Showing posts with label ইসলামের ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইসলামের ইতিহাস. Show all posts

Saturday, May 3, 2014

এক টুকরো হারানো মতি

- No comments
এক টুকরো হারানো মতি ! 
collected from সালাউদ্দিনের ঘোড়া


আজ ইসলামের স্বর্ণযুগের এমনই একজন বিস্ময়কর নাম না জানা মুসলিম যোদ্ধার কথা আমরা আলোচনা করবো যার বীরত্বের তুলনা শুধু মুসলিম কেন, বাকি বিশ্বেই কম আছে।

রাসুলুল্লাহ সাঃ এর ইন্তেকালের পর আরব পেনিন্সুলার বিরাট অংশ জুড়ে ধর্মত্যাগের ফিতনা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। আবু বকরের মতো কোমল হৃদয় মানুষের অনমনীয় দৃঢ়তার ফলে ধর্মত্যাগের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে নামে মুসলিম বাহিনী। এমন কোন সাহাবা খুঁজে পাওয়া যায় না, যিনি যুদ্ধে অংশ নেননি। এদের নেতৃত্বের ভার আবু বকর রাঃ তুলে দেন অন্যান্য সাহাবাদের তুলনায় পরে ইসলাম গ্রহণকারী খালিদ বিন ওয়ালিদের হাতে, যাঁকে রাসুলুল্লাহ সাঃ ‘সাইফুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর তলোয়ার’ উপাধি দিয়ে গেছেন। সাইফুল্লাহ বা খালিদ বিন ওয়ালিদ সামান্য সেনা নিয়ে বিরাট সব বাহিনীর বিরুদ্ধে অসাধারণ সব বিজয় লাভ করতে শুরু করেন। সমর ইতিহাসের সেরা সব পরিকল্পনা আর বীরত্বের ইতিহাস রচিত হতে শুরু করে খালিদের হাতে। ছোট কিংবা বড় কোন যুদ্ধক্ষেত্রেই পরাজয় নামের কোন শব্দ খালিদের সাথে যায়না। ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধটি হয় ভন্ডনবী মুসায়লামার বিরুদ্ধে। রক্তক্ষয়ী সে যুদ্ধের পর আরব উপদ্বীপের ধর্মত্যাগীদের ফিতনা প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। আবু বকর রাঃ এরপর খালিদকে তখনকার পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্যে আক্রমণ করার কঠিন অ্যাসাইনমেন্ট দেন। এরই মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ দীর্ঘদিনের নিরবিচ্ছিন্ন যুদ্ধে ক্লান্ত তাঁর সেনাদলকে পারস্য আক্রমণের জন্য আদেশ না করে তাদের জন্য তা ঐচ্ছিক করে দেন। ক্লান্ত যোদ্ধাদের অধিকাংশ বিশ্রামের অপশন গ্রহণ করে, যেহেতু তারা প্রায় এক বছরের মতো সময় পরিবারের বাইরে যুদ্ধক্ষেত্রে কাটাচ্ছে।

খালিদ রাঃ এমন পরিস্থিতিতে মদীনায় খলিফা আবু বকর রাঃ এর কাছে আরো সেনা পাঠিয়ে চিঠি লিখেন। আবু বকর রাঃ তাঁর উপদেষ্টাদের সাথে আলোচনারত ছিলেন এমন অবস্থায় খালিদের চিঠি তাঁর হাতে পৌঁছে। তিনি সশব্দে চিঠিটি পড়লেন যাতে সবাই শুনতে পায়। চিঠি পাঠ করার পর আবু বকর রাঃ কা’কা বিন আমর নামে এক যোদ্ধাকে খবর পাঠান।
কিছুক্ষণ পর কা’কা বিন আমর যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে আবু বকরের কাছ হাজির হন। খলিফা তাঁকে অবিলম্বে ইয়ামামায় খালিদের সাথে যোগদান করার জন্য নির্দেশ দেন। খলিফার সঙ্গীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি একজন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে সেই বাহিনীর শক্তি বাড়াতে চান, যার অনেক সৈন্য বিশ্রামে আছে?” আবু বকর রাঃ কিছুক্ষন কা’কা বিন আমরের দিকে তাকিয়ে জবাব দেন, “সে বাহিনী পরাজয় বরণ করবে না, যাতে এই তরুণের মতো যোদ্ধা থাকবে”।

কা’কা খালিদের বাহিনীর সাথে যোগদান করার জন্য বিদ্যুৎ বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে দেন। খালিদের পত্রের প্রেক্ষিতে আবু বকর কা’কা বিন আমর কে একা পাঠানোতে খালিদ কিছুটা বিস্মিত হলেও নিঃসন্দেহ হন, কেননা আবু বকর রাঃ এর বিচক্ষণতা সম্বন্ধে তাঁর কোন সন্দেহ ছিলো না। তিনি কা’কাকে সেনাদলের বিভিন্ন ট্রুপের কমান্ডার নিযুক্ত করেন। সেই থেকে কা’কা প্রমাণ দিতে শুরু করেন কেন তাঁকে একাই একদল সৈন্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কখনো মুসলিম বাহিনীর অগ্রবর্তি দলের নেতা, কখনো গতিময় অশ্বারোহী টহল দলের নেতা, কখনো সম্মুখ যুদ্ধে ডুয়েল লড়াইয়ে কা’কা অসামান্য ক্ষিপ্রতা ও বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তবে তাঁর প্রতিভার সবচেয়ে সেরা প্রমাণ তিনি দেখান তিনি ‘শিকলের’ যুদ্ধে।

পারস্যে মুসলিম বাহিনীর প্রথম বড় যুদ্ধ হলো এই শিকলের যুদ্ধ যা কাজিমা নামক স্থানে সংগঠিত হয়। মুসলিম বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য দাস্ত মেইসানের গভর্নর ও ১ লক্ষ দিরহাম মূল্যের ক্যাপ পরিধানকারী জেনারেল হরমুজ তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে হাজির হয়। তখনকার দিনে পারস্যে সেনা কমান্ডারদের র‍্যাংক ও সম্মান নির্ধারিত হতো ক্যাপের মূল্যের ভিত্তিতে। পাঁচশ-এক হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামী ক্যাপ ছিলো র‍্যাংক বিন্যাসে। আর এর ভেতর সবচেয়ে দামী ক্যাপটি ছিলো এক লাখ দিরহামের। হরমুজ ছিলো এই এক লক্ষ দিরহাম ক্যাপ জেনারেল। তাঁর সামরিক দক্ষতা ছিলো পারস্য বাহিনীর ইতিহাসে ঈর্ষণীয়। হরমুজ যুদ্ধে পারস্যের যুদ্ধের পূর্বতন ট্রাডিশন অনুযায়ী তার সৈন্যদের গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে পরস্পরকে শিকলের সাহায্যে জুড়ে দেন। এর ফলে সুবিধা ছিলো এই যে, প্রতিপক্ষ বাহিনীর পক্ষে বুহ্য ভেদ করে ঢোকা ভীষণ কষ্টকর হতো এবং তারা সহজেই শেকলের ঘেরাওয়ের ভেতর পড়ে আটকা পড়তো। এছাড়াও পারস্য সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাবার চিন্তা বাদ দিতে বাধ্য হয়ে মরনপণ যুদ্ধ করতো।

শিকলের যুদ্ধের আগেই সমগ্র আরব উপদ্বীপে ও সমগ্র পারস্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ এর বীরত্বগাঁথা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে বসতে থাকে যে, যে যুদ্ধে খালিদ থাকবে, সেখানে প্রতিপক্ষের পরাজয় অনিবার্য। আর সেজন্যই হরমুজ যুদ্ধের নিয়ম ভেঙে এক ভয়াবহ পরিকল্পনা আঁটে। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন সে তার অন্যান্য জেনারেলদের নিয়ে পরিকল্পনা করে যে, পরদিন সে খালিদকে অস্ত্রহীনভাবে খালি হাতে দ্বৈত যুদ্ধের আমন্ত্রণ জানাবে। খালিদ কাছে এলে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা কয়েকজন চৌকশ ঘোড়সওয়ারের একটি দল অতর্কিতে আক্রমণ করে তাঁকে হত্যা করবে। খালিদকে হত্যা করলে মুসলিম বাহিনীর মনোবল নষ্ট হয়ে যাবে আর তখন তাদের সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। পরিকল্পনা মতো যুদ্ধের দিন অতর্কিতে আক্রমণকারী বাহিনী প্রস্তুত হয়ে থাকে। সবকিছুই প্রস্তুত তাদের পরিকল্পনা মতো। তবে আল্লাহ যেভাবে কুরআনে বলেছেন, “তারা ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহ্‌ও পরিকল্পনা করেন। আর আল্লাহ্‌ হলেন শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী”, সেদিন সকালে আবার তা আবার প্রমাণিত হয়।
হরমুজ তার বাহিনী থেকে বেরিয়ে খোলা ময়দানে এসে খালিদ রাঃ কে দ্বৈতযুদ্ধের আহবান জানায়। খালিদ রাঃ সে আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন। প্রথমে অস্ত্র সহ দ্বৈত যুদ্ধের সূচনা হয়। উভয়ে উভয়কে মরনপণ আঘাত করতে থাকে কিন্তু একে অপরের আঘাত এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। উভয় মহান যোদ্ধা পরস্পরের নৈপুণ্যে বিস্মিত হন। এক সময় হরমুজ অস্ত্র ফেলে খালিদকে খালি হাতে কুস্তি লড়বার আমন্ত্রণ জানায়। খালিদ সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। কুস্তি শুরু হবার সাথে সাথে হরমুজ খালিদকে শক্ত করে ধরে চিৎকার করে তার গোপন বাহিনীকে সাহায্যের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। খালিদ রাঃ কিছু বুঝে উঠার আগেই পারস্যের অশ্বারোহী একটি দল তাদের ঘিরে ফেলে উদ্ধত অস্ত্র হাতে। খালিদ রাঃ বুঝে ফেলেন তাঁকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, কিন্তু ততোক্ষণে কিছুই করার নেই। তবে আল্লাহর কৃপায় খালিদ হঠাৎ এমন একটি কাজ করেন যাতে ঘেরাও করা দলটি কিছুক্ষণের জন্য আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। তিনি হরমুজকে চেপে ধরে মাটিতে পড়ে যান এবং অনবরত মাটিতে গড়াতে শুরু করেন। এর ফলে খালিদকে আঘাত করতে গেলে হরমুজ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে-এই সমস্যার জন্য দলটি আঘাত করা থেকে বিরত থাকে।

ইতিমধ্যে দুই বাহিনী দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে দুরকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। পারস্য বাহিনী খুশিতে চিৎকার করে ওঠে আর মুসলিম বাহিনীতে উৎকণ্ঠার নিরবতা ছেয়ে যায়। এমনি সময় কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সবাই দেখতে পায় মুসলিম বাহিনীর এক ঘোড়সওয়ার বিদ্যুতের মতো এগিয়ে এসে চোখের পলকে হরমুজের গোপন বাহিনীর তিনজনের গর্দান অড়িয়ে দিয়েছে। সামান্য সময়ের ভেতর বাকী অন্য কয়জনও এই যুবকের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই যুবকই হলেন আবু বকরের পাঠানো একজনের সেনাবাহিনী কা’কা বিন আমর। কা’কা হরমুজের সাথে খালিদের সাথে কুস্তি শুরু হবার পরই চারদিকে চোখ রাখতে শুরু করেন এবং গোপন বাহিনী বেরিয়ে আসার পর পরই ষড়যন্ত্র হচ্ছে বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত খালিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। সেই পরিস্থিতি এত দ্রুত ব্যবস্থা দাবী করছিলো যে, তিনি অন্য কাউকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে তাঁর সাথে এগিয়ে যাবার আহবান জানানোকেও সময় অপচয় বলে ভাবলেন। আর এভাবেই আল্লাহর তাঁর তরবারীকে কা’কার ক্ষিপ্রতার মাধ্যমে রক্ষা করেন। মুসলিম বাহিনী আল্লাহু আকবার বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে।

কা’কার তৎপরতার পর খালিদ উঠে গিয়ে এক আঘাতে হরমুজের জীবন সাঙ্গ করেন। লক্ষ দিরহামের জেনারেল হরমুজকে হারিয়ে মনোবল ভেঙে পড়ে পারস্য বাহিনীর। স্বল্প সংখ্যার মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দেন আল্লাহ্‌।
কা’কা বিন আমরের সামরিক দক্ষতার যে ইতিহাস, তা দিয়ে কয়েক ডজন ব্রেভহার্ট ধরণের চলচিত্র তৈরী করা সম্ভব। নিজের দক্ষতাকে প্রচার করতে চাইলে তাঁর নাম ও খ্যাতি আরো ছড়াতো এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে তিনি খ্যাতির জন্য লড়াই করেননি কোনদিন। তাঁর লড়াই ছিলো কেবল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য। আর তাই ব্যক্তিগত বীরত্বে ভরা তাঁর জীবনে তিনি কোনদিন এসব কৃতিত্বের জন্য গৌরব বোধ করতেন না। সমরাঙ্গনের বাইরে লাজুক ও মুখচোরা ধরণের এই অনন্য সাধারণ লোকটি যুদ্ধের বাইরের সময়টা আল্লাহ্‌র ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। ঘোড়ার পিঠে আর তরবারীর ছায়ায় যেমন ক্ষিপ্র ছিলো তাঁর জীবন, ততোধিক গোপনে ও নিরবে তিনি অশ্রু ঝরাতেন আল্লাহ্‌র কাছে। প্রতিটি রাতের নিকষ কালো আঁধারে।

Monday, April 7, 2014

যেদিন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলল......(কন্সট্যান্টিপোল বিজয়াভিজান)

- No comments
from brother Abdul Hai 



আজও তুরস্কের অনেক পিতামাতা তাদের আদরের সন্তানের নাম 'মুহাম্মাদ ফাতেহ' রেখে থাকেন।কেননা এ নামটি ইসলামী ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।উসমানী খিলাফতের সপ্তম খলীফা সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) ছিলেন একজন মুজাহিদ সুলতান ,যাঁর মাধ্যমে নবী করিম (সাঃ) এর এর একটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।হযরত বিশর বিন সুহাইম(রাঃ) থেকে সে ভবিষ্যত বাণীটি বর্ণিত হয়েছে-

لتفتحن القسطنطنية فلنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش

"নিশ্চয়ই তোমরা কন্সট্যান্টিপোল বিজয় করবে।তার আমীর উত্তম আমীর হবে এবং সেই বাহিনী উৎকৃষ্টতম সেনাবাহিনী হবে।"(মুসনাদে আহমদ ৪/৩৩৫, হাদীস : ১৮৯৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৬০৩, হাদীস : ৮৩৪৯; মুজামে কাবীর, তাবারানী, হাদীস : ১২১৬)



মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রাজধানী কন্সট্যান্টিপোল জয় করেন।



১৬ই মুহরম ৮৫৫ হিজরী মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৪৪৫ খৃস্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) উসমানী খিলাফতের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর,কিন্তু অসম সাহস,অতুলনীয় প্রজ্ঞা, নিপুণ রণকৌশল ও গভীর ঈমানী জযবায় অল্প সময়েই তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের ছাড়িয়ে যান।

তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর তিনি খিলাফত পরিচালনা করেন।তাঁর শাসনামলে যেমন ইসলামের বিজয়াভিজানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল তেমনি সকল শ্রেণীর ও ধর্মের মানুষ ন্যায়বিচার, জান-মালের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার লাভ করেছিল।প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ইসলামী শাসনব্যবস্থার সুফল।

সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) এর শাসনামল বিভিন্ন দিক থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।তবে যা তাঁকে উম্মাহর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে তা হলো কন্সট্যান্টিপোল বিজয়।





ধর্মীয়,রাজনৈতিক ও ভৌগলিক দিক থেকে কন্সট্যান্টিপোল ছিল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।খৃস্টীয় তৃতীয় শতক থেকেই তা ছিল বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নগরী।কন্সট্যান্টিপোল নগরীর তিন দিকে জল, একদিকে স্থল।পশ্চিমে বসফরাস প্রণালী,দক্ষিণে গোল্ডেন হর্ণ ও উত্তরে মারমারা উপসাগর।তাই ভৌগলিক দিক অবস্থানের কারণে একে তখন বিশ্বের সুরক্ষিত নগরীগুলোর মধ্যে গণ্য করা হত।এছাড়া নগরীর প্রতিরক্ষাব্যাবস্থাও ছিল অতুন্ত শক্তিশালী। গোটা নগরীর চারপাশে ছিল একাধিক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র প্রহরা।এসব কারণে কন্সট্যান্টিপোল ছিল সে বিচারে এক অজেয় দুর্গ।এখানে মনে রাখতে হবে যে, সে যুগটা মিসাইল ও যুদ্ধবিমানের যুগ ছল না। তাই উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলোই তখন নগরীর সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল।কন্সট্যান্টিপোল জয়ের জন্য সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) তৎকালীন বিশ্বের সর্বাধুনিক রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সে সময়ের সবচেয়ে দূর পাল্লার কামান তিনিই তৈরি করেছিলেন।প্রস্তুস্তি সমাপ্ত করার পর তিনি অভিযান আরম্ভ করেন।তার স্থল বাহিনী নগরীর পূর্ব দিকে অবস্থান নিল এবং নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বসফরাস প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ল।কিন্তু বসফরাস প্রণালী থেকে 'গোল্ডেন হর্ণে' প্রবেশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।কেননা গোল্ডেন হর্নের মুখ শিকল দ্বারা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল এবং বাইজেন্টাইন রণতরীগুলো সেখানে অবস্থান নিয়ে গোলা নিক্ষেপ করছিল।প্রচন্ড যুদ্ধের পরও উসমানী নৌবহর গোল্ডেন হর্ন পদানত করতে সক্ষম হল না।অন্যদিকে বন্দর সুরক্ষিত থাকায় বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল পূর্বদিকে,সুলতানের স্থল বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য।তাই তাদের শক্তিকে বিভক্ত করার জন্য এবং দুই দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করার জন্য উসমানী নৌবহরের গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করা ছিল অপরিহার্য। প্রায় দুই সপ্তাহ অবিরাম যুদ্ধের পরও নৌপথে বিজয়ের কোন লক্ষণ দেখা গেল না।অবশেষে সুওলতান মুহাম্মাদ ফতেহ এমন এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা পৃথিবীর যুদ্ধের ইতিহাসে একমাত্র বিরল ও বিস্ময়কর হয়ে আছে।পাশ্চাত্যের কট্টর ঐতিহাসিকরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারেনি। গিবনের মত ঐতিহাহিকও একে 'মিরাকল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।





সুলতান ফাতেহ (রহ),মুজাহিদদের আদেশ দিলেন রণতরীগুলো ডাঙ্গায় তুলে দশ মাইল পথ অতিক্রম করে গোল্ডেন হর্নে নামাতে হবে, এই দীর্ঘ পথ পুরোটাই ছিল পাহাড়ী উঁচুনিচু ভূমি। এর উপর দিয়ে সত্তরটি রণতরী টেনে নেয়া ছিল এককথায় অসম্ভব।কিন্তু সুলতান ফাতেহ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।





পুরো পথে কাঠের পাঠাতন বিছানো জল, তাতে চর্বি মাখিয়ে পিচ্ছিল করা হল এবং এর উপর দিয়ে রণতরীগুলো টেনে নিয়ে যাওয়া হল।এভাবে টিলা ও পাহাড়ের উপর দিয়ে রাতের মধ্যে সত্তরটি রণতরী তিনি গোল্ডেন হর্ণে প্রবেশ করাতে সক্ষম হলেন।



সত্তরটি জাহাজের এই মিছিল সারারাত্রি মশালের আলোতে ভ্রমণ করেত থাকে। বাইজেণ্টাইন সৈন্যরা কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীর থেকে বসফরাসের পশ্চিম তীরে মশালের দৌড়াদৌড়ি লক্ষ্য করে।কিন্তু অন্ধকারের কারণে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।অবশেষে ভোরের অয়ালো যখন রহস্যের পর্দা উন্মোচন করে দেয়,ততক্ষণে মুহাম্মাদ ফাতেহের সত্তরটি রণতরী ও ভারী তোপখানা গোল্ডেন হর্নের উপরাংশে পৌঁছে গেছে। গোল্ডেন হর্নের মুখে প্রহরারত বাইজেন্টাইন নৌ সেনারা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দেখল যে, উছমানী রণতরীগুলো মৃত্যুদূতের মতো তাদের পিছন দিক থেকে ধেয়ে আসছে। এই ঘটনা ত্থেকে একটি প্রবাদ তৈরি হলঃ"যখন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলবে তখন বুঝবে কন্সট্যান্টিপোলের পতন অত্যাসন্ন।"

চূড়ান্ত আক্রমণের আগে সুওলতান মুহাম্মাস ফাতেহ(রহ) বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিনকে নগরী সমর্পণের পয়গাম পাঠালেন এবং নগরবাসীর জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিন্তু সম্রাট তা গ্রহণ করলেন না।এবার সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের প্রস্তুতি নিলেন।

ঐতিহাহিকগণ লেখেন,আক্রমণের আগে সুলতান ফাতেহ(রহ) বাহিনীর অধিনায়কদের তলব করে সকল মুজাহিদিকে এই পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার আদেশ করলেন যে,কন্সট্যান্টিপোলের বিজয় সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর একটি ভবিষ্যত বাণী সত্য হবে এবং তাঁর একটি মুজিজা প্রকাশিত হবে। অতএব কারো মাধ্যমে যেন শরীয়াতের কোন বিধান লঙ্গিত না হয়।গীর্জা ও উপসানালয়গুলোর যেন অসম্মান না করা হয়,পাদ্রী,মহিলা,শিশু এবং অক্ষম লোকদের যেন কোন ধরনের কষ্ট না দেওয়া হয়...।।'

৮৫৭ হিজরীর ২০ জুমাদাল উলার রজনী মুজাহিদগণ দুয়া ও ইবাদাতের মধ্যে অতিবাহিত করেন। ফজরের নামাজের পর সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের আদেশ দিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে ,"ইনশাআল্লাহ আমরা যোহরের নামাজ সেন্ট সুফিয়ার গীর্জায় আদায় করব।"



দ্বিপ্রহর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে থাকে।কিন্তু বাইজেন্টান বাহিনী অসাধারণ বীরত্বে একটি সৈন্যও শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে সুওলতান তার বিশেষ বাহিনী ইয়ানাচারী বাহিনীকে সাথে করে সেন্ট রোমান্স এর ফটকএর দিকে অগ্রসর হন। ইয়ানাচারী বাহিনীর প্রধান আগা হাসান তার ত্রিশ জন বীর সঙ্গীকে সাথে করে প্রাচীরের উপর আরোহণ করেন।হাসান ও তার আঠার সাথীকে প্রাচীর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তারা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন।অবশিষ্ট বারোজন প্রাচীরের উপর দৃঢ় অবস্থান করতে সক্ষম হন।তারপর উসমানী বাহিনীর অন্যান্য দলও একের পর এক প্রাচীরে আরোহণ করতে সক্ষম হন। এমনিভাবে কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীরে চন্দ্রখচিত লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।





বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিন এতক্ষণ বীরত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল।কিন্তু সে তার কিছু অসাধারণ বীর যোদ্ধার সাহস হারানোর পর নিরাশ হয়ে পড়ে।সে উচ্চস্বরে বলে-"এমন কোন খৃস্টান নেই কি, যে আমাকে খুন করবে।"

কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না পেয়ে সে রোম সম্রাট(কায়সারদের) বিশেষ পোশাক খুলে দূরে নিক্ষেপ করে,উসমানী সেনাবাহিনীর উন্মত্ত তরঙ্গের মধ্যে প্রবেশ করে সত্যিকার সৈনিকের মত বীরত্বের সাথে লড়তে লড়তে নিহত হয়।তার মৃত্যতে ১১০০ বছরের বাইজেন্টানের সেই রোম সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে ,যার সূচনা হয়েছিল প্রথম কন্সট্যান্টিনের হাতে এবং বিলুপ্তও হল আরেক কন্সট্যান্টিনের হাতে । তারপর থেকে কায়সায় উপাধিই ইতিহাসের উপখ্যানে পরিণত হয়ে যায়। এভাবে ইহ-পরকালের সর্দার মহানবী(সাঃ) এর এই বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়-"কায়সারের ধ্বংসের পর আর কোন কায়সার জন্ম নিবে না।"





আল্লাহ তাআলা তাঁর মুজাহিদ বান্দার কথাকে সত্য করেছেন।জোহরের সময় সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) বিজয়ীর বেশে কন্সট্যান্টিপোল নগরীতে প্রবেশ করেন। ইংরেজী তারিখ হিসাবে দিনটি ছিল ২৯ মে ১৪৫৩ ঈ.।সেন্ট রোমান্সের উপর(বর্তমান নাম TOP KOPY) উসমানী পতাকা উড়ছিল। সুলতান ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সিদজায় পড়ে গেলেন।

নগরীর অধিকাংশ খৃস্টান সেন্ট সোফিয়ায় আশ্র্য় নিয়েছিল।সুলতান তাদেরকে অভয় দিলেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা দান করলেন।

এরপর আযান দেওয়া হল।সাড়ে এগারো শত বছর যাবৎ যেখানে 'তিন খোদা'র উপাসনা হচ্ছিল সেখানে আজ তাওহীদের ধ্বনি উচ্চারিত হল।সকল ছবি ও মূর্তি সরিয়ে ফেলা হল।মুসলিম বাহিনী জোহরের নামাজ সেন্ট সোফিয়ায় আদায় করল।



সুলতান ফাতেহ(রহ) একে মসজিদে পরিণত করার ফরমান জারি করলেন। কেননা প্রথমত কন্সট্যান্টিপোলের সম্রাট আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই সুলতান এই গীর্জাকে পূর্বাবস্থায় বহাল রাখতে বাধ্য ছিল না। তদুপরি এটি ছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানদের কেন্দ্রীয় গীর্জা ।তাই এর সাথে বহু কুসংস্কার ও অলৌকিকতার বিশ্বাস জড়িত হয়েছিল। এই কুসংস্কারের মূলোৎপাটন প্রয়োজন ছিল।

কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) নগরীর খৃস্টন অধিবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করলেন এবং তাদেরকে তাদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন।



কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের এই ঘটনার পর কন্সট্যান্টিপোল যা বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত উসমানী খিলাফতের রাজধানীর রূপ লাভ করে এবং বহু শতাব্দী পর্যন্ত আলমে ইসলামীর মধ্যে তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।



তথ্যসূত্র-

১) জাহানে দিদাহ- শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী (দা বা)

২) Encyclopedia of Islam

৩) wikipedia

৪) ইসলামের ইতিহাস

৫) Encyclopedia of World History

৬) History of Decline & Fall of Roman Empire and History of Christianity- Edward Gibbon

৭)মাসিক আল-কাউসার।
* নোটটি ব্লগার ”অগ্রপথিক“ এর নিরলস প্রচেষ্টায় লিখিত। কিঞ্চিত পরিমার্জন করে প্রকাশ করা হলো

Tuesday, June 11, 2013

পরাশক্তি রোমের বিরুদ্ধে ইয়ারমুকের যুদ্ধের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা ও তার থেকে কিছু শিক্ষা

- No comments

পরাশক্তি রোমের বিরুদ্ধে ইয়ারমুকের যুদ্ধের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা ও তার থেকে কিছু শিক্ষা

by Rashedul Islam (Notes) on Tuesday, June 4, 2013 at 8:50pm


১৩ হিজরিতে  সেকালের পরাশক্তি  রোম -এর সাথে মুসলিমদের 'ইয়ারমুকের'  জিহাদ  চলাকালে জিহাদের ময়দানে রোমের এক বিখ্যাত সেনাপতি জুরজা সৈন্যদের সারি থেকে বেরিয়ে এসে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর সাথে কথা বলার প্রস্তাব দিলে দুই জনই কাছাকাছি আসেন।
জুরজা ও খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর মাঝে কথা চলছিলঃ
জুরজাঃ হে খালিদ,আপনি আমার সাথে সত্য কথা বলবেন, মিথ্যা নয়। কারণ স্বাধীন ও সাহসী ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলেন না। আমার সাথে প্রতারণা করবেন না। কারণ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি প্রতারণা করেন না। বলুন তো, আল্লাহ তা'য়ালা কি আপনাদের নবীর নিকট আকাশ  থেকে কোন তরবারি নাযিল করেছিলেন যে, নবী নিজে ওই তরবারি আপনাকে হস্তান্তর করেছেন। আর আপনি ওই তরবারি যার উপর চালান সে-ই পরাজিত হয়--- পরাস্ত হয়।

খালিদ (রাঃ):   না,  তা তো নয়। আল্লাহ সরাসরি কোন তরবারি নাযিল করেন নি।

জুরজাঃ তাহলে আপনাকে সায়ফুল্লাহ---- আল্লাহর তরবারি বলা হয় কেন?
খালিদ (রাঃ): আল্লাহ আমাদের নিকট তার নবীকে প্রেরন করেছেন। তিনি আমাদের আল্লাহর পথে ডেকেছেন, আমরা সকলে তার নিকট থেকে পালিয়ে ছিলাম এবং দূরে  বহু দূরে সরে গিয়েছিলাম। এরপর আমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং তার অনুসরন করে। কতক তাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং দূরে চলে যায়, আমি ছিলাম তাদের দলে। এরপর আল্লাহ আমাদের কপাল চেপে ধরলেন এবং তার মাধ্যমে আমাদের হিদায়াত ও সৎ পথ দেখিয়েছেন। আমরা তার হাতে বায়াত করেছি। তার অনুসরনের অঙ্গিকার করেছি। রাসুল (সাঃ) আমাকে বললেন, তুমি আল্লাহর একটি তরবারি, এই খোলা তরবারি আল্লাহ তা'য়ালা মুশরিকদের উপর নিয়োজিত করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে  সাহায্য করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দুয়া করলেন। আর আমি মুশরিকদের জন্য সর্বাধিক কঠোর বাক্তি।

জুরজাঃ আপনারা কোন বিষয়ের দিকে মানুষকে ডাকেন?

খালিদ (রাঃ):  আমরা ডাকি এই বিষয়ে সাক্ষ্য  দেয়ার জন্য যে
, আল্লাহ ব্যতিত কোন  ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ (সাঃ) তার  বান্দা ও রাসুল এবং এ বিষয়ে স্বীকৃতি দিবে যে, মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যা  নিয়ে এসেছেন তা সত্য।

জুরজাঃ যদি কেউ আপনাদের ডাকে সারা না দেয়,  তার কি অবস্থা হবে?

খালিদ (রাঃ):  তাহলে সে জিযিয়া কর দিবে এবং বিনিময়ে আমরা তার  জান-মালের নিরাপত্তা দিব।

জুরজাঃ যদি সে  জিযিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়?

খালিদ (রাঃ):   তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা দিব এবং তার বিরুদ্ধে জিহাদ করব।

জুরজাঃ আজকের এই  মুহূর্তে যদি কেউ আপনাদের ডাকে সারা দেয় এবং ইসলামে প্রবেশ করে তবে তার কি অবস্থা হবে?

খালিদ (রাঃ):  তাহলে আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে সে এবং আমরা সকলের অবস্থান এক হয়ে যাবে। সে আমাদের সমমর্যাদার হয়ে যাবে। আশরাফ-আতরাফ,  উচু-নিচু ও পূর্ববর্তী-পরবর্তী সব একই মর্যাদার অধিকারী হবে।
জুরজাঃ  যে ব্যক্তি আজ ইসলাম গ্রহন করবে, আপনাদের দলভুক্ত হবে তার আর আপনাদের সওয়াব ও পুণ্য কি এক সমান হবে?

খালিদ (রাঃ): হা তাই হবে। তবে সে আরও উত্তম পুণ্য পাবে।

জুরজাঃ ওই বাক্তি কিভাবে আপনাদের সমান হবে অথচ ইসলাম গ্রহনে আপনারা তার চেয়ে অগ্রবর্তী ও পুরাতন?

খালিদ (রাঃ):  আমরা ইসলাম গ্রহন করেছি বাধ্য হয়ে। তারপর আমরা নবী (সাঃ) এর হাতে বায়াত করেছি যখন তিনি জীবিত ছিলেন। তার কাছে আসমান থেকে সংবাদ আসত। তিনি আমাদের কুরআনের আলোকে  বিভিন্ন বিষয় জানাতেন। তিনি আমাদের বিভিন্ন নিদর্শন ও মু'জিযা দেখাতেন। আমরা যা দেখেছি কেউ তা দেখলে এবং আমরা যা শুনেছি কেউ তা শুনলে সে ইসলাম গ্রহনে ও বায়াত সম্পাদনে বাধ্য হয়ে পড়ে।  ইসলাম গ্রহন ও বায়াত সম্পাদন তার কর্তব্য হয়ে যায়। আমরা যে সব আশ্চর্যজনক ঘটনা ও প্রমাণাদি শুনেছি আপনারা তা শুনেন নি। তসত্ত্বেও আপনাদের কেউ যদি খাঁটি নিয়তে ----স্বচ্ছ বিশ্বাসে এই ইসলামে প্রবেশ করে সে আমাদের চাইতে উত্তম হবে না বা কেন?
জুরজাঃ আল্লাহর কসম আপনি সত্য বলছেন তো? প্রতারনা করেন নি তো?

খালিদ 
(রাঃ): আল্লাহর কসম! আমি আপনার নিকট সত্য বলছি এবং আল্লাহ সম্পর্কে আপনি যা, জিজ্ঞাসা করেছেন , আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত আছেন।

 তখনি  জুরজা ঢাল  উল্টিয়ে ধরেন এবং খালিদ খালিদ (রাঃ) এর দিকে ঝুকে পড়েন।

জুরজাঃ আপনি আমাকে ইসলাম শিখিয়ে দিন।

জুরজাকে নিয়ে তখন খালিদ তাবুতে গেলেন, মশক থেকে পানি ঠেলে ওজু করিয়ে তাকে নিয়ে ২ রাকআত নামাজ পড়েন। জুরজা এরপর খালিদ (রা)  এর সাথে ময়দানে ফিরে রোমানদের বীরুদ্ধে জিহাদে  অংশগ্রহণ করেন এবং কিছুক্ষন পর প্রচণ্ড আক্রমণ করতে করতে  এক সময় আহত হয়ে শহীদ হন।  ....... খালিদ (রাঃ) এর সাথে ২ রাকআত নামজই ছিল  তার জীবনের প্রথম ও শেষ নামাজ।  কিন্তু রোমানদের  বীরুধে মুসলিমদের সাথে জিহাদে আল্লাহ তাকে কবুল করেছিলেন, এবং তাকে সর্বোচ্চ সম্মানি মৃত্যু শহীদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন।

 মূলত যেখানে আমরা জন্মগত ভাবে পাওয়া মুসলিমরা জন্মগত ভাবে পাওয়া জীবনবিধান ইসলাম-এর ফরজ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করি, সেখানে এই মুসলিম ভাইটি তো চরম ঈমানের পরিচয় দেখিয়েছেন।  খ্রিষ্টান থেকে ইসলাম গ্রহন করার পরই তার উপর অর্পিত ফরজ দায়িত্ব পালনে তিনি একটুও সময় নষ্ট করেন নি। আল্লাহর প্রতি ঈমান তার থেকে মৃত্যুর ভয়কেও পরাজিত করেছে।  অথচ, সেই ইয়ারমুকের যুদ্ধে  মুসলিমদের থেকে রোমানদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। রোমানদের ছিল ২লক্ষ সৈন্য, আর  মুসলিমদের ছিল মাত্র ২১ হাজার  মুজাহিদ। সে যুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল অনেক । যুদ্ধের ময়দান থেকে কিছু কিছু অধৈর্য ও পরিশ্রান্ত  মুসলিম পালিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাদের হাতে পাথর নিক্ষেপ ও কাঠের  বাড়ি খেয়ে  লজ্জায় ময়দানে ফিরে আসে। মহিলাদেরকে এজন্যই নিযুক্ত করা হয়েছিল যেন তারা ভয়ে পালিয়ে যাওয়া মুজাহিদদের ময়দানে ফিরিয়ে আনে।  এছাড়াও মহিলারা এ যুদ্ধে  সশস্ত্র অংশগ্রহণ করে।  অবশেষে মুসলিমরাই প্রতিবারের মত কাফিরদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেন।

অবশেষে আমার মুসলিম ভাই-বোনদের  সুরা রা’দ-এর ২৭ নং আয়াতটি মনে করিয়ে দিয়ে শেষ করতে চাই,  .......  “....... বলুন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ ভ্রষ্ট  করেন এবং তিনি তাকে নিজের দিকে পথ প্রদর্শন করেন --- যে তার অভিমুখী হয়”।

আরেকটি প্রাসঙ্গিক আয়াত সংযোজন করতে ইচ্ছে করছে, .....  “
যেসব মুসলমান  কোন  প্রকার  অক্ষমতা  ছাড়াই  ঘরে  বসে  থাকে  আর  যারা ধন-প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তাদের উভয়ের মর্যাদা সমান নয়।   যারা ঘরে বসে থাকে তাদের তুলনায়  জান-মাল  দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা আল্লাহ বুলন্দ করেছেন।   যদিও সবার জন্য আল্লাহ কল্যাণ ও নেকীর ওয়াদা করেছেন,  তবুও তাঁর কাছে  মুজাহিদদের  কাজের মর্যাদা ঘরে বসে থাকা লোকদের তুলনায় অনেক বেশী৷ তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে  বিরাট মর্যাদা, মাগফেরাত ও রহমত ৷ আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়”। [সুরা নিসাঃ ৯৫-৯৬]





[সুত্রঃ "আল বিদায় ওয়ান নিহায়া" , ৭ম খণ্ড, "ইয়ারমুকের যুদ্ধ" পরিচ্ছেদ ......... আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর  আদ- দামেশকী (র) (
"তাফসীরে ইবনে কাসীর" -এর লেখক) । ------ এই বইটি একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ যেখানে হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে খলীফাদের জীবনী পর্যন্ত বহু কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।]  


ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের পরাশক্তি রোম ও পারস্য বিজয়

- No comments

ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের পরাশক্তি রোম ও পারস্য বিজয়

by Rashedul Islam (Notes) on Monday, June 10, 2013 at 9:17pm
[আমরা মুসলিমরা তো কত ঘটনাই জানি, কিন্তু কয়জনকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে তাদেরই জাতির আদি পুরুষদের গৌরবমাখা স্বর্ণ যুগের কাহিনী?!!  কিন্তু আবার আমরা মুসলিমরাই  অনেক কাহিনী জানছি অনেক ঘটনা পড়ছি  যেগুলোর বেশির ভাগই কল্প কাহিনী বা সায়েন্স ফিকশন। আসুন তবে কিছু বাস্তব কাহিনী জানি, যেগুলো ইতিহাস চিরকাল স্মরণ করতে বাধ্য।]
                                                               বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে  রসুল (সাঃ) মদিনাতে  হিজরত করার পর সেখানে ইসলামিক রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠা করেন যার পরিচালনা হতো এমন এক আদর্শ দিয়ে যেটা মহান আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনব্যবস্থা। রাসুল (সাঃ) –এর সময় থেকেই সেই আদর্শের ধারক ও বাহকগন দাওয়াত ও জিহাদের মাধ্যমে সেই মানবতার আদর্শকে পৌঁছে দেয়া শুরু করেন মদিনার বাইরে নতুন নতুন অঞ্চলে, যেসব অঞ্চলের শাসকগণ সেই অঞ্চলের সাধারণ জনগনের উপর খোদা হয়ে বসে ছিল, প্রতিষ্ঠা করত সেথায় সীমাবদ্ধ জ্ঞানে আবদ্ধ মানব তৈরি শাসন, অত্যাচারে অত্যাচারে নিষ্পেষিত করত নাগরিকদের জীবন, বঞ্চিত করত তাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার। হয়ত কোন কোন শাসক রাসুল (সাঃ) ও তার উত্তরসূরি  খিলাফতের শাসকদের  দাওয়াত গ্রহন করে সানন্দে ইসলামক গ্রহন করত, নয়ত কেউ কেউ শান্তির আদর্শ ইসলাম গ্রহন না করে  জিযয়া কর দেয়ার মাধ্যমে অন্য রাষ্ট্র থেকে নিরাপত্তার সন্ধি করত, নয়ত বা কেউ কেউ দুটোই অস্বীকার করে যুদ্ধে লিপ্ত হতো।  এভাবেই আল্লাহ তায়ালা মানবতার আদর্শের ধারক ও বাহকদের সুযোগ করে দিতেন  একের পর এক রাষ্ট্রে ইসলামকে পৌঁছে দিতে। ফলশ্রুতিতে মুসলিমরা একের পর এক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বিজয়ের মাধ্যমে খিলাফত রাষ্ট্রকে নিয়ে যায় দূর বহু দূর।  


ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের আগে থেকেই পৃথিবীর পরাশক্তি হিসেবে রোম সাম্রাজ্য (বাইজেণ্টাইন) ও পারস্য সাম্রাজ্য (বর্তমান ইরান) নিজেদেরকে আত্মপ্রকাশ করে। রোমের সীমানা ছিল সিরিয়া  থেকে পশ্চিমে  স্পেন পর্যন্ত, আর পারস্যের সীমানা ছিল ইরাক থেকে পূর্বে খোরাসান (আফগানিস্তান) পর্যন্ত। রোম আর পারস্য উভয়েই যুগের পর যুগ ধরে পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত।   রাসুল (সাঃ) -এর সময় থকেই  রোমের সাথে সদ্য প্রতিষ্ঠিত  ইসলামিক রাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয়। একবার রাসুল (সাঃ) হারেস ইবনে ওমায়র আযদী (রাঃ) কে এক চিঠি দিয়ে বসরার গভর্নরের কাছে দূত হিসেবে পাঠালে রোমের কায়সারের নিযুক্ত 'বালাকা' এলাকার গভর্নর শোরাহবিল ইবনে আমর গাসসানি সেই দূতকে হত্যা করে। তখন দূতকে হত্যা করা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল ছিল তাই রাসুল (সাঃ) ৩০০০ মুজাহিদসেনাবাহিনী নিয়ে রোমানদের ২ লক্ষ সেনাবাহিনীর উপর হামলা করেন, এটিই মুতারযুদ্ধ হিসেবে প্রসিদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) -এর বুদ্ধিমত্তায় সে জিহাদে মুসলিমরা জয় লাভ করে। পরে মুতার যুদ্ধ ও তাবুকের অভিযানের পরে রাসুল (সাঃ) সবশেষে  ওসামা (রাঃ) কে সেনাপতি নিযুক্ত করে  সর্বশেষ বাহিনী প্রেরন করেন রোমদের বিরুদ্ধে।  আবু বকর (রাঃ) -এর খিলাফত কালে  তিনি সে বাহিনীর নেতৃত্ব অপরিবর্তনীয় রেখেই সামনে অগ্রসর হতে বলেন।  রাসুল (সাঃ) –এর  ওফাতের পরে যখন ইরাকে বিভিন্ন গোত্র বিদ্রোহ করে বসে, তখন আবু বকর (রাঃ) হযরত  মুছান্না (রাঃ) কে দিয়ে সুকৌশলে সেই বিদ্রোহ দূর করে ইরাকেই মুসলিমদের এক বিশাল  বাহিনী গড়ে তোলেন, যারা ইরাকের মুসলিমদের বিদ্রোহ থেকে শান্তির পথে একীভূত করে ইরানের দিকে ধাবিত হন।

পারস্যের কাহিনিঃ 

খলীফা আবু বকর (রাঃ) মদিনা থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) –এর সেনাপতিত্তে ১০ হাজার মুজাহিদদের এক সেনা বাহিনী মুছান্নার (রাঃ) সাহায্যে ইরাকে পাঠান। সে বাহিনীতে কা’কা বিন আমর তমিমীকে (রাঃ) পাঠানো হয়, যার ব্যাপারে খলীফা বলেন, কা’কা যে বাহিনীতে থাকবে তারা কখনো পরাজিত হবে না’। মাত্র ১৮ হাজার মুজাহিদ নিয়ে ইরাকের সীমান্তে পারস্য বাহিনীর সেনাপতি হরমুজের বিশাল বাহিনীর সাথে জিহাদে লিপ্ত হয় মুসলিম বাহিনী। হরমুজের বাহিনীতে মুসলিমদের ২.৫ গুন সৈন্য ছিল, আরও ২০,০০০ সৈন্যপথে আসছিল সেই বাহিনীর সাহায্যার্থে। মুসলিমরা পারস্যদের  ধরাসয়ি করতে শুরু করলে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পালিয়ে যায় পারস্যরা, হরমুজ নিহত হয় এ যুদ্ধে। মুছান্না (রাঃ) পরাজিত সৈন্যদের  ধাওয়া করে তাদের সাহায্যার্থে আগত কারেনের সৈন্যবাহিনীকে মাযারের নিকট আক্রমন করেন তারাও পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়। খালিদ (রাঃ) সেসব এলাকার পরাজিত বন্দী  নাগরিকদের ছেড়ে দেন, কারণ সেনাপতি  হরমুজ সেইসব গরীব কৃষকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে এনেছিল। পরে সেই কৃষকরা একে একে ইসলাম গ্রহন করে তাদের এলাকায় থাকতে শুরু করে।

হীরা বিজয়ঃ  ফোরাতের তীরে বিশাল বন্দর ইমপেশিয়াবন্দর দখল করলেন খালিদ (রাঃ), কিছু ফৌজ নিয়ে সন্ধির বিনিময়ে হীরা বিজয় করলেন,  হীরার গভর্নর আজাদবাহ পালিয়ে গেল। ইরাকের খৃস্টান কবিলাগুলোর কেন্দ্র ছিল হীরা। হীরাবাসি মনে করেছিল সাধারণত বিজয়ী সৈন্য যেমন পরাজিতের এলাকায় এসে সন্ধি  ভেঙ্গে তাদের উপর অত্যাচার করে, মুসলিমরা হয়ত তেমনি করবে। কিন্তু তারা মুসলিমদের  কাছে ভিন্ন আচরন দেখে অভিভূত হয়ে গেল, মুসলিমদের কাছে আনুগত্য স্বীকার করল।  হীরার পর খালিদ (রাঃ) আম্মারায় জমায়েত হওয়া  ইরানী ফৌজের মোকাবেলা করলেন, পরে আইনুত্তামরে আক্রমণ করলেন। আইনুত্তামরের সেনাপতিছিল মেহরান, ইরানীরা এবারো পরাজিত হল।

দুমাতুল জন্দল জিহাদঃ  খলীফা আবু বকর (রাঃ)খালিদ (রাঃ) কে ইরাকে পাঠানোর পরেই আয়াজ বিন গনমকে দুমাতুল জন্দলে পাঠান। রাসুল (সাঃ) তাবুকের যুদ্ধে খালিদ (রাঃ) কে দুমাতুল জন্দলে রোমানদের উপর হামলা করতে বলেছিলেন। সেসময় খালিদ (রাঃ)  মাত্র ৫ শত জানবাজ  নিয়ে  সেখানকার খৃস্টান শাসক ওকিদর বিন আব্দুল মালিককে গ্রেপ্তার করে মদিনায় পাঠায়, সে মদিনায় এসে ইসলাম  কবুল করলে রাসুল (সাঃ) তাকে পুনরায় তার এলাকার শাসনভার দিয়ে দেন। কিন্তু রাসুলের (সাঃ) ইন্তিকালের পর সে আবার বিদ্রোহ করে বসে। তাই খালিদ (রাঃ) আয়াজ বিন গনমকে  সাহায্যের জন্য আইনুত্তামর থেকে ৩০০ মাইল দূরে দুমাতুল জান্দালে আক্রমণ করেন। সেখান থেকে  ইরানে যুদ্ধরত মুসলিম বাহিনীর উপর এবং মদিনাতেও  হামলার সম্ভাবনা ছিল। আবার উত্তরে আলজারিয়ার খৃস্টানদের   থেকেও হামলার সম্ভাবনা ছিল, যা খালিদ (রাঃ) দুমাতুল জন্দল জয় করে মিটিয়ে দেন।

ফেরাজে রোম ও পারস্যের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে জিহাদঃ  খালিদ (রাঃ) দুমাতুল জন্দল থেকে আবার আওইনুত্তামরে ফিরে এসে ফোরাতের তীরধরে 'ফেরাজে' পৌঁছেন। ফেরাজের পশ্চিমে রোম ও পূর্বে পারস্য, ফেরাজ এই দু দেশের সীমানার ন্যায় ছিল।  সেখানে খালিদ (রাঃ) এর অবস্থানের খবর পেয়ে রোম আর পারস্য প্রথম বারের  মত একত্রে মুসলিমদের উপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন পূর্বে রোমানদের কাছে পারস্য হারার কারনে রোমানদের মুল সেনাপতিত্তে  তারা মুসলিমদের হামলা করে। কিন্তু মুসলিমদের তিব্র হামলার মুখে টিকতে না পেরে ইরানীরা  রোমদের অনুমতির অপেক্ষা না করেই পূর্ব দিকে পালিয়ে যায়। তাদের দেখে রোমরাও পশ্চিম দিকে পালায়। তাদের লাশের স্তূপ পরে থাকে  ফেরাজের ময়দানে। এতে সাথে সাথেই রোম-পারস্যের  ঐক্যের ভিত্তি শেষ হয়ে গেল  যেটা ভবিষ্যতে  হুমকি হয়ে দাড়াতে পারতো। এযুদ্ধে পরাজিত হয়ে রোম ও ইরান একে ওপরকে দোষারোপ করতে থাকে। 

এদিকে সিরিয়ায়   রোমদের  সাথে নিয়মিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় খলীফা আবুবকর (রাঃ) খালিদ (রাঃ) কে ইরানের জিহাদ থেকে সিরিয়াতে যাওয়ার আদেশ দেন। তাই তিনি  ইরাকে মুছান্না (রাঃ) কে সেনাপতি রেখে ৯ হাজার অভিজ্ঞ মুজাহিদ ও সিপাহ সালার নিয়ে সিরিয়াতে চলে যান। এদিকে পারস্যের রাজা ও তার পুত্র উভয়ই মৃত্যুবরণ করলে তারা পারস্য শাহানশাহ হিসেবে শাহরিয়ারকে খমতায় বসায়। শাহরিয়ার ভেবেছিল  মুছান্না (রাঃ) খালিদ (রাঃ) চলে যাওয়ায় তাদের বিশাল সেনাবাহিনীর আগমন দেখে পালাবে,তাই সে জেনারেল হরমুজকে ১০ হাজার সৈন্য সহ এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে মুছান্না  (রাঃ) কে  হামলা করতে  ব্যাবিলন পাঠায়। কিন্তু কিছুদিনপরেই সে শুনেন হরমুজ পরাজিত হয়ে ফিরছে, পাছে   ব্যাবিলন  ময়দানে হাজার হাজার ইরানী সৈন্যের লাশ পরে আছে।

রোমের কাহিনিঃ 

এদিকে খালিদ (রাঃ) কে মদিনা থেকে ইরাকের দিকে অভিযানে প্রেরণের পরই খলীফা আবু বকর (রাঃ)  সেনাপতিদের পতাকা বেধে দিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত  নিজ নিজ এলাকার দিকেপ্রেরন করেন। তিনি  খালিদ ইবনে  সাইদ (রাঃ) কে তায়মার দিকে (এখানে ওমর (রাঃ)খালিদ ইবনে সাইদকে সিরিয়াতে পাঠাতে খলীফাকে নিষেধ করেন, কারণ সে রেশমের জুব্বাপরার ব্যাপারে ওমর (রাঃ) এর সাথে তর্ক করেছিল), ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) কে দামেশকের দিকে,  আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) কে হিমসের  (হোমস) দিকে এবং আমরইবনুল আস  (রাঃ) কে ফিলিস্তিনের দিকেদায়িত্ব দিয়ে পাঠান।   পথে বালাকা অঞ্চলে আবু উবায়দা (রাঃ) সে এলাকারজনগনের সাথে জিহাদে সেটা সন্ধির মাধ্যমে জয় করেন, এটাই সিরিয়ার প্রথম  সন্ধি চুক্তি।

ইয়ারমুকের জিহাদঃ  মুসলিম মুজাহিদরা যখন  সিরিয়ার দিকে আগমন করেন তখন  রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ভয় পেয়ে যায়, সে জানত রাসুল (সাঃ) শেষ নবী আর তাদের খৃস্টান ধর্মের সময় শেষ হয়ে গেছে। হিরাক্লিয়াস তখন হিমসে (হোমস) অবস্থান করছিল।   আবু   বকর (রাঃ) এর মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ও তাদের সাহায্যার্থে ছিল ইকরিমা ইবনে আবু জেহেল এর ৬ হাজার সৈন্য। হিরাক্লিয়াসের সম্মুখ বাহিনীর দায়িত্বে ছিল জুরজা যিনি পরে ইসলাম গ্রহনের পরই ইয়ারমুকের জিহাদে শহীদ হন (তার খালিদ (রাঃ) এর সাথে এই প্রসিদ্ধ ঘটনা  আমি আমার আরেক নোটে বর্ণনা করেছি)।হিরাক্লিয়াসের ২ লাখ সৈন্যের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের  সংখ্যা কম হয়ায় তারা খলীফার কাছে সাহায্য চাইলে খলীফা  খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে ইরাক থেকে সিরিয়া যেতে নির্দেশ দেন। তিনি ৫ দিন পরতার ৯ হাজার মুজাহিদ নিয়ে ইয়ারমুকের জিহাদে মুল সেনাপতির দায়িত্বে এসে নিযুক্ত হন।খালিদ (রাঃ) সেখানে যেয়ে দেখেন মুজাহিদগণ রোমানদের সাথে জিহাদে লিপ্ত, অতপর খালিদ (রাঃ) এর আগমনের সংবাদ শুনে রোমানরা মুসলিমদের সাথে সন্ধি করতে চায়। সিরিয়াই ছিলমুজাহিদদের প্রথম বিজিত এলাকা। 

বর্ণিত আছে যে, যখন ইয়ারমুকের যুদ্ধে দুই বাহিনী প্রচণ্ড লড়াই করছিল, তখনআরব থেকে এক পত্র বাহক এসে খালিদ বিন ওয়ালিদের (রাঃ) কাছে খলীফার একটি চিঠি দেন।পত্র বাহক খালিদ (রাঃ) কে একান্তে নিয়ে গিয়ে বলেন, খলীফা আবু বকর ইন্তেকাল করেছেন,ওমর (রাঃ) পরবর্তী খলীফা নিযুক্ত হয়েছেন। ওমর (রাঃ) আপনার স্থলে মুল সেনাপতিরদায়িত্বে আবু উবায়দা আমির ইবনে জাররাহ (রাঃ) কে নিযুক্ত করেছেন। খালিদ (রাঃ) এই সংবাদ যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোপনরাখেন, যেন এতে মুজাহিদদের মনবল ভেঙ্গে না যায়। 

আজনাদায়নের জিহাদঃ “মা’ওয়ারের আরবা”  অঞ্চলে আমর ইবনে আস (রাঃ) এর সাথে রোমানরা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, সেখানে তার সাহায্যার্থে খালিদ (রাঃ), আবু উবায়দা (রাঃ), শুরাহবিল (রাঃ) ও মুরছাদ (রাঃ) মুজাহিদদের নিয়ে এলেই আজনাদায়নের জিহাদ শুরু হয়। এযুদ্ধে রোমানরা ছিল ২ লক্ষ ৪০ হাজার। আর মুসলিম মুজাহিদরা ছিলেন মাত্র ৪০ হাজার।অবশেষে মুসলিম মুজাহিদরাই কাফিরদের পরাজিত করেন। সেনাপতি কায়কালান নিহত হয়।

পারস্যের কাহিনিঃ 

 রাজা-রানীর ঝামেলার কারনে পারস্য থেকে চাপ অনেকটাই কম ছিল মুছান্না (রাঃ) এর উপর। তিনি একদিন নিজেই খলীফা আবু বকরের (রাঃ) কাছে সাহায্যের জন্য গেলেন। সেখানে যেয়ে তিনি আবু বকর (রাঃ) কে মৃত্যু মুখে দেখলেন। আবু বকর (রাঃ) তখনি ওমর (রাঃ) কে পারস্যের দিকে সৈন্য প্রেরণ করতে বলেন এবং সেদিনই (সোমবার) তিনি মুছান্না (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবাদের সাথে শেষ সাক্ষাৎ করে ইন্তিকাল করেন। 

আবু বকর (রাঃ) এর ইন্তিকালের পর ওমর (রাঃ) ও মুছান্না (রাঃ) মদিনাতে ইরাকের ব্যাপারে বক্তৃতা দিয়ে মুজাহিদদের সংগ্রহ করতে থাকেন, প্রথমে কেউ রাজি না হলেও পরে আবু উবায়দ ইবনে মাসউদ ছাকাফির (র) রাজি হলে একে একে অনেকেই রাজি হয়। আবু উবায়দা  প্রথম রাজি হয়ায় তাকে সেনাপতি বানিয়ে ওমর (রাঃ) ৭ হাজার মুজাহিদকে ইরাকে পাঠায়। এদিকে খালিদ (রাঃ) এর সাথে যে বাহিনী ইরাক থেকে সিরিয়া  এসেছিল তাদেরকেও ওমর (রাঃ) আবার ইরাক পাঠাতে বলেন।

নামারিকের জিহাদঃ  নামারিক হোল হীরাও কাদেসিয়ার মধ্যবর্তী স্থান। রুস্তম বাহমান কে সেনাপতি করে আবু উবায়দ  কে হামলা করার জন্য নামারিক পাঠায়। তারা পরাজিত হয় ও মাদায়েন (পারস্যের সেকালের রাজধানী) পালিয়ে যায়।

সেতুর জিহাদঃ  পারসিকরা  হাতী সহ এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ফোরাতের পারে জমা হয়। মুসলিমরা ছিল মাত্র ১০ হাজার। তারা মুসলিমদের বলে তোমরা নদী পার হয়ে আসবে না আমরা যাব? অভিজ্ঞ মুসলিম সালাররা বলছিলেন তাদের পার হয়ে আসতে, কিন্তু আবু উবায়দ বললেন, “আমরা মৃত্যুর ব্যাপারে যতটা নির্ভীক ওরা ততটা নির্ভীক নয়”,  এই বলে তিনি নদী পার হয়ে গেলেন। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম পাড় না হতেই পারসিকরা  তীর নিক্ষেপকরে, এবং মুসলিমদের ওপাড়ে দাঁড়ানোর জন্য সংকীর্ণ জায়গা দেয়, যেটা যুদ্ধের নিয়মের পরিপন্থী। তারা হাতীগুলো ছেড়ে দিলে মুজাহিদদের ঘোরাগুলো ভয়ে পালাতে থাকে, এতে তারা অনেক মুজাহিদদের তীর মেরে শহীদ করে। আবু উবায়দ ও কয়েকজন   কয়েকটা হাতী মেরে ফেলে, একটা হাতী সেনাপতি আবু উবায়দকে পায়ে পিসে শহীদ করে দেয়, এভাবে পর পর ৭ জন সেনাপতি শহীদ হলে মুছান্না (রাঃ) সেতুর মুখে দাড়িয়ে সকল মুজাহিদদের ধীরে সুস্থে  নদী পার হয়ে চলে যেতে বলেন। এর আগেই ৪ হাজার মুজাহিদ সেতু ভেঙ্গে ফোরাত নদীতে পরে শহীদ হন। অবশেষে বাকিরা পাড় হয়ে জীবন রক্ষাকরে। এযুদ্ধে পারসিকরা জয় লাভ করে, তবুও মুজাহিদরা ৬ হাজার পারসিক ও অনেক হাতীকে হত্যা করে।
এযুদ্ধের পর পারসিকদের রাজা-রানি সমস্যা আবার দেখা দেয়, তারা রুস্তম কেপদচ্যুত করে, পরে আবার ক্ষমতা দিয়ে ফিরুজানের সাথে ক্ষমতা দু ভাগ করে বসায়। এতেতারা দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।

বুওয়ায়ব –এর জিহাদ --পারসিকদেরউপর মুসলিমদের প্রতিশোধঃ  বওয়ায়ব হচ্ছে  কুফার নিকটবর্তী স্থান। পারসিকরা সলিমদের আগের মত বলে, তোমরা এপারে এসবে না আমরাওপাড়ে যাব, সেনাপতি মুছান্না (রাঃ) তাদের আসতে বলেন এবং  তাদের জন অনেক জায়গা ছেড়েদেন, যদিও তারা সেতুর যুদ্ধে কম জায়গা ছেড়েছিল ও সব মুসলিম পার না হতেই আক্রমণকরেছিল, কিন্তু মুছান্না তারা আসার ও সারি বদ্ধ ভাবে দাঁড়ানোর অনেক পরে আক্রমনেরসিদ্ধান্ত নেন। পারসিকরাই পরে মুসলিমদের আগে আক্রমণ করে, প্রচণ্ড যুদ্ধের পর তাদেরসেনাপতি মেহরান মারা যায় ও তারা পরাজিত হয়। এযুদ্ধে ১ লক্ষ পারসিক সৈন্য নিহত হয়। 


রোমের কাহিনিঃ

দামেশক বিজয়ঃ 
 আবু  উবায়দা (রাঃ) ‘ইয়ারমুক’ থেকে ‘মারজ সাকর‘ এ আসলেন, সম্রাট হিরাক্লিয়াস ছিল হিমস-এ (হোমস)। রোমানরা ফিলিস্তিনের সিংহল –এ ৮০হাজার সৈন্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই খলীফা ওমর (রাঃ) আবু উবায়দা (রাঃ) কে বললেন হিমসের দিকে এক দল ও ফিলিস্তিনের পথে ফিহল –এর দিকে একদল মুজাহিদ  পাঠাতে যেন তারা হিরাক্লিয়াস ও ফিলিস্তিনের সৈন্যদের বাধা দিতে পারে। পরে আবু উবায়দা (রাঃ) দামেশক অবরোধ করলেন।  একদিন দামেশকবাসী ফুর্তিতে মত্ত থাকলে খালিদ (রাঃ) কা’কা (রাঃ) ও অন্যান্য মুজাহিদদেরনিয়ে দামেশকের উপর ঝাপিয়ে পরলেন ও দামেশকের কিছু অংশ যুদ্ধ ও কিছু সন্ধি করে জয় করলেন।

ফিহল –এর জিহাদঃ  দামেশক বিজয়ের পর শুরাহবীল ইবনে হাসানা (রাঃ) এর সেনাপতিত্বে মুজাহিদগন ফিহল-এর দিকে যাত্রা করেন। এ যুদ্ধে ৮০ হাজার রোমান মারা যায়। আবু উবায়দ (রাঃ) শুরাহবীল (রাঃ) কে জর্ডানের শাসক বানিয়েখালিদ (রাঃ) ও অন্যান্যদের নিয়ে হিমস-এর দিকে যাত্রা করেন। পরে শুরাহবীল (রাঃ)জর্ডান থেকে গিয়ে 'বীসান' জয় করেন।

পারস্যের কাহিনীঃ
এদিকে খলীফা ওমর (রাঃ) নিজেই ইরাক যুদ্ধে যেতে চাইলে সাহাবাগন তাকে নিষেধকরেন এবং সা’দ (রাঃ) সেনাপতি নিযুক্ত করে ইরাক পাঠাতে বলেন।  ফলে ওমর (রাঃ) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর সেনাপতিত্বে মুজাহিদেরএক বাহিনী ইরাকে পাঠান, সা’দ (রাঃ) এসে পৌছার আগেই মুছান্না (রাঃ) ইন্তিকাল করেন।

কাদেসিয়ার জিহাদঃ  সেনাপতি সা’দ (রাঃ) কাদেসিয়ায় পৌঁছালে পারসিকরা তাদের মহাবীর সাবেক রাজা রুস্তম কে মুসলিমদের মুকাবিলার জন্য মুল ৮০ হাজারমতান্তরে ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য ও আরও ৮০ হাজার সৈন্য  সাহায্যার্থে পাঠায়। তাদের সাথে ৩৩ টি জঙ্গি হাতী ছিল।  এ যুদ্ধে  রুস্তম নিহত হয়ও পারসিকদের বাকি সৈন্য রাজধানী মাদায়েন পালায়।

রোমের কাহিনীঃ 

হিমস জিহাদঃ
 আবু উবায়দা (রাঃ) রোমান সৈন্যদের তারা করে হিমসে নিয়ে যান। সেখানেহিরাক্লিয়াস অবস্থান করছিল। পরে খালিদ (রাঃ) তার সৈন্য নিয়ে সেখানে পৌছলে অবরোধদৃঢ় হয়, হিমসবাসী সন্ধি করে। হিমস জয় হয়।

কিন্নাসরীনের জিহাদঃ  হিমস জয়ের পর আবুউবায়দা (রাঃ) খালিদ (রাঃ) কে কিন্নাসরীনে পাঠান, খালিদ (রাঃ) সেখানে যেয়ে সব রোমানসৈন্যদের হত্যা করে। পরে গ্রামবাসী সন্ধি করে। কিন্নাসরীন জয় হয়। 
এবছরই হিরাক্লিয়াস সিরিয়া ছেড়ে কন্সটাণ্টিনোপল চলে যায়।

কায়সারিয়্যার জিহাদঃ  খলীফা ওমর(রাঃ) মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান (রাঃ) কে সেনাপতি নিযুক্ত করে তাকে কায়সারিয়্যা আক্রমণ করতে বলেন। মুয়াবিয়া (রাঃ) সেখানে পৌছলে রোমানরা যুদ্ধ শুরু করে, প্রচণ্ডযুদ্ধের পর তাদের ৮০ হাজার সৈন্য নিহত হয় এবং ১ লাখ পলায়ন করে। মুসলিমরা জয়লাভকরেন।

 রোমান সেনাপতি আরতাবুন বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) ও রামাল্লার কাছে বিশাল বিশাল দুটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছিল। তাই আমর ইবনুল আস (রাঃ)  বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করতে চাইলে বায়তুল মুকাদ্দাসের বাসিন্দারা তাকে ওমর (রাঃ) কে এসে সন্ধি করে জয় করতে বলে। 

হযরত ওমর (রাঃ) এর হাতে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ঃ  সন্ধির মাধ্যমে বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে ওমর (রাঃ) ‘সাখরা’  নামক এক পাথরের উপর থেকে ময়লা আবর্জনা সরান। এটি ইহুদীদের একটি পবিত্র পাথর যেটিকে কিবলা বানিয়ে তারা ইবাদাত করত, পরে রোমান  খৃস্টানরা বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে এটির উপর সবচেয়ে নোংরা আবর্জনা ফেলত। রাসুল (সাঃ) একদিন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে  চিঠির মাধ্যমে সে পাথর থেকে আবর্জনা সরাতে বললে হিরাক্লিয়াস সেখান থেকে ময়লা সরানো শুরু করে, ১/৩ অংশ সরানোর পরেই ওমর (রাঃ) বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করেন। রোমানরা রাসুল (সাঃ) এর ৩০০ বছর আগে বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে। ইহুদীরা বায়তুল মুকাদ্দাসে খৃস্টানদের ‘আল কামামা’ নামক স্থানকে ডাস্টবিন বানিয়ে ছিল। ‘আল কামামা’ হল এমন একস্থান যেখানে ইহুদীরা ইসা (আঃ) ভেবে এক লোককে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করার পর সেখানে কবর দেয়। তাই খৃস্টানরাও এর প্রতিশোধসরূপ ‘সাখরা’ পাথরে ময়লা ফেলে সেটাকে ডাস্টবিন বানায়। 

পারস্যের কাহিনিঃ
 

ব্যাবিলনের জিহাদঃ   কাদেসিয়ার পরাজয়ের পর লক্ষাধিক সৈন্য ব্যাবিলনেআশ্রয় নেয়। এঘটনা সা’দ (রাঃ) জানার পরে ব্যাবিলনে আক্রমণ করেন। পারসিকরা ব্যাবিলনছেড়ে মাদায়েন ও নিহাওয়ান্দের দিকে পালিয়ে যায়।

নাহারশীরের জিহাদঃ  সা’দ (রাঃ) সালমান ফারসী (রাঃ) কে   নাহারশীরের জন্য সেনাপতি করে পাঠায়। সেখানে পারসিকরা এক সিংহকে মুসলিমদের চলাচলের রাস্তায় বেধে রাখে, সা’দ (রাঃ) এর ভাতিজা হাশেম সেটিকে হত্যা করে। অবশেষে, প্রচণ্ড অবরোধের পর মুসলিমরা এযুদ্ধে জয় লাভ করেন।
 
মাদায়েন বিজয়ঃ   সা’দ (রাঃ) সেনাবাহিনী নিয়ে মাদায়েন যাত্রা করেন। তারা দজলা নদীর তীরে যেয়ে দেখেন সেখানে কোন নৌকা নেই, সব নৌকা পারসিকরা অপর পারে নিয়ে গেছে, সেতুও ভেঙ্গে ফেলেছে। তাই সা’দ (রাঃ) মুজাহিদদের নিয়ে ঘোড়া সহই  পানিতে নেমেপরেন, নদীর পানি কূলে কূলে ভরা  ছিল। এদেখে অপর পাড়ে দাঁড়ানো পারসিক সেনারা পাগল-পাগল, জীন-ভুত বলে ভয়ে পালিয়ে যায়। সেখানে পারস্যের রাজা-বাদশারপ্রচুর ধন সম্পদ পড়েছিল, কিছুই তারা নিতে পারেনি। ৩  কোটি স্বর্ণ মুদ্রা ফেলে রেখে ইয়াযদগিরদ 'হুলওয়ানে' পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে  ‘ফাই’  সম্পদ অনেক বেশি ছিল। 

জলুলার জিহাদঃ
  ইয়াযদগিরদ 'জলুলা'তে মাহরানের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী রেখে হুলওয়ান পালায়। জলুলাতে সা’দ (রাঃ) এর সাথেতাদের যুদ্ধ হয়। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর মাহরান পালায়, পারসিকদের ১ লক্ষ সৈন্য নিহতহয়। পরে কা’কা (রাঃ) তারা করে মাহরানকে হত্যা করেন।
 পরে মুসলিমরা  হুলওয়ানের  তিকরীত ও মুসেল এবং মাসিবযান বিজয় করেন।  

রোমের কাহিনিঃ

কিরকিসিয়্যাহ ও হীত বিজয়ঃ  জাযীরার অধিবাসিগন হিমসের অধিবাসীদের খালিদ (রাঃ) ও উবায়দা (রাঃ) এর বিরুদ্ধে উস্কানি দিলে তারা হীত এসে জমা হয়। তখন খলীফা উমর ইবনে মালিককে হীত আক্রমণ করতে পাঠান। তিনি হারিস ইবনে ইয়াজিদকে হীত অবরোধ করতে দিয়ে কিরকিসিয়্যাহ জয় করেন। পরে হীতবাসীরা ও আত্মসমর্পণ করে।

জাযীরা বিজয়ঃ  ইয়ায ইবনে গানামের নেতৃত্বেএকদল মুজাহিদ জাযীরা বিজয় করেন। ইয়ায ইবনে গানাম পরে ‘রাহা’ বিজয় করেন। পরে ‘হাররান’ বিজয় করেন।‘হাররান’ থেকে উমর ইবনে যাদ রাসুল আয়ন’, আবু মুসা আসআরী ‘নসীবীন’,ইয়ায ইবনে গানাম ‘দারা’ এবং উসমান ইবনে আবদিল আস ‘আরমিনিয়া’ বিজয়করেন।

পারস্যের কাহিনিঃ  

আহওয়ায, মানাযির ও নাহার তায়রী বিজয়ঃ  মুসলিমরা ‘তুসতার’পর্যন্ত সকল রাজ্য পারসিকদের থেকে ছিনিয়ে নেন। তুসতারে সম্রাট ইয়াযদগিরদ জোর করে সাধারণ জনগন থেকে সৈন্য জমা করে। খলীফা ‘কূফা’ ও ‘বসরা’ থেকে ‘আহওয়াযে’ সৈন্য পাঠায়, তারা হরমুজানকে পরাজিত করে, হরমুজান ‘তুসতার’ পালায়। তুসতারে যুদ্ধে প্রত্যেক মুসলিম ১০০ জন করে পারসিক সৈন্য হত্যা করে। হরমুজান বন্দী হয়, পরে তাকে খলীফার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সে ইসলাম গ্রহন করলে খলীফা তাকে কিছু জায়গা ও ভাতা দিয়ে মুক্ত করে দেন। বলা হয় খলীফা ওমর (রাঃ) এর হত্যাকারীর সাথে  এই হরমুজানের হাত ছিল। 
    
সুইস (সুস) বিজয়ঃ  তুসতারের পর  সাবরা আবু মুসা আসআরি ও অন্যদের নিয়ে সুইস অবরোধ করলে সেখানকার বিজ্ঞজনেরা বলে  দাজ্জাল ছাড়া এটি কেউ জয় করতে পারবে না। তখন সাফ ইবনে সায়াদ এক লাত্থি দিয়ে দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পরলে মুসলিমরা সুইস জয় করেন।
এদিকে ইয়াযদগির্দ ইস্পাহানে পালিয়ে যায়।

মিসর ও ইসকান্দারীয়া বিজয়ঃ  সিরিয়া বিজয়ের পর খলীফা ওমর (রাঃ) আমর ইবনে আস (রাঃ) কে মিসর ও ইসকান্দারীয়ার উদ্দেশ্যে পাঠান। তারা সেখানে গেলে ক্যাথলিক নেতা মারইয়াম ও পাদ্রী মিরইয়াম তাদের সাথে দেখাকরলে তারা তাদেরকে ইসলাম গ্রহন করতে বলেন। কিন্তু ইসকান্দারীয়ার শাসক মুকাওকাস  তাদের মুসলিমদের আক্রমণ করতে বলেন এতে বুদ্ধিমান জনগন বলেন, “যে সম্প্রদায় দুটি বিশাল  সাম্রাজ্য রোম ও পারস্য বিজর করল তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবে”? পরে সিদ্ধান্তের বেধে দেয়া সময় শেষ হলে মুসলিমরা তাদের উপর আক্রমণ করে, এতে কিছু পাদ্রী ভয়ে মদিনাতে যেয়ে সন্ধি  করে মিসর মুসলিমদের দিয়ে দেয়। এরপর আমর (রাঃ) ইসকান্দারীয়াতে সৈন্য পাঠালে মুকাওকাস জিযিয়া করের বিনিময়ে সন্ধি করলে ইসকান্দারীয়াও বিজিত হয়।

নিহাওয়ান্দ বিজয়ঃ   একটার পর একটা পরাজয়ের পর সম্রাট ইয়াযদগির্দ আসে পাশের সব এলাকায় সাহায্য চাইলে ১ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে ফিরযান এক বাহিনী তৈরি করে নিহাওয়ান্দের কাছে সমাগত হয়। এদি কে কূফাবাসী  সা’দ (রাঃ) বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলে কোন কারণ ছাড়াই ওমর (রাঃ) তাকে পদচ্যুত করে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহকে কূফায় শাসনভার দিয়ে পাঠান। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ খলীফা  ওমর (রাঃ)  এর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি আন-নূমান ইবনে মুকরিন কে সেনাপতি করে নিহাওয়ান্দে প্রেরণ করেন।এক প্রচণ্ড যুদ্ধের পর আন-নূমান ঘোড়া থেকে পরে গেলে তার কোমরে তীর লাগলে তিনি শহীদ হন। হুযাইফা পতাকা তুলে নেন ও পরে তার ভাইনুয়াইমকে পতাকা তুলে দিয়ে শহীদ হয়ে যান। এ যুদ্ধে  মুসলিমদের জন্য তৈরি পরিখায় নিজেরাই পড়ে ১ লক্ষপারসিক নিহত হয়।

নুয়াইম ইবনে মুকরিম ‘হামাদান’ দখল করেন। নুয়াইম ইবনে মুকরিম এর যখন ১২ হাজার সৈন্য তখন রোম, দাইলাম, রাই ও আজারবাইজানের সৈন্যরা একত্রে ‘ওয়াজরুয’ এ হামলা করতে চাইলে  নুয়াইম একা সবগুলকে পরাজিত করেন।

রাই, কোমাস, জুরজান, আজারবাইজান, আল-বাব, আরমানিয়া বিজয়ঃ নুয়াইম ইবনেমুকরিম নিজে ও সেনাবাহিনী পাঠিয়ে রাই, কোমাস ও জুরজান বিজয় করেন। আজারবাইজানের শাসক ছিল রুস্তমের ভাই ইসকান্দিয়ায সে সন্ধির মাধ্যমে আজারবাইজান মুসলিমদের কাছে সমর্পণ করে।  ওমর (রাঃ) সুরাকাহ ইবনে আমর (রাঃ)কে আল-বাবে পাঠান। সুরাকাহ নিজে ও সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আল-বাব ও পরে আরমানিয়া সহ আশে-পাশের অনেক অঞ্চল জয় করেন। সুরাকাহ সেখানে ইন্তিকাল করলে আব্দুর রাহমান ইবনে  রাবীয়াহ কে ওমর (রাঃ) সে এলাকার দায়িত্ব দিয়ে তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যরেখে দেন।

তুকিদের বিরুদ্ধে প্রথম জিহাদঃ আব্দুর রাহমান ইবনে রাবীয়াহ কে ওমর (রাঃ) তুর্কিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যেতে বললে তিনি ৬৫০ মাইল দূরে বানাঞ্জারে অভিযান পরিচালনা করেন এবং কয়েকবার যুদ্ধ করেন।পরে উসমান (রাঃ) এর খিলাফত কালেও অনেক বার প্রচণ্ড যুদ্ধ হয় তুর্কিদের সাথে।

খোরাসান (আফগানিস্তান) বিজয়ঃ  সম্রাট ইয়াযদগির্দ খোরাসানে পলায়ন করে। আহনাফ (রাঃ) খোরাসান বিজয় করেন। সম্রাট চিনের বাদশাকে সাহায্যকরতে বললে চিনের বাদশা মুসলিমদের ভয় পেয়ে তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর যুদ্ধ করতেনিষেধ করে।  

কিরমান, সিজিস্তান ও মাকরন বিজয়ঃ
  ওমর (রাঃ) এর শাসনামলেই কিরমান, সিজিস্তানের পর মাকরনের নদী পর্যন্ত বিজয় হয় মুসলিমদের দ্বারা।

কুর্দীদের বিরুদ্ধে বিজয়ঃ  ওমর(রাঃ) এর খিলাফত কালে সর্বশেষ কুর্দীদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ হয়। পরে ওমর (রাঃ) ১০ বছর ৫ মাস ২১ দিনের খিলাফতে সবচেয়ে বেশি রাজ্য জয়করে সেখানে ইসলামের শান্তির বানী পৌঁছে পরলোক গমন করেন।

রাসুল (সাঃ) যখন মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন মক্কার মুশরিক-কাফিররা সাহাবাদের এই বলে উত্যোক্ত করত যে, এরা নাকি রোম বিজয় করবে? এরা নাকি পারস্য বিজয়  করবে? ওই দেখ দেখ রোম বিজয়ী যায়, পারস্য বিজয়ী যায়, ওই দেখ দেখ পাগল যায় .......ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই  বাপ-দাদার  ধর্ম ত্যাগকারী,  কথিত পাগলরাই মাত্র ২০-২৫ বছরের মধ্যেই একত্রে   রোম-পারস্যের মত দুইটা পরাশক্তিকে ধ্বংস করে দিয়ে আফ্রিকা এবং হিন্দুস্তান ও চিনের সীমানায় ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিল। তার কিছুদিন পরেই মাত্র ১০০ বছরের ভিতর মদিনা থেকে পশ্চিমে স্পেইন, পূর্বে  হিন্দুস্তান (ভারতীয় উপমহাদেশ) ও চিনের অনেক অঞ্চল এবং দক্ষিনে আফ্রিকাকে পরাজয় করে সেখানে ইসলাম পৌঁছে দিয়ে ইসলামিক খিলাফত রাষ্ট্রকে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ১৩০০ বছর ধরে সেই রাষ্ট্রকে পরিচালিত করে সবচেয়ে স্থায়ীরাষ্ট্র হিসেবে রেকর্ড গড়ে ছিল। আজও ক্রুসেডাররা সেই খিলাফত রাষ্ট্রের নাম শুনলে জামা-কাপড় ভিজিয়ে দেয়ার মত অবস্থা করে। হ্যাঁ,  তবে আবার আসছে সেই রাষ্ট্র, খুবই নিকটে, তবে এবার আসলে এটি আর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র হবে না, এটি সমগ্র পৃথিবী নিয়েই গঠিত হবে, আর স্থায়ী হবে কিয়ামত পর্যন্ত।

[সূত্রঃ ১. আল বিদায় ওয়ান নিহায়া  (৬ ষ্ঠ ও ৭ম খণ্ড) ...... আবুল ফিদা হাফিজ  ইবনে কাসির আল-দামেশকি (তাফসীরে ইবনে কাসির -এর লেখক)।
২. আর রাহীকুল মাখতূম ....... আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপূরী।
৩. আসহাবে রাসুলের জীবনকথা ....  আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) এর জীবনী .... ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
৪. হেজাজের কাফেলা ...... নসীম হিজাযী।]