেয়নি, বরং তারা রাষ্ট্রের দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। এমনকি সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণাতেও বারাক ওবামা ও ম্যাককেইন দুজনই ইসরাইলকে অবৈধ সমর্থনের ব্যাপারে একমত রয়েছেন। দুজনই ইরাক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত, একজন ভাবছেন এই দখলদারীত্ব দীর্ঘসময় থাকবে, অপরজন ভাবছেন তুলনামূলকভাবে কিছুটা দ্রুততর হবে। দুজনই আফগানিস্তানে দখলদারীত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে একমত।

মতবিরোধ নিরসনে মৌলিক কোন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে না এমন সমাজের উদাহরণ:

- ১৯৪৫ সলে জোসেফ টিটো যুগোস্লভিয়ায় ঐ অঞ্চলের সার্বিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান, বসনিয়ান ও অন্য জাতিগুলোকে একত্রে শাসন করেন। তিনি তাদেরকে সামাজতন্ত্রের কথা বললেও, প্রত্যেক জাতির জাতীয়তাবাদ বহাল রাখেন এবং তাদেরকে পারস্পরিক স্বার্থের সমঝোতার ভিত্তিতে শাসন করেন। কিন্তু ঐ অঞ্চলের জাতিগুলো কখনই সমাজতন্ত্রের মোলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়নি। ফলে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পরপরই এই জাতিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়ে যায় যা আজোবধি চলছে।

- বাংলাদেশে ১/১১ এর আগে ও পরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাও ঐ একই কারণে ঘটেছে। এদেশের পুরো জাতি বিএনপি ও আওয়ামীলীগে বিভক্ত হয়ে আছে। পুরো দেশবাসী কোন একটি মৌলিক জীবনাদর্শকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেনি। ফলে এদেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা (Anarchy) এখনও চলছে।

কখন একটি জাতির অধঃপতন ঘটে

অতএব রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে একটি মৌলিক বিশ্বাস যা থেকে একটি জীবনাদর্শ আসে এবং যা সমাজের সব ধরণের পারস্পরিক স্বার্থকে সংজ্ঞায়িত করে এবং তাকে প্রতিষ্ঠিত করে। যে রাষ্ট্র তার মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি যতবেশী দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ সে রাষ্ট্র তত বেশী শক্তিশালী।

যদি শক্তিশালী জাতি বলতে আমরা এমন একটি জাতিকে বুঝি যে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করে তার মূল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে, তবে অধঃপতিত জাতি বলতে আমরা সে জাতিকেই বুঝবো যে সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে তার মৌলিক বিশ্বাসের উপযোগিতার উপর সন্দেহ পোষণ শুরু করে।

সমাজের এই অধঃপতন দুইভাবে ঘটতে পারে।

প্রথমত : কোন আন্দোলন বা অন্য কোন আদর্শিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ আসলে অধঃপতন ঘটতে পারে।
দ্বিতীয়ত : সমাজের যে কেউ মূল বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা শুরু করলেই অধঃপতন ঘটে না। যেমন আবদুল্লাহ্‌ ইবনে উবাই ইবনে সালুল ইসলামকে মেনে না নিলেও সমাজে এর প্রভাব পড়েনি। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে কোনও কমিউনিষ্টপন্থীর মতামত মার্কিন রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনও ভূমিকা রাখে না।

সমাজে যারা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেন যেমন - বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক দল বা কোনও রাজনীতিবিদ, তারা যদি সমাজের মূল বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করেন তখন তার প্রভাব সমাজে পড়ে। অর্থাৎ সমাজের প্রভাবশালী লোকেরা যখন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করে তখনই ঐ জাতি অধঃপতনের মুখে পড়ে।

মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতন

আলী (রা.) ও মু'আবিয়া (রা.) এর বিরোধকাল:

মু'আবিয়া (রা.) ও আলী (রা.)-এর বিরোধকালে ইসলামের মূল বিশ্বাস, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার একত্ববাদ বা ইসলাম কি যুগোযোগী কিনা - এ ধরণের কোনও মৌলিক বিষয়ে তাদের মাঝে মতানৈক্য হয়নি। তারা খলীফার বিশেষ একটি বিষয়ে নির্দিষ্ট একটি আহকাম নিয়ে বিরোধের মুখোমুখি হন। উসমান (রা.) এর হত্যার বিচার ও খলীফা নির্বাচনের মাঝে কোনটি আগে হবে তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। মু'আবিয়া (রা.) এর মতামত ছিল আগে উসমান (রা.) এর হত্যাকারীর বিচার করতে হবে, তিনি আলী (রা.) কে খলীফা হিসেবে বাই'আত দিতে অস্বীকৃতি জানান। আলী (রা.), পক্ষান্তরে, খলীফা নির্বাচন ও হত্যাকারীর বিচারের বিষয় দুটিকে আলাদা দুইটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন যা কিনা সঠিক ছিল। ফলে মু'আবিয়া (রা.) এর বাই'আতের অস্বীকৃতিকে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে দেখেন। এখানে লক্ষণীয় যে, খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস নিয়ে তাদের মাঝে কোনও প্রশ্ন উঠেনি। ফলে রোমনরা যখন মু'আবিয়া (রা.) কে সাহায্যের আহ্বান করে, তখন তিনি কেবল তা প্রত্যাখ্যানই করেননি বরং এই বিরোধ শেষে রোমানদের সাম্রাজ্য ধ্বংস করে তা ইসলামের পতাকাতলে নিয়ে আসার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। যদিও এটা বড় ধরণের একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছিল, তথাপি ইসলামের মূল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে উম্মাহ্‌র মাঝে কোনও প্রশ্ন উঠেনি। অতএব, এসময়ে মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতন ঘটেনি।

ইয়াজীদ এর খলীফা মনোনয়ন:

ইয়াজীদকে খলীফা হিসেবে বাই'আত দেয়ার বিষয়টি একটি ভুল ইজতিহাদ ছিল। এই ইজতিহাদ বায়াত প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে ফেলে, যার প্রভাব পরবর্তিতে ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই। যাই হোক, এটা ছিল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ভুল। কিন্তু ইসলামের মূল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে তখন উম্মাহ্‌র মাঝে কোন সন্দেহ দেখা দেয়নি। অর্থাৎ সে সময়ও উম্মাহ্‌র কোনও অধঃপতন ঘটেনি।

ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করা:

হিজরী চারশত সালের দিকে 'আল কাফফাল' ইজতিহাদ প্রক্রিয়া বন্ধ করার ফতোয়া ঘোষণা করেন। এতে যে কোন নতুন বিষয়ের উদ্ভব হলে অথবা অন্য কোন আদর্শ থেকে আঘাত আসলে করণীয় বিষয় নির্ধারণে ইসলামের মূল উৎসে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পর সর্বত্র পূর্ববর্তী মুজতাহিদগণ কর্তৃক ইজতিহাদকৃত ফতোয়াগুলো লিপিবদ্ধ করে পুস্তকাকারে সংরক্ষণের প্রবনতা দেখা যায়। যেমন উসমানী খিলাফতকালে হানাফি মাযহাবের ফতোয়াগুলো লিপিবদ্ধ করা হয় এবং উম্মাহ্‌ এর বাইরে ইজতিহাদ করা থেকে দূরে সরে আসে। উল্লেখ্য এ অঞ্চলে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকলেও তার শাসনামলেই হানাফি মাযহাবের সব হুকুমগুলোকে 'ফতোয়া-ই-আলমগীরি' গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়।

ইজতিহাদ বন্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল মূলত দু'টি।

প্রথমত : উম্মাহ্‌ ইজতিহাদের বিষয়ে নিয়মনীতি মানার কঠোরতার বিষয়ে অসতর্ক হয়ে পড়েছিল, ফলে খুবই দুর্বল ধরণের ইজতিহাদ করা হচ্ছিল।

দ্বিতীয়ত : পূর্ববর্তী ফকীহ্‌গণ এত ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ইজতিহাদের বিশাল জ্ঞানভান্ডার রেখে গিয়েছিলেন যে অনেকের ধারণা ছিল ভবিষ্যতে সকল পরিস্থিতির জন্যই হয়তো ইজতিহাদ করা হয়ে গেছে।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে উম্মাহ্‌ তখনও অধঃপতিত হয়ে পড়েনি। কেননা উম্মাহ্‌ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন জীবনদর্শকে বেছে নেয়ার জন্য ইজতিহাদ করা বন্ধ করেনি। উম্মাহ্‌র জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামকে সমস্যার সমাধানের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে, ইসলামের মূল বিশ্বাসকে নিয়ে সন্দেহ করার প্রশ্নই আসেনি।

উসমানি খিলাফতকাল:

উসমানী খিলাফতের শুরুর দিকে মুসলিম সেনাবাহিনী দূর্দমনীয় একটি শক্তি ছিল। ইউরোপিয়ানরা সে সময় সুলায়মান আল কানুনীকে 'সুলায়মান দি ম্যাগনিফিসেন্ট' নামে আখ্যায়িত করত। কিন্তু আমরা যদি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করি তবে দেখতে পাব যে, মুসলিম উম্মাহ্‌র মাঝে তখন অনেকগুলো উলাইয়া (প্রদেশ) ছিল। এসব উলাইয়াগুলো অনেকটা স্বাধীন ও বিচ্ছিন্ন ছিল। উসমানী খিলাফত কর্তৃক ইউরোপ বিজয়কে প্রথম দিকে সাহাবা (রা.) কর্তৃক আরব বিজয়ের সাথে তুলনা করা যায় না। সাহাবারা (রা.) বিভিন্ন অঞ্চল বিজয়ের সাথে সাথে সে অঞ্চলের জনগণের মাঝে ইসলামের মূল বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। ফলে খিলাফত ধ্বংসের পর আজও আরব জাতিতে ইসলামের মূল বিশ্বাস অটুট আছে। রাজনৈতিকভাবে ইসলামী শাসন না থাকলে আরবের জনগণ আজও জীবনাদর্শ হিসেবে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেনি।

পক্ষান্তরে উসমানী খিলাফত ইউরোপ বিজয়ের পর কেবলমাত্র সামরিক শক্তিতে নিজেদেরকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগী ছিল। ইসলামের মূল বিশ্বাস ইউরোপে প্রচার ও প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এবং সে অঞ্চলের জনগণকে এর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কোন প্রচেষ্টা ছিল না। ফলে খিলাফত ধ্বংসের পর এসব অঞ্চলের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই ইসলামী জীবনাদর্শ পরিত্যাগ করে।

এ অঞ্চলেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসকেরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকলেও এ অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে ইসলামের মূল বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ করে আদর্শিক জাতিতে পরিণত করার উল্লেখযোগ্য কোনও চেষ্টা তারা করেননি। ফলে হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সমাজে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। একমাত্র আওরঙ্গজেব তার শাসনামলে এব্যাপারে কিছুটা সচেষ্ট হন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনের কারণে তিনি ইসলামের ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ততটা সফল হতে পারেননি। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা এ অঞ্চল জয় করার জন্য হিন্দু-মুসলিম বিভেদকে ব্যবহার করে, যা কিনা 'ডিভাইড এন্ড রুল' নামে পরিচিত। বিট্রিশ শাসনামলে এ অঞ্চলে মুসলিমরা সাধারণভাবে শোষিত ছিল, কিন্তু হিন্দুরা অনেক বেশী পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। সেই জাতিগত বিভেদ থেকে এখনকার ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সৃষ্টি। অর্থাৎ এ অঞ্চলে কোন ধরণের ঐক্য কখনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এখানে উল্লেখ্য যে, যদিও সামরিক দিক থেকে ইউরোপের তুলনায় উসমানী খিলাফত শক্তিশালী ছিল, তথাপি মুসলিম উম্মাহ্‌ ভুল মাপকাঠি দিয়ে ইউরোপের সাথে নিজেকে তুলনা করত। তারা কেবল সামরিক শক্তিতে ইউরোপের চেয়ে এগিয়ে থাকার দিকে মনোযোগী ছিল, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিতে নিজেদের উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট ছিল না। যাই হোক, উসমানী খিলাফতের শুরুকে আমরা অধঃপতন বলতে পারি না। কেননা রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ইসলামের মূল বিশ্বাসকে নিয়ে তাদের মাঝে তখনও কোনও প্রশ্ন ছিল না।

শিল্প বিপ্লব:

শিল্প বিপ্লবের পর পুঁজিবাদী আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইউরোপের জাতিগুলো সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নতি লাভ করে। তাদের সমাজের এই অগ্রগতি মুসলিম উম্মাহ্‌র প্রভাবশালীদের মাঝে আদর্শিক আঘাত হানে। তারা রাষ্ট্রের ভিত্তি ইসলাম হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করে। এ সময় মুসলিম উম্মাহ্‌র রাজনৈতিক পরিমন্ডলে পশ্চিমাদের সংবিধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং ইসলামের যুগোপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ইসলাম সংস্কারের দাবীতে অনেক আন্দোলনই তখন দানা বেঁধে উঠে। অনেকে পশ্চিমা সংবিধানের বিভিন্ন অংশ মুসলিম সমাজেও বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। এটাতেই মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। পুঁজিবাদী আদর্শের পক্ষ থেকে যখন এই চ্যালেঞ্জ আসে তখন মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতন ঘটে।

অতএব, খ্রীস্টিয় আঠার শতকের দিকেই মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতন ঘটে। কেননা এ সময়ে মুসলিম উম্মাহ্‌ ইসলামের মূল বিশ্বাসকে রাষ্ট্রের ভিত্তি করা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করে। আলী (রা.) ও মু'আবিয়া (রা.) যেমন খলীফা কোন কাজটি প্রথমে করবেন সেটা নিয়ে বিতর্ক করেছিলেন, এসময়ে উম্মাহ্‌ সে ধরণের বিতর্ক না করে খলীফা পদটি থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করে। গণতন্ত্র ও ইসলামের মাঝে তফাৎ নিয়ে আলোচনা না করে, সেটাকে ইসলামী সমাজে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্বল ব্যাখ্যা দেয়া শুরু হয়। খিলাফত রাষ্ট্রের ওয়ালী এবং রাষ্ট্রের সম্পর্ক আলোচনা না করে, কি করে confederacy of states করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার এই যে, যদিও ইসলামের উদার ব্যাখ্যা রোধের জন্য ইজতিহাদের প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছিল, অথচ এসময়ে মুসলিম উম্মাহ্‌র অনেক বুদ্ধিজীবী প্রচুর উদার ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেন। তারা পশ্চিমা ধ্যান-ধারণাকে ইসলামের ভেতর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন, যদিও সেগুলো ইসলামের মূল বিশ্বাসের বিরোধী ছিল।

ফলে, ইসলামের মূল বিশ্বাস রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে কিনা - উম্মাহ্‌র এই প্রশ্ন করার এই প্রবণতার মাধ্যমেই তার অধঃপতনের শুরু প্রমাণিত হয়। কেননা যার ভিত্তিতে সমাজে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান করা হবে, তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ইসলামের সমাধান বা রাজনৈতিক পরিমন্ডলে যারা এই সমাধান দেন (অর্থাৎ খলীফা, ওয়ালী) তাদের উপর উম্মাহ্‌ আস্থাহীন হয়ে পড়ে।

সারাংশ

মুসলিম উম্মাহ্‌র মাঝে এই ব্যাপক অধঃপতনের মূল কারণ এটাই ছিল যে নতুন নতুন পরিস্থিতিতে ইজতিহাদ করার প্রক্রিয়া তখন সমাজে প্রচলিত ছিল না। ফলে সমস্যার সমাধান ও ইসলামের মূল বিশ্বাসের মাঝে কোনও যোগসূত্র ছিল না। এক পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহ্‌ ইসলামকে কেন জীবনাদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা থেকে দূরে সরে যায়। শিল্প বিপ্লব, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য কিনা তার সিদ্ধান্ত উম্মাহ্‌ নিতে পারছিল না। প্রিন্টিং মেশিনের ব্যবহার বর্জন করা অথবা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাই প্রমাণ করে যে উম্মাহ্‌র কাছে কোনও মাপকাঠি ছিল না।

অতএব কোনও সমাজে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে যদি সেখানকার মূল বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তবে সেটাই হবে অধঃপতনের প্রথম লক্ষণ। আর সে সমাজে যদি অন্য কোনও আদর্শ থেকে আঘাত আসে, তবে সে সমাজ অধঃপতিত হয়।

মুস্তফা মিনহাজ

Sunday, October 6, 2013

সেই চিরন্তন শত্রুতা ...

- No comments

সেই চিরন্তন শত্রুতা ...

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মুসলিমদের মনের মধ্যে খুব সিস্টেমেটিক্যালি গেথেঁ দেয়া হয়েছে ইসলাম পালনে কোন ধরণের কষ্ট বা শত্রুতা বা বাধাঁ-বিপত্তি নেই। ইসলাম নিয়ে তাই আজকাল সত্য কথা বললে যখন সমাজ সেটা সহ্য করতে পারে না তখন একটা chaos হয় আর লোকে তখন বলে,"ভাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নাই"। আমরা যেটা মানতে পারছি না সেটাকে "বাড়াবাড়ি" হিসেবে চালিয়ে চুপ থাকাকে ইসলাম লাইসেন্স দেয় নি। বরং কুর'আন বলছে, ইসলাম পালনে এই 'বাড়াবাড়ি'র অভিযোগ নতুন কিছু নয়, বরং এটা একটা চিরন্তন স্বাভাবিক ঘটনা। যুগে যুগে যারা ইসলামের পথে ছিল তাদের সাথে যারা ইসলামের পথে ছিল না তাদের কোন প্রকার ঝামেলা হয় নাই-এরকম হয় নাই। এখানে সহাবস্থান বলে কিছু আশা করা বৃথা, হয় সত্য টিকে থাকবে না হয় মিথ্যা, দুটো একসাথে নয়।বরং এটাই inevitable যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পাবে মু'মিন এবং কাফিরদের শত্রুতা, বাইয়্যিনাহ (সত্য আগমনের পর মু''মিন এবং কাফিরদের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভক্তি) এবং কাফিরদের উপর মু'মিনদের বিজয়ের মাধ্যমে।

নিচের লেখাটিতে মু'মিন এবং কাফিরদের মধ্যকার এই শত্রুতার স্বরুপ তুলে ধরা হয়েছে।

*** *** *** *** ***

আল্লাহ্‌, মহিমান্বিত তাঁর সত্তা, তাক্বদিরের মাধ্যমে মু’মিনদের ওপর  কাফিরদেরকে শক্তিশালী করেন  মু’মিনদের সাথে শত্রুতা পোষণ ও যুদ্ধ করার ব্যাপারে কাফিরদেরকে আল্লাহ্‌  সুবহানাহু ওয়া তা'আলা শারীয়াহr মাধ্যমে বা কোন নাবীর যবান এর মাধ্যমে আদেশ পাঠাননি; এটি 'তাক্বদির দ্বারা নির্ধারিত'। তিনি বরং তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন  ইবাদত এবং আনুগত্যের। সুতরাং মু'মিনদের উপর কাফিরদের শক্তি অর্জন হলো 'তাক্বদির' আর কাফিরদের উপর  মু'মিনদের শক্তি অর্জন হলো 'শারয়ী হুকুম' এবং 'তাক্বদির'।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ

"আমি এভাবেই প্রত্যেক নাবীর শত্রু করেছিলাম অপরাধীদের মধ্য থেকে।" [সূরা ফুরকান ২৫:৩১]

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"এইরূপে আমি মানুষ ও জ্বীনদের মধ্যে শয়তানদেরকে নাবীদের শত্রু করেছি।" [সূরা আন'আম ৬:১১২]

তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ

"এইরূপে আমি প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধী প্রধানদেরকে চক্রান্ত করার অবকাশ দিয়েছি।" [সূরা আন'আম ৬: ১২৩]

উপরোক্ত তিনটি আয়াতেই আল্লাহ্‌, সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেনঃ

'আমি ... করেছি' বা 'আমি ... দিয়েছি' ....অর্থাৎ এগুলো তাক্বদির দ্বারা নির্ধারিত।

যুগ, জাতি, নাবী রাসূল অনেক কিছু পাল্টালেও তাদের এই শত্রুতার ধরণ কখনোই পাল্টায়নি। আর একারণেই আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"তোমার সম্বন্ধে তো তাই বলা হয় যা বলা হত তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণ সম্পর্কে।" (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৪৩)

এবং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তারা তাকে বলেছে, 'তুমি তো এক যাদুকর না হয় উন্মাদ'। তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়েছে (বংশানু্ক্রমে শিখিয়েছে)? বস্তুত তারা সীমালঙঘনকারী সম্প্রদায়।" (সূরা যারিয়াত ৫১:৫২,৫৩)

তাদের এই শত্রুতার রয়েছে নানান রূপঃ

  • অন্তরের কুফরী (তাকযিব); আল্লাহ্‌  তা'আলা বলেনঃ 

"নিশ্চয় তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল; কিন্তু তারা ধৈর্যধারণ করেন..." [সূরা আন'আম ৬:৩৪]

  • ঠাট্টা (সুখরিয়াহ) এবং বিদ্রুপ (ইসতিহজা) করা; আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

"যারা অপরাধী তারা তো মু'মিনদেরকে উপহাস করত।" [সূরা মুতাফ্ফিফীন ৮৩:২৯]

পরিতাপ বান্দাদের জন্য; তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে বিদ্রুপ করেছে।" [সূরা ইয়াসীন  ৩৬:৩০]

  • মু'মিনদেরকে পাগল (জুনুন) বলে অপবাদ দেয়া; আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
"তারা বলে, 'ওহে যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।" [সূরা হিজর ১৫:৬]

  • মু'মিনদের কর্তৃত্ব (হ্বুকুম) ও ক্ষমতালোভী (রিয়াসাহ) বলে অপবাদ দেয়া; আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
"তারা বলতে লাগলোঃ তুমি কি আমাদের নিকট এইজন্য এসেছ যে, আমাদেরকে সরিয়ে দাও সেই তরিকা থেকে, যাতে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পেয়েছি, আর পৃথিবীতে তোমাদের দুইজনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? আমরা তোমাদেরকে কিছুতেই মানব না। " (সূরা ইউনুস ১০:৭৮)

  • মু'মিনদের ধর্মত্যাগ ও বিশৃঙ্খলা (ফাসাদ) সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত করা; আল্লাহ্‌  তা'আলা বলেনঃ
"ফিরাউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের স্মরণাপনড়ব হোক।  আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।" [সূরা মু'মিন ৪০:২৬]

  • মু'মিনদের দারিদ্র ও অসহায়ত্বের সুযোগে গালমন্দ করা; আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
"তারা বললঃ আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ নিচু শ্রেণীর লোকেরা তোমার অনুসরণ করছে।" [সূরা শূরা ২৬:১১১]

  • তারা এটি করত যাতে অন্য মানুষেরা মু'মিনদের নিকটে না আসে; আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
"... কাফিররা মু'মিনদের বলেঃ দু'দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে কোনটি উত্তম।" [সূরা মারইয়াম ১৯:৭৩]

  • মু'মিনরা অভিশপ্ত এবং মু'মিনদের কারণে তাদের উপর গযব আসবে এমন অভিযোগঃ
"তারা বললঃ আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি এবং যদি তোমরা বিরত না হও তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করব; ..." (সূরা ইয়াসীন ৩৬:১৮)

  • সত্য প্রত্যাখ্যান এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা যুক্তি প্রদর্শন; আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
“...কিন্তু কাফিররা মিথ্যা অবলম্বনে বিতন্ডা করে, এর দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য এবং আমার নিদর্শনাবলী ও যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে সেই সমস্তকে তারা বিদ্রুপের বিষয়বসত্দুরূপে গ্রহণ করে থাকে।" [সূরা কাহ্ফ ১৮:৫৬]

এগুলোর মাঝে লুকিয়ে ছিল তাদের বিভ্রান্তিসমূহ যা দ্বারা তারা আল্লাহ্‌র পথে বাঁধা সৃষ্টি করত।

  • সাধারণ মানুষকে মু'মিনদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ
"তার সমপ্রদায়ের কাফির প্রধানরা বললঃ 'তোমরা যদি শুআ'ইবকে অনুসরণ কর তবে তোমরা তো ক্ষতিগ্রস্থ হবে'।" [সূরা আ'রাফ ৭:৯০]

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"ফিরাউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।" [সূরা মু'মিন ৪০:২৬]

  • মু'মিনরা মুষ্টিমেয় হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ জনগণের উপর তাদের মতবাদ চাঁপিয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ উত্থাপন। এর উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেছেনঃ
"এরপর ফিরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠালো এই বলেঃ 'ইহারা তো ক্ষুদ্র একটি দল। ইহারা তো আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে এবং আমরা তো সকলেই সদা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সদা সতর্ক'।" [সূরা শু'আরা ২৬:৫৩-৫৬]

  • তারা দাবী করে যে, সত্য দ্বীনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান মু'মিনদের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেনঃ
ফিরাউন বললঃ আমি যা বুঝি, আমি তোমাদেরকে তাই বলছি। আমি তোমাদেরকে কেবল সৎপথই  দেখিয়ে থাকি।" [সূরা মু'মিন ৪০:২৯]

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা), বলেনঃ

"তারা বললঃ নিশ্চয় এরা দুইজন যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদু দিয়ে তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা ধ্বংস করতে।" [সূরা ত্বাহা ২০:৬৩]

তিনি, (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা), বলেনঃ

"তাদের কাছে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসূল আসত তখন তারা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করত।" [সূরা মু'মিন ৪০:৮৩]

  • নানাবিধ চক্রান্ত ও পরিকল্পনা করে সাধারণ মানুষকে মু'মিনদের অনুসরণ থেকে বিরত রাখা। আলাহ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ
"যাদেরকে দুর্বল বলা হত তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ 'প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আলাহকে অমান্য করি এবং তাঁর শরীক স্থাপন করি। যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরাব। তাদেরকে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে।" [সূরা সাবা ৩৪:৩৩]

  • মু'মিনদেরকে সুবিধাবঞ্চিত করে দ্বীন থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ
"তারা বলেঃ আল্লাহ্‌ র রাসূলের সহচরদের জন্য ব্যয় কর না যতক্ষণ না তারা তার থেকে সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহ্‌রই কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।" [সূরা মুনাফিকূন ৬৩:৭]

  • মু'মিনদেরকে নানাবিধ সমস্যায় ফেলে দ্বীন থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ
"তারা চায় তুমি নমনীয় হও; তাহলে তারাও নমনীয় হবে।" [সূরা কালাম ৬৮:৯]

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না,যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।" [সূরা বাকারা ২: ১২০]

  • মু'মিনরা যদি তাদের দ্বীন থেকে না সরে অথবা কাফিরদের সাহায্য সহযোগীতা না করে তবে তাদেরকে জেল ও মৃত্যুদন্ডের ভয় দেখানো। আল্লাহ্‌  (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ
"কাফিররা তাদের রাসূলগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের দেশ থেকে বহিষ্কৃত  করব।" [সূরা ইব্রাহীম ১৪:১৩]

আলাহ তা'আলা বলেনঃ

"তারা যদি তোমাদের ব্যাপারে জানতে পারে তাহলে তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে  তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নিবে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনোই সফলকাম হবে না।"  [সূরা কাহ্ফ ১৮: ২০]

  • মু'মিনদের উপর অত্যাচার, হত্যা এবং সংঘাত চাঁপিয়ে দেয়া। আল্লাহ্‌  (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ
"তারা বললঃ তাকে পুড়িয়ে দাও; সাহায্য কর তোমাদের দেবতাদেরকে...।" [সূরা আম্বিয়া ২১:৬৮]

তিনি, (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা), বলেনঃ

"আর স্মরণ কর যখন কাফিররা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যে, তোমাকে বন্দী করবে অথবা হত্যা করবে অথবা নির্বাসিত করবে..." [সূরা আনফাল ৮:৩০]

তিনি,(সুবহানাহু ওয়া তা'আলা), বলেনঃ

"তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়।" [সূরা
বাকারা ২:২১৭]

তাই মু'মিন ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছি, কাফিরদের শত্রুতা ও বিরোধিতার কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে যা কখনো বদলাবে না।  তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়েছে (বংশানু্ক্রমে শিখিয়েছে)?" [সূরা যারিয়াত ৫১:৫৩]

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মু'মিনদের ঈমানের কারণেই কাফিররা মু'মিনদের সাথে যুদ্ধ করে এবং শত্রুতা পোষণ করে। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

“তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু” [সূরা আল বুরুজ ৮৫:৭,৮]

এবং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

তারা এটাই কামনা করে যে, তারা যেমন কুফরী করেছে তোমরা সেরকম কুফরী কর; যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও।" [সূরা নিসা ৪:৮৯]

সুতরাং কাফিরগণ মু'মিনগণকে শত্রু হিসেবে নেয় তাদের ঈমানের জন্য। একজন মুমিনের ঈমান যত বৃদ্ধি পায় তাঁর প্রতি কাফিরদের শত্রুতা ততই বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে রাসূলুলাহ  (সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বলেনঃ "সবচাইতে বেশী  পরীক্ষা করা হয় নাবীদেরকে, এরপর তাদের নিকটবর্তীদেরকে (ঈমানের স্তর ভেদে), তারপর তাদের নিকটবর্তীদেরকে  (ঈমানের স্তর ভেদে)। মানুষ তার ঈমানের স্তর অনুযায়ী পরীক্ষিত হবে... .."। [আত তিরমিযী; সহীহ্]

আর এটি বান্দা নিজেও বুঝতে পারে যে, তার ঈমান বৃদ্ধির সাথে সাথে তার প্রতি কাফির ও ফাসিকদের শত্রুতাও বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং সে তাদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজে নিষেধ করে, এতে শত্রুতা আরো বৃদ্ধি পায়। আর তার ঈমান যত হ্রাস পায় তাদের শত্রুতাও ততই হ্রাস পায়।

তবে মু'মিনরা যতদিন ঈমানের উপর থাকবে তাদের প্রতি কাফিরদের শত্রুতা ততদিন পর্যন্ত শেষ হবে না; যদিও এতে কিছু থাকে তবুও। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানরা তোমার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।" [সূরা বাকারা ২:১২০]

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেনঃ

"তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়।" [সূরা বাকারা ২:২১৭]

*** *** *** *** ***

লেখাটি শাইখ আব্দুল ক্বাদির বিন আব্দুল আজীজ রচিত "জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলো