Showing posts with label নাস্তিকতা. Show all posts
Showing posts with label নাস্তিকতা. Show all posts

Wednesday, May 11, 2016

মোল্লা vs নাস্তিক, Is Satan The Good Guy? (সিরিজ ৫)

- No comments
মোল্লা vs নাস্তিক, Is Satan The Good Guy? (সিরিজ ৫)

মুক্তির পথিক





(www.atheistrepublic.com এর ফোরামে আলোচিত Satan more righteous than God এর জবাবে এই সিরিজটি লেখা হয়েছে। atheistrepublic এর উক্ত আর্টিকেলের লিংক http://www.atheistrepublic.com/foru...) (দর্শক সারি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, মঞ্চের শেষ দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। উপস্থাপক, Podium এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন...)


উপস্থাপক: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের 'যুক্তিবাদী সংঘের' একটি আর্টিকেলের বিপরীতে মোল্লা, I mean, ঐ নামেই তাকে পরিচিত করার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন। তিনি এই আর্টিকেলের বিপরীতে আমাদের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন, একটি প্রকাশ্য আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য। আপনারা এতক্ষণ, Existence of Creator এবং Oneness of Creator নিয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন। এবার মূল বিষয়টি নিয়ে Face2Face বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এবং তারপর প্রশ্নোত্তর পর্বে আপনারা উভয় বক্তা, Sorry, যুক্তিবাদী সংঘের তরফ থেকে বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন, আপনাদের সবার পরিচিত মুখ, 'শাইন'... প্রশ্নোত্তর পর্বে আপনারা সরাসরি আপনাদের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন। উভয় বক্তার পরামর্শ এবং সম্মতিতেই, বিতর্কের গতানুগতিক ধারা পরিবর্তন করে Face2Face ডিবেটের আয়োজন করা হয়েছে...... সেইসাথে বিতর্কের জন্য বরাদ্দকৃত সময় কমিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য বেশি সময় রাখা হয়েছে, যাতে করে সম্মানিত দর্শকবৃন্দ, উভয় বক্তার বক্তব্য হৃদয়াঙ্গম করতে পারেন........(দর্শকদের দিকে চোখ বুলিয়ে) Hope you enjoy....

(দুই পাশের দুই Podium এর দিকে এগিয়ে গেলেন, শাইন এবং মোল্লা।)

নাস্তিক: আমার প্রস্তাবনা তিনটি যুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

প্রথম পয়েন্ট.... গড বিভিন্ন বাণী পাঠিয়ে শয়তানের বিষোদগার করেছে। অন্যদিকে শয়তান গডের পিছনে বসে এরকম কোন সমালোচনা করেনি। সুতরাং নৈতিক অবস্থান থেকে শয়তানের মর্যাদা উচ্চে।

দ্বিতীয়ত, গড স্ববিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। সে একদিকে হত্যা, নির্যাতন, দাসত্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে নিজের দাসত্ব না করলে জাহান্নামের শাস্তি দিবে বলেছে। নিজের একসময়ের বন্ধু শয়তানকে শাস্তি দিবে এই কারণে যে, সে ভিন্নমত পোষণ করেছিল।

তৃতীয়ত, গড কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করেছে। শয়তান যার কিছুই করেনি.... So, Isn't Satan The Good Guy?

মোল্লা: প্রথম ভিত্তিটি অযৌক্তিক। Let me give you an example, যদি কোন ব্যক্তি আপনার ক্ষতি করতে চায়, আর আমি তা জেনে আপনাকে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেই, এর মানে কি, আমার নৈতিক অবস্থান তার থেকে নীচে হয়ে গেল? It's absurd...

আপনি বলেছেন, শয়তান গডের পিছনে তার নিন্দা করে বেড়ায়নি, এইজন্য সে magnanimous..... তাহলে, মুহাম্মদ সা. এর অনুপস্থিতিতে, নাস্তিকদের, তার নিন্দা করে বেড়ানো, এটাই তো প্রমাণ করে যে, Muhammad (s.) is magnanimous.... than the Atheists, কি বলেন?

নাস্তিক: (বিজয়ের হাসি মুখে এনে) মুহাম্মদ? সে হলে তো কথা বলার আগেই কল্লা ফেলে দিত!

মোল্লা: সেটা বরং আপনার জন্য আশীর্বাদই, মরে গিয়ে তো তেল গ্যাস হবেন, এগুলো দিয়ে তো আগুন জ্বালাব, তেল গ্যাস থাকা অবস্থায়, ব্যাথা পাবেন কিনা তাতো আর scientifically প্রমাণ করার উপায় নেই...... অন্তত আগুনে না পুড়ানোর জন্য তাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিৎ আপনাদের!

(দর্শক সারি থেকে দুই একটা তালি বেজে উঠল, কিন্তু শাইন কথা শুরু করেছে দেখে আবার তা থেমে গেল...)

নাস্তিক: (মৃদু হেসে) কিন্তু, গডের মত পরনিন্দায় শয়তান তার মূল্যবান সময় নষ্ট করেনি.... গডের নিন্দা করে কোন scripture পাঠায়নি...

মোল্লা: Maybe Satan lied to you, কেননা, আমি www.atheistrepublic.com নামক একটি সাইট পেয়েছি, (চোখ টিপে) যেটা অনেকটাই Digital Satanic Scripture এর মত!

(দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল উঠল)

নাস্তিক: I believe neither God nor Satan.....

মোল্লা: ওহ! এরপরও আপনি এমন একজনকে ভাল হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, যাকে আপনি বিশ্বাসই করেননা!

নাস্তিক: (মোল্লার কথায় কান না দিয়ে) গড যদি সত্যি হয়েও থাকে, আমরা কিভাবে শিউর হব যে, শয়তানই Good guy নয়, এবং God আমাদেরকে brainwash করার চেষ্টা করছেনা?

মোল্লা: গডের কাউকে ব্রেইনওয়াশ করার প্রয়োজন নেই, কারণ ব্রেইনওয়াশড সৃষ্টি, Angels দেরকে তিনি আগেই সৃষ্টি করেছেন। চাইলে আমাদেরকেও ওরকম বানাতে পারতেন, সেক্ষেত্রে, Good guy, Bad guy অপশনই আসতনা।

নাস্তিক: শয়তান এক সময় গডের বন্ধু ছিল, তাইনা? তা সেই বন্ধুকে অনন্তকাল ধরে আগুনে জ্বালানো, What do you think of that move? Godly?

মোল্লা: Definitely, কারণ, প্রথমত, গডের কারও নিকট নিজের মোরাল স্ট্যাটাস প্রমাণের কিছু নেই। দ্বিতীয়ত, গড এমন এক সত্ত্বা, যিনি যেমন দয়া করতে পারেন, তেমনি তীব্র শাস্তিও দিতে পারেন। নাস্তিকদের সমস্যা হচ্ছে, তাদের Problem of evil এর ধারণাটির কাঠামোয়, তারা স্রষ্টার দয়া বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এলেও তিনি 'কঠোর শাস্তিদাতা' এই বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে। এই প্রব্লেমটা হয়েছে Christian Concept of God গ্রহণের কারণে, যার ফলে, দয়ার জন্য God আর শাস্তির জন্য Evil বা শয়তানকে বেছে নিয়েছে। অথচ ইসলামিক কনসেপ্টে সৃষ্টিকর্তা, তিনি দয়াশীল, একইসাথে কঠোর শাস্তিদাতাও। সুতরাং Comprehensively God এর কন্সেপ্ট অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তা, তাকে অস্বীকারকারীকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবে এটা Ungodly কিছু না। বরং অপরাধীকে শাস্তি প্রদান না করা unjust, আর গড মোটেও unjust নন।

(সামনে রাখা পানির গ্লাসে চুমুক দিল মোল্লা)

আশা করি, পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে শূন্য পাওয়ার কারণে আপনি আপনার Professor দেরকে unjust বলেননা....

(দর্শকদের মধ্যে আবার হাসির রোল উঠল)






মোল্লা vs নাস্তিক, সিরিজ ৫

নাস্তিক: গড, তার উপাসনা না করলে আগুনে পুড়াবে, Atleast শয়তান এই ধরনের কোন হুমকি ধমকি দেয়নি...

মোল্লা: Maybe, Satan lacks the ability to give threat! শয়তানের হয়ত মানুষের সাথে যোগাযোগের কোন মাধ্যমই নেই, সে হয়ত তাকে মানুষের সাথে যোগাযোগের কোন ডিভাইস দেয়ার জন্য ভিক্ষা চেয়েছিল, অবশেষে atheistrepublic নামক একটা সাইট খুলতে পেরেছে...... আর আগুন নিয়ে এত ভয় কিসের? তেল গ্যাস হলে তো এমনিতেই....

(মোল্লার কথা শেষ হতে না হতে)

নাস্তিক: This is ridiculous, শয়তান যদি মানুষের সাথে যোগাযোগ নাই করতে পারত, I mean আপনার সো কলড স্ক্রিপচার অনুযায়ী। তবে মানুষের অন্যায়ের জন্য তাকে দায়ী করা হয় কেন?

মোল্লা: কে বলেছে, আমরা শয়তানকে দায়ী করছি? আল্লাহ বলেছেন, তিনি মানুষকে ভাল মন্দ দুইটি পথই দেখিয়েছেন। মানুষ নিজেই তার অন্যায়ের জন্য দায়ী।

নাস্তিক: (বিভ্রান্ত হয়ে) তাহলে, শয়তানের ভূমিকা কি?

মোল্লা: Thats not your issue, bcz you dont believe in Satan...

নাস্তিক: (বিদ্রূপাত্মক ভংগীতে) Let alone Hereafter, গড তো দুনিয়াতেই মানুষ হত্যা করেছে। অন্তত, গডের মত শয়তান কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করেনি। গড তো একবার, কি বলে জানি, Noah's Ark, ওহ, নূহের কিস্তির মাধ্যমে অল্প কিছু লোক ছাড়া দুনিয়ার সব মানুষকেই মেরে ফেলেছিল।

মোল্লা: কোন মোরাল গ্রাউন্ড থেকে মানুষকে হত্যা করা খারাপ বলছেন আপনি?

নাস্তিক: ওহ! তাহলে, এখন আমাকে আমার মোরাল গ্রাউন্ড প্রুফ করতে হবে?

মোল্লা: দরকার নেই, একটা প্রশ্নের উত্তর দিলেই হবে, হিটলার যে লক্ষ লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করেছে, এটা কি ভাল না খারাপ?

নাস্তিক: Of Course, Its bad! মোল্লা: তাহলে এই খারাপ হিটলারকে যদি কেউ হত্যা করত, তবে সেটা কি ভাল না খারাপ?

নাস্তিক: (বিরক্ত হয়ে), You know my answer... কেন প্যাঁচাচ্ছেন, খারাপের উৎস নির্মূলকারী অবশ্যই ভাল।

মোল্লা: (নাটকীয় ভঙ্গীতে) হিটলার নিজেকে নিজে হত্যা করেছে, হিটলার হিটলারকে হত্যা করেছে, তাহলে সে কি ভাল, নাকি খারাপ?

(প্রশ্নের তীব্রতায় নাস্তিক হতভম্ব... দর্শক সারি থেকে কেউ একজন সিটি বাজিয়ে উঠল...)

মোল্লা: সুতরাং, দুইটা ভিন্ন ঘটনার জন্য একই নৈতিক উপসংহারে পৌঁছাতে পারছেন না কেন?

নাস্তিক: (একটু অপ্রস্তুত হয়ে) You are trying to save your God...

মোল্লা: I dont need to save anyone.... Looks like, you need to save yourself now.... the audience... They are waiting.... উত্তর দিন...

নাস্তিক: অস্তিত্ব নেই, এমন কারও গোলামী করে হুর পেতে চায়, এমন নির্বোধের কাছে আমার কিছু প্রমাণ করার দরকার নেই...

মোল্লা: (মৃদু হেসে) আমাদের বিতর্ক শুরুই হয়েছিল গড আর শয়তান অস্তিত্বে আছে, এটা মেনে নিয়েই....Otherwise বিতর্কের প্রয়োজন ছিলনা, (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে) অগ্রজ, হামযা ভাই এইজন্যই বলেছিল,

"Atheists! They are Emotional, Not Intellectual..."

(শাইন Podium ছেড়ে নিজের সীটে গিয়ে বসে পড়লেন)

উপস্থাপক: আমরা T20 স্টাইলের একটি দারুণ বিতর্ক উপভোগ করলাম। বিতর্কের ফলাফল আমরা আসলে দর্শকদের উপরই ছেড়ে দিয়েছি... আমরা ভোটাভুটির ব্যাবস্থা করেছিলাম, তার ফলাফল একটু পরেই প্রদর্শিত হবে.... Face2Face ডিবেটের কারণে অনেক পয়েন্টই আমাদের হয়ত বুঝতে সমস্যা হয়, এগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবী রাখে। প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শকরা আশা করি এ ব্যাপারে উপকৃত হবেন। (পর্দার দিকে তাকাল সবাই...)

Monday, October 20, 2014

“হু ক্রিয়েটেড গড মাম?”

- No comments
 “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” 
Armaan Ibn Solaima

মুক্তমনা, নাস্তিকেরা যে ক’টি প্রশ্ন করে নিজের দ্বীন সম্বন্ধে অজ্ঞ মানুষদের প্রায়শ:ই ভড়কে দেয়, তার একটি হচ্ছে: “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” অথচ, একটু চিন্তা করলেই দেখা যায় যে, এই প্রশ্নটা সেই গ্রাম্য “শঠ-পন্ডিতের” সাথে “সত্যিকার পন্ডিতের” বিতর্কের প্রসিদ্ধ গল্পের মত – যেখানে “শঠ-পন্ডিত” তার প্রতিদ্বন্দিকে জিজ্ঞেস করেছিল: I don’t know – মানে কী?
স্রষ্টা এমন সত্তা যিনি সৃষ্ট নন,তিনি অস্তিত্বে আসনেনি বরং সর্বদা অস্তিত্বশীল এবং তিনি সৃষ্টিজগতের স্থান-কাল কাঠামোর অংশ নন৷ আর এজন্যই তিনি অসৃষ্ট। তাঁর সৃষ্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই৷ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন,এই প্রশ্নটিই আসলে একটি অবান্তর প্রশ্ন৷যেমন একটি ছবি কে এঁকেছে,এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক,কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?”এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয়৷তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব৷একইভাবে “সৃষ্ট নন”, এমন একজন স্রষ্টা থাকা সম্ভব।তাই বার্ট্রান্ড রাসেলের “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” এই প্রশ্ন করা অযৌক্তিক, অবান্তর, বোকামী ৷
আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক। ধরা যাক,আপনি অনেক দীর্ঘ একটি তাসের সারির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি দেখছেন একটি একটি করে তাস পড়ে যাচেছ এবং পড়ে যাওয়ার সময় সে পরের তাসটিকে ধাক্কা দিচ্ছে,ফলে পরের তাসটিও পড়ে যাচেছ, এভাবে একটি তাসের পতনের কারণ হচ্ছে তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, এভাবে যেতে থাকলে একটি তাসে গিয়ে আপনাকে থামতেই হবে যেটি প্রথম তাস ৷ এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, প্রথম তাসের পতনের কারণ কি? উত্তরে বলা যাবে না যে সেটিও একটি তাস, ফলে বুঝতে হবে যে প্রথম তাসের পতনের কারণ এমন কিছু যে নিজে তাস নয় ৷ হয়ত সে একজন মানুষ যে প্রথম তাসটিকে টোকা দিয়েছে ৷ এই মানুষটি যেহেতু তাস নয়, সেজন্য তাসের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যসূচক প্রশ্ন করা যাবে, এই মানুষের ক্ষেত্রে তা করা যাবে না ৷ যেমন তাসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যায় যে “তাসটি কি হরতন না ইস্কাপন?”, কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি অবান্তর ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তাসের পতনের পেছনে আদি কারণ হিসেবে মানুষ থাকার বিষয়টি বাস্তব৷
ঠিক তেমনি স্রষ্টা যেহেতু সৃষ্টি নন কিংবা ফল নন, সেহেতু “তাঁর স্রষ্টা কে?” বা “কারণ কি?” এই প্রশ্নগুলি তাঁর বেলায় প্রযোজ্য নয় – কিন্তু তাঁর থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ এখানে আপাতদৃষ্টিতে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, যদি স্রষ্টাকে অস্তিত্বে আনার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেই। তবে খোদ মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেই একথা ধরে নেই না কেন ? এর কারণ এই যে, মহাবিশ্ব কোন “জ্ঞানসম্পন্ন সত্তা” নয় যে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরিচালনা করতে পারে। বরং মহাবিশ্বের সকল ব্যবস্থা ও সকল অংশ ইংগিত করছে যে, তা সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। এজন্য কোন স্রষ্টা ব্যতীত মহাবিশ্বের স্বয়ংসর্ম্পূণ অস্তিত্বের ধারণা সর্ম্পূণ যুক্তি বিরোধী। তাই এক্ষেত্রে একমাত্র যৌক্তিক সম্ভাবনা হচ্ছে এই যে, এর একজন জ্ঞানী স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী থাকতে হবে যিনি নিজে সৃষ্ট নন।

Saturday, April 12, 2014

একজন তালগাছওয়ালার সাথে কিছু আলাপ

- No comments

একজন তালগাছওয়ালার সাথে কিছু আলাপ

collected from brother  Sharif Abu Hayat Opu
-       আমি একজন নাস্তিক। আমার নাস্তিকতার কারণ অনেকগুলো প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিমোল্লা-মুন্সি থেকে সবাইকে জিজ্ঞাসা করেছি। কেউই উত্তর দিতে পারেনি আপনারা দাবি করেন আল্লাহ ন্যায় বিচারক। কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি তিনি (যদি আসলেই থেকে থাকেন) সবচেয়ে বড় অবিচারকআল্লাহ ন্যায় বিচারক’ এর প্রমাণ কী? 



-       আপনাকে তো আমার মানুষ মনে হচ্ছে না, কুত্তার বাচ্চা মনে হচ্ছে। 



-       ওকে থ্যাংক্স, আমার উত্তর পেয়ে গেছি... 



-       কী উত্তর পেলেন?  



-       আমাকে গালি দেওয়ার কারনটা জানতে পারি? আমি নাস্তিক এ জন্যই? আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন ভালো কথা, গালি দেবেন কেন? 



১.

খেয়াল করুন, আমি কিন্তু আপনাকে সরাসরি কুত্তার বাচ্চা বলিনি, প্রথমে বলেছি “মানুষ মনে হচ্ছে না”। কথাটা আপনার প্রশ্নটার উত্তরে বলা। বাস্তবতা আর মানুষের ধারণার মধ্যে অনেক তফাত আছে এটা বোঝানোর জন্য বলা। মানুষ অত্যন্ত সীমিত ক্ষমতার মানুষ। সে খুব অল্প জিনিস থেকেই অন্যের ব্যাপারে একটা ধারণাতে চলে আসে। চলে যে আসে তার উদাহরণ দিয়েছিলাম আপনাকে, আপনি তলিয়ে চিন্তা করলে ধরতে পারতেন।



শোনেন ভাই, আমি আপনাকে মানুষ মনে করি আর না করি তাতে আপনার সত্ত্বায় বদল আসবে না। আমি বললেই আপনি কুত্তার বাচ্চা কিংবা বান্দরের বাচ্চা হয়ে যাবেন না। আপনি হোমো স্যাপিয়েনস থাকবেন। তাই কোনো বাস্তবতার ব্যাপারে আমাদের সমস্যা থাকলে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। ধারণাকে বদলানো উচিত, বাস্তবতাকে নয়।



২.

সাদা চোখে গালি মনে হলেও, আমি আপনাকে 'কুত্তার বাচ্চা' শব্দের মাধ্যমে একটা বিশেষণ দিয়েছি। সত্যিকারে গালি দিতে চাইলে সম্মানসূচক 'আপনি' ব্যবহার করতাম না। এই যে চরম নেতিবাচক একটা বিশেষণ দিলাম এটাতে আপনার মনের মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমি কে? কেউ না। আপনি আমাকে কোনোদিন দেখেননি। আপনার আমার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তাও আপনার মনে একটা প্রতিক্রিয়া হয়েছে।



ধরেন, এই বিশেষণটা যদি আপনাকে আপনার খুব আপন কেউ দিত। ধরুন, আপনার সন্তানকে এক বছর বয়সে রেখে আপনার স্ত্রী আত্মহত্যা করল। আপনি বাচ্চার হাগু সাফ করলেন, রাত জেগে দুধ খাওয়ালেন। একজন মা যা করে তা করলেন, একজন বাবা যা করে তা-ও করলেন। এই ছেলেটা ২০ বছর পরে যদি আপনাকে বলে 'কুত্তার বাচ্চা' কেমন লাগবে? তাকে আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন যে আপনার স্ত্রীর একটা মানসিক সমস্যা ছিল যা আপনার কাছে লুকানো হয়েছিল? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন আপনি আপনার স্ত্রীর চিকিৎসার সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলেন? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন আপনি আপনার একমাত্র স্ত্রীকে ভয়াবহ মানসিকরোগটা সহই ভালোবেসে ফেলেছিলেন? এতটাই যে আপনি আর কখনও বিয়ে করেননি? আপনি কী দিয়ে বোঝাবেন যে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার কারণেই আপনার ছেলের মামারা আপনার নামে মিথ্যা কথা বলে আজ আপনাকে ভিলেন বানিয়ে ফেলেছে?



আপনার ছেলের যদি বিবেক থাকে হয়ত বুঝবে। নয়ত মনে করবে আপনি চামড়া বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, ‘ভালো’ ‘ভালো’ কথা বলছেন। ত্যানা প্যাচাচ্ছেন। আপনার সপক্ষে মোল্লা-মুন্সি, ডাক্তার-এঞ্জিনিয়ার যে যাই বলুক—আপনার ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আপনি কুত্তার বাচ্চা।



সমস্যাটা ধারণার, বাস্তবতার নয়।



৩.

আল্লাহ নিজের নাম বলেছেন, ‘আল আদল’—তিনি ‘দ্য ন্যায়বিচারকারী’। পৃথিবীতে বহু ন্যায়-পরায়ণ মানুষ আছে। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। কেউ নিজের সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার শিকেয় তুলে রাখেন। কেউ সন্তান পর্যন্ত ঠিক থেকে নিজের বেলায় এসে দুর্নীতি করেন। কেউ কেউ সেটা পার হয়ে আসেন—যেমন রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কিন্তু তাও তার মানবিক দুর্বলতা থেকে যায়—তিনি আল-আলিম নন যে! অর্থাৎ ঘটনার আড়ালের সবকিছু তিনি জানেন না। ফলে দোষী চাপার জোরে তার কাছ থেকে রায় পেয়ে যায়, নির্দোষ হয় বঞ্চিত। অবশ্য রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে মানুষকে সাবধানও করেছেন তার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে।[1] মানুষ বিচারকের সাথে আল্লাহর তুলনা চলে না। মানুষ আইন প্রণয়নকারীর সাথেও আল্লাহর তুলনা চলে না। তুলনা যে চলে না এটা বোঝাই প্রথম কর্তব্য।



কিন্তু আল্লাহর এমন কোনো, কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। হুজুররা যে খালি বলে, ‘সুবহানাল্লাহ’—তার মানে এটাই; আল্লাহ এমন সব সম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত, পবিত্র। আল্লাহ সব কিছু জানেন, দেখেন এবং শোনেন। শুধু তাই নয় তিনি মনের খবরও জানেন। তিনি জানেন কোনটা খুন, কোনটা মৃত্যু। সেটা ইচ্ছাকৃত না দুর্ঘটনা—আল্লাহ জানেন এবং তার ভিত্তিতেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। আল্লাহর কাছে কোনো সাজানো মামলা নেই। কোনো মাল্টি-বিলিয়নিয়ার উকিল নেই। প্রত্যেকটা মানুষ যবে যা করেছে সব কিছু রেকর্ড আছে। মনের খবরের হদিসসহ।



আল্লাহর ন্যায়বিচারে কোন ফাঁক নেই। ‘ফাঁক নেই’ কথাটা সংজ্ঞাতে আল্লাহ কী শব্দ ব্যবহার করেছেন জানেন? ফাতিলা। খেজুর খেয়েছেন নিশ্চয়ই। খেজুরের বীচির ওপরে পাতলা একটা আবরণ থাকে, ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন। এই আবরণ যে আঁশ দিয়ে তৈরী সেই আঁশের একটা সুতো পরিমাণ অবিচার করা হবে না—সূরা নিসার ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন। একটা ছাগল যদি আরেকটা ছাগলকে গুঁতা মেরে থাকে দুনিয়াতে, আখিরাতে তারও বিচার হবে। জ্বি, আল্লাহর ন্যায়বিচার এতটাই সূক্ষ। আপনার-আমার কাছে যে ব্যাপারটা প্রায় অর্থহীন সেটার ক্ষেত্রেও আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতায় বিন্দুমাত্র ছাড় নেই।



এখন আল্লাহ যে ন্যায় বিচার ছাড়া অন্য কিছুই করেন না—এটা আপনি মানতে পারছেন না, ভালো কথা। আপনি আল্লাহকে কী ভাবেন তাতে আল্লাহর যেমন কিছু এসে যায় না তেমন আল্লাহর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনও হয়ে যায় না। মধ্যখান থেকে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কষ্ট পাচ্ছেন। মাত্র কয়েকটা খুন করে এরশাদ শিকদার ফাঁসির রশি পড়ল আর লাখো খুনের নির্দেশদাতা ইয়াহিয়া খানের কিছু হলো না, ভুট্টোর সাথে আমাদের নেতা কোলাকুলি করে আসলেন। পৃথিবীতে এত বড় বড় অন্যায় হবে আর তার কোনো প্রতিকার কোনোদিন হবে না—এই চিন্তাটাই একটা চিন্তাশীল অবিশ্বাসীকে পাগল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।



আল্লাহকে যে বিশ্বাস করে, তাকে আল-খালিক হিসেবে মেনে নেয়, আর-রব হিসেবে বিশ্বাস করে, আর-রহমান হিসেবে আবিষ্কার করে তার জন্য আল্লাহকে আল-আদল হিসেবে মেনে নেওয়া কোনো ব্যাপারই না। সে আল্লাহর প্রত্যেকটি কাজে ন্যায় বিচার খুঁজে পায়। পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে তিন কোটি নব্বই লক্ষ মানুষকে অন্ধ বানালেও বাকিদের তো আল্লাহ দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন।[2] বিনামূল্যে দিয়েছেন। অথচ নির্জীব পাথরের চোখ কিনতে টাকা দিতে হয়, অন্ধের ছড়ি কিনতে টাকা গুণতে হয়। অথচ সারা পৃথিবীর সব মানুষকে যদি আল্লাহ অন্ধ বানাতেন মানুষের কিছু বলার ছিল না, করার ছিল না। ০.৫৫ শতাংশ মানুষ কেন অন্ধ হলো—বাকিরা কেন চোখ পেল—এটা নিয়ে যারা চিন্তা করে না তারাই আসলে আসল অন্ধ। এই অন্ধরাই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সামনে বিলবোর্ডে লেখে ‘দৃষ্টি আমার অধিকার’। আমরা মানুষেরা আল্লাহকে কী দিয়েছি যার বদলে ‘অধিকার’-এর মতো শব্দ ব্যবহারের স্পর্ধা আমরা দেখাই?



আর যাদের মনের চোখ খুলেছে, বিবেকের দ্বার খুলেছে তারা বোঝে অন্ধত্ব আমাদের জন্য একটা নিদর্শন। যেন আমরা কৃতজ্ঞ হই। পৃথিবীতে আসার কারণ নিয়ে ভাবি। আর আল্লাহ যাদের চোখ দেননি তাদের জন্য কিছু করি। পৃথিবীকে আল্লাহ যে পরীক্ষার স্থান বলেছেন সেখানে প্রশ্নপত্র তো এটাই—চোখ থাকতেও আমরা কী করছি? কী দেখছি? এর ব্যবহার কী আল্লাহর সন্তুষ্টিতে না ক্রোধে?



যে আল্লাহর তাওহিদ বুঝেছে সে তার অন্তর্দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার নয় বরং আল্লাহর দয়া দেখতে পায় সবসময়। তার কর্তব্য দেখতে পায়। সে জানে আল্লাহ আখিরাতে ন্যায়বিচার করবেন। এই ন্যায়বিচারকে সে ভয় পায়। মানুষ হিসেবে আমরা কত অকৃতজ্ঞ সেটা সে বোঝে। সে জানে আল্লাহর সাথে করা মানুষের অকৃতজ্ঞতার বিচার করলে আর কোন মুক্তি নেই। সে তাই পাপকে এড়িয়ে চলে, সাধ্যমতো ভালো কাজ করে আর পুরষ্কারের ব্যাপারে আল্লাহর দয়ার ভরসা করে।



একজন বিশ্বাসী কোনো ঘটনার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করে। যেটার প্রজ্ঞা সে বোঝে না সেখানে সে তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাতে আত্মসমর্পণ করে। সবকিছুই সবাইকে বুঝতে হবে এটা মানবজীবনের সবচে বড় ফ্যালাসি। কিন্তু এই ফ্যালাসি মানুষ ডাক্তারিবিদ্যায় খাটায় না, এনজিনিয়ারিং-এও খাটায় না। খাটায় খালি আল্লাহর কাজ কর্ম বুঝতে গিয়ে। ধরি একজন গড় মানুষের শরীরে কোষ থাকে ৩৭২০০ কোটি।[3] এর মধ্যে একটা কোষে কতগুলো এনজাইম আছে সেটা মানুষ জানে না। তারা কী কাজ করে তাও জানে না। একটা এনজাইম কী কাজ করে তা খুঁজতে গিয়ে একজন পিএইচডি ছাত্রের জীবনের সাতটা সোনালী বছর হারিয়ে যায় রিসার্চ ল্যাবে। ‘কেন করে’ সে প্রশ্ন করলে মাথা চুলকে ছাত্রটি শেষ ভাইভাতে একটা ফর্দ দিয়ে বলে—এসব কাজ করতে পারে। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না।



আর আমরা এই এনজাইমের স্রষ্টা, কোষের স্রষ্টা, মানবদেহের স্রষ্টা, ৭০০ কোটি বর্তমান জীবিত মানবাত্মার স্রষ্টার কাজকর্ম এর যৌক্তিকতা বুঝতে চাই। না বুঝতে পারলে বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে বলি, আল্লাহর ন্যায়বিচার নেই। আমাদের চেয়ে বড় অবিবেচক বিচারক আর কে আছে? মানে আমরা বাংলাদেশিরা। আমাদের দেশে খুনেদের রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বিবেচনায় মাফ করে দেয়। এ দেশে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপান হয়, তারপরে রাজপথে মিছিল করে ফাঁসি চেয়ে নেই। আমাদের বিচারে মৃত্যুদণ্ড বিচারের বিষয় নয়, আবদার করে চেয়ে নেওয়ার বিষয়। ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমাদের বেশ সাজে!



একটা গল্প বলি...



এক দার্শনিক সমুদ্রের ধারে বসে চিন্তা করছিল পৃথিবীতে এত দুঃখ-কষ্ট—সৃষ্টিকর্তা করেন কী? এক ছেলে তার এই গভীর ভাবনায় টাশকি খেয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর একটা বালতি নিয়ে সাগর থেকে পানি ভরে আর ঢালে। ভরে আর ঢালে। অনেকক্ষণ দেখার পর দার্শনিক বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো: "এই কী করছ?" ছেলেটি বলল: "বালতিতে সমুদ্রটাকে ভরছি।" দার্শনিক বললেন: "এটা কী সম্ভব নাকি?"  ছেলেটি বলল, আমার বালতি আর সমুদ্রের তাও তো একটা তুলনা চলে, অঙ্ক কষে একটা সংখ্যা বের করা যাবে কিন্তু মানুষের মাথা আর আল্লাহর জ্ঞানের যে কোনো তুলনাই চলে না।



৪.

আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। আল্লাহ ন্যায়বিচারের চাক্ষুস প্রমাণ আপনি পরকালে পাবেন; ইহকালে না। দুঃখিত। অর্থাৎ, আপনার প্রশ্নের উত্তর আমিও দিতে পারলাম না। তবে আল্লাহ আপনাকে যে দয়াগুলো করেছেন—এমনকি আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন করার স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ দিয়েছেন—এই দয়াগুলো যদি আপনি না বোঝেন তবে আল্লাহর ন্যায়বিচার আপনার জন্য সুখকর পরিণতি বয়ে আনবে না। আপনি মানুষের বাচ্চা—আপনার বিবেকের কাছে দাবী—সেই বিবেক যা আপনাকে কুত্তার বাচ্চা থেকে আলাদা করেছে, সেই বিবেকের কাছে দাবী। আপনার ধারণার তালগাছটিকে ছেড়ে দিন। আগে নিজে ন্যায়বিচার করুন। অকৃতজ্ঞতা বড় অবিচার। স্রষ্টার প্রতি অকৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বড় অবিচার। ধন্যবাদ।





[1]  সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ৩৮/ যুলম ও কিসাস | হাদিস নাম্বার: ২২৯৬

 [2] বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান - http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs282/en/

 [3] An estimation of the number of cells in the human body, Bianconi et. El. বিস্তারিত: http://informahealthcare.com/doi/abs/10.3109/03014460.2013.807878

Sunday, April 6, 2014

নাস্তিকদের অব্যর্থ প্রশ্নের সাবলীল জবাব [প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের জানা উচিত]

- No comments
collected from brother রাসেল ইউসুফী

একটি ব্লগে এক ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ইসলাম সম্বন্ধে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।তার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছিল ঠিক এভাবেই:

1) দশই রমজান শুক্রবার কেয়ামত। বাংলাদেশে যখন শুক্রবার তখন আমেরিকায় শুক্রবার নয়: মক্কায় বাংলাদেশের একদিন বা দুইদিন আগেই দশই রমজান হয়ে থাকে। তাহলে কিয়ামত সর্বত্র কিভাবে দশই রমজান হবে?

উত্তর: কেয়ামত যে “দশই রমজান”- এই কথা আপনি পেলেন কোথায়? কুরআন বা হাদীসের কোথায় “দশই রমজান” এর কথা উল্লেখ আছে?রেফারেন্স দিন। কেয়ামত সম্বন্ধে মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে বলা হয়েছে , কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হবে শুক্রুবার হতে। কিন্তু কোন স্পেসিফিক মাসের কথা তো সেখানে উল্লেখ নেই! আর যদি বলা হয় যে কেয়ামত শুরু হবে শুক্রুবার হতে , তবে তাতে সমস্যাই বা কোথায়? কোন না কোন একদিন তো কেয়ামত শুরু হবেই, হোক সেটা শুক্রুবার বা সোমবার।আর সেই কেয়ামত বা মহাপ্রলয়ের তান্ডব থেকে তো পৃথিবীর কেউই বাঁচতে পারবেনা,গোটা দুনিয়াই এফেক্টেড হবে এর দ্বারা ।একটি উদাহরণ দেই।ধরুন, আমি আপনাকে বল্লাম আগামি শুক্রবার সকাল 9টা হতে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যে 5দিন ব্যাপী টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে।তো,স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে এই খেলা লাইভ উপভোগ করা সম্ভব, ঠিক না?সময়ের ব্যবধান যাই হোক, ঐ সময়ে যে ঐ ক্রিকেট ম্যাচটি ঐ অঞ্চলে শুরু হবে তা-তো সত্যি,ঠিক না? ঠিক তদ্রুপ শুক্রুবার (যদি ধরে নেই সৌদি আরবের শুক্রবার) হতে কেয়ামত বা মহাপ্রলয় শুরু হলেও গোটা পৃথিবী জুড়েই এর ধ্বংসলীলা পরিলক্ষিত হবে। বুঝে আসছে?

2) সবেরবাত আরে ও বাংলাদেশে একদিনে হয় না। সবেবরাতের আগের দিন বাংলাদেশ থেকে দ্রুতগামী বিমানে সৌদি আরব গেলে দেখা যাবে সেখানে সবেবরাত একদিন আগেই হয়ে গেছে। তাহলে সে কিভাবে সবেবরাত পালন করবে? উল্টা ঘটলে দুবার সবেবরাত পাবে কে?

উত্তর: 14ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” পালন করা গেলে 15ই সা’বান শবে বরাত পালন করতে বাঁধা কোথায়? সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশের কোটা বাতিল হয়ে গেছে না-কি?

3) কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে। ঐ দিনটা সারা পৃথিবীতে একে স্থানে একেদিন হলে বেহেস্তেও দরজা কদিন খোলা থাকবে?

উত্তর: আপনি বললেন- “কিছু কিছু দিন বেহেস্তের দরজা খোলা থাকে”-কোন কোন দিন খোলা থাকে একটু বলবেন কী? কুরআন/হাদীসের রেফারেন্সটাও কি একটু দিবেন? হাদীসে আছে শুধু মাত্র “রমজান” মাসেই বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। এর বাইরে অন্য কোন মাসে/দিনে বেহেশতের দরজা খোলা হয় এধরনের কোন উল্লেখ হাদীসে শরীফে নেই। থাকলে সেটা আপানার বানানো।

4) মেরুতে ছয়মাস দিন ও ছয় মাস রাত থাকে। সেখানে কিভাবে নামাজ-রোজা পালন করবে?

উত্তর: একদম সোজা! এরকম একটি প্রশ্ন নবীজি(স.)কে করা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল “দাজ্জাল” এর আবির্ভাব এর পরে নামাযের সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত। যখন দাজ্জাল আবির্ভূত হবে তখন এক একটি দিন এক বছরের সমান লম্বা হবে। এ বিষয়ে সাহাবারা নবীজির (সা.) দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন -“ও আল্লাহর নবী! এমন একটি সময় আসবে যখন একটি দিনের দৈর্ঘ এক বছরের সমতুল্য হবে তখন কী এক দিনের নামায কী গোটা বছরের জন্য যথেষ্ট হয়ে হবে? উত্তরে নবীজি (স.) বলেছিলেন-না, তখন তোমরা দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে করে নিবে।” অর্থাত একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতি ওয়াক্তের নামাযগুলো আদায় করে নিবে। বুঝলেন?

আর, মেরুতে যেহেতু ছয় মাস দিন ও ছয় মাসরাত সেহেতু সেক্ষেত্রে আপনি উপরোক্ত হাদীস মতে সময়কে ভাগ করে নিবেন এবং প্রতি ওয়াক্তের নামায গুলো আদায় করবেন এবং রোজাও ঐভাবে পালন করবেন। তাছাড়া, আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে উক্ত মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি কোন দেশের সময়ানুযায়ী নামায-রোজা পালন করা, মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে যেটি খুবই সহজ সাধ্য কাজ । ক্লিয়ার?

5)যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না? গোলাম আজম কোন দিন না কোনদিন বেহেস্তে প্রবেশ করবে মুসলিম বলে অথচ মাদারতেরেসা প্রবেশ করবেন না অমুসলিম বলে এটা কি ন্যায় বিচার?

উত্তর: আপনার প্রশ্নটা ছিল-“যারা কোনদিন ইসলামের দাওয়াত পায়নি এবং কোন অপরাধ করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে না?” তার আগে আপনি আমাকে বলুন-“যারা ইসলামের দাওয়াত পেয়েও ইসলাম কবুল করেনি তারা কেন বেহেস্তে যাবে?

আর আপনি জানতে চেয়েছেন মাদার তেরেসা বেহেস্তে প্রবেশ করবেন কি-না? তার আগে চলুন জেনে নেই পবিত্র কুরআনের আলোকে বেহেস্তে প্রবেশের ক্রাইটেরিয়াগুলো কী কী? সূরা আল আসরে (103:1-4) আল্লাহ সময়ের কসম করে বলছেন, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে, সত কাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারনের উপদেশ দেয়। অর্থাত বেহেস্তে প্রবেশের শর্ত চারটি, যথা-ঈমান, সত কাজ, সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ।মাদারতেরেসা যদি এই চারটি উপাদান মেনে চলে থাকেন তবে তিনি অবশ্যই বেহেস্তে প্রবেশ করবেন; অন্যথায় নয়।

6)পুরুষ বেহেস্তেকমপক্ষে ৭০টি হুরী ও তার স্ত্রীকে পাবে এবং নারী বেহেস্তে গোলেমান ও তার স্বামীকেপাবে। তাহলে পুণ্যবান পুরুষের পাপিষ্ঠা স্ত্রীএবং পূণ্যবতী নারীর পাপী স্বামীও কি বেহেস্তে যাবে?

উত্তর: এক কথায় ‘না’। যেমন: হযরত আসিয়া(রা.) এর স্বামী ছিল পাপিষ্ঠ ফেরাউন। সুতারাং ফেরাউন বেহেস্তে যাবেনা। তেম্নি হযরাত লুত (আ.)এবং হযরাত নূহ’র(আ.) এর স্ত্রী ছিল পাপিষ্ঠ, তারাও বেহেস্তে যাবেনা। আল্লাহ যেমন বলছেন-“যারা কুফুরির নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’পূণ্যবান বান্দার অধীনে।কিন্তু তারা দুজনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারলনা।”(66:10)। ক্লিয়ার?

7) হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা প্রায় ৬শ বছর রাজত্ব চালায়। এরাই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের প্রসার ঘটায়। মুহম্মদের বংশধরদের রক্তে যাদের হাতরঞ্জিত তাদের হাতে যারা মুসলমান হয়েছে তারা কি প্রকৃত মুসলমান হবে?

উত্তর: আপনি বলেছেন-হোসেনের পরজয়ের পর হোসেন ও তার বংশধরদের হত্যাকারীরা না-কি প্রায় ৬শ বছর (!) রাজত্ব চালিয়েছিল।ইতিহাসের এতবড় মিথ্যা কথাটা আপনি কোথায় পাইলেন? হোসেনের হত্যাকারী ইয়াজিদ 680-683 খ্রি. মোট তিন বছর রাজত্ব করেছিল।আর ইয়াজিদের উমাইয়া বংশ ইয়াজিদের মৃত্যুর পর অর্থাত 683 খ্রি. হতে 750 খ্রি.পর্যন্ত মোট 67 বছর রাজত্ব করেছিল। তো, আপনি 67 বছরকে “ছয়শ” বানাইলেন কেন? আর ইয়াজিদ না হয় খারাপ লোক ছিল তাই বলে যে তার বংশধররা খারাপ- একথা আপনাকে কে বলেছে?

8)মুসলমানদের মধ্যে অনেকগুলো ভাগ ও উপভাগ রয়েছে। এদের মধ্যে কারা প্রকৃত মুসলমান এবং কেন? অন্যরা কি মুসলমান নয়?

উত্তর: দেখুন, একটি ক্লাশে ভালো ছাত্র যেমন থাকে, তেমনি খারাপ ছাত্রও থাকে।যারা ভালো করে মন দিয়ে পড়াশুনা করে তাদেরকে আমরা ভালো ছাত্র বলি, আর যারা করে না তাদেরকে আমরা বলি খারাপ ছাত্র বা দুষ্টছাত্র, কিন্তু খারাপ বা দুষ্টদের অছাত্রও বলিনা। তেমনি মুসলমানদের মধ্যেও ভালো যেমন আছে, তেমনি মন্দও আছে। যেসকল মুসলমান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান পোষণ করে এবং কুরআন-হাদীস অনুযায়ী আমল করে তাঁরা ভালো মুসলমান আর যারা এসব পালন করেন না তাদের আমরা বলি খারাপ মুসলমান। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।

9)উসমানের ইসলামবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করায় সাহাবা আবুজর গিফরীকে নির্বাসন দেয়া এবং তারা নিজের পছন্দসই কোরান বাদে বাকীগুলিকে পুরিয়ে ফেলার পরও সে কিভাবে আমাদের খলিফা? এছাড়া আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? এছাড়া আবু বক্কর ও ওমরকে শ্বশুর এবংজামাতা অর্থাত আত্মীয়ার বন্ধনে আবদ্ধ করা কি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল নয়? চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?

উত্তর: প্রথমে আসি আবুজর গিফারী প্রসঙ্গে।আপনি বলেছেন, হযরত উসমান আবুজর গিফরীকে নির্বাসনে দিয়েছিলেন।তো তাতে সমস্যা কোথায়?আবুজর যে নির্বাসনে যাবেন এবং সেখানেই তাঁর একাকী মৃত্যু ঘটবে একথা রাসুলুল্লাহই(স.) ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে অনেক সময় অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতেওপারে, তা কারোও কাছে পছন্দীয় হতে পারে বা না-ও হতে পারে। হযরত উসমান এবং আবুজরগিফরী দু’জনেই আল্লাহর নবীর খুব ভালো সাহাবী ছিলেন।রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে হযরত উসমানের সাথে আবুজর গিফরীর কিছুটা মতভেদ হয়েছিল সত্যি, কিন্তু তাতে তাঁদের মর্যাদা কিছুমাত্র হ্রাস পায়নি। আর 1400 বছর পর এসে আপনি যদি হযরত উসমানকে খলিফা হিসেবে না-ও মানেন তাতে উসমানের খেলাফতের কিচ্ছু আসে যায় না।

দ্বিতীয়ত: আপনি প্রশ্ন তুলেছেন হযরত উসমান কতৃক কুরআন পুড়ানো নিয়ে। আচ্ছা,বলুনতো কোন ঘটনা বা কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত উসমান বিভিন্ন স্থানে কুরআনের কপি পুড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? ব্যাকগ্রাউন্ড জানলে এই প্রশ্ন আপনি কখনোই করতেন না।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল- “আলী বুদ্ধি, কৌশল এবং শেষে পেশিতে মোয়াবিয়ার কাছে পরাস্ত হলেন সে কিভাবে আল্লার তরবারী এবং খলিফা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন?”

দয়া করে বলবেন কী হযরত আলী কোন যুদ্ধে এবং কোথায় মুয়াবিয়ার কাছে “বুদ্ধি, কৌশল এবং পেশিতে” পরাস্ত হয়েছিলেন?সিফ্ফিনের যুদ্ধে আসলেই কী কোন পক্ষ জিতেছিল?

আর হযরত আলীর টাইটেল যে “আল্লাহর তরবারী” ছিল একথা আপনাকে কে বলেছে? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা দরকার।

আর আপনার তৃতীয় আপত্তি ছিল- “চার খলিফাই একই বংশভূক্ত এবং কেউ জামাতা কেউ শ্বশুর এটা স্পষ্টতই পারিবারিককরণ নয় কি?” বংশভুক্তকেউ যদি উপযুক্ত থাকে তবে তাতে সমস্যা কোথায়? আর বলুন তো চার খলিফা কোন কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং কীভাবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন? তারা কী টুপ করে ক্ষমতায়বসে পড়েছিলেন না-কি তাঁদের নির্বাচিত করা হয়েছিল?

10)ইমাম মেহেদী এত অস্ত্রের মুখে কেন তরবারীদিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে।

উত্তর: “ইমাম মেহেদী তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ঘোড়ায় করে সংবাদ পাঠাবে”- এই বক্তব্যটি কুরআন শরীফের কোন সূরায় বা কোন হাদীসে উল্লেখ আছে দয়া করে বলবেন কী? ইমাম মাহদী আগমন সম্পর্কিত 40টি নির্ভরযোগ্য হাদীস আমি পড়ে দেখেছি, কিন্তু কোথাও ইমাম মাহদী যে ঘোড়ায় চড়বেন বা তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করবেন এমন তথ্য কোথাও পায়নি। বরং, ইমাম মাহদী আগমন সংক্রান্ত এক হাদীসে বলা হয়েছে এভাবে-“যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনকে সহায়তা করার জন্য নন-আরবদের মধ্য থেকে এমন এক সেনাবাহিনীর উম্মেষ ঘটাবেন,যাঁদের হাতে থাকবে উন্নতমানের অস্ত্র-শস্ত্র এবং তাঁরা হবে দ্রুত আরোহী (গ্রেটরাইডার)।”(সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-971, ভল্যুম-3)।এই হাদীসে ইমাম মাহদীর সময়ে উন্নতমানের যানবাহন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে ইঙ্গিতকরা হয়েছে। তো, ‘ঘোড়ায় চড়া’ এবং ‘তরবারী ব্যবহারের’ তথ্যগুলি কোত্থেকে পেয়েছেন দয়াকরে একটু বলবেন কী?

11)মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি। অন্য প্রাণীরা মাটির সৃষ্টি নয়। অথচ মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষে প্রচুর মিল রয়েছে। এমনকি গঠন পরিপাক, জনন প্রনালী অনেকটাই এক রমক অর্থাত তারা একই ভাবে সৃষ্টি। এর কারণ কি?

উত্তর: ভালো প্রশ্ন।এর জবাবটা পবিত্র কুরআনেই দেয়া আছে। সূরা আম্বিয়ার 30 নং আয়াতে বলা হয়েছে-“... আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম, তবু কী তারা বিশ্বাস করবেনা?(21:30)।” পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-“আল্লাহ পানি হতে সমস্ত জীবন সৃষ্টি করেছেন(24:45)।” এছাড়া বলা হয়েছে,“তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ,...(25:54)।” যেহেতু মানুষ সহ সমস্ত প্রাণীই পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে,সেহেতু মানুষের কোষের সাথে অন্য প্রাণীর কোষের প্রচুর মিল রয়েছে এবং পরিপাক,জননপ্রণালীও অনেকটা একরকম। বুঝতে পেরেছেন?

12)ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন? আল্লাহর রহমত মুসলমানদের উপর কি করে গেছে? মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন? মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন? তাহলে বিধর্মীরা কি আল্লাহর বেশি প্রিয় হয়ে যাচ্ছে?

উত্তর: “মুসলমানদের সাফল্য এত কম কেন?”এই প্রশ্নথেকেই বোঝা যাচ্ছে মুসলমানদের অতীত ইতিহাস সম্বন্ধে আপনি একদম ওয়াকিবহাল নন।সভ্যতার বিকাশ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের উম্মেষে মুসলমানদের অবদান কী ছিল তাসংক্ষিপ্তভাবে জানতে নীচের লিংকগুলো ভিজিট করুন;

1) http://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_Golden_Age
2) http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Muslim_scientists

তবে, হাঁ,মুসলমানরা বর্তমানে সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে, কোন সন্দেহ নেই। পৃথিবীর 60 শতাংশ খনিজ সম্পদের মালিক হওয়া সত্বেও মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া। যাহোক, এটি আরোও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার দাবী রাখে।

আপনি আরো প্রশ্ন করলেন- “মুসলমানরা অনেকক্ষেত্রেই বিধর্মীদের দয়ায় বেঁচে থাকে কেন?” এটা কী একটা প্রশ্ন হলো? মুসলমানরা যদি ইউরোপ-আমেরিকায় বিধর্মীদের তেল সরবরাহ বন্ধকরে দেয় তবে তাদের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। তবে কী আপনি বলবেন যে বিধর্মীরা মুসলমানদের দয়ায় বেঁচে আছে !! পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই সবার নির্ভরশীল,আল্লাহপাক সমাজটাকে সেভাবেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলছেন,“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছেন, মর্যাদায় তোমাদেরকতককে কতকের উপরে স্থান দিয়েছেন, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি ওগুলোর মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য,...”(7:165)।

আপনি আরোও জিজ্ঞেস করলেন- ‘ঈমানদারদের চেয়ে বেঈমানদাররা বেশি সত কাজ করছেন কেন?’ ঈমানদার বা বেঈমানদার-কে কত পরিমাণ সত কাজ করছে সে সংক্রান্ত কোন গবেষণাকর্ম কী আপনারকাছে আছে ? থাকলে একটু দেন তো। সতকাজ পরিমাপের মাপকাঠিই বা কী?

13) চোর ডাকাতদের রেজেক কে দেয়? যদি আল্লাহই চোর ডাকাতদের রেকেজ এভাবেই দেয় তবে তাদেও করার কি আছে? জারজ সন্তানদের রুহু যদি আল্লাহই সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে শয়তান এখানে কি করেছে? মানুষের ভাগ্য ও হেদায়েত আল্লাহর হাতে থাকলে শয়তানের গুরুত্ব কি?

উত্তর: চোর ডাকাতদের রেজেক আল্লাহই দেন। মানুষেরসামনে সবসময় দু’টি পথ খোলা থাকে।একটি ভালো অপরটি মন্দ। দু’টি পথই আল্লাহর সৃষ্টি।দুধ খেলে যেমন শক্তি হয় তেমনি মদ খেলেও শক্তি হয়। ভালো বা মন্দ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব মানুষের ।আল্লাহ মানুষকে যেমন ভালো কাজ করতে বাধ্য করেন না তেমনি মন্দ কাজ করতেও বাধা দেন না। তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু গরু বা ছাগলকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। গরু বা ছাগল চাইলেই বিমানে করে উড়ে গিয়ে আমেরিকান গরু বা ছাগলের সংগে দেখা করতে যেতে পারে না।কিন্তু মানুষ চাইলে তা পারে। গরু বা ছাগল চাইলেই সারা বছর প্রজনন করতে পারে না,কিন্তু মানুষ তা পারে ।মানুষকে অফুরন্তস্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই শেষ বিচারের দিন মানুষের বিচার হবে, গরু-ছাগলের হবেনা।

14)স্রষ্টা ছাড়া যদিকিছু সৃষ্টি না হয়। অর্থাত বলা হয় আল্লাহ না থাকলে এত সৃষ্টি হল কিভাবে এবং সুনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিভবে? তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?

উত্তর: প্রশ্ন করলেন, “স্রষ্টা ছাড়া যদি কিছু সৃষ্টি না হয়। তাহলে স্রষ্টা ছাড়া আল্লাহর নিজের সৃষ্টি কিভবে হল?” ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম “এক্স” নামকবস্তু আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে। তবে, এবার বলুন তো এই “এক্স”কে কে সৃষ্টি করেছে?

15)মানুষকে লোভ দেখিয়ে কোন কাজ করানো বা ভয় দেখিয়ে কোন কাজ করানো অবশ্যই ঠিক নয়। তাহলে বেহেস্ত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিযে তাকে ধর্মের পথে আনানো কি সঠিক?

উত্তর: “ভালো করে পড়াশুনা কর, না হয় ফেল করবা”-এইভয় দেখিয়ে মা-বাবা যদি সন্তানকে উপদেশ দিতে পারে তবে বেহেশত-দোজখের লোভ বা ভয় দেখিয়ে ধর্মের পথে আনা সঠিক হবে না কেন?

16)বৃষ্টিপাত নাকি মিকাইল ফেরেস্তা নিয়ন্ত্রন করেন। বৃষ্টিপাতের সিস্টেম আজ মানুষের জানা সেই সিস্টেমে মিকাইল ফেরেস্তার প্রয়োজন কোথায়? মানুষ বর্তমানে কৃত্রিম ভাবেও বৃষ্টি নামাচ্ছে। এটাকি মিকাইল ফেরেস্তার কাজে হস্তক্ষেপের সামিল নয়? তারপরেও তিনি নীরব কেন?

উত্তর: আচ্ছা, আজরাইল ফেরেশতা তো মানুষের জান কবজ করে। যখন মানুষ আত্মহত্যা করে তখন কী আজরাইলের কাজে হস্তক্ষেপ ঘটে? কী মনে হয়?

17)মৃত্যুর পর হিসাব নিকাশের পর বেহেশত দোযখ বরাদ্দ হবে, তাহলে কবরের আযাব কি জিনিশ? ঐখানে কিসের বেসিসে পানিশম্যান্ট দেয়া হবে? যদি মৃত্যুর পরপরি কাউকে বেহশত এর সুখ আর দোযখের কষ্ট ভোগ করান শুরু হয়ে যায় তাহলে শেষবিচারের দরকার টা কি?

উত্তর:সেই সহজ ব্যাপারটাও বুঝলেন না! একজন খুনীকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন কী করা হয়?তাকে হাজতে নেয়া হয়, এজাহার,চার্জশীট প্রস্তুত করা হয়, কোর্টে চালান করা হয়, জেলে নেয়া হয়, রিমান্ডে নেয়া হয় , স্বাক্ষ্য-প্রমাণ আনা হয়,বিচার করা হয়, সবকিছু প্রমাণ হলে তার ফাসীঁ হয়। ঠিক তেমনি কবর আযাব হচ্ছে রিমান্ড ও বিচারাদির প্রাথমিক প্রক্রিয়া আর শেষ বিচার হচ্ছে চুড়ান্ত বিচার যার পরেই হবে আসল শাস্তি বা মুক্তি।কথা বুঝে এসছে?

Friday, March 14, 2014

নাস্তিকব্রেনের error: ঈশ্বর অদৃশ্য তাই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই [পার্ট ১]

- No comments
 collected from
Farhad Hossain Mithu
মানুষের ব্রেনকে বলা হয় মহাবিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জটিল বস্তু।ব্রেন আল্লাহ্‌ তাআলার এক অসাধারণ সৃষ্টি যার রহস্য এখনো মানুষ সমাধান করতে পারেনি। এই ব্রেন দিয়েই একদল মানুষ আল্লাহ্‌ তাআলার আনুগত্য করতে শিখে আরেকদল শিখে আল্লাহ্‌ তাআলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর নাফরমানী করতে।

আমাদের ব্রেন পৃথিবীটাকে দেখে True/False এক্সাম হিসেবে।এই জন্য সাইকোলজিস্ট Daniel Gilbert বলেছেন কোন তথ্যকে প্রসেস করতে হলে আমাদের ব্রেনকে অবশ্যই সেই তথ্যটাকে প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে। ১ সেকেন্ডের অর্ধেক হলেও সে তথ্যটা ব্রেন বিশ্বাস করবে। যেমন ধরুন আমি আপনাদের 'গোলাপি' রংয়ের হাতিদের সম্পর্কে চিন্তা করতে বললাম।আপনারা সবাই জানেন যে 'গোলাপি হাতি' বলতে কিছু নেই। কিন্তু যখন আপনি 'গোলাপি রংয়ের হাতি' শব্দগুলো পড়লেন তখন অল্প সময়ের জন্য আপনার ব্রেনে গোলাপি রংয়ের হাতির একটা ছবির সৃষ্টি হয়েছিল।অর্থাৎ কোন বিষয়কে অস্তিত্বহীন প্রমাণ করার জন্য আপনার ব্রেনকে প্রথমে সেই বিষয়টার অস্তিত্ব আছে বলে বিশ্বাস করতে হয়।

বেশীরভাগ নাস্তিকরা যখন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করে তখন তার ব্রেন স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টিকর্তার একটা ইমেজ তৈরী করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার ব্রেন 'Error' সাইন দেখায় ।কারণ সৃষ্টিকর্তার সঠিক ইমেজ মানুষের দ্বারা সৃষ্টি করা সম্ভব না। এই জন্য নাস্তিকরা প্রশ্ন করে ' আমরা সৃষ্টিকর্তাকে কেন দেখি না?' ।এমনকি একজন আস্তিকও যখন সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কে চিন্তা করে , আরশকে ধরে রাখা ফেরেশতাদের সম্পর্কে চিন্তা করে কিংবা জান্নাতের প্রাসাদ সম্পর্কে চিন্তা করে তখন তার ব্রেনে একধরনের ইমেজ তৈরী করে,কিন্তু যারা ভাল প্রাক্টিসিং মুসলিম তারা জানে যে এইসব কল্পনা করা সম্ভব না।

ব্রেনের ডাটা প্রসেসিং এর এই পদ্ধতি হল ধ্রুবক , সব মানুষের ব্রেনেই এই বৈশিষ্ট্য ছিল , থাকবে। এটাকে নিউরোলজিক্যাল কন্সট্যান্টও বলা যায়। আর তাই আমরা দেখি ব্রেনের দ্বারা ধোঁকা খেয়ে যুগে যুগে ভ্রান্তরা ' আমরা সৃষ্টিকর্তাকে কেন দেখি না?' এই প্রশ্নটা করেছে। বনী ঈসরাইলরাও এই প্রশ্নটা করেছিল। পবিত্র ক্বুরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেছেন--

" আর যখন তোমরা বলেছিলে , 'হে মুসা! আমরা আল্লাহকে প্রত্যক্ষভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনো বিশ্বাস করব না ।' তখন তোমরা বজ্রাহত হয়েছিলে এবং নিজেরা তা প্রত্যক্ষ করেছিলে।" [সূরা বাক্বারাহ, আয়াত-৫৫]

মূর্তিপূজারীদের
ভ্রান্ত হবার অন্যতম কারণও হল এটা।

এখন প্রশ্ন হল , তাহলে আমরা কিভাবে স্রষ্টার অস্তিত্বকে বিশ্বাস করছি? এর উত্তর হল যে, ব্রেন শুধু উপরিউক্ত সিস্টেমেই ডাটা এনালাইজ করে না। ডাটা যত জটিল হবে এনালাইসিসের পদ্ধতিও জটিল হবে। যেমন ধরুন আমি বললাম 'ধসূর 'রংয়ের হাতি আছে। তখন আপনার ব্রেন 'গোলাপি রংয়ের হাতি' ডাটাকে এনালাইজ করতে যতটুকু সময় নিয়েছিল তার থেকে অল্প সময়ের মধ্যে 'ধসূর রংয়ের হাতি' ডাটাকে এনালাইজ করতে পারবে কারণ আপনি ধসূর রংয়ের হাতি দেখেছেন। কিন্তু আমি যদি বলি আর্কিমিডিসের গণিতের সমস্যা Problema Bovinum এর সমাধান করতে গেলে যে ফার্মার সমীরকরণ , V^2 - du^2 = 1 পাওয়া যায় সেখানে d=410286423278424 হবে , এটা কি সত্য নাকি মিথ্যা যাচাই করুন । তাহলে কিন্তু ব্রেনকে খুব সময় নিতে হবে এবং খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে ডাটাটাকে প্রসেস করতে।

নাস্তিকদের সমস্যাই হল এটা যে এদের ব্রেন প্রথম পদ্ধতিতে ডাটা এনালাইজ করে ,অর্থাৎ এরা অলস মস্তিষ্কের অধিকারী। এরা অনেক তথ্য-প্রমাণকে ইগনোর করে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায় না ,সীরাহ্‌ পড়তে চায় না পড়লেও বিধর্মীদের লেখা সীরাহ্‌ পড়ে।

কিন্তু বিশ্বাসীরা ধৈর্য ধরে আল্লাহ্‌ তাআলার নিদর্শনগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্বুরআন ও সীরাহ্‌ থেকে জ্ঞান অর্জন করে ঈমানকে মজবুত করে।

সবশেষে বলব , যারা এখনো সন্দেহে আছেন আল্লাহ্‌ তাআলার অস্তিত্বের বিষয়ে , কবরের আযাবের বিষয়ে , জান্নাত-জাহান্নামের বিষয়ে, ফেরেশতাদের অস্তিত্বের বিষয়ে তারা জেনে রাখুন আপনারা আপনাদের ব্রেনের চিন্তা করার অলস পদ্ধতির কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আপনাদের চিন্তা করার পদ্ধতি পাল্টান না হলে হয়তো আপনি সারা জীবন আল্লাহ্‌ তাআলার নাফরমানী করে কাটাবেন নাহলে মূর্খ নাস্তিকদের মত কাটাবেন।

Monday, October 7, 2013

নাস্তিকতার অন্ধ বিশ্বাস

- No comments

নাস্তিকতার অন্ধ বিশ্বাস

 by মুক্তির পথিক

ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক অবনমনের পর এবং ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের উত্থানের পর একটা বিশাল সময় ধরে তথাকথিত আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের মুখে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে অন্ধ বিশ্বাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এখনও সমাজতন্ত্রীরা স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে আফিমতুল্য মনে করে, বিজ্ঞান কর্তিক স্রষ্টাকে আবিষ্কার করার ব্যর্থতা এবং বিবর্তনবাদ তাদের আত্মতৃপ্তির পালে হাওয়া দিয়েছিল। নিম্নে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করব যে, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস অন্ধ বিশ্বাস, নাকি নাস্তিকতা অন্ধ বিশ্বাস। এইখানে clear হয়ে নেয়া ভাল যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, ফ্রীডম, গণতন্ত্র প্রভৃতি ধারণাগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা হারাবে। অর্থাৎ স্রষ্টা প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার বাইরে অন্য সকল জীবনব্যবস্থা বুদ্ধিদীপ্ত মনের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
প্রথমে, আমরা দেখব যে, science or scientific way দিয়ে স্রষ্টাকে প্রমান করা কতটা যৌক্তিক। বস্তুত, science শুধুমাত্র ঐসব বিষয় নিয়ে মতামত দিতে পারে, যেইসব বিষয় মাপার বা পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা তার আছে। উদাহরণস্বরূপ, ১ টা ৫ ফুট লম্বা টেবিল যে ৫ ফুট, এইটা science তখনি বলতে পারবে, যখন তার কাছে ফুট এর সংজ্ঞা জানা থাকবে। কিন্তু টেবিলকে মাপতে পারলেও কোন ব্যক্তি এটা বানিয়েছে, বা আদৌ এটা কেউ বানিয়েছে কিনা, কিংবা সে দেখতে কেমন, কি খায়, কি পরে এইসব প্রশ্নের উত্তর science দিতে পারেনা। science শুধু বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করে তার বৈশিষ্ট্য আমাদেরকে জানাতে পারে। কিন্তু বৈশিষ্ট্যের কারণ জানাতে পারেনা। যেমন ২ টা H ১ টা o এর সাথে মিলে পানি তৈরি করে, কিন্তু কেন পানিই তৈরি করল, আগুন কেন তৈরি করলনা, এই ব্যপারে science নীরব। সে শুধু বস্তুর গুনাগুন বা বৈশিষ্ট্য বলতে পারে, ততটুকুই যতটুকু মাপার ক্ষমতা তাকে দেয়া আছে। তাই এই সীমিত science কে দিয়ে স্রষ্টাকে খুঁজে না পেলেই যে তাকে অস্বীকার করতে হবে, এটা হাস্যকর।
দ্বিতীয়ত, অনেকেই logical method ব্যবহার করে স্রষ্টার অস্তিত্ব বুঝার জন্য (যেমন Zakir Nayek)… কিন্তু এর দুর্বলতা হল যে, logic সবসময় ১ টা premise এর উপর ভর করে চলে। premise যদি ভুল হয় তাহলে, logic এর answer ভুল হবে। যেমন ধরুন, কেউ বলল, “ কাঠ আগুনে পুড়ে, রফিকের নৌকাটি কাঠের তৈরি, তাই ওটাও আগুনে পুড়বে”......... এই কথাটি মিথ্যা হবে যদি, নৌকাটি পানিতে ডুবানো থাকে। এখন logic সবসময় যে premise নিয়ে কাজ করে তা যে comprehensive হবে তার কোন মানে নেই। অন্য একটা উদাহরণ দেই, “বাঙ্গালীরা দুর্নীতিবাজ, ফারযানা একজন বাঙ্গালী, সুতরাং সেও দুর্নীতিবাজ”...... এই কথাটা সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে। কোন guarantee নাই। তাই logic দিয়ে স্রষ্টাকে প্রমান করার প্রমান যেমন আছে, অপ্রমান করার প্রমাণ ও আছে। logical method চূড়ান্ত ও সুনিদৃস্ট কোন সিদ্ধান্ত দেয়না।
এইবার আসি চিন্তার ঐ পদ্ধতিতে যা মানবজাতি সার্বজনীনভাবে তার জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করে থাকে। আর তা হল, rational method. এই পদ্ধতিতে মানুষ তার চারপাশের বস্তুসমুহকে তার ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করে। সেই বস্তু সম্পর্কে তার কাছে কিছু previous information থাকে। সেই previous information কে use করে সে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সব মানুষই এই পদ্ধতিতে চিন্তা করে থাকে। scientific method আর logical method কে rational method এর শাখা বলা যেতে পারে। মানুষ কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তার একটা উদাহরণ দেই। যখন আপনার দরজায় কেউ knock করে, তখন আপনি কিন্তু মাপতে বসেন না যে, কত frequency তে sound wave টা আসল, তারপর হিসাব করেন যে একজন মানুষ কত জোরে বা কত frequency তে আঘাত করতে পারে, তারপর দরজা খুলেন। না, আমরা কেউই এইভাবে সিদ্ধান্ত নিইনা। বরং দরজায় knock করলে তা আমরা ইন্দ্রিয় (শ্রবণ) দ্বারা উপলব্ধি করি, আমাদের মস্তিষ্কে এর ব্যপারে previous information আছে যে, knock করা মানে কেউ এসেছে, এবং তখন আমরা দরজা খুলার সিদ্ধান্ত নিই। তার মানে দাঁড়াল যে, rational method এ সিদ্ধান্ত নিতে যে কয়টা জিনিষ লাগে, তা হল
১. বাস্তবতা
২.ইন্দ্রিয় দ্বারা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা
৩.বাস্তবতা সম্পর্কে previous information
4.previous information এর সাথে link করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ sound mind
হুমমমমমমমম, মনের মধ্যে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে, স্রষ্টার কোন বাস্তবতা আমাদের সামনে নেই যে আমরা তাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করব, তাহলে স্রষ্টার অস্তিত্ব এই পদ্ধতিতে বুঝব কিভাবে??............... ১০০% correct. আপনার দরজায় নক করলে আপনি দরজার বাইরে কারো অস্তিত্ব বুঝতে পারেন, কিন্তু যিনি নক করছে, তিনি কি পুরুষ না মহিলা, ফর্সা নাকি কালো তা কিন্তু বুঝার উপায় নেই। কিন্তু তার অস্তিত্ব বুঝা যায়। আমাদের সামনে স্রষ্টার বাস্তবতা না থাকলেও সমস্যা নেই। আমাদের চারপাশে যে বস্তুসমুহ আছে, যাদেরকে আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি, চলুন সেগুলোকে rational study করে দেখি। আমরা আমাদের আশপাশের প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করব, এবং দেখব আদৌ কোন স্রষ্টার প্রয়োজন আছে কিনা। এখানে মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতিতে আমরা দেখব মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছে কিনা, কিন্তু তিনি দেখতে কেমন, কিভাবে কাজ করেন তা rationally জানা সম্ভব নয়, কারণ উনি আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে, তাকে জানতে হলে একটা পদ্ধতিই আছে, আর তা হল উনি যদি নিজে থেকে আমাদেরকে জানান (পরে আলোচনা করা হবে)।
আমাদের চারপাশের প্রত্যেকটি বস্তুর মধ্যেই ২ টি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এরা প্রত্যেকেই সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল। যেমন, গাছ আকার আকৃতি, দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য, পানি এগুলর উপর নির্ভরশীল। মানুষ নানা দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল। আলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য, গতি দ্বারা সীমাবদ্ধ, নির্ভরশীল উৎস কিংবা রুপান্তর প্রক্রিয়ার উপর। প্রত্যেকটি বস্তু নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল। এবং এরা কেউই নিজেরা নিজেদের অস্তিত্তের জন্য দায়ী নয়। যদি নিজেরা নিজেদেরকে অস্তিত্তে আনত তাহলে সীমাবদ্ধতা আর দুর্বলতার উর্ধে থাকত।
যদি ধরে নেই যে, নির্ভরশীলতায় একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং কোন স্রষ্টার দরকার নেই, তাহলে আদিকাল থেকে চলে আসা ঘটনা বা বস্তুসমুহের সরুপ দাঁড়ায়,
…..y
এইটা অসম্ভব, কারণ কোন শুরু না থাকলে, v, w, x, y এদের কারো অস্তিত্তে আসা সম্ভব নয়। একটা উদাহরণ দেই। আপনি একটা ক্রিকেট দলের ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান। আপনি কয়জনের পর নামবেন? ৯ জনের পর। আপনি কোন দলের ১০০ তম ব্যাটসম্যান হলে নামবেন ৯৯ জনের পর। আপনার দলে যদি অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে আপনি কবে নামবেন? কখনই নামবেন না, কারন আপনার পূর্বে অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে (অর্থাৎ শুরুও নাই, শেষ ও নাই)... আপনার আগেরজনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক, তার আগের জনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক............ সুতরাং কোন ব্যাটসম্যানই নামতে পারবেনা, কারণ প্রত্যেকের পূর্বেই আছে অসীম সংখ্যক...... অর্থাৎ কোন শুরু যদি না থাকে তাহলে কেউই exist করেনা। অসীম এই শব্দটা শুধু mathematical ব্যপারে use করা হয়, বাস্তবতায় কোন কিছুই অসীম নয় (আমাদের চেনা বাস্তবতায়)। সুতরাং একটা শুরু আছে...আরেকটা উদাহরণ দেই, আপনাকে যদি বলি ১০ থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত আসেন, আপনি গুণতে পারবেন, কিন্তু যদি বলা হয়, অসীম থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত গুনেন, it’s impossible ….. আপনি শুরুই করতে পারবেন না এবং ৯৯ তেও আসতে পারবেন না। ৯৯ তে আসতে হলে শুরু আপনাকে করতেই হবে। সুতরাং মহাবিশ্বের শুরু আছে, এবং সে নিজে নিজে তা শুরু করেনি।
wait…. Wait….. wait…. The atheists still didn lose hope….. তারা বলছে zyxwvz অর্থাৎ এটা একটা বৃত্তাকার চক্র........(NICE!!!) অর্থাৎ Z থেকে শুরু হয়ে আবার Z এ এসে মিশেছে। এবং Z হল INITIATOR. অর্থাৎ চক্রটাকে ছোট করলে হয় যে Z Y….(প্রথম আর শেষ বস্তু)... সুতরাং z, y এর উপর নির্ভরশীল, আর y, z এর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু z না থাকলে তো y existence এ আসতে পারেনা, আবার y না থাকলে zআসতে পারেনা। তাহলে হয় দুইজন একইসাথে exist করে অথবা দুইজনই তাদের অস্তিত্বে আসার জন্য এই বৃত্তের বাইরে তাদের কোন স্রষ্টার উপর নির্ভরশীল।
দুইজন একসাথে exist করলে সমস্যা আছে। তাহলে পৃথিবীর তথা মহাবিশ্বের সব ঘটনাকে একসাথে exist করতে হবে... অর্থাৎ আমি , আমার দাদা, আমার দাদার দাদার দাদার দাদা, আমার নাতি, আমার নাতির নাতির নাতি সবাইকে একসাথে exist করতে হবে। কিন্তু আমরা বাস্তবতায় এটা দেখিনা। উপরন্তু z যেহেতু y এর উপর নির্ভরশীল, সেহেতু Y এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা INITIATOR z এর নাই। তার মানে y, তার অস্তিত্তের জন্য z এর উপর নির্ভরশীল নয় (বিবর্তনবাদ খাইল বাঁশ)... একইভাবে z এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণ y নয়। তাই z ও y এর উপর নির্ভরশীল নয়। এরা প্রত্যেকেই এদের অস্তিত্তের জন্য এদের চক্রের বাইরের কারো উপর নির্ভরশীল।
সুতরাং মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে অস্তিত্তে আনেনি, এবং এর পুর অস্তিত্ব অন্য কারো উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছে। এবং সেই স্রষ্টা মহাবিশ্বের উপর dependentনন, কারণ তাহলে তিনিও চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং তিনিও অস্তিত্তের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্তে আসলাম এই মহাবিশ্বের অস্তিত্তের জন্য একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য। স্রষ্টা ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব অসম্ভব। সুতরাং পরের আলোচনা হতে পারে,
Who is the Creator of the Creator…..